শাহবাগে যাবো কেন?

পাহাড়ের নানা সমস্যার সমাধান-বিচার না পেয়ে আমরা জুম্ম আদিবাসিরা নানা ক্ষোভে দিনযাপন করি। শাহবাগ শুরু হলে এক ছোটভাই এভাবে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেঃ

তার উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্যঃ

পাহাড়ের নানা সমস্যার সমাধান-বিচার না পেয়ে আমরা জুম্ম আদিবাসিরা নানা ক্ষোভে দিনযাপন করি। শাহবাগ শুরু হলে এক ছোটভাই এভাবে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেঃ

তার উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্যঃ
• শাহবাগের ক্ষেত্রে যে শব্দ চিন্তায় ধরা পড়ে সেটি হল “ন্যায়বিচার” । অন্যায় অবিচারের এই দেশে আমরা নানান অন্যায় দেখে দেখে আমরা অনেকে আত্মস্বার্থবাদী হই, ন্যায়নীতি মানবতার কথা ভুলে যাই; ব্যক্তি-দল-জাতের স্বার্থ ব্যতীত ব্যাপক আকারে চিন্তার কথা ভুলে যাই। আপনাদের কথা আর ফ্রেন্ডলিস্টের কয়েক শত জুম্ম আইডির চিন্তাধারার প্রতিফলন দেখে বিষয়টা আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করলাম।

• ন্যায়বিচার সকল মানুষের আজীবন দাবী হয়ে থাকবে। যুগে যুগে মানুষ ন্যায়বিচার চাইবে। যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবী তথা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী একটি ন্যায়বিচারের দাবী। ৪২ বছর ধরে বাঙালি তার জাতিনিধনের হোতাদের বিচার চেয়ে এসেছে কিন্তু খোদ হোতাদের হাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় এবং নানান রাজনৈতিক কূটচালে আটকে সেই দাবি নানা সময়ে হতাশায় রূপ নিয়েছে। তবু বাঙালি দমে যায়নি বরং মনে সেই ক্ষোভকে পুষে রেখে আজ শাহবাগের জন্ম দিয়েছে। মানবতার দিক দিয়ে যদি দেখেন তবে এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম অধ্যায়গুলোর একটি। তবে বাংলাদেশী সর্বোপরি মানুষ হয়ে এই পিশাচদের বিচার চাওয়া কি আমার অনুচিত? দয়া করে মানবতাকে বাজিয়ে দেখুন, জানুন সেকি উত্তর দেয়।

• মানবতার ক্ষেত্রে গেলে হিলের প্রশ্ন আসে। আমরা হিলের ক্ষেত্রে জাস্টিসের প্রচুর জোর দাবি করি কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীলতা আর কূটনীতির পাল্লা ভারী হওয়ায় উপরন্তু সরকারী নল আর জুম্ম নলের অপপ্রয়োগের ফলে জাস্টিসকে বিতর্কিত করে তার প্রায়োগিক অর্থকে পরিবর্তনের নানা চেষ্টা করা হয় (সমঅধিকার আন্দোলন, সেটেলার গণহত্যা, বাঙালির সন্তুঘৃণা ইত্যাদিকে অনেক বাঙালির কাছে জাস্টিস হিসেবে তুলে ধরা হয়।) মনে রাখবেন, স্ত্র্যাটেজিক দিক দিয়ে আমরা প্রতিক্রিয়াশীলের কাছে দুর্বল। পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক পরিবেশ সৃষ্টির এই হোতারা চায় সবসময় বাঙালির সাথে জুম্মর মানসিক-রাজনৈতিক-সামাজিক দন্দ রয়ে যাক যাতে ফায়দা লোটা সহজ এবং জায়েজ হয়। আর সাধারণ বাঙালি আর সেতেলারের মধ্যে চিন্তার ব্যাপক তফাৎ। (http://www.nagorikblog.com/node/11456) সেটেলারকেও জুম্মর মত অস্তিত্ব নিয়ে ভাবতে হয়, ক্ষেত্রবিশেষে সুযোগসুবিধা দিয়ে এদের চাটুকার অংশকে নেতা লেভেলে পাঠিয়ে তাদের সাপোর্ট টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে সমস্যাকে বাড়ানো হয়। যারা হিলের বাইরের বাঙালি সমাজে এসে ভালভাবে মিশেছে তারাই এই বিষয়গুলো জানার এবং ভাবার সুযোগ পেয়েছে। তাই শুধু শুধু সেটেলার এবং সমগ্র বাঙালি সমাজকে দোষী না করে এর মূলে যেতে হবে, জানতে হবে এবং সাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা দূর করে সমস্যার সমাধানের দিকে এগোতে হবে।

