ভারতবর্ষের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র পন্ডিত “চানক্য” ।

আমরা মূলত ভারতবর্ষেরই অংশীদার । আমাদের অনেক কিছুই ছিল এবং আছে কিন্তু বাড়ির মুরগী ডাল বরাবর বলেই মনে করি – এই মত কে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের বিদেশী প্রীতি এমনই হয়েছে যে , বিদেশী সব কিছুই ভাল । ফলে আমরা দিন দিন বিদেশীদের অনুগত হতে যাচ্ছি । আপনারা আমাকে আবার ভারতের দালাল ট্যাগ দিয়ে দিয়েন না । এই এজন্য আমাদের ভারতবর্ষের একজন প্রথম সফল কূতনীতিক ও অর্থনীতিবিদ পন্ডিতের সাথে আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিব । জানি না আপনাদের কোন কাজে লাগবে কিনা । তিনি বিশ্বে “চানক্য” নামেই পরিচিত । (সংগত কারনেই লেখাটা বেশ বড় হয়ে গেছে ক্ষমা সুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন )


আমরা মূলত ভারতবর্ষেরই অংশীদার । আমাদের অনেক কিছুই ছিল এবং আছে কিন্তু বাড়ির মুরগী ডাল বরাবর বলেই মনে করি – এই মত কে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের বিদেশী প্রীতি এমনই হয়েছে যে , বিদেশী সব কিছুই ভাল । ফলে আমরা দিন দিন বিদেশীদের অনুগত হতে যাচ্ছি । আপনারা আমাকে আবার ভারতের দালাল ট্যাগ দিয়ে দিয়েন না । এই এজন্য আমাদের ভারতবর্ষের একজন প্রথম সফল কূতনীতিক ও অর্থনীতিবিদ পন্ডিতের সাথে আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিব । জানি না আপনাদের কোন কাজে লাগবে কিনা । তিনি বিশ্বে “চানক্য” নামেই পরিচিত । (সংগত কারনেই লেখাটা বেশ বড় হয়ে গেছে ক্ষমা সুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন )

জন্ম ঃ খৃষ্ট পূর্ব ৩৭০ অব্দ-তে অখন্ড ভারতের বর্তমান পাকিস্তানের পাটনায় (বিহারের তক্ষশীলায় ) জন্ম গ্রহন করেন মৃত্যু ঃ খৃস্ট পূর্ব ২৮৩ অব্দ বিহার ।

নাম ঃ বাবামায়ের দেওয়া নাম বিষ্ণুগুপ্ত । ছদ্য নাম কৌটিল্য (কুটনীতির কারনে)। চানক গ্রামে জন্ম হেতু তিনি চানক্য নামে পরিচিত হতেই বেশী খুসি হতেন ।
শিক্ষা ঃ তিনি বর্তমান পাকিস্তানের তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া করেন ।
কর্ম জীবন ঃ তিনি সেই বিখ্যাত তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা দিয়ে শুরু করে মৌর্য বংশের উপদেষ্ঠা ও প্রধানমন্ত্রী পদে নিযূক্ত ছিলেন । অর্থ দূর্নীতি সম্পর্কে উনার মহান উক্তি – “যে রাজা শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে না এবং শুধু অভিযোগ করে যে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তাকে সিংহাসনচ্যুত করা উচিত।”

অর্থনৈতিক দুর্নীতি সর্বকালেই ছিল এবং চাণক্যের যুগেও তা নতুন কোন বিষয় ছিল না। সে কারণে তিনি লিখেছেন, “সকল উদ্যোগ নির্ভর করে অর্থের ওপর। সেজন্যে সবচেয়ে অধিক মনোযোগ দেয়া উচিত খাজাঞ্চিখানার দিকে। তহবিল তসরুপ বা অর্থ আত্মসাতের চল্লিশটি পদ্ধতি আছে। জিহ্বা’র ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর আস্বাদন করা সম্ভব নয়, তেমনি কোন রাজ কর্মচারীর পক্ষে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে ফেলার ঘটনা অসম্ভব ব্যাপার। পানির নিচে মাছের গতিবিধি যেমন পানি পান করে বা পান না করেও বুঝা সম্ভব নয়, অনুরূপ রাজ কর্মচারীর তহবিল তসরুপও দেখা অসম্ভব । এই সব কারনে বিশ্বের প্রথম কুটনৈতিক ও অর্থবিদ হিসাবে উনাকে চিহ্নিত করেছেন ।

