আমার বান্দরবেলা পর্ব ৮

দাদার বাসায় এক হুজুর লজিং থাকতো।বড় বড় লম্বা দাড়িওয়ালা ঐ হুজুরের প্রায়ই আমারে দেখলে কোলে নিয়া আদর করতো।হুজুরের কোলে নেওয়া সহ্য হইলেও তার শরীরের বোঁটকা ঘামের গন্ধে চোখমুখ উল্টায়া আসতো তাই হুজুরের কোলে উঠতে চাইতাম না।কিন্তু হুজুর আমাকে দেখলেই কোলে নিয়া অদ্ভুত ভঙ্গীতে শরীর দুলাইতো।একদিন দুপুরে খুঁচানের মতো কিছু না পায়া আমি আর চাচাতো ভাই উদাস বদনে ঘুরাঘুরি করতে ছিলাম এমন সময় চোখে পড়লো হুজুরের ঘরের দড়জা খোলা।আমরা দুইজন দড়জার সামনে গিয়ে উঁকি দিয়া দেখলাম হুজুর খাটের উপর শুয়া ঘুমাইতেছে আর তার পড়নের লুঙ্গী মাথার উপর উইঠা মুখ ঢাকার কাজ করতেছে।লুঙ্গি মাথায় উঠার কারনে হুজুরের বিশেষ অঙ্গ দেখা যাইতেছিলো।আমরা দুইজন ঘরে ঢুইকা খাটের সামনে দাড়ায়া আরও গভীরভাবে জিনিষটা পর্যবেক্ষন করতে লাগলাম।পর্যবেক্ষনের এক পর্যায়ে চাচাতো ভাই বললো,”হুজুরের এইটা এতো বড় কেন? আমাদেরটা তো ছোট!!!”একটু পর চাচাতো ভাই হজুরের বিশেষ অঙ্গ আলতো কইরা টান দিয়া বলে, “দেখ হুজুরের এইটা টানলে লম্বা হয়” এই কথা শুইনা আমি ঐটা ধইরা দিলাম এক হেঁচকা টান।টান খায়া হুজুর নাক মুখ দিয়া ঘুরুৎ কইরা বিচিত্র এক শব্দ কইরা খাট থেইকা তিন হাত উপরে লাফায় উঠলো।হজুরের এলোপাতাড়ি হাতপা ছুড়ার কারনে আমরা দুইজন দুইদিকে ছিটকায়া পড়লাম আর হুজুর এক হাতে তার বিশেষ অঙ্গ ধইরা লাফাইতে লাফাইতে ঘরের বাইরে দৌড়।এরপর যে কয়দিন গ্রামে ছিলাম হুজুরের ঘরের দড়জা সবসময় বন্ধ দেখতাম………………

আমার আর আমার চাচাতো ভাই প্রায়ই মাথা দিয়া গুতাগুতি করতাম।একদিন দাদী বললো,এমন করলে মাথায় শিং গজায়।একথা শুইনা আমার মনে হইলো,মাথায় শিং থাকলে ভালো হইতো সবাইরে কি সুন্দর গুঁতানো যাইতো।একদিন সকালে গ্রামের মাঠে পোলাপানদের সাথে খেলার সময় মাঠের এককোনে একটা ভাঙ্গা শিং খুইজা পাইলাম।সম্ভবত মহিষের শিং হবে।শিং পাওয়ার পর আমার খেলা মাথায় উঠলো।বইসা বইসা ভাবতে লাগলাম শিংটা নিয়া কি করা যায়।দুপুরে বাসায় ফেরার পর খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই যে যার ঘরে বিশ্রাম নিতেছে আর আমি শিং নিয়া ঘুরাঘুরি করতেছি।ঘুরতে ঘুরতে ছোট দাদার ঘরে উঁকি দিয়া দেখি দাদা নাকডাকায় ঘুমাইতেছে।ছোট দাদা কাঠ দিয়ে খুব সুন্দর খেলনা বানাইতে পারতো এই কারনে তার ঘরে বিভিন্ন ধরনের আঠা,ছুরি,পেরেক মজুত থাকতো।ছোট দাদার ঘরের ভিতর ঢুইকা শিং এর গোড়ায় আঠা লাগায় ভাবলাম এই শিং কার মাথায় লাগানো যায়।শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম আঠা যেহেতু দাদার শিং টা দাদারই প্রাপ্য।তো শিংটার গোড়ায় আঠা লাগায়া দাদার মাথার মাঝখানে আস্তে কইরা বসায়া ধইরা রাখলাম।একটু পর আঠা শুকায় গেলে শিং ছাইড়া ঘর থেইকা চুপেচুপে বের হয়া গেলাম।বিকালে দাদা ঘুম থেইকা উইঠা উঠানে আসলে ছোটদাদী তার স্বামীর মাথায় নতুন গজানো শিং দেইখা খুশীতে বাকরুদ্ধ হয়া মাটিতে শুয়া হাত-পা কাঁপায়া নাচতে লাগলো।দাদীর ঐ নাচ দেইখা আমি ভাবতে ছিলাম এইটা কোন ধরনের নৃত্য আর দাদার শিং দেইখা দাদীই বা এতো খুশী হয়া নাচতে শুরু করলো কেন?এমন দাদার চীৎকার শুইনা সবাই ঘর থেইকা বাইর হয়া আসলো।আইসা দাদার মাথায় শিং দেইখা সবাই জিজ্ঞেস করলো আপনার মাথায় শিং গজাইলো কি কইরা? একথা শুইনা দাদা ঘরে গিয়া আয়নায় নিজের চেহারা দেইখা উঠানে ফেরত আইসা আমার দিকে তাকায়া চোখ লাল কইরা নাক দিয়া ভোঁস ভোঁস কইরা ধোয়া ছাড়তে লাগলো।আমি অবস্থা বেগতিক দেইখা এক পা,দুই পা পিছাইতে পিছাইতে উল্টা দিকে ঘুইরা সোজা ধানক্ষেতের আইল বরারবর দৌড় মারলাম।পিছনে পিছনে দাদাও তার নতুন গজানো শিং নিয়া ষাড়ের মতো ফোঁসফোঁস করতে করতে আমারে দৌড়ান দিলো।পিছন থেইকা শুনি মা বলতেছে,চাচা ধরতে পারলে আমার হয়া ওরে একটা গুঁতা বেশী দিয়েন………

