দামিনী ও প্রতিদিনের গল্প।

আজকের খবরের কাগজটা উল্টে-পাল্টে দেখে মনে কয়গুচ্ছ আবছা কালো মেঘ জমে গেল শারমিন জাহানের। আজ কয়দিন হল বেশ উৎকন্ঠায় ছিলেন। বুঝতে পারছিলেন না বাঁচবে কিনা। কিন্তু আজ সব আশা শেষ করে মারা গেলে মেয়েটি। দামিনী আর পারল না। প্রথম-আলো একটা দিন শুধু এটা জানতেই দেখেছেন দামিনী বেঁচে উঠে কিনা? হয়তো দামিনীর মাঝেই তিনি বাঁচার নতুন করে স্বপ্ন দেখছিলেন। দামিনী বেঁচে উঠবে, তার সামনে তার অপরাধীদের শাস্তি হবে। ধর্ষনের পরে নিজের চোখের সামনে ঐ রাক্ষসগুলোর মৃত্যুদন্ড দেখে সে হয়ে উঠবে চরম বিদ্রোহী। এই চরম বিকৃত সমাজের ঘাড় মটকে দামিনী নতুন করে গড়ে তুলবে তার স্বাভাবিক কিন্তু অসাধারণ জীবন। কিন্তু শারমিন জাহানের সেই সব আশা হতাশার মুখ দেখল দামিনীর মৃত্যু সংবাদে।

রাত দশটা বাজে। হুট করে মনে পরল ওয়াটার হিটারটা পাশের ফ্লাটের জান্নাত ভাবি নিয়ে গেছেন দুপুরে। বিকেলে দিয়ে যাবার কথা থাকলেও এখনও ফেরত দেন নি। বেশ ব্যাস্ত হয়ে রুমনাকে একটা ফোন করলেন শারমিন জাহান।
“মা, একটু দিয়ে যাও না জলদি করে।”
রুমনা, জান্নাত ভাবির মেয়ে।
রুমনা যন্ত্রটা দিয়ে যাওয়া মাত্র তিনি কিছুটা শান্ত হলেন। হিটারটা নিয়ে রেখে দিলেন রান্না ঘরে তাকের উপরে।

রাত বারোটা বাজতে চলল। ডাইনিং এ পায়চারী শুরু করেছেন খানিকটা অস্থির ভঙ্গিতে। কিসের যেন একটা অপেক্ষা করছেন।
অপেক্ষা আর বাড়ল না, ডাক পরে গেল।
“ঐ বৃষ্টির মা, রুমে আস।”
শারমিন জাহান রুমে যাবার সময় শুধু চেয়ে দেখলেন প্রথম-আলোর শিরোনামের দিকে। একটা ধীর নিঃশ্বাস ছাড়লেন। বালতিতে হিটারটা দিয়ে লাইন অন করে দিলেন।
দশ মিনিট পর রুম থেকে বেরিয়ে গরম পানিটা আরেকটা বালতিতে নিয়ে গোসলটা সারলেন শারমিন। এক এক বালতি পানি ঢেলছেন আর গা টা কেঁপে উঠছে একটু একটু করে। নিয়ম মাফিক ঘেন্না ধুয়ে ফেলে, এক কাপ চা বানিয়ে চাঁদের সাথে খানিক গল্প করেই ঘুমিয়ে গেলেন। প্রতিরাতের মতই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “দামিনী ও প্রতিদিনের গল্প।

  1. নিয়ম মাফিক ঘেন্না ধুয়ে ফেলে,

    নিয়ম মাফিক ঘেন্না ধুয়ে ফেলে, এক কাপ চা বানিয়ে চাঁদের সাথে খানিক গল্প করেই ঘুমিয়ে গেলেন। প্রতিরাতের মতই।

    এভাবে যদি ঘেন্না ধুয়ে ফেলা যেত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2