সালমার আত্মহত্যা, প্রধানমন্ত্রীর দায় ও আশরাফের চিঠি!

মেয়েটির নাম সালমা। রানা প্লাজার আহত শ্রমিক। মাথায়, পিঠে, পায়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিল তখন। উদ্ধারের পর থেকে থাকতেন তুরাগের বামনারটেক। বেঁচে গিয়েছে এই আনন্দে সে চলে গিয়েছিল তুরাগে স্বামীর কাছে। গত নয় মাস ধরে সে অসুস্থ। এই রাষ্ট্রের কোনো হাসপাতাল তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়নি। মাথার যন্ত্রণায় সে প্রতিদিন দেয়ালে মাথা ঠুকত। পিঠে পায়ে যন্ত্রণা হলে হাউমাউ করে কাঁদতো। ২৪ জানুয়ারি, রানা প্লাজা ধসের নয় মাস পূরণের দিন সকালে তাকে বাঁচার জন্য আত্মহত্যা করতে হলো।


মেয়েটির নাম সালমা। রানা প্লাজার আহত শ্রমিক। মাথায়, পিঠে, পায়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিল তখন। উদ্ধারের পর থেকে থাকতেন তুরাগের বামনারটেক। বেঁচে গিয়েছে এই আনন্দে সে চলে গিয়েছিল তুরাগে স্বামীর কাছে। গত নয় মাস ধরে সে অসুস্থ। এই রাষ্ট্রের কোনো হাসপাতাল তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়নি। মাথার যন্ত্রণায় সে প্রতিদিন দেয়ালে মাথা ঠুকত। পিঠে পায়ে যন্ত্রণা হলে হাউমাউ করে কাঁদতো। ২৪ জানুয়ারি, রানা প্লাজা ধসের নয় মাস পূরণের দিন সকালে তাকে বাঁচার জন্য আত্মহত্যা করতে হলো।

পুলিশ বলছে সালমার বয়স নাকি ২৭। যে কেউ দেখলে বুঝবে কোনোক্রমেই ২০-২২ এর বেশি হবে না। একটা সন্তান ছিল। মাদ্রাসায় পড়তে দেয়ার পর হারিয়ে যায়। বয়স তাহলে আর কতই বা হবে! মর্গে অপরিণত এই লাশটিকে পড়ে থাকতে দেখি খুব অসহায়ভাবে। আমরা যখন যাই, প্রায় চার ঘণ্টা ধরে দেখেছি সে পড়ে আছে মর্গের বারান্দায়। সুদীর্ঘক্ষণ তার লাশ হিমঘরে রাখা হয়নি। যে কোনো লাশের নাকে কানে তুলো দিতে দেখা যায়। সালমার বেলায় তাও ঘটেনি! সে তো গরিব মানুষ।

সরকার মহোদয়ের কর্মকর্তা, তুরাগ থানার উপপরিদর্শক মোঃ কামাল হোসেন যখন সালমার লাশ ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে এনেছিলেন তখন আরও কয়েকজন বন্ধুসহ সেখানে উপস্থিত ছিলাম। নিয়মমাফিক মর্গে লাশ দেয়ার সময় তিনি সুরতহাল প্রতিবেদন পেশ করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘লাশের গায়ে আলাদা কোনো ক্ষতচিহ্ন ছিল না। লাশের কাপড়-চোপড় পায়খানা-প্রস্রাবে পরিপূর্র্ণ ছিল।’ যা থেকে বোঝা যায়, আত্মহত্যা করেই তার মৃত্যু হয়েছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও লিখেছেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ও আশপাশে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মৃতা সাভার রানা প্লাজায় গার্মেন্টে চাকুরী করিত। রানা প্লাজা ধ্বংসের কারণে মাথায় ও শরীরে আঘাত পায়। ইহাতে তাহার শারীরিক যন্ত্রণা হইত। যাহার প্রেক্ষিতে সে একটু অস্বাভাবিক ছিল। গত ২৩-০১-১৪ তারিখে ১২ ঘটিকায় খাওয়াদাওয়া শেষে স্বামী স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর ২৪-০১-১৪ তারিখে ৬ ঘটিকার মধ্যে তাহার নিজের ওড়না দিয়া ঘরের আড়ার সহিত ফাঁস দিয়াছে।’