কিংবদন্তী আছে, মগধ রাজ্যের পরাক্রমশালী নন্দ বংশের শেষ রাজা ধনানন্দ, যিনি তার অন্যায় শাসনের জন্য প্রজাসাধারণের কাছে ভীষণ অপ্রিয় ছিলেন, একবার চাণক্যকে অপমান করেন। মহারাজ ধনানন্দের পিতৃশ্রাদ্ধে পৌরহিত্য করার জন্য একজন ব্রাহ্মণের প্রয়োজন হয়। ব্রাহ্মণ সংগ্রহের দায়িত্ব পড়ে মন্ত্রী শকটার উপর। তিনি চাণক্যকে মহারাজ ধনানন্দের পিতৃশ্রাদ্ধে পৌরহিত্য করার অনুরোধ জানান। সে অনুরোধ অনুযায়ী চাণক্য যথাসময়ে রাজপ্রাসাদে উপস্থিত হয়ে পুরোহিতের আসন গ্রহণ করেন। চাণক্যের চেহারা খুব ভালো ছিলো না। পুরোহিতের আসনে কদাকার ব্রাহ্মণ চাণক্যকে দেখে মহারাজ ধনানন্দ ভীষণ ক্রুদ্ধ হন এবং তাঁকে তিরস্কার করে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পণ্ডিত চাণক্য প্রথমে রুষ্ট না হয়ে মহারাজাকে হিতবাক্যে বুঝাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু রাজা ধনানন্দ কোন প্রবোধ না মেনে অপর লোক দ্বারা চাণক্যকে যথেষ্ট অপমান করেন। চাণক্য ক্রুদ্ধ হয়ে সেখান থেকে চলে আসেন এবং এই অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। এদিকে নন্দ রাজা ধনানন্দের সৎভাই (পিতা মহাপদ্মের ঔরসে দাসী ‘মুরা’র গর্ভজাত) পদস্থ ও উচ্চাভিলাষী তরুণ সামরিক কর্মকর্তা চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসন দখলের ষড়যন্ত্র করেন। কারণ রাজা ধনানন্দ পিতা মহাপদ্মের মৃত্যুর পর দাসীমাতা মুরা ও সৎভাই চন্দ্রগুপ্তকে রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেন। অপমানিত চন্দ্রগুপ্ত তাই ধনানন্দকে পরাজিত করে মগধের সিংহাসন দখলের চেষ্টা করেন। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রাণ বাঁচাতে তাকে বিন্ধালের জঙ্গলে পলাতক ও নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়। ঘটনাচক্রে চাণক্যের সাথে চন্দ্রগুপ্তের সাক্ষাৎ ঘটে। এই সাক্ষাতের ক্ষণলগ্নই যে একটা বিশাল জাতিগোষ্ঠির ভাগ্যচাকার মোড় ঘুরিয়ে চিরকালের নতুন বাঁক তৈরি করে দেবে তা কে জানতো। চন্দ্রগুপ্ত তাঁর জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে চাণক্যকে গুরু, উপদেষ্টা ও মন্ত্রণাদাতা হিসেবে মেনে নেন। অতঃপর চাণক্যের সক্রিয় সহযোগিতায় চন্দ্রগুপ্ত একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন এবং গুরুর সুনিপুণ পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়ে শেষপর্যন্ত নন্দরাজাকে সিংহাসনচ্যুত করতে সক্ষম হন। মগধের সিংহাসনে আরোহণ করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এই চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য়েরই দ্বিতীয় পুরুষ হচ্ছেন বিন্দুসারা এবং তৃতীয় প্রজন্ম আরেক প্রতাপশালী শাসক সম্রাট অশোক।

