চটি লেখা হাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার দরকার নাই

একজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তির সমর্থক, ব্লগিয় ছাগু ফাইটার, যিনি মুক্তিযুদ্ধে ২ লাখ নারীর সম্ভ্রমহানীর জন্য রাজাকার-আল বদর মুজাহিদ, নিজামী, গোলাম আযমদের ক্ষমা করতে পারেন না, তিনিই যদি ব্যক্তিগত জীবনে এ দেশের মেয়েদেরকে অনলাইনে ¯্রফে পণ্য হিসেবে প্রকাশ করেন তখন তাতে কি বলবো আমরা? আমাদের পক্ষের একজনকে “চটি অমুক” বলে যখন আখ্যা দেয়া হয় তখন সেটা ভিন্ন প্রচারণায় গিয়ে হালে পানি দেয়। জামাতীদের “মুক্তমনার” সরলীকরণ এই নারী শিকারীদেরকে যখন এক করে তখন প্রগতিশীল মানেই লম্পট, নৈতিকতার বালাই নেই ইত্যাদি প্রচারণা নতুন প্রজন্মকে মুক্তমনা, প্রগতিশীল হওয়ার বদলে তাদেরকে মৌলবাদীদের আদর্শ গ্রহণে উদ্বদ্ধু করে যা আসলে বাংলাদেশের পেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে গিয়ে দাঁড় করায়।

একজন লেখক বা ব্লগার ব্যক্তি জীবনে মদ্যপ্য হতে পারেন। পারেন নিষিদ্ধ এলাকার যাতায়াতকারী। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ কি করবে না করবে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। পৃথিবীতে অনেক সাহিত্যিক, কবি, বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক যারা মদে আসক্ত ছিলেন, ছিলেন ব্যাশ্যালয়ের নিয়মিত খরিদদার। ছিলেন অসংখ্যা নারীর প্রেমিক। তাদের জীবনীকাররা তাদের মৃত্যু পরবর্তীতে গবেষণা করে এসব তথ্য জোগাড় করেছেন। মহান এইসব সৃষ্টিশীল মানুষদের ব্যক্তিগত জীবনের এই গোপন দিকগুলো (ঠিক আছে অন্ধকারই বলুন) জেনে আমরা তাদের কাজকে কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারি না। কারণ তারা কেউ ধষর্ণকারী নন। তারা কেউ হত্যাকারী নন। তারা কোন নারীকে হেয় প্রতিপন্ন করেননি। তারা নারীকে পণ্য হিসেবে প্রকাশ করেননি। তারা তাদের জীবনকে গোপন করে গেছেন।

একজন “মুক্তিযুদ্ধের গবেষক” বিশিষ্ট “ছাগু ফাইটার” যখন তার জীবনে আসা নারীদের বিছানায় নেয়ার গল্প প্রকাশ করেন, ভিডিওসহ জনসম্মুখে উন্মুক্ত করেন তখন তাকে যে ২ লাখ নারীকে মুজাহিদ-গোলাম আযমরা পাকিদের সহায়তায় তাদের সম্ভ্রমহানী করেছিল সেটাকে কুম্ভাশ্রু বলা ছাড়া আর কি বলা যাবে? তার চটি অতিসম্প্রতি ফেইসবুকে পড়ে তাকে আর যাই হোক সম্মান করতে পারিনি। গোলাম আযমকে নিয়ে লেখা হলেও চটি তো চটিই। তার রুচি ও মানসিকতা তার মধ্যে দিয়েই প্রকাশ পায়।

