নির্ভীক এক শান্তির দূত -শাহ এ এম এস কিবরিয়া।।


২৭জানুয়ারি ২০০৫।সেদিন বিকেলে সিলেটের হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া।বক্তৃতা শেষে তিনি যখন স্কুলের গেট দিয়ে বের হচ্ছিলেন ঠিক তখনি তাকে লক্ষ করে দুটি আর্জেস গ্রেনেড ছোড়া হয়।প্রচন্ড শব্দে গর্জে উঠে আর্জেস গ্রেনেড । রক্তে রঞ্জিত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার দেহটি লুটিয়ে পড়ে অসার হয়ে।যন্ত্রনার এ এক বিভিষিকাময় অধ্যায়।কে নেয় কার খবর। নিজের প্রান বাঁচাতে ছুটো ছুটি শুরু করে দেয় ভীত সন্ত্রস্ত্র মানুষ।এর মধ্যেই যেন সম্বিৎ ফিরে পায় কয়েকজন আওয়ামীলীগ কর্মী।তারা তাদের প্রিয় নেতার নিথর দেহটি পড়ে থাকতে দেখে রক্তে ভেজা ধুলির মাঝে । কিংকর্তব্যবিমূঢ় কর্মীরা যেন তখনো বুঝে উঠতে পারছেনা এখন তাদের কি করা উচিৎ। তার পাশেই তখন লাশ হয়ে পড়ে ছিলা ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। কর্মীরা ছুটে প্রিয় নেতার পাশে এসে বোঝার চেস্টা করলেন তিনি বেঁচে আছেন কিনা।না তখনো কিছু প্রান বোধ হয় তার অবশিষ্ট ছিলো।এর পর আর দেরি নয়।প্রথমে তাকে হবিগঞ্জ এবং মাধবপুরে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ডাক্তারের অনুপস্থিতি এবং চিকিৎসা সামগ্রীর অপ্রতুলতার জন্য তার কোনো চিকিৎসা করা যায়নি। পরবর্তীকালে তাকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬৫ মাইল দূরবর্তী ঢাকার বারডেম হাসপাতালে নেয়া হয়। এ্যাম্বুলেন্স সহযোগে বারডেম হাসপাতালে শাহ কিবরিয়াকে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এভাবেই রচিত হয়েছিলো সেদিন বিএনপি জামাত জোটের মদদ পুস্ট হত্যার রাজনিতীর এক নোংড়া অধ্যায়।সেদিনের হত্যাকান্ডের যন্তনাময় স্মৃতি নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন মারাত্মকভাবে আহত হবিগঞ্জ-লাখাই আসনের বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আবু জাহিরসহ শতাধিক লোক। ২১শে আগষ্ট শেখ হাসিনা এবং সিলেটে বৃটিশ রাষ্ট্র দূতের উপর যে আর্জেস গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিলো কিবরিয়া হত্যাকান্ডে সেই একই আর্জেস গ্রেনেড ব্যাবহার করা হয়।

শাহ কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডে হবিগঞ্জের নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকদের ভূমিকার ব্যাপক সমালোচনা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরকার-বিরোধী আন্দোলন ও দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়। কিবরিয়া’র পরিবার ঢাকায় এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের দাবীতে সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলন করে।

২১ মার্চ, ২০০৫ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশ হবিগঞ্জে বোমা হামলার অভিযোগে ১০ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করে। এছাড়াও সিআইডি কর্তৃপক্ষ কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নানসহ ১৪জনকে অন্তর্ভূক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে।

সংক্ষিপ্ত জীবনী ঃ

এস এ এম এস কিবরিয়া ১ মে, ১৯৩১ তারিখে বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতা শাহ ইমতিয়াজ আলী ছিলেন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের অগ্রদূত। কিবরিয়া শৈশবেই তীক্ষ্ণ ধীর-শক্তির অধিকারী ও মেধাবী ছাত্র হিসেবে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ঐ বৎসরেই বাংলা ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান পুলিশ কর্তৃক তিনি গ্রেফতার হন এবং অল্পকিছুদিন পরেই মুক্তি পান। ১৯৫৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের পর পাকিস্তান সরকারের সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে পাকিস্তানে বৈদেশিক বিভাগে যোগদান করেন। কিবরিয়া আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ফ্লেচার স্কুল অব ল এবং যুক্তরাজ্যের লণ্ডনে ব্রিটিশ ফরিন অফিসে কূটনৈতিক সেবায় আরো দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন

কূটনৈতিক জীবন ঃ

শাহ এ এম এস কিবরিয়া পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনের সদস্য হিসেবে কলকাতা, কায়রো, জাতিসংঘ মিশন, নিউইয়র্ক, তেহরান এবং জাকার্তায় নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে পাকিস্তান দূতাবাসে নিযুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শাহ কিবরিয়া ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে চাকুরীরত ছিলেন। পাক দূতাবাসে কর্মরত অবস্থায় ৪ আগস্ট, ১৯৭১ তারিখে তিনি ও তার বাঙ্গালী সহকর্মীবৃন্দ দূতাবাস ত্যাগ করে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখান। পরে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন তদারকী করাসহ বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে প্রভূত সহায়তা করেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্য ও অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিতভাবে বুলেটিন, পুস্তিকা প্রকাশনার কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যাপক অবদান রাখেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর শাহ এ এম এস কিবরিয়া ঢাকায় নবপ্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজনৈতিক বিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়াও, তিনি সচিব হিসেবে প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ফিজিতে হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করে। ১৯৭৬ সালে তিনি জেনেভায় জাতিসংঘের ইউরোপীয় কার্যালয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৮ সালে বৈদেশিক সচিব হিসেবে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৯ সালে ৭৭-জাতি গ্রুপের প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ম্যানিলায় আংকটাডের সভায় নির্বাচিত হন তিনি। মে ১৯৮১ থেকে মার্চ ১৯৯২ পর্যন্ত সময়কালে কিবরিয়া এসকাপের নির্বাহী সচিবের পদে অধিষ্ঠিত হন। এছাড়াও, ১৯৮৬ সালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধি হিসেবে কম্বোডিয়ায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন ঃ

জাতিসংঘের কার্যাবলী সম্পন্ন করে কিবরিয়া ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশের সেবা করার লক্ষ্যে রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ঐ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে এডভাইজরী কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। একই সময়ে কিবরিয়া জাতীয় দৈনিকগুলোতে অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক ইস্যু সম্পর্কীয় নিবন্ধ লেখতে শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির “রাজনৈতিক উপদেষ্টা” পদে নিযুক্ত হন। জুন ১২, ১৯৯৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রী পরিষদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন। ২০০১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ঐ সরকারের মেয়াদকালীন সময়ে একই পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দেশ সেবার মানসে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন।

১৯৯৭ সালের বার্ষিক সভায় কিবরিয়া এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও ১৯৮৮ সালে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে শাহ এ এম এস কিবরিয়া হবিগঞ্জ-৩ নির্বাচনী এলাকা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে মেম্বার অব পার্লামেন্ট (এমপি) বা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

অর্থমন্ত্রীর মেয়াদ কালে ঃ

বিশ্লেষকেরা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ৫ বছরের সময়কালকে অর্থনৈতিক উন্নতি ও স্থিরতার প্রতিকৃতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ১৯৯৬ সালের স্টক মার্কেট বা পুঁজি বাজার ধ্বসই ছিল শুধুমাত্র এর ব্যতিক্রম ঘটনা। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এর সময়কালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জিডিপি’র গড় ৫.৮৩%-এ উন্নীত হয়। মুদ্রাস্ফীতির গড় হার ৫%-এর নিচে নেমে যায়। জুন ২০০১ সালে মুদ্রাস্ফীতির গড় হার ছিল ১.৫৩%। ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরের ৩,৮৮৪ মিলিয়ন ডলারের স্থলে ২০০০-২০০১ অর্থবছরে ৬,৪৭৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্যসামগ্রী বিদেশে রপ্তানী করা হয়। সামাজিক অবকাঠামো হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি খাতে ২০০০-২০০১ অর্থবছরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪.৭% হয়, যেখানে ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২১.০২%। ৫ বছর মেয়াদে আওয়ামী লীগের আমলে জাতীয় সঞ্চয়ের হার ২০.১৭% থেকে ২৩.৭৮% হয়। একইভাবে বিনিয়োগের হার ১৯.৯৯% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩.৬৩% হয়। বাহ্যিক অর্থনৈতিক অবকাঠামো আরো উন্নত এবং আধুনিকায়ণ হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২,১০৫ মেগাওয়াট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩,৬০০ মেগাওয়াটে রূপান্তরিত হয়। চাউল এবং আটা উৎপাদন যেখানে ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে ছিল ১৯০.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন; সেখানে ২০০০-২০০১ অর্থবছরে উৎপাদন দাঁড়ায় ২৬৪.৯১ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এ উৎপাদনের ফলেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালে প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশীদের গড় আয়ু ৫৮.৭ বছর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০০০-২০০১ অর্থবছরে ৬১.৮ বছরে পৌঁছে। অর্থমন্ত্রী থাকাবস্থায় শাহ কিবরিয়া’র আমলে গ্রামীণ এলাকায় মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ২,২০৬.১ কিলোক্যালরী থেকে ২,২৭৪.২ কিলোক্যালরী এবং শহরাঞ্চলে ২,২২০.২ কিলোক্যালরী থেকে ২,২৮৩.২ কিলোক্যালরী হয়। শিক্ষিতের হার যেখানে ১৫ বছর বয়সীদের ঊর্ধ্বে ছিল ৪৭.৩ শতাংশ; সেখানে ২০০০ সালে ৬৪ শতাংশে দাঁড়ায়। শিশু মৃত্যুর হার যেখানে ১৯৯৫-৯৬ সালে ছিল প্রতি হাজারে ৬৭ জন, সেখানে ১৯৯৮ সালে তা ৫৭ জনে নেমে আসে।