চন্দ্রগুপ্তের অতি-নির্ভরযোগ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদে বিলাসবহুল জীবন যাপনের অবারিত সুযোগ থাকার পরও, কথিত আছে যে, চাণক্য এক শ্মশানবর্তী খুব সাধারণ একটি কুঁড়েঘরে নির্মোহ সন্ন্যাস জীবন-যাপন করতেন। ওখানে থেকেই বিশ্বস্ততার সাথে রাজপ্রদত্ত দায়িত্বপালনের পাশাপাশি শিষ্যবর্গকে রাজ্যশাসন কৌশল শিক্ষাসহ নৈতিক ও আর্থ-সামাজিক বিষয়ে জ্ঞান দান করতেন। এসব বিষয়ের কিছু কিছু তাঁর অন্যান্য বিবরণীতে সংগৃহিত হয়েছে। এ ধরনের একটি সংকলন- ‘চাণক্য নীতি দর্পণ’। দু’হাজারেরও অধিক বছরের কাল পরিক্রমায় এসেও চাণক্য নীতি শ্লোকগুলো এখনো যে গুরুত্বহীন হয়ে যায়নি, এখানেই ধর্ম, দর্শন, নীতিশাস্ত্র, সামাজিক আচরণ ও রাজনীতির ক্ষেত্রে চাণক্যের অভূতপূর্ব দার্শনিক প্রাজ্ঞতা প্রমাণিত। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে অসাধারণ দক্ষ পরিকল্পনাবিদ হিসেবে চাণক্যের খ্যাতি অপরিমেয়। সিদ্ধান্তে অটলস্বভাবী তাঁর কাছে অর্থহীন আবেগের কোন মূল্য ছিলো না। নিজস্ব পরিকল্পনা উদ্ভাবন ও তা বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন কঠোর।

প্রচার আছে ভারতের প্রথম রাস্ট্রনীতি ও অর্থনীতি গ্রন্থের প্রথম লেখন এই চানক্য । সেই সুবাদে উনি ৬০০০ শ্লোক লিখেছেন যার কিছু অংশ বাংলায় আপনাদের কাছে উপস্থাপন করলাম । উনার এই নীতি ১৮০০ বছর পরেও অক্ষয় ও সমকালিন হিসাবে প্রতিয়মান হয় । এতৎবিষয়ক তথ্যসূত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে যেটিকে বিবেচনা করা হয়, তা হলো গ্রীক দূত মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’ (Indica)। খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে মেগাস্থিনিস (Megasthenes) চন্দ্রগুপ্তের দরবারে অবস্থান করে এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করেন বলে জানা যায়। মেগান্থেসিসের সেই ইন্ডিকা গ্রন্থটি প্রথম সংকলন করেন জার্মান বন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ ই এ শোয়েনেব যার নাম দিয়েছিলেন মেগান্থেসিস ইন্ডিকা ১৮৪৬ সালে পরে সেটার ইংরেজী অনুবাদ হয় ১৮৬৬ সালে । এরপর আমাদের টাংগাঈলের রজনীকান্ত গুহ ১৮৬৭ সালে টা ইন্ডিকা বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন বলে জানা যায় ।

চাণক্য শ্লোক
বাংলায় প্রচলিত কিছু চাণক্য শ্লোক নিচে উল্লেখ করা হলো-[১০]