অমি রহমান পিয়াল ব্যক্তিগত জীবনে কি করছেন তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা কেন থাকবে। একজন লেখক কেমন জীবন যাপন করবেন তার একান্তই তার বিষয়। এটা একজন সাধারণ মানুষের বেলায় যেমন সত্য তেমনি জ্ঞানীগুণি মানুষের জন্যও সত্যি। কিন্তু কেউ যদি তার প্রেমিকার সঙ্গে একান্ত ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ভিডিও করে প্রচার করেন তাকে অসুস্থ আর উম্মাদ বলে অভিহত করলে তাকে আসলে তার অপরাধ থেকে দায় মুক্তি দেয়া হয়। একজন পর্ণ অভিনেতাও মনে হয় না তার একান্ত বান্ধবী বা স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার দৃশ্য প্রকাশ করতে চাইবে। কোন ঘাগু লম্পটও কখনো তার মুখোশ খুলে ফেলেন না। তিনি বলেন না আমি ওমুককে খাইছি, তমুককে খাইয়া ছাইড়া দিমু ভাবছি, অমুককে তো আমি জোর কইরা খাই নাই…। যারা এই পর্ণস্টার, লম্পটদেরকেও হার মানান তারা ভয়ংকর মানুষ! যারা আমাদের নারীদের পাকিদের মত বিবস্ত্র করে জনসম্মুখে প্রকাশ করেন তারা মুজাহিদ-গোলাম আযমদের সমস্তরের। রাজাকার-আল বদরদের সহায়তায় যে নারীরা সম্ভ্রম হারিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল এই ভয়ংকর মানুষগুলোর হাতেও একই কায়দায় অনেক নারী একই পথ বেছে নেয়। যারা ব্লকমেলিং করে নারী-পুরুষের যৌন মিলনের মত সুস্থ সম্পর্ককে এভাবে কুলষিত করেন তারা সুস্থ সমাজের অংশ হতে পারেন না। যারা সহব্লগারকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণের আনন্দে পার্টি দেন তারা সমাজের প্রকৃত অন্ধকার মানুষ। একাত্তরের অন্ধকারের মানুষের সমালোচনা করা তাদের মুখে সাজে না। তারা যেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে এবার রেহাই দেন। এমন মানুষ যেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাতে আর না আসেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৯ thoughts on “চটি লেখা হাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার দরকার নাই

  1. একজন “মুক্তিযুদ্ধের গবেষক”

    একজন “মুক্তিযুদ্ধের গবেষক” বিশিষ্ট “ছাগু ফাইটার”
    যখন তার জীবনে আসা নারীদের বিছানায় নেয়ার গল্প
    প্রকাশ করেন, ভিডিওসহ জনসম্মুখে উন্মুক্ত করেন
    তখন তাকে যে ২ লাখ নারীকে মুজাহিদ-গোলাম
    আযমরা পাকিদের সহায়তায় তাদের
    সম্ভ্রমহানী করেছিল সেটাকে কুম্ভাশ্রু বলা ছাড়া আর
    কি বলা যাবে?

    এইরকম কিছু মানুষের জন্য ছাগুরা গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

    1. সহব্লগারের শুধুমাত্র আদর্শগত
      সহব্লগারের শুধুমাত্র আদর্শগত পার্থক্য কারণে যাকে জীবন দিয়ে ক্ষতি করতে চায় তিনি আর যাই হোক কোন সৎ লেখক না।

  2. তার কাছে আপাতত মুক্তিযুদ্ধ ও
    তার কাছে আপাতত মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও একটা পন্য, যেটা আগে ছিল নারী ও যৌনতা। আপনার লেখার সাথে সহমত! :গোলাপ:

    1. অনেকে তাই বলছে। সম্প্রতি আসিফ
      অনেকে তাই বলছে। সম্প্রতি আসিফ মহিউদ্দিন একটা লেখা দিয়েছে, সেখানে বিস্তারিত সব আছে। চাইলে লিঙ্ক দিতে পারি।

  3. কয়েক জনের স্ট্যাটাস দেখলাম –
    কয়েক জনের স্ট্যাটাস দেখলাম – পিয়াল ভাইয়ের ছবিতে যারা লাইক দেবে, তাদের সবাইরে ব্লকামু। পড়ে যাস্ট তাজ্জব হয়ে গেলাম। একটা মানুষ কতটা অন্ধ হতে পারে যে, এর পরেও কাউকে সাপোর্ট দেয়।

      1. মানে তারা পিয়ালের এমনই
        মানে তারা পিয়ালের এমনই অন্ধভক্ত যে, পিয়ালের সেই নগ্ন ছবিতে যারা লাইক দেবে তাদের সবাইকে ব্লক করে দেবে। তারপর সেই পিয়ালের লেজ ধরেই ঝুলতে থাকবে…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 2 = 8