মন্ত্রী সুখটান দিলেই দোষ আর বাপে টান মারলে সাধু

গত দু’দিন থেকে একটি ব্যাপার ফেসবুকসহ সব মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে ।
“সংবর্ধনায় এসে সমাজকল্যান মন্ত্রির প্রকাশ্যে ধুমপান”
মন্ত্রির নাম সৈয়দ মহসিন আলী । তিনি মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাংসদ ।

গত দু’দিন থেকে একটি ব্যাপার ফেসবুকসহ সব মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে ।
“সংবর্ধনায় এসে সমাজকল্যান মন্ত্রির প্রকাশ্যে ধুমপান”
মন্ত্রির নাম সৈয়দ মহসিন আলী । তিনি মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাংসদ ।
ব্যাপারটা নিয়ে আগে কিছু লিখিনি, অপেক্ষা করছিলাম তাঁর প্রতিক্রিয়ার জন্য । আমার মনে হয় এখন কিছু লেখার সময় এসেছে । প্রথম কথা হচ্ছে সংবর্ধনায় জনসম্মুখে ধুমপান করা । এই ব্যাপারটায় সবাই তীব্র নিন্দা জানিয়েছে । সুশীল সমাজ(কথিত), বিরোধীদলীয় মানুষজন এমনকি স্বয়ং তার নিজদল আওয়ামী লীগেরও অনেকে নিন্দা জানিয়েছে ব্যাপকভাবে । আমার মতেও ব্যাপারটা অত্যন্ত খারাপ হয়েছে । অন্তত ওরকম একটা অনুষ্ঠানে এটাই খুবই বেমানন । তাছাড়া তিনি সমাজকল্যান মন্ত্রি । “যিনি বাচ্চাদের সামনেই সিগারেট হাতে নেন তিনি আবার কি কল্যান করবেন”- এমন কথা খুব হচ্ছে ।
আচ্ছা বাপ যখন তার সন্তানের সামনে ধুমপান করে তখন কি একটিবারের জন্যও আমাদের মনে এমন সাধু কথা আসে না ???? কিংবা বড়ভাই যখন ছোটভাইয়ের সামনে সিগারেট খায়??? যারা প্রতিবাদ করেছে তাদের অনেকেই আছে চেইম স্মোকার । মিডিয়া বা বাচ্চাদের সামনে খেয়েছে এটাই তাঁর কাল হয়ে দাঁড়ালো??? অথচ আমি অনেকের কাছেই যখন সিগারেট খায়, জিজ্ঞেস করেছি, ‘কিরে তোর বাপ জানলে কি করবি?’ অনেকেরই কমন উত্তর, ‘আমার বাপ নিজেই সিগারেট খায়…’ দোষ কার? এই মন্ত্রির নাকি সেই বাবার? যার জন্য তার সন্তান সিগারেট খাওয়ার সাহস পায়?? সবাই হেসে বলবে,”যাই হোক ওই মন্ত্রির দোষ, কারণ হে টিভির সামনে খাইছে…” কিন্তু আমার বিবেক এটা বলে না ।
বাংলাদেশের মিডিয়াকে আমি একটু অপছন্দ করি । কারণ এরা ভালর চেয়ে খারাপটাকে প্রচার করতে বেশ আনন্দবোধ করে । উদাহারণ স্বরূপ আমাদের সবার পরিচিত ‘প্রথম আলো’। সে যাই হোক, মন্ত্রির কাজটা খারাপ ছিল, তার একটু সংবরণ করা উচিত ছিল । তবে তাঁর প্রতিক্রিয়াটাও দেখার বিষয় ছিল । এবং তিনি লজ্জিত ও ক্ষমা চেয়ে চমৎকার একটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন । তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই । এই সামান্য জিনিসটাই বা করে কয়জন??? কেও করেছিলো কখনো???? না করেনি । বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন শ্রদ্ধাবোধ, কোন অপরাধবোধ নেই বলে আমরা জানতাম । খারাপ একটা কাজ করেও এই মন্ত্রি এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন । এমন অপরাধবোধ যদি অন্যদের মধ্যেও থাকত তবে আমি ঈশ্বরের দিব্যি দিয়ে বলতে পারি, এই বাংলাদেশ আজ অনেকদূর এগিয়ে যেত । এমন অপরাধবোধ যাদের মধ্যে আছে, আমাদের উচিত তাঁদের শ্রদ্ধা করা । এই মন্ত্রীর নাম আমি ভুলবনা । যাঁরা বাপ-মার নাম তুলে খুব নিন্দা করেছিল, এখন তাদের উচাৎ এই ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারটাকে শুভ দৃষ্টিতে দেখা । আরেকটা বিষয়, যারা ধূমপান করে আমার মনে হয় তাদের এটা ভাল জানার কথা, একজন মন্ত্রী বা রাজনীতিবিদের ধূমপান করাটা স্বাভাবিক ব্যাপার । আমার সাথে সব ধূমপায়ীরাই একমত হবে ।
তাঁর ক্ষমা চাওয়ার স্ট্যাটমেন টা ছিল এমন-
“গতকাল এবং আজকে বিভিন্ন গনমাধ্যমে আসা আমার একটি ছবি নিয়ে আমি খুবই লজ্জিত। অস্বীকার করি না, আমি একজন চেইন স্মুকার কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে ধুম পান করা আমার কোন ভাবে ঠিক হয় নাই । গতকাল অনেকটা আনকন্সাস মাইন্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। এরকম ঘটনা আগামিতে আর হবে না। আমি আশা করি আমার আত্ম-উপলদ্বিকে আপনারা বিবেচনায় এনে নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।”