• অতি পরিচয়ে দোষ আর ঢাকা থাকে না।
• অধমেরা ধন চায়, মধ্যমেরা ধন ও মান চায়। উত্তমেরা শুধু মান চায়। মানই মহতের ধন।
• অনেকে চারটি বেদ এবং ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করলেও আত্মাকে জানে না, হাতা যেমন রন্ধন-রস জানে না।
• অন্তঃসার শূন্যদের উপদেশ দিয়ে কিছু ফল হয় না, মলয়-পর্বতের সংসর্গে বাঁশ চন্দনে পরিণত হয় না।
• অবহেলায় কর্মনাশ হয়, যথেচ্ছ ভোজনে কুলনাশ হয়, যাচ্ঞায় সম্মান-নাশ হয়, দারিদ্র্যে বুদ্ধিনাশ হয়।
• অভ্যাসহীন বিদ্যা, অজীর্ণে ভোজন, দরিদ্রের সভায় বা মজলিশে কালক্ষেপ এবং বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা বিষতুল্য।
• অহংকারের মত শত্রু নেই।
• আকাশে উড়ন্ত পাখির গতিও জানা যায়, কিন্তু প্রচ্ছন্নপ্রকৃতি-কর্মীর গতিবিধি জানা সম্ভব নয়।
• আদর দেওয়ার অনেক দোষ, শাসন করার অনেক গুণ, তাই পুত্র ও শিষ্যকে শাসন করাই দরকার, আদর দেওয়া নয়।
• আপদের নিশ্চিত পথ হল ইন্দ্রিয়গুলির অসংযম, তাদের জয় করা হল সম্পদের পথ, যার যেটি ঈপ্সিত সে সেই পথেই যায়।
• আড়ালে কাজের বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু সামনে ভাল কথা বলে, যার উপরে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ, তাকে পরিত্যাগ করা উচিত।
• ইন্দ্রিয়ের যে অধীন তার চতুরঙ্গ সেনা থাকলেও সে বিনষ্ট হয়।
• উপায়জ্ঞ মানুষের কাছে দুঃসাধ্য কাজও সহজসাধ্য।
• উৎসবে, বিপদে, দুর্ভিক্ষে, শত্রুর সঙ্গে সংগ্রামকালে, রাজদ্বারে এবং শ্মশানে যে সঙ্গে থাকে, সে-ই প্রকৃত বন্ধু।
• ঋণ, অগ্নি ও ব্যাধির শেষ রাখতে নেই, কারণ তারা আবার বেড়ে যেতে পারে।
• একটি দোষ বহু গুণকেও গ্রাস করে।
• একটি কুবৃক্ষের কোটরের আগুন থেকে যেমন সমস্ত বন ভস্মীভূত হয়, তেমনি একটি কুপুত্রের দ্বারাও বংশ দগ্ধ হয়।
• একটিমাত্র পুষ্পিত সুগন্ধ বৃক্ষে যেমন সমস্ত বন সুবাসিত হয়, তেমনি একটি সুপুত্রের দ্বারা সমস্ত কুল ধন্য হয়।
• একশত মূর্খ পুত্রের চেয়ে একটি গুণী পুত্র বরং ভাল। একটি চন্দ্রই অন্ধকার দূর করে, সকল তারা মিলেও তা পারে না।
• কর্কশ কথা অগ্নিদাহের চেয়েও ভয়ঙ্কর।
• খেয়ে যার হজম হয়, ব্যাধি তার দূরে রয়।
• গুণবানকে আশ্রয় দিলে নির্গুণও গুণী হয়।
• গুণহীন মানুষ যদি উচ্চ বংশেও জন্মায় তাতে কিছু আসে যায় না। নীচকুলে জন্মেও যদি কেউ শাস্ত্রজ্ঞ হয়, তবে দেবতারাও তাঁকে সম্মান করেন।
• গুরু শিষ্যকে যদি একটি অক্ষরও শিক্ষা দেন, তবে পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই, যা দিয়ে সেই শিষ্য গুরুর ঋণ শোধ করতে পারে।
• গৃহে যার মা নেই, স্ত্রী যার দুর্মুখ তার বনে যাওয়াই ভাল, কারণ তার কাছে বন আর গৃহে কোনও তফাৎ নেই।
• চন্দন তরুকে ছেদন করলেও সে সুগন্ধ ত্যাগ করে না, যন্ত্রে ইক্ষু নিপিষ্ট হলেও মধুরতা ত্যাগ করে না, যে সদ্বংশজাত অবস্থা বিপর্যয়েও সে চরিত্রগুণ ত্যাগ করে না।
• তিনটি বিষয়ে সন্তোষ বিধেয়: নিজের পত্নীতে, ভোজনে এবং ধনে। কিন্তু অধ্যয়ন, জপ, আর দান এই তিন বিষয়ে যেন কোনও সন্তোষ না থাকে।
• দারিদ্র্য, রোগ, দুঃখ, বন্ধন এবং বিপদ- সব কিছুই মানুষের নিজেরই অপরাধরূপ বৃক্ষের ফল।
• দুর্জনের সংসর্গ ত্যাগ করে সজ্জনের সঙ্গ করবে। অহোরাত্র পুণ্য করবে, সর্বদা নশ্বরতার কথা মনে রাখবে।
• দুর্বলের বল রাজা, শিশুর বল কান্না, মূর্খের বল নীরবতা, চোরের মিথ্যাই বল।
