কারা মুক্তিযোদ্ধা ? কারা রাজাকার ?

কারা মুক্তিযোদ্ধা ? কারা রাজাকার ? মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেই মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারে যোগ দিলেই রাজাকার । মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের সংজ্ঞা কি এত সহজ ?!! নাকি অন্য ভাবেও মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার হয় ?

আজকের আমার এই লেখাটি সবার জন্য নয় শুধু তাদের জন্য যারা বলেন যে “জামাতের মধ্যে বর্তমান প্রজন্ম তো আর রাজাকারি করেনি বা তারা কোন মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি । বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারাটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার “। আবার অনেকেই আছেন তালিকা ভুক্ত রাজাকারের বাইরে কাউকে রাজাকার বললে বেশ রাগান্মিত হন ও এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষা মূলক বক্তৃতা করেন । শুধু একমাত্র শুধু তাদের জন্য আজকের এই লেখা । যারা এর বিরুদ্ধে আছেন তারা উপযুক্ত যুক্তির মাধ্যমে তারা তাদের মত প্রকাশ করতে পারবেন ।

জামাত দল হিসাবে রাজাকার আলবদর বা আল শামস বাহীনি তৈরী করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল । আজ শুধু আমি রাজাকার নিয়েই আলোচনা করব । রাজাকার শব্দটা আসলে সঠিক নয় । আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামাত যে বাহিনী তৈরী করেছিল আসলে তার নাম ছিল রেজাকার । এই রেজাকার অর্থ স্বেচ্ছা সেবক । অর্থাৎ পাকিস্তানের স্বেচ্ছা সেবক বাহিনীই রেজাকার আমাদের সহজ উচ্চারনে যা রাজাকার হিসাবেই প্রতিষ্ঠিত । তাই রেজাকার নয়, রাজাকার হিসাবেই আজকে আলোচনা ।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত দলিয় ভাবে রাজাকার বাহিনী গঠন করে পাকিস্তানের স্বেচ্ছা সেবক হিসাবে (উপরে উপরে ভাব ধরে ইসলামের রক্ষক হিসাবে ) । যাতে বাংলাদেশের জন্ম না হয় । মোদ্দা কথায় রাজাকারের একমাত্র কাজই হলো চিন্তা ও চেতনায় পাকিস্তানের জন্য জীবন দিবে কিন্তু বাংলাদেশের জন্ম হতে দিবে না , সে জন্য তারা যা খুসি তাই করার স্বাধীনতাও পায় । অর্থাৎ তাদের জীবন পাকিস্তানের জন্য নিবেদিত / উতসর্গ কৃত । এই উতসর্গ একক কোন ব্যক্তি বিশেষের নিবেদন নয় । এটা হলো যারা জামাত পন্থী তারা দলিয় ভাবে তাদের চেতন ও অবচেতন মনে শুধু পাকিস্তানের সাফল্যর জন্য যা যা করা দরকার মনে করবে তারা তাই করবে । আমার মনে হয় তাদের এই দর্শন থেকে তারা তাদের কাজগূলি একক ও দলিয় ভাবে চেষ্টার কোন ত্রুটি করে নাই । কপাল খারাপ তাদের তাই ১৬ই ডিসেম্বরে তাদের মুনিব পাকিস্তানীরা আত্ম সমর্পন করে । তারা তাদের পরাজয়ের দগদগে ঘা নিয়ে কিছু পালিয়ে গেছে কিছু সাময়িক ভাবে আত্ম গোপন করাছে । এখনও প্ররযন্ত তারা কেউ একক বা দলীয় ভাবে আত্ম সমর্পন করা নাই বা ক্ষমা চায় নাই । ১৫ই আগষ্টের পরবর্তিতে আমাদের মহামান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব প্রেসিডেন্ট জিয়া তাদেরকে বড় ভাইয়ের মতো দাওয়াত দিয়ে এনে জামাই আদর করে এদেশে নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক নেতা হওয়ার সব ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করেন ।

এবার আসি আমাদের দেশ বাংলাদেশ প্রসংগে । আপনারাই এখন বলুন পাকিস্তানী ভাব ধারা নিয়ে কি আমাদের এই বাংলাদেশে তারা রাজনীতি করতে পারে বা করতে দেওয়া উচিত ? পৃথিবীর এমন কোন দেশ আছে , কেউ নীতিগত ভাবে সে দেশের বিরুদ্ধ চারন করে রাজনীতি করতে পারে বা কোন দেশ প্রেমিক তা করতে দেয় বা কেউ দিলে তা সমর্থন দেয় ? যারা তাদেরকে রাজনীতি বা এদেশে বসবাস করার জন্য যারা বিভিন্ন ভাবে নৈতিক সমর্থন দেয় তাদের কে কি আমরা দেশ প্রেমিক বলতে পারি বা কোন ভাবে বলা উচিত ? আবার যাদের কাজ কর্ম দেশ বিরোধী ও পাকিস্তান পন্থী তাদের জন্ম স্বাধীনতার পরে হলেও কি তাদেরকে রাজাকার বলাটা অন্যায় হবে ? যাদের কথা বার্তায় পাকিস্তানী ভাব ধারা ফুটে উঠে তারাও কি রাজাকার নয় ? এমতাবস্থায় উপরোক্ত কার্যকলাপ যারা করে ও যারা নৈতিক ভাবে তা সমর্থন করার পাশাপাশি যারা ঐ কাজ গুলিরে মনের গহীনে লালন করে তারা সকলেই কি রাজাকার নয় ? কেউ মুক্তি যুদ্ধে অংশ নিয়েও কালের পরিক্রমায় কোণ কারনে সেই রাজাকার ভাবধারা পোষন করেন তাহলে তাকে মুক্তিযোদ্ধা না বলে রাজাকার বলাটা কি অন্যায় হবে ? তাহলে আজ চুচিল জ্ঞানীরা সে চিন্তা চেতনার ভাব ধারীকে রাজাকার বললে উনারা নাখোশ হন কেন ? যদি এই দেশে তাদের রাজনীতি করার অধিকার দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয় তাহলে আগামীতে ভারত সহ অন্যদেশের নাগরিকরাও আমাদের দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনীতি করা জায়েজ বলেই বিবেচিত হবে । তাহলে তখন কি তা ভাল হবে ? যদি জাকির নায়েক ভারতের হয়ে আমাদের দেশে রাজনীতি করে তাহলে কি তা ভাল হবে ?

আজ আমার এই প্রশ্ন গুলির সুষ্ঠ উত্তরের জন্য আপনাদের কাছে দারস্থ হলাম । আমি জানি আপনারা কেউই আমার মতো মূর্খ চাষা নন । আপনারা সকলেই শিক্ষিত ও জ্ঞানী । আশা করি আপনারা আপনাদের মেধা ও জ্ঞানের দ্বারা আমার প্রশ্ন গুলির সুস্পষ্ট মতামতের দ্বারা সুষ্ঠ সিদ্ধান্ত দিবেন ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “কারা মুক্তিযোদ্ধা ? কারা রাজাকার ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 3 =