২.
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসতে ৮-১০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আমরা কথা বলেছি সালমার পরিবার পরিজনের সঙ্গে। তার স্বামী বাবু জানিয়েছেন, প্রথম দিককার সাহায্য ছাড়া তেমন কোনো সাহায্য তিনি পাননি। তাকে প্রতিদিন কাজে যেতে হয়। তিনি ভ্যান চালান। এগুলো নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করা, লেগে থাকার কেউ নেই। তুরাগ থেকে ঢাকা যাওয়া আসা পুরো একদিনের ব্যাপার। সালমাকে না নিয়ে গেলে কিছু হবে না। তাকে টানাও মুশকিল। সে যন্ত্রণায় কাতরাতো। টাকা পয়সার অভাব তো আছেই। চিকিৎসা করানো যাইত না। ওষুধ কেনার সমস্যা ছিল। মাথার যন্ত্রণা উঠলে সে সহ্য করতে পারত না।

এলাকাবাসী বলেছে, স্বামী মাঝে মাঝে সালমাকে মারধর করত। বলত, তোকে এভাবে বসিয়ে বসিয়ে কে খাওয়াবে! গরিব স্বামী, যার কিনা কোনো সাংস্কৃতিক মান নেই, চিন্তাভাবনার স্তর দেশের আর সব গরিব মানুষের মতো প্রায় পাশবিক, তার কাছে অচল বউকে মারধর না করা, বা যতœ করাটা কেউ প্রত্যাশাও করেন না। এটাই স্বাভাবিক। কেউ কেউ বলেছেন, স্বামী তাকে মেরে ফেলতে পারে! যার ঘরে ভাত নাই, যে লোক সারা দিন কাজ করে এসে রাতে অসুস্থ বউয়ের কান্নার তোড়ে ঘুমুতে পারে না, তার পক্ষে এই কাজ করা একেবারে অস্বাভাবিকও নয়!

৩.
তাহলে এই মৃত্যুর দায় কার? যে কেউ বলবেন, তার পরিবার ঠিকঠাক যোগাযোগ করেনি। এত বড় ঘটনায় এরকম দু’একজন চোখের আড়ালে পড়ে থাকতেই পারেন, এমন দাবিও করতে পারেন যে কেউ। মেনেও নিচ্ছি। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে, এই যে পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা দেখি, রানা প্লাজার শ্রমিকদের অর্থসাহায্য দিয়ে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে। তার সত্যতা আসলে কতটুকু! সালমার পরিবারও কিছু অর্থ পেয়েছিল প্রথমে। এরকম আরও অনেকেই প্রথম দফায় কিছু টাকা পেয়েছেন, যা ৫০ হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই টাকা দিয়ে এরকম বিরাট শিল্প বিপর্যয়ের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসা একজনের কী চিকিৎসা হতে পারে! এত সাহায্য এত লোক পাচ্ছে, তবু কেন সভা সমাবেশে গেলেই দেখি দলে দলে শ্রমিকরা এসে কার্ড দেখিয়ে বলছে, কিছু পাচ্ছি না! আসলে টাকা যাচ্ছে কোথায়?

আমরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেছিলাম। রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে ঘটনার পরপরই সরকার ও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক তহবিল গঠন হয়। সেই টাকা কোথায়, তা দিয়ে কি হচ্ছে এর খোঁজ করি আমরা।

বিজিএমইএ এখন পর্যন্ত ২২ কোটি টাকা তুলেছে। যা থেকে এখনও ৮ কোটি টাকা পড়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে এখন পর্যন্ত ১২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৭ কোটি টাকাই এখনও অব্যবহৃত।

এই গেল সরকারি সাহায্যের হিসাব। এর সঙ্গে যুক্ত আছে ক্ষতিপূরণের বিষয়। মালিকরা বলছেন, যা দেয়া হচ্ছে এগুলোই ক্ষতিপূরণ। আমরা জানি, এগুলো জনগণের দেয়া সাহায্য। মালিকরা চাইছেন বোঝাটা সরকারের কাঁধে চাপিয়ে দিতে। বিজিএমইএ ও প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে পড়ে থাকা এই শত কোটি কোটি টাকার কি হবে এ নিয়ে এখনও ঠেলাঠেলি চলছে দুই পক্ষের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মতে, এটা সাহায্যের টাকা। ক্ষতিপূরণ না। আর বিজিএমইএ সভাপতি বলছেন, এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তরা যা পেয়েছে তা কেটে ক্ষতিপূরণের বাকি অর্থ শোধ করা হবে।

এর বাইরে আছে এনজিওদের মাধ্যমে আসা তহবিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মোট তহবিলের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগই পড়ে আছে। তারা ধীরে ধীরে ব্যয় করবেন। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ব্যবসায়ও এই টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। অনেকে টাকা ফেলে রেখেছেন। সেই টাকা থেকে সুদ যাচ্ছে তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। কোনো এনজিও ১০০ শ্রমিককে সাহায্য দেয়ার জন্য ১০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে প্রকল্প খুলেছে। শ্রমিকের তহবিলের টাকা থেকে সেই প্রকল্পের কর্মকর্তাদের চড়া হারের বেতন দেয়া হচ্ছে।

৪.
এই যে গরিব আহত নিহত শ্রমিকের জন্য আসা অর্থ পড়ে আছে, আর অভাবের তাড়নায় শ্রমিক আত্মহত্যা করছে, এর দায় কার? এই টাকা পয়সা যাতে শ্রমিকরা ঠিকঠাক পায়, মালিকরা যাতে শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ বুঝিয়ে দেয় তার জন্য কি করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? নাগরিক হিসেবে এ প্রশ্ন তো রাখতেই পারি, নাকি? আমরা দেখেছি, আপনি কিছুই করেননি। বরং আপনার আমলেই অন্যায় আইন হয়েছে শ্রমিকের বিরুদ্ধে। শ্রম আইন করে মালিকদের সব সুবিধা দিয়ে শ্রমিকের জীবনকে আরও কঠোর করে তুলেছেন। আপনার মন্ত্রী বলেছিল নড়াচড়া দিয়ে ভবন ধসানো হয়েছে। এই মশকরার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা আপনি নেননি। এটাই স্বাভাবিক। ধনিকশ্রেণীর অবস্থান থেকে আপনি গরিবের সমস্যা দেখতে পাওয়ার কথা না!

গরিব মানুষ মরলে ইতোপূর্বে রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা বলেছিলেন, আল্লার মাল আল্লা নিয়ে গেছে। কারণ গরিবের মৃত্যুর কোনো মূল্য ধনীদের কাছে নেই। আর গরিব আহত হলে তো কথাই নেই। ওর তো মরার কথা ছিল, বেঁচে গেছে- এই তো বেশি! এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই আজ আহত শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না। ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না করলেও ঠিকই বক্তব্য এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে! সালমার আত্মহত্যার পর এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে চিঠি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ। তার দাবি, অর্থাভাবে সালমার আত্মহত্যা একটা ভুল খবর!

যন্ত্রণা সহ্য না করতে পেরে মরছে সালমা- ধরলাম এটা ভুল। সালমার স্বামী তাকে হত্যা করেছে- ধরলাম এটা সঠিক। এর বাইরে তো আর কিছুই নেই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়! কিন্তু এই ঘরে ভাত ছিল না, রোগী ছিল একজন, যাকে জোর করে কারখানায় ঢুকিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। যার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এগুলো কি মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবেন? তাহলে বলুন এর দায় কার? কেন প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে অলস টাকার পাহাড়? কেন তাজরিনের মালিক দেলোয়ারকে উচ্চ আদালত গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেয়ার পরও সে গ্রেপ্তার হয় না? কেন মালিকরা এখনও রানা প্লাজা, তাজরিনের শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করছে না?