• দুষ্টা স্ত্রী, প্রবঞ্চক বন্ধু, দুর্মুখ ভৃত্য এবং সসর্প-গৃহে বাস মৃত্যুর দ্বার, এ-বিষয়ে সংশয় নেই।
• ধর্মের চেয়ে ব্যবহারই বড়।
• নানাভাবে শিক্ষা পেলেও দুর্জন সাধু হয় না, নিমগাছ যেমন আমূল জলসিক্ত করে কিংবা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও কখনও মধুর হয় না।
• পরস্ত্রীকে যে মায়ের মত দেখে, অন্যের জিনিসকে যে মূল্যহীন মনে করে এবং সকল জীবকে যে নিজের মত মনে করে, সে-ই যথার্থ জ্ঞানী।
• পাপীরা বিক্ষোভের ভয় করে না।
• পাঁচ বছর বয়স অবধি পুত্রদের লালন করবে, দশ বছর অবধি তাদের চালনা করবে, ষোল বছরে পড়লে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মত আচরণ করবে।
• পুত্র যদি হয় গুণবান, পিতামাতার কাছে তা স্বর্গ সমান।
• পুত্রকে যারা পড়ান না, সেই পিতামাতা তার শত্রু। হাঁসদের মধ্যে বক যেমন শোভা পায় না, সভার মধ্যে সেই মূর্খও তেমনি শোভা পায় না।
• বইয়ে থাকা বিদ্যা, পরের হাতে থাকা ধন একইরকম। প্রয়োজনকালে তা বিদ্যাই নয়, ধনই নয়।
• বিদ্বান সকল গুণের আধার, অজ্ঞ সকল দোষের আকর। তাই হাজার মূর্খের চেয়ে একজন বিদ্বান অনেক কাম্য।
• বিদ্যাবত্তা ও রাজপদ এ-দুটি কখনও সমান হয় না। রাজা কেবল নিজদেশেই সমাদৃত, বিদ্বান সর্বত্র সমাদৃত।
• বিদ্যা ব্যতীত জীবন ব্যর্থ, কুকুরের লেজ যেমন ব্যর্থ, তা দিয়ে সে গুহ্য-অঙ্গও গোপন করতে পারে না, মশাও তাড়াতে পারে না।
• বিদ্যাভূষিত হলেও দুর্জনকে ত্যাগ করবে, মণিভূষিত হলেও সাপ কি ভয়ঙ্কর নয়?
• বিদ্যার চেয়ে বন্ধু নাই, ব্যাধির চেয়ে শত্রু নাই। সন্তানের চেয়ে স্নেহপাত্র নাই, দৈবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বল নাই।
• বিনয়ই সকলের ভূষণ।
• বিষ থেকেও অমৃত আহরণ করা চলে, মলাদি থেকেও স্বর্ণ আহরণ করা যায়, নীচজাতি থেকেও বিদ্যা আহরণ করা যায়, নীচকুল থেকেও স্ত্রীরত্ন গ্রহণ করা যায়।
• ভোগবাসনায় বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়।
• মিত ভোজনেই স্বাস্থ্যলাভ হয়।
• যশবানের বিনাশ নেই।
• যারা রূপযৌবনসম্পন্ন এবং উচ্চকুলজাত হয়েও বিদ্যাহীন, তাঁরা সুবাসহীন পলাশ ফুলের মত বেমানান।
• যে অলস, অলব্ধ-লাভ তার হয় না।
• যে গাভী দুধ দেয় না, গর্ভ ধারণও করে না, সে গাভী দিয়ে কী হবে! যে বিদ্বান ও ভক্তিমান নয়, সে পুত্র দিয়ে কী হবে!
• রাতের ভূষণ চাঁদ, নারীর ভূষণ পতি, পৃথিবীর ভূষণ রাজা, কিন্তু বিদ্যা সবার ভূষণ।
• শাস্ত্র অনন্ত, বিদ্যাও প্রচুর। সময় অল্প অথচ বিঘ্ন অনেক। তাই যা সারভূত তারই চর্চা করা উচিত। হাঁস যেমন জল-মিশ্রিত দুধ থেকে শুধু দুধটুকুই তুলে নেয়, তেমনি।
• সত্যনিষ্ঠ লোকের অপ্রাপ্য কিছুই নাই।
• সত্যবাক্য দুর্লভ, হিতকারী-পুত্র দুর্লভ, সমমনস্কা-পত্নী দুর্লভ, প্রিয়স্বজনও তেমনি দুর্লভ।
• সাপ নিষ্ঠুর খলও নিষ্ঠুর, কিন্তু সাপের চেয়ে খল বেশি নিষ্ঠুর। সাপকে মন্ত্র বা ওষধি দিয়ে বশ করা যায়, কিন্তু খলকে কে বশ করতে পারে?
• সুবেশভূষিত মূর্খকে দূর থেকেই দেখতে ভাল, যতক্ষণ সে কথা না বলে ততক্ষণই তার শোভা, কথা বললেই মূর্খতা প্রকাশ পায়।
• হাতি থেকে একহাজার হাত দূরে, ঘোড়া থেকে একশ হাত দূরে, শৃঙ্গধারী প্রাণী থেকে দশহাত দূরে থাকবে। অনুরূপ দুর্জনের কাছ থেকেও যথাসম্ভব দূরে থাকবে।
• মন খাঁটি হলে পবিত্র স্থানে গমন অর্থহীন।’

