পথ [[প্রথম পর্ব]]

“রা’আদ ভাই, গল্প তো আরেকটা লাগবে। হাজার দেড়েক শব্দের।” নির্ঝর ঘরে ঢুকতে ঢুকতে কথাটা রহমান রা’আদের দিকে ছুড়ে দিল। রা’আদ সাহেব অবাক হলেন না। নির্ঝরের কথা বলার ধরণই এমন। কোন ভূমিকা ছাড়া হঠাৎ কিছু নিয়ে কথা বলতে শুরু করবে। যেমনটা এখন করল। কারও বাসায় এলে দরজা খোলার পর সাধারণত অভিবাদনমূলক কিছু বলা হয়। ঘরের বাসিন্দা বলে ভেতরে আসতে। তারপর অতিথি ঘরে ঢোকে। নির্ঝর তার ধারে কাছে দিয়েও গেল না। কলিং বেল এ শব্দ করল। রা’আদ সাহেব দরজা খুললেন। আর অনুমতির অপেক্ষা না করেই মোটামুটি নির্দেশের স্বরে হাজার দেড়েক শব্দের একটা ছোট্ট গল্পের অনুরোধ করে নির্ঝর ঘরে ঢুকে গেল। রা’আদ সাহেব কিছু মনে করলেন না। ছেলেটার কাজকর্মই এমন। অন্যরকম! “অন্যরকম” শব্দটা আর সবাই খারাপ ব্যবহার করলেও রা’আদ সাহেব ভাল অর্থেই করেন। অন্যরকম বলেই হয়তো এত কম বয়সে একটা প্রকাশনীর কর্ণধার হতে পেরেছে। আর দশটা প্রকাশনীর মালিকরা যেখানে হয় বুড়ো-হাবড়া সেখানে নির্ঝর এখন মধ্যতরুণ। ছেলেটাকে তার বেশ ভালই লাগে। হাস্যোজ্জ্বল মুখেই উত্তর দিলেন, “আবার গল্প কীসের জন্য? আর একেবারে শব্দসংখ্যা বেধে দিয়ে?”

রা’আদ সাহেবের নিজের জন্য পিরিচ দিয়ে ঢেকে রাখা চা’টা নিয়ে এক চুমুক দিয়ে বলল, “সাতসকালে এত চিনি খান কীভাবে? ঘুম থেকে উঠে খাবেন কড়া লিকারের আদা চা। সারাদিন চাঙ্গা থাকবেন।… ও আচ্ছা, বইয়ের ফর্মা মেলানো যাচ্ছে না কোনভাবেই। হয় তিন পাতা বেশি হয়ে যায়। নইলে পাঁচ পাতা কম হয়ে যায়। তো ফন্ট আরেকটু ছোট করে নয় পাতা কম আছে। হাজার দেড়েক শব্দের আরেকটা গল্প ঢুকিয়ে দিলে ঠিকঠাক হয়ে যাবে।”
“আচ্ছা, তুমি বুধবার সকালে একবার…” রা’আদ সাহেব মুখের কথা শেষ করতে পারলেন না। তার আগেই নির্ঝর আবার বলল, “না না! আমার আজকেই লাগবে। পারলে এখুনি। নইলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বই বের করা যাবে না।”
“এখুনি!” রা’আদ সাহেব রীতিমত আকাশ থেকে পড়লেন, “গল্প লিখতে একটা আইডিয়া তো আমার চাই, না’কি?”
“বললাম তো যাচ্ছেতাই গল্প। যা খুশি লিখে ফেলেন। আপনি যা লিখবেন, পাবলিক তাই খাবে।”

কথাটা শুনে রা’আদ সাহেব খানিকটা ভ্রু কুঁচকলেন। প্রকাশকেরা সবখানেই ব্যবসার চিন্তা করে। ঠিক এই কথাটাকেই যদি বলা হত, “আপনি যা লিখেন, তাই পাঠক পছন্দ করে” তাহলে কত সুন্দর শোনাত! কিন্তু, নির্ঝর রা’আদ সাহেবের প্রতিক্রিয়ার দিকে খেয়াল করল না। সে জানালার মরিচা খুটতে খুটতে বলল, “লুতুপুতু প্রেমের গল্প হলে ভাল হয়। এইসব পাবলিক বেশি খায়।” রা’আদ সাহেবের ভ্রু’র কুঞ্চন বেড়ে গেল, “এখুনি গল্প লেখা আমার পক্ষে…” কথাটা শেষ করার আগে নির্ঝর আবার বলতে শুরু করল, “নিন। শুরু করে দিন।” বিছানার ওপর থেকে খাতা কলম নিয়ে টেবিলে গুছিয়ে দিল।