কারণটা আমরা সবাই জানি। এদেশে সংসদে অনেক গার্মেন্ট মালিক আছেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ যারা, তারা এর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। তাই বরাবরই এই খাতে মালিকরা পাচ্ছে সরকারের অনুদান। আর শ্রমিকরা ছিবড়ে হচ্ছে, জীবন দিচ্ছে!
শ্রমিকদের কথাটা মনে রাখবেন মাননীয় মন্ত্রীগণ, তারা আপনাদের কারও দয়া চায়নি। তারা নিজের গায়ের জোরে কাজ করে খেত। ভিক্ষা করত না। আপনারা যে উন্নয়নের গল্প বলেন, এরাই তার কারিগর। বিনিময়ে তারা কী পাচ্ছে?

রানা প্লাজায় জোর করে শ্রমিকদের ঢোকানো হয়েছিল। তাজরিনে তালাবন্দী করে শ্রমিকদের পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। আজ অভাবে মরছে আহত শ্রমিক। হয়ত আরও অনেকে সালমার তালিকায় যুক্ত হবে। কিংবা ইতোমধ্যে হয়েছে, আমরা তার খোঁজ রাখিনি। তবে এগুলো কোনোটাই দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা নয়!

এই প্রত্যেকটি মৃত্যু হত্যাকাণ্ড! অবশ্যই হত্যাকাণ্ড! এর দায় আপনাদেরই!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৬ thoughts on “সালমার আত্মহত্যা, প্রধানমন্ত্রীর দায় ও আশরাফের চিঠি!

  1. রানা প্লাজায় জোর করে

    রানা প্লাজায় জোর করে শ্রমিকদের ঢোকানো হয়েছিল। তাজরিনে তালাবন্দী করে শ্রমিকদের পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। আজ অভাবে মরছে আহত শ্রমিক। হয়ত আরও অনেকে সালমার তালিকায় যুক্ত হবে। কিংবা ইতোমধ্যে হয়েছে, আমরা তার খোঁজ রাখিনি। তবে এগুলো কোনোটাই দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা নয়!

    চমৎকার সময়ের লেখার জন্য হ্যাটস অফ আপনার প্রতি!!

  2. সহমত। এগুলো আত্মহত্যা নয়,
    সহমত। এগুলো আত্মহত্যা নয়, অবশ্যই হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারেনা। লেখাটার জন্য আনিস ভাইকে ধন্যবাদ। আমরা সবাই গরম গরম ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসি। গরম ইস্যু ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার পর তার খোঁজ আর কেউ রাখেনা। না আমরা, না মিডিয়া।

  3. রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল এই
    রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল এই মানুষদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া। কিন্তু সেটা না করে সাল্মাদের আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। এটা আত্মহত্যা না খুন।

  4. আনিস ভাই বহুদিন পর আপনার লিখা
    আনিস ভাই বহুদিন পর আপনার লিখা পড়লাম তার প্রথম কারণ ইস্টিশনে এসে মুল পাতায় চোখ বুলাতেই শেষের দিকের একটি পোস্ট শিরোনাম পড়লাম আকর্ষনীয় মনে হল। তার পর লেখকের নাম। ওমা!!! এখনও স্টিক হয়নি। তবে কি পোস্ট এ কারনেই পড়া।