• “আমার বিচার পাই না তাই শাহবাগে যাবো না সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত।“ এটা বাঙালিবিদ্বেষের অংশ এবং কেন এই বিদ্বেষ সৃষ্টি করা হয়েছে তার ব্যাখা আগেও দিয়েছি। শাহবাগে যাদের বিচারের দাবি হচ্ছে তারা কিন্তু দেশি গুন্ডা না বরং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের একটি আঞ্চলিক শাখা (https://www.facebook.com/humanist.camelia/posts/10151435394434383)
(http://www.nagorikblog.com/node/248)
আশাকরি লিঙ্ক পড়ে কিছুটা হলেও এই গোষ্ঠী সম্পর্কে ধারণা লাভ করবেন। এই গোষ্ঠীর হাত থেকে কিন্তু পার্বত্যবাসীও নিস্তার পাচ্ছে না। আপনি পাহাড়ের ছড়ানো এলোমেলো মাদ্রাসাব্যবস্থার আড়ালে জঙ্গিগঠন এবং বান্দরবানের ত্রিপুরা জুম্মদের গণ ইসলামীকরণের কথা শুনেছেন আর আমি খাগড়াছড়ির রাস্তায় তাদের উগ্র মিছিল দেখেছি। মাটিরাঙার জেএমবির আস্তানা থেকে ধরা চিটাগাংএর শীর্ষ নেতা বা পুনঃ পুনঃ ধর্মান্তরিত ১৩টি নিষ্পাপ শিশুর কাহিনি অজানা নয়। এরপরও আপনি কিভাবে বলবেন শাহবাগে যাবো না? প্রশ্ন রইল সবার কাছে, উত্তর আশা করছি।

বিঃ দ্রঃ পারমিশন ছাড়া ফড়িং ক্যামেলিয়া আপুর স্ট্যাটাস ব্যবহার করায় আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “শাহবাগে যাবো কেন?

  1. যারা হিলের বাইরের বাঙালি

    যারা হিলের বাইরের বাঙালি সমাজে এসে ভালভাবে মিশেছে তারাই এই বিষয়গুলো জানার এবং ভাবার সুযোগ পেয়েছে। তাই শুধু শুধু সেটেলার এবং সমগ্র বাঙালি সমাজকে দোষী না করে এর মূলে যেতে হবে,

    ভাল একটা পয়েন্ট তুলে এনেছেন। একজন চাকমা যদি মনে করে সব বাঙ্গালীরাই সেটেলারদের মতো,তাহলে ভুল হবে।এই দেশের বেশির ভাগ মানুষ পাহাড়িদের আসল সমস্যা জানেই না। যারা জানে তারা অপপ্রচারের কারনে ভুল কথা জানে। কিন্তু যারাই পাহাড়িদের ব্যপারে খুজ খবর রাখেন,তারা সবাই পাহাড়িদের অধিকারের ব্যপারে একমত।অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সাথে মিশেছেন তারা একমত হবেন।

    1. এই দেশের বেশির ভাগ মানুষ

      এই দেশের বেশির ভাগ মানুষ পাহাড়িদের আসল সমস্যা জানেই না। যারা জানে তারা অপপ্রচারের কারনে ভুল কথা জানে। কিন্তু যারাই পাহাড়িদের ব্যপারে খুজ খবর রাখেন,তারা সবাই পাহাড়িদের অধিকারের ব্যপারে একমত।

      সহমত।

      :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  2. পাহাড় আমার কাছে অনেক দূরের
    পাহাড় আমার কাছে অনেক দূরের কিছু! কোনোদিন যাইনি সেখানে! তবু যখন পাহাড়ের গল্প শুনি- আফসোস লাগে! ইস্! ওইখানটায় জন্ম হলে আর কোনোদিন অসভ্য দুনিয়ার কোনো কিছুতে মাথা গলাতাম না। একটা জীবন পাহাড়ে কাটানোর জন্য অনেক ছোট!