( চলবে )

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৩ thoughts on “ভারতবর্ষের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র পন্ডিত “চানক্য” ।

  1. আড়ালে কাজের বিঘ্ন ঘটায়,

    আড়ালে কাজের বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু সামনে ভাল কথা বলে, যার উপরে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ, তাকে পরিত্যাগ করা উচিত।

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. শুধু এইটা না , আমার কাছে মনে
      শুধু এইটা না , আমার কাছে মনে হয়েছে উনার সকল কথাই শ্বাশ্বত ও চিরঞ্জীব চিরন্তন । :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

      1. অশ্বিকার করার নেই তার সকল
        অশ্বিকার করার নেই তার সকল কথাই শ্বাশ্বত ও চিরঞ্জীব- চিরন্তন তবে এই কথাটি সবসময় আমি বলতাম আমার নিজের মত করে আজ অর্জিনাল ভার্সনটা পেলাম।এটাযে চানক্যর তাও প্রথম জানলাম।আমি এত জীবনী নিয়ে ঘাটাঘাটি করি(আমার নেশা)কিন্তু চানক্য কেন এড়িয়ে গেলাম ভেবে দেখতে হবে। :গোলাপ: :গোলাপ:

        1. জাতি জীবনী সংক্রান্ত আরও লেখা
          জাতি জীবনী সংক্রান্ত আরও লেখা চায় কারাগার ভাই… :ভাবতেছি: :জলদিকর: :আমারকুনোদোষনাই: :অপেক্ষায়আছি:

  2. চমৎকার… দুর্দান্ত একটা
    চমৎকার… দুর্দান্ত একটা কাজের কাজ করেছেন! শেষের অপেক্ষায় রইলাম…
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

  3. গুরু শিষ্যকে যদি একটি অক্ষরও

    গুরু শিষ্যকে যদি একটি অক্ষরও শিক্ষা দেন, তবে পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই, যা দিয়ে সেই শিষ্য গুরুর ঋণ শোধ করতে পারে।

    বহু দামি একটা কথা… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: চমৎকার একটা কাজ করছেন চাষা ভাই… :তালিয়া: আপনাকে অশেষ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :bow: :bow: :বুখেআয়বাবুল:

  4. আপনাকেও অশেষ A
    আপনাকেও অশেষ A :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :salute: :salute:

    শুধু শিক্ষা নয় আমার মতে কোন ঋণই শোধ করা যায় না ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 3