    এখন আসি পোস্টের ব্যপারে- আপনি যা বলেছেন “” এই রাষ্ট্রের কোনো হাসপাতাল তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়নি”” আমার জানামতে সমাজতন্ত্রে সকল দ্বায়িত্ব রাষ্ট্রের্। সে যাক গে আমি ছোট মানুষ জ্ঞান কম! দেশের জনসংখ্যা কত যেন?? আহ! আবার জনসংখ্যা টানা হচ্ছে, কথা হচ্ছে রানা প্লাজায় বিপর্যয়ের স্বীকার হওয়া লোকদের নিয়ে। যাই হোক তার সংখ্যা কত? দেশের প্রধানমন্ত্রীর কি সম্ভব শুধু এ নিয়েই বসে থাকা? একটা অপ্রিয় সত্য হল আমরা ইস্যু খোর জাতি। এক ইস্যু নিয়ে কিছুদিন লাফাই এর পর শেষ। আচ্ছা এটাও বাদ দিলাম আমাদের দেশে রানা প্লাজার বিপর্যয়ের পর বড় কোন সমস্যা আসে নি যা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রি ব্যস্ত থাকতে পারে! আচ্ছা সম্প্রতি কাদের মোল্লার ফাঁসির কথা মনে আছে নিশ্চই। আন্তর্জাতিক চাপ কি কম ছিল? তা নিয়ে কি তিনি উদ্বীগ্ন ছিল না? এটা শুধু একটা উদাহরণ। এমন বহু ঘটনা ঘটেছে এর পরই।

    আমি বিয়ে সাধী নিয়ে পাকনামি করি এ নিয়েই একটা উদাহরণ দেই- আপনার বাসায় বুয়াকে আপনি ২০০০ টাকা মাসিক বেতন দেন। আপনি ব্যস্ত মানুষ তাই লেনদেন ভাবির মাধ্যমেই। কিছুদিন পর ভাবি আপনাকে জানালেন বুয়া আরও ৫০০ বেশি চায়। আপনার মেজাজ গেল সপ্তমে মগের মুল্লুক! আপনি বেতন কত পান!! আর বুয়া এত চায়! ২০০০ টাকাই তো বেশি আরও ৫০০? * পরে আপনি বুয়াকে ডেকে জানতে পারলেন সে মাসে ১৫০০ টাকা পায়।

    এখন কথা দুটো * এর আগ পর্যন্ত ঐ গার্মেন্টস এর মালিকদের বসান তো। আর এর পর এর প্রশ্নটির উত্তর দিন তো। আপনার বিস্বস্ত বউ কি কাজ করলো এটা?

    এখন আসি আরেক কথায়। আচ্ছা এই যে সরকার তার আশে পাশে কারা আছে? আমরাই। আমরা মুখে নীতি কথা বলতে খুব পছন্দ করলেও খাবার সুযোগ কিন্তু কেউ ছাড়ি না!!!

    আমার মানসিক একটা ব্যপার সেটা হল দুর্বল ও সবল দুইটি স্বত্তা হিসেবে চিন্তা করি। আমরা সর্বদা সামনে সবলকে সমর্থন দেই , আর পেছনে ঐ যে দুর্বলের জন্য আফসোসে দুনিয়া একাকার!!!

    আর একটা কথা সেটা হল- আমরা ক্ষমতাধর যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন কথা শুনলে সেটা খুব বেশি পরিমানে গুরুত্ব দেই। এটা ভেবে দেখুন মিথ্যে কি না! আপনি উপরিউক্ত গল্পের ভিত্তিতে ভাবিকে সজরে একটা থাপ্পর দিলেন। দোষ টা কার ছিল? কিন্তু যখন শুনিবে আপনি মেরেছেন পাবলিক আপনাকে আগে দুইটা গালি দেবে।

    এমন সব ক্ষেত্রেই ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের দোষ দেখাতে এবং দেখতে আমরা খুব পছন্দ করি। কিন্তু নিজে ঠিক হতে আমাদের যত সমস্যা!!!