    1. একটা জীবন পাহাড়ে কাটানোর জন্য

      একটা জীবন পাহাড়ে কাটানোর জন্য অনেক ছোট!

      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      আনিস ভাই “দূরের কিছু”-তে না রেখে তাড়াতাড়ি এসে পড়ুন ! ছবিতে পাহাড় দেখার চেয়ে নিজের চোখে তার সৌন্দর্যকে দেখে যান, পাহাড়ের মানুষের জীবনের গান শুনে যান। :খুশি:

  3. লেখাটির জন্য সুমেধ তাপসকে
    লেখাটির জন্য সুমেধ তাপসকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সমাজে বিভিন্ন স্তরের মানুষের চিন্তার প্রতিফলনকারী হিসেবে ফেবু বর্তমানে বেশ অগ্রসর হয়েছে। এখানে উঠে আসা সমস্যাটা অনেকটা জাতীয়তাবাদের সমস্যা বলা যেতে পারে। আমি গতকালই স্টেটাসে এই ইস্যুটি আলোচনা করেছিলাম। পাহাড়ের জুম্ম জাতীয়তাবাদ দশ ভাষাভাষি মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদ যা শোষণ-আগ্রাসন মোকাবেলার হাতিয়ার। কিন্তু যুগে কালে এম এন লারমার এই জুম্ম জাতীয়তাবাদ কিছুটা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। সেই সাথে যোগ হচ্ছে শাসকদের সীমাহীন নিপীড়ন-শোষণ-বঞ্চনা। ফলে, এই বহুমাত্রিক শোষণের জাঁতাকলে পীষ্ট হতে হতে আজ অনেকে উগ্র জাতীয়তাবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

    মোটকথা হচ্ছে, আজ যাদের আমরা প্রগতিশীল কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে দেখি (যেমন, অংশগ্রহনকারীদের জুম্ম রাজাকার বলা হয়েছে!), তাদের মন-মানসিকতার গড়ন গড়ে উঠেছে শোষণ-বৈষম্যের নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে। এই শোষণ বৈষম্যের মধ্যে প্রগতিশীল চেতনা গড়ে উঠা অনেকটা অকল্পনীয়। এই চেতনাধারীদের আমি দোষ দেব না, বরং এটাকে রাস্ট্রীয় বিমাতাসুলভ আচরণের বহিপ্রকাশ হিসেবে মনে করি! অন্যদিকে তুলনামুলকভাবে প্রগতিশীলতার ধারকদের প্রতিও আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত, কেননা প্রগতিশীলতার আড়ালে ভূল চিকিৎসকের কাছে প্রেসক্রিপসনহীন চক্ষু অপারেশন/চিকিৎসা যেন আমরা না নিই! অর্থাৎ, যে চশমা দিয়ে কিছুটা ভাল দেখা যাবে, অথচ এর ফলে আমার সম্ভাবনাময় চক্ষুটিই নষ্ট হবে- এমন ব্যবস্থাও যেন আমরা না নিই। আমি মনে করি, এমন পোষ্ট কলোনিয়াল দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পথে একটি বিরাট বাধা।

    তাই আপাতত সতর্ক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে এম,এন লারমার সেই প্রগতিশীল জুম্ম জাতীয়তাবাদের চেতনাকে।

    1. তাই আপাতত সতর্ক পর্যবেক্ষণের

      তাই আপাতত সতর্ক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে এম,এন লারমার সেই প্রগতিশীল জুম্ম জাতীয়তাবাদের চেতনাকে।

      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 1 =