বাবার এক চাচাতো ভাই নতুন বিয়া করার পর সারাক্ষন ঘরের দড়জা বন্ধ কইরা রাখতো।আমি একদিন মা কে জিজ্ঞেস করলাম,”মা,চাচা চাচী সারাক্ষন দড়জা বন্ধ কইরা রাখে কেন?’ মা বললো,”তোমার চাচা-চাচীর পরীক্ষা তো তাই কেউ যাতে ডির্ষ্টাব না করে এই জন্য দড়জা বন্ধ কইরা পড়শোনা করে।”আমি জিজ্ঞেস করলাম,”দুইজনের একসাথে পরীক্ষা কি কইরা হয়?এইটা কেমন পরীক্ষা?”,মা বললো,”এই পরীক্ষা দুইজনের একসাথে দেওয়া লাগে।বড় হইলে তুমি দিবা”।চাচা-চাচী কি পড়াশোনা করে জানার জন্য প্রায়ই আমি আর আমার চাচাতো ভাই চাচার ঘরের আশেপাশে ঘুরঘুর করতাম।কিন্তু দড়জা বন্ধ থাকার জন্য কিছু জানতে পারতাম না।একদিন বিকালে দুই পরিবারের সবাই উঠানে বইসা গল্প করতেছে এমন সময় ছাচাতো কানেকানে বললো,’চল এই ফাঁকে চাচার রুমে ঘুইরা আসি”।দুইজনে মিইলা চাচার রুমে গেলাম,চাচা-চাচী কি পরে দেখার জন্.কিন্তু ঐ রুমে খবরের কাগজ আর কয়েকটা মাসিক পত্ড়িকা ছাড়া আর কিছু খুইজা পাইলাম না।খুজতে খুজতে একসময় চাচার আলমারীর ড্রয়ারে একটা প্যাকের পাইলাম।চাচাতো ভাই বানান কইরা পড়লো,লেখা আছে,’রাজা কনডম”।চাচাতো ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘এইটা কি জিনিষ?”।আমি ঐ প্যাকেট হাতে নিয়া সোজা দাদার কাছে গিয়া কোলে বইসা জিজ্ঞেস করলাম,”দাদু কনডম কি জিনিষ” আমার এই প্রশ্ন শুইনা সবাই পুরা চুপ হয়া গেলো।একটু পর বাবা বললো,এইটা কোথায় পাইছো?,আমি উত্তর দিলাম,চাচার ঘরে”।এই কথা শুইনা সবাই কেন জানি আকাশের দিকে তাকায়া দিন-দুপুরে তারা খোজায় ব্যস্ত হয়া গেলো।একটু পর দাদী আইসা প্যাকেট টা আমার আমার হা/ত থেইকা নিয়া বললো, ‘এই বড়দের খেলার জিনিষ।’।এই ঘটনার পর থেইকা চাচা-চাচী কেমন যেন ফাঁকিবাজ হয়া গেছিলো।দড়জা বন্ধ কইরা আর পড়াশোনা ঠিকমতো করতো না সারাক্ষনই উদাস হয়া উঠানে ঘুরাফিরা করতো………………

পর্ব ৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “আমার বান্দরবেলা পর্ব ৮

  1. এই ঘটনার পর থেইকা চাচা-চাচী
    এই ঘটনার পর থেইকা চাচা-চাচী কেমন যেন ফাঁকিবাজ হয়া গেছিলো।দড়জা বন্ধ কইরা আর পড়াশোনা ঠিকমতো করতো না সারাক্ষনই উদাস হয়া উঠানে ঘুরাফিরা করতো…………….

  2. মইরা গেলাম, আমারে কেউ ধর…
    মইরা গেলাম, আমারে কেউ ধর… ভাই আপনার আর কত বান্দরবেলা আছে??? :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: 😀 😀 😀 😀 :ভেংচি: :ভেংচি: :ভেংচি: :ভেংচি: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 − = 66