    ভাল থাকবেন। 🙂

    1. জয়, এই ঘটনাকেও তুমি জাস্টিফাই
      জয়, এই ঘটনাকেও তুমি জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছ দেখে হতবাক হলাম। এখন তোমার চেতনা তৈরি হওয়ার বয়স। এই বয়সে অন্তত ভুলকে ভুল, আর সঠিককে সঠিক বলার শিক্ষাটা আগে অর্জন করো। আত্মসমালোচনা মানুষকে শুদ্ধ করে, ছোট করে না।

      1. আতিক ভাই , আমি যে লীগের অন্ধ
        আতিক ভাই , আমি যে লীগের অন্ধ ভক্ত নই তা আপনি জানেন না হয়তো? আমি শুধু আমাদের অবস্থান টা বললাম। আমাদের অবস্থা হল এই যত দোষ নন্দ ঘোষ। আমার মন্তব্যের ব্যবছ্যেদ করে দেখুন উত্তর গুলো দিন। যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিন ।

        🙂 🙂

        1. একটা সিম্পল প্রশ্নের উত্তর
          একটা সিম্পল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কি এতো গবেষণার দরকার হয়? যেই টাকা গুলা ফেলায় রাখা হইছে কেন রাখা হইছে জানতে পারি? অথচ অর্থাভাবে তাঁরা সুইসাইড করছে। ভেরি ফানি।

          1. ঐ যে গল্পের ভাই আর তার বউ।
            ঐ যে গল্পের ভাই আর তার বউ। ভাই তো মানা করে নি যে বুয়া কে ২০০০ দিও না সে তো দিচ্ছে কিন্তু সেটা বুয়ার কাছে কি পৌছেছে??

    2. জয়,
      এইরকম একটা নারকীয়

      জয়,
      এইরকম একটা নারকীয় দুর্ঘটনা হওয়ার পর সরকার এবং বস্ত্রশিল্প মালিক সমিতির কেউই এমন আত্মহত্যার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। তবে প্রশ্ন এইখানে না, আমার প্রশ্ন হচ্ছে যদি রাষ্ট্রের সকল দুর্ঘটনা, অবনতি এবং অন্যায়ের জন্যে সরকারকে দায়ী করতে হয় তবে একই সাথে আমাদের রাষ্ট্রের সকল অর্জন, উন্নতি এবং ন্যায়পরায়নতার জন্যেও সরকারকে বাহবা দিতে হবে, দেয়া উচিৎ…

      সরকার বহারেও আছে বিষ্ঠায় ও আছে…

      1. যদি রাষ্ট্রের সকল দুর্ঘটনা,

        যদি রাষ্ট্রের সকল দুর্ঘটনা, অবনতি এবং অন্যায়ের জন্যে সরকারকে দায়ী করতে হয় তবে একই সাথে আমাদের রাষ্ট্রের সকল অর্জন, উন্নতি এবং ন্যায়পরায়নতার জন্যেও সরকারকে বাহবা দিতে হবে, দেয়া উচিৎ…

        :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

      2. আমি এটা কেন জেন মেনে নিতে
        আমি এটা কেন জেন মেনে নিতে পারছি না। কারণ দু একজন নয় এখানে। আর আমার মূল কথা এটাই আমরা শুধু কেন দোষ দেখি?

        দোষ দেখি তো দেখি সব দোষ যেন ঐ সরকারের এমন অবস্থা!!

        কিছু দিন পর যদি ভুমিকম্প হয়। এর পর ভবন ধ্বস এ মানুষ মারা যায় তবে একদল বলবে সরকার আগে ব্যবস্থা নিলে দুর্বল ভবন ভাঙ্গলে কিন্তু এত মানুষ মারা যেত না, আবার যদি আগে উদ্যোগ নিত তখন তারাই বলত এটা হয়রানি।

        যেমন টি ঘটেছে তারেক রহমান কে খালস দেয়া বিচারক কে দুদক এর মামলা দেয়ায় বলা হচ্ছে সেটা তারেক জিয়ার মুক্তির কারনে। কিন্তু এর আগে যদি করা হত রায়ের আগে তবে কথা হত। ঐ মামলার রায়ে তারেক মুক্তি পাবে বলে বিচারক রায়ে খালাস দিবে বলে বিচারক কে এই হয়রানি!!