রা’আদ সাহেব দেখলেন, গল্প না লিখে দিলে এই পাগলের হাত থেকে নিষ্কৃতি নেই। অগত্যা এসে চেয়ারে বসলেন। নির্ঝর আরেকটা চেয়ার টেনে নিয়ে রা’আদ সাহেবের পাশে বসল। রা’আদ সাহেব লিখতে শুরু করলেন:

সম্পর্কটার যেভাবে শুরু হয়েছিল তাতে এর আয়ু হবার কথা ছিল বড়জোর মাস ছয়েক। ফেসবুকে শুরু হওয়া প্রায় সব সম্পর্কের আয়ু এর চেয়ে বেশি কখনও হয়ও না। সম্পর্কের শুরুতে জয়ের বন্ধুরা ট্রিট নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল পরের ট্রিটের শুরুর জন্য। মৌরির বান্ধবীরা “পাইছি তোরে” ভঙ্গিমায় বলতে শুরু করল, “কী রে! খুব করে তো বলেছিলি, ফেসবুক থেকে প্রেম হয় না। হয়ে গেল তো? এখন দেখবি শুধু টপাটপ একটার পর একটা প্রেমে পড়তে শুরু করবি।” অথচ, সব নিয়ম নীতি আর বন্ধুদের ট্রিটের স্বপ্নটাকে ভেঙ্গে দিয়ে, সম্পর্কটা টিকে গেল পুরো ছয় বছর। এবং তা টিকে আছে আজও।

এখনও জয়ের মনে হয়, এই তো সেদিনই বোধ হয় বন্ধুদের থেকে কীভাবে কীভাবে যেন মেয়েটার সম্পর্কে জানাশোনা হয়। ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়। এই তো সেই দিনই তো বোধ হয় কাঁপাকাঁপা হাতে অচেনা একটা মেয়েকে নক দেয়া হল। কথা শুরু হল। দু’মিনিট থেকে শুরু হয়ে কথা বেড়ে গিয়ে দু’ঘণ্টায় গড়াল। আলোচনার বিষয় পরীক্ষার চাপের মত বড় বিষয় থেকে শুরু হয়ে গায়ের ওপর পিঁপড়া বেয়ে ওঠার মত ছোট বিষয় পর্যন্ত গড়াল। তার মাঝে কেমন করে যেন ছয়টা বছর গড়িয়ে গেল। মৌরির এখনও মনে হয়, এই সেদিন বোধ হয় অচেনা একটা ছেলে তাকে নক করল। “হাই! কেমন আছেন?” দিয়ে কথা শুরু হয়ে, কখন যে সেটা “তুমি আমার বুকের মধ্যখানে আছো” হয়ে গেল মৌরি সেটা নিজেই বুঝতে পারল না। বুঝতে পারল না এই অচেনা আলাভোলা ছেলেটা ঠিক কবে তার এতটা আপন হয়ে গেল। মনে হয়, সবকিছু হল এই সেদিন। এই সেদিনের মাঝে কীভাবে যেন ছয়টা বছর কেটে গেল।