তদন্তের পর তদন্ত, তারিখের পর তারিখ। নয় বছর পার হয়ে গেলো তবু বিচার শেষ হলোনা। এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কি হতে পারে? সময় পেরিয়ে যায় – বিচারের বানী যেন নিভৃতে কাঁদে। তবু আশায় বুক বাঁধি , সম্প্রতি গঠিত সরকারের উদ্যোগে শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকান্ডের বিচারকাজ অবিলম্বে সমাপ্ত হবে।

আজকের এই দিনটিতে দেশের নিবেদিত প্রান আত্বত্যাগকারী নির্ভিক সদা আদর্শের প্রতীক শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২০ thoughts on “নির্ভীক এক শান্তির দূত -শাহ এ এম এস কিবরিয়া।।

  1. সফল এই নেতাকে জানাই…
    সফল এই নেতাকে জানাই… :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: সেই সাথে তাঁর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল খুনিদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি উপর্যুক্ত শাস্তি প্রদানের দাবি জানাই… :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

    1. একটি নির্লজ্জ হত্যাকান্ডের
      একটি নির্লজ্জ হত্যাকান্ডের বিচার এতদিন ঝুলে থাকতে পারেনা।যেখানে তার নিজের দল ক্ষমতায়।আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি।

    1. ভাই,আওয়াজ তুলুন,যুদ্ধাপরাধী
      ভাই,আওয়াজ তুলুন,যুদ্ধাপরাধী সহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে।খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তী ফাঁসি দিতে হবে।

  2. কিছুই বলার নেই শঙ্খনীল ভাই,
    কিছুই বলার নেই শঙ্খনীল ভাই, শুধুই শ্রদ্ধা :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

    আর সফল এই অর্থনীতিবিদ এবং শান্তির দূতকে :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. ধন্যবাদ তারিকভাই। ২০০৫ থেকে
      ধন্যবাদ তারিকভাই। ২০০৫ থেকে ২০১৪ মাঝে চলে গেছে ৯টি বছর। দীর্ঘ নয় বছরেও আমরা কিবরিয়া হত্যার বিচার শেষ করতে পারিনি।এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে যখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়।

    1. প্রয়োজন আগেও ছিলো,প্রয়োজন
      প্রয়োজন আগেও ছিলো,প্রয়োজন এখনো আছে।৭১ এ ওরা যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা করে আমাদের মেধা শুন্য করতে চেয়েছিলো এখনো সেই প্রচেষ্টাতেই আছে।এই সকল হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে ওদের এই মিশন চলতেই থাকবে।বাঙ্গালীকে পঙ্গু করার আগ পর্যন্ত।

  3. অপরাধের বিচার না হলে সেই
    অপরাধের বিচার না হলে সেই অপরাধ ঘটতেই থাকে। সকল রাজনৈতিক হত্যার বিচার রাজনীতিবিদদের নিজেদের স্বার্থেই করা উচিৎ ছিল। অথচ আফসোস উল্টো আমাদের আওয়াজ তুলতে হয় এইসব হত্যার বিচার করার জন্য।
    জনাব কিবরিয়া একজন সফল অর্থমন্ত্রী হিসেবে সকল মহলেই বিবেচিত ছিলেন। উনার হত্যার বিচার হবেনা এটা হতাশাজনক। বিশেষ করে যখন উনার নিজের দলই ক্ষমতায়।

    1. ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত অসংখ্য
      ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত অসংখ্য রাজনৈতিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।আহসানউল্লাহ মাস্টার ও কিবরিয়া হত্যাকান্ড ছিলো সেগুলোরি ধারাবাহিক রুপ।২০০৪সালের ২১আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিতান্তই ভাগ্যের জোড়ে শেখ হাসিনা বেঁচে যান কিন্তু প্রান হারাতে হয় আইভি রহমান সহ অনেককেই।পঙ্গুত্বের ভাগ্য বহন করছে অনেকেই।বলার অপেক্ষা রাখেনা এই সকল হত্যাকান্ডের পিছনে মদদ জুগিয়ে গেছে তৎকালীন বিএনপি জামাত জোট।তারা কেবল মদদ যুগিয়েই ক্ষান্ত হয়নি গুরুত্বপূর্ণ নথিওপত্রও নস্ট করেছে। বর্তমানে আওয়ামীলীগ ৫বছর ক্ষমতায় থেকে আবারো ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হল।কিন্তু সেই সকল হত্যাকান্ডগুলোর বিচার সম্পন্ন হবেতো দুরের কথা বিচারের ধীর গতির কারণে অনেকেই ভুলতে বসেছে সেই সব স্মৃতি। আওয়ামীলীগ যদি ক্ষমতায় থেকেও নিজেদের ত্যাগী নেতাদের রক্তের ঋন শোধ করতে না পারে তবে এই লজ্জাকে তারা কিভাবে ঢাকবে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 4 = 12