        বলেন করবে টা কি??????

        1. আজ যারা রানা প্লাজার রানা
          আজ যারা রানা প্লাজার রানা আওয়ামীলীগ বলে উচ্ছ্বসিত হয়ে আরও বেশী একটিভ তাদের জন্যে একজন নির্মাণ প্রকৌশলী হয়ে দায়িত্ব নিয়ে বলছি আজ ঢাকার ১৫০ কিমি’র মধ্যে ৭ মাত্রার বেশী রিখটার [যদিও বাংলাদেশে মেজর টেকটনিক প্লেটের জয়েন্ট না থাকায় এত কাছে এই মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা কম…] স্কেলের একটা ভুমিকম্প হয় তবে এই ঢাকা হবে মৃত্যুকূপ। এমন অনেক ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হবে যেখানে উদ্ধার করতে উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতেই লাগবে ২/৩ দিন বা অনেক যায়গায় আরও বেশী… আসল কথা হচ্ছেঃ

          “With great power comes great responsibility” —[Quoted from Spiderman (Movies)]!

          আর এক্ষেত্রে বলা যায় শিক্ষা আমাদের মধ্যে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের বা, জীবিকা অর্জনের সৎ পথ বাতলায় দেয় না, শিক্ষা আমাদের মাঝে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষাও দেয়ার কথা, জানিনা কে কতটা এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আমি বারবারই আর আহত হচ্ছিলাম এইভেবে যে আমার মত অন্য এক বা, একাধিক বাস্তু প্রজুক্তিবিদ বা, Civil Engineer আর স্থপতি বা, Architect যুক্ত ছিলেন এমন সকল মৃত্যুকূপ নির্মাণে। তাদের বিবেক আজ কীভাবে ঘুমায় জানিনা, অথবা এমন একটি দুর্ঘটনা হওয়ার পরও অনেক পুরোকৌশলী নিজেদের আঁখের গোছাতে ব্যস্ত তাদের বিবেক কি কখনই জাগবে না? আমি নিজে এর সাথে যুক্ত না হয়েও বিবেকের যে আইনগত বাধ্যবাধকতায় বা, কার্যভারে অভিযুক্ত হচ্ছি ওতটা কোন সুশিক্ষিত প্রজুক্তিবিদ বা, Engineer আর স্থপতি বা, Architect হলে আজ আমাদের দেশে না, বিশ্বে এমন দুর্ঘটনার স্বীকার হয় না। সবাই নিজে দায়িত্ব নিতে জানলে আজ ১৬ কোটি মানুষের এই দুঃখী এবং বঞ্চিত জনপথ এমন হয় না…

          [ বিস্তারিতঃ শিক্ষা মহান দায়িত্ববোধ নিয়ে আসে। ]

  5. রানা প্লাজা ধসের পরে আরও অনেক
    রানা প্লাজা ধসের পরে আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে সরকারকে মনোযোগ দিতে হয়েছে। কিন্তু এর মানে এই না যে এতো গুলো জীবনের প্রতি সরকার অমনোযোগী হয়ে যাবে। জয় তোমার কথাই ধরলাম, এক দুজন না। এক দুজন হলে অমনোযোগী হলে সারা যেতো। কিন্তু এতো গুলো মানুষের জীবনের প্রতি দায়সারা ভাব গ্রহণযোগ্য না।
    একটা ঘটনা ঘটার পর আরেকটা ঘটনা ঘটবেই। ঘটনার সমাধানের জন্য অপেক্ষা করবে না যে একতার সমাধান হয়েছে এবার আরেকটা ঘটুক। সব গুলোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে তবেই সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়বে।
    এই মৃত্যুর দায় সরকার এড়াতে পারে না। ( যদিও এড়িয়ে গেছে) :মাথাঠুকি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 3 =