অথচ, গত ২৪ ঘণ্টায় জয়ের কাছে মনে হয়েছে যেন ২৪টা বছর কেটে গেছে। না, জয়ের সাথে মৌরির কোন ঝগড়া হয় নি। এমনও না যে, দু’জনের দেখা করার কথা, তাই আগের দিনটা পেরোতেই চাইছে না। আমাদের এই গল্পটার বর্তমান অবস্থা বোঝাতে সেদিনের তারিখটা বলাই যথেষ্ট। তারিখটা ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১৩; গতকাল দুপুরে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদেরের রায় হয়েছে। জয় আগের দিন মিষ্টি কিনে ফ্রিজে রেখে দিয়েছিল। যখন রায় পড়া হচ্ছিল, তখন হাতে মিষ্টি নিয়ে পাশে ছোটবোনকে নিয়ে বসে ছিল। ছোট বোনকে মিষ্টি খাইয়ে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় উজ্জাপন করবে। যখন টিভির পর্দায় ব্রেকিং নিউজ হিসেবে রায় দেখা গেল, “যাবজ্জীবন কারাদণ্ড” জয়ের মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করে উঠল। মাথার ভেতরটা মুহূর্তেই অদ্ভুত রকম ফাকা হয়ে গেল। মনে হল, তার কানে কোন শব্দ ঢুকছে না। বাবার উঁচু গলায় সরকার আর ট্রাইব্যুনালের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করে দেয়ার কিছুই সে শুনতে পাচ্ছে না। শুনতে পাচ্ছে না রিপোর্টারের মোটা গলার রিপোর্টিং। টিভির সামনে দিয়ে বারবার ব্রেকিং নিউজ স্ক্রল করে যেতে থাকল। মনে হল, সে তার কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। হঠাৎ, ছোট বোন পাশ থেকে তার শার্ট টেনে বলল, “ভাইয়া, রায় তো দিয়ে দিয়েছে। মিষ্টি খাইয়ে দাও।”

হঠাৎ করেই কোন কারণ ছাড়াই জয় ছোট বোনের গালে শব্দে একটা চড় মেরে বসল। ছোট বোন কিছু না বুঝতে পেরে, হতভম্ব চোখে খানিকক্ষণ জয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপরেই চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করল। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে, জয়ের মা ছোট বোনকে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। হাতের সবগুলো মিষ্টি নিয়ে জয়ও বেরিয়ে গেল। বাথরুমে গিয়ে সবগুলো মিষ্টি কমোডে ফ্লাশ করে দিল। ফিরতে গিয়েই হঠাৎ তার মাথা ঘুরে উঠল। দেয়াল ধরে কোন মতে সামলে নিলো। দু’হাতে মাথা শক্ত করে চেপে ধরে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। ড্রয়িং রুম থেকে বাবার শাপশাপান্তের শব্দগুলো যেন মাথার ভেতর সুঁইয়ের মত করে বিঁধছে। শার্টটা খুলে ফুল স্পিডে ফ্যানটা ছেড়ে বিছানায় পড়ে গেল। খানিক পরেই যন্ত্রণাগুলো ভোঁতা হয়ে গেল। প্রবল ঘুম নেমে এলো দু’চোখে।

ঘুম ভেঙ্গে গেল ঘণ্টা দু’য়েক পরেই। ঘুম ভাঙ্গার কারণ বোঝা গেল প্রায় সাথে সাথেই। মোবাইল বাজছে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখল তারিকের কল। কল কেটে দিতেই দেখতে পেলো, সতেরোটা মিসকল। বুঝল গুরুত্বপূর্ণ কিছুই। ছয় সেকেন্ড পরেই আবার কল এলো। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে গালির তুবড়ি ছুটল, এতক্ষণ ফোন রিসিভ না করায়। অজস্র গালাগালির ভেতরে যেটুকু বোঝা গেল, কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ডাকা হয়েছে শাহবাগে। সবাই আসতে শুরু করেছে। জয় যেন এখনই রওনা দেয়।

হঠাৎ করেই জয় টের পেল তার ঝিমিয়ে পড়া ভোঁতা অনুভূতিগুলো আমার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। মাথা এখনও চক্কর দিচ্ছে। কিন্তু, এটা অন্যরকম। রক্তে অদ্ভুত একটা নেশা ভর করেছে। দরজা খুলে রীতিমতো দৌড়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল। মোড়ের রিকশাওয়ালাকে “মামা টান দেন” বলেই লাফিয়ে উঠে গেল। তারপর খানিকটা দম ফেলে বলল, “শাহবাগ চলেন।” রিকশাওয়ালা খানিকটা মুচকি হেসে রিকশা ঝড়ের বেগে টান দিল। সেও কি খবর পেয়ে গেছে?