আমরা অনেক কথাই বলি, কিন্তু কাজের কাজ কেউ করতে পারি না । এই মন্ত্রি যত খারাপই হোক না কেন, তিনি ভুল স্বীকার করেছেন । অনেকেই তো সিগারেট খায় । কেও গোপনে কেওবা প্রকাশ্যে । দুটোই সমান অপরাধ । বরং এই মন্ত্রি আরো বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন, ‘আমি গোপনে কিছু করিনি, যা করেছি জনগোনকে স্বাক্ষী রেখেই করেছি । মন্ত্রীর সিগারেট খাওয়া যেমন কোমলতি শিশুদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি বাবা বা বড়ভাইয়ের সিগারেট খাওয়াও তাদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে । এটা আমাদের মনে রাখা উচিত । লোকজনের প্রতিবাদ আর নিন্দা দেখে মনে হল, এরা কেও সিগারেট কোনদিন হাতে নিয়েও দেখেনি । সবাই সাধু । কিন্তু বাস্তবে কে কেমন তা আমাদের সবার জানা । স্কুলের মাস্টার সিগারেট খেলে যতটা না কথা হয়, এই একটা মাত্র ব্যাপারে তারচেয়েও বেশি কথা হল । একটা শিশুর কাছে তার মাস্টার বেশি বড় নাকি ওই মন্ত্রি-মিনিস্টার???? অবশ্যই সেই মাস্টার । এসব আমাদের মনে রাখা উচিত ।

তাঁর এই ভুলটা যতবড়ই হোক, তাঁকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি । কারণ তিনি আমাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে লজ্জিত হয়েছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন ।
রাজনীতিতে এমন অপরাধবোধ সবার মধ্যেই আসবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করি ।
বাংলা এগিয়ে যাচ্ছে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “মন্ত্রী সুখটান দিলেই দোষ আর বাপে টান মারলে সাধু

  1. বাংলার আপামর শুষিল সমাজ আজ
    বাংলার আপামর শুষিল সমাজ আজ অন্ধ আবালে পরিনত হইছে। তারা ভাবতেও পারে নাই, উনি ক্ষমা চেয়ে নতুন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন… কত কষ্ট করে একটা ইস্যু পাইল লেদানির লাইগা, মাননীয় মন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে তাতেও ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দিলেন… :হাহাপগে: কিছু হইল এইডা… :ভেংচি: 😀 😀

    1. কিন্তু ডন ভাই, ঐ মন্ত্রীরেই
      :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: 😀 😀 😀 😀
      কিন্তু ডন ভাই, ঐ মন্ত্রীরেই কিন্তু ডনের লাহান লাগে!! 😉 😛

  2. আহারে ক্ষমা চাইয়া তিনি কি
    আহারে ক্ষমা চাইয়া তিনি কি ভুলখানই না করলো!!! চুচিলরা টক শোর ময়দান ঠিকভাবে গরম করতে পারলো নাহ… :ভেংচি: :ভাঙামন: :ভেংচি:

  3. প্রতিটা কাজের জন্য স্থান,
    প্রতিটা কাজের জন্য স্থান, কাল, ও পাত্র – এই তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় নিতে হয় কিন্তু আমরা প্রায় সবাই তা ভুলে যাই ফলে তৈরি হয় বিতর্ক । :গোলাপ: :গোলাপ:

  4. হা হা… ডন! আসলেই তেমন…
    হা হা… ডন! আসলেই তেমন… আসলে সবকিছু রাজনৈতিক ভাবে গ্রহণ বা দেখা ঠিক নয় । মানবতা বলে একটা ব্যাপার আছে । এই মন্ত্রীর বব্যাপারটাকে আমি মানবতায় ফেলেছি । তাই তার অপরাধটা যত বড়ই হোক, তার ক্ষমা চাওয়া আর লজ্জিত হওয়ার ব্যাপারটাই আমার কাছে বড় মনে হয়েছে…. ক্ষমা করাটা না, ক্ষমা চাওয়াটাই বড়….
    ******************************

    ♦আমি বাঙালি, বাংলা আমার….

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 2