শেষ পর্ব

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪০ thoughts on “পথ [[প্রথম পর্ব]]

  1. ওভাবে থাপ্পরটা না দিলেও
    ওভাবে থাপ্পরটা না দিলেও পারতেন।বাচ্চা একটা মেয়ে ব্যাথার চেয়েও হৃদয়ে আঘাত পেয়েছিলো বেশি।উত্তেজনায় অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তি পর্বের আশায়। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. যাক, যেহেতু নিজের গল্প বলে
      যাক, যেহেতু নিজের গল্প বলে মনে করেছেন, তার মানে উপস্থাপনায় আমি সার্থক। যাই হোক, শেষ পর্ব পড়লেই বুঝবেন এটা নিজের কাহিনী না। 🙂

      1. এভাবে পেঁচে ফেল্লেন মামা।একটা
        এভাবে পেঁচে ফেল্লেন মামা।একটা গল্প বলি,হুমায়ুন আজাদের ৫৬হাজার বর্গমাইল উপন্যাসটা আজ সকালে পড়ছিলাম।তো সেখানে রাশেদের(গল্পের চরিত্র নাম) মেয়েকে সেনাবাহিনী স্কুলে ঢুকতে দেয়নি তৎক্ষনাৎ আমার কিযে হলো মাথাটা ঝিম মেরে গেলো।এইযে আমার মানষিক অবস্থার যে পরিবর্তন ঘটিয়ে দিলো হুমায়ুন আজাদ সেটাই আপনি করেছেন।অন্য কিছু ভেবে মন্তব্যটা করিনি।সেদিক থেকে আপনি ১০০ভাগ স্বার্থক।

  2. ইয়ে মানে,২য় পর্ব না পড়া
    ইয়ে মানে,২য় পর্ব না পড়া পর্যন্ত শান্তি পাইতেছি না… এইরাম সাসপেন্সে না রাইখা আজকাই দিয়া দেন… :ভাবতেছি: :জলদিকর:

    লেখার ব্যাপারে কিছু বলার ভাষা হারায়ালাইছি… :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :bow:

  3. শুরুটা একটু গতানুগতিক
    শুরুটা একটু গতানুগতিক নাটকীয়তায় ভরা হলেও শেষটা অনবদ্য… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow:
    আমি জয়-কে ফোন দিয়া শাহ্‌বাগ নিয়া যাচ্ছি ভাবতেই বুকটা ৭১ হাত ফুলে উঠছে! :ফেরেশতা: :ফেরেশতা: :ফেরেশতা: :ফেরেশতা: :ফেরেশতা:
    চমৎকার লিখনি…
    সকল হায়েনার বিচার এই বাঙলায় হবেই, হবে!
    জয় জয় জয় বাঙলা… জয় বাঙলা…

      1. আমরা বাঙালীরা খিচুড়ি খাইতে
        আমরা বাঙালীরা খিচুড়ি খাইতে ভালই পছন্দ করি…
        অসুবিধা নেই, চেতনায় মূল!!! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. ছোট বোনটাকে মিস্টির বদলে চড়
    ছোট বোনটাকে মিস্টির বদলে চড় খাওয়ালেন !!! যাক শেষে শাহবাগে যে যেতে পেরেছেন তাতেই খুসি । পরের পর্বে কসাইয়ের ফাসির খবরের পরে ছোট বোনকে মিস্টি না খাওয়ালে মাইন্ড করব কিন্ত । সে কথা আগেই বলে রাখলাম । :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. গল্প তো ৬ তারিখেই শেষ। ফাঁসির
      গল্প তো ৬ তারিখেই শেষ। ফাঁসির রায় পর্যন্ত কীভাবে যাব??? অবশ্য, ফাঁসির দিন বাসার সবাই মিলেই মিষ্টি খেয়েছিলাম।

  5. সাম্প্রতিক ঘটনার উপর গল্প হলে
    সাম্প্রতিক ঘটনার উপর গল্প হলে আর ঘটনাতে সবার অংশগ্রহণ থাকলে মনে হয় গল্পটা আমিও এগিয়ে নিতে পারবো। সবাই মিলে ে ধরণের একটা গল্প লিখলে কেমন হয়! থাকবে একটা এডিটর প্যানেল। শুধু সেরা পর্ব লেখাটাই মুল গল্পে সংযোজিত হবে।

    যাই হোক গল্প জমবে মনে হচ্ছে!

    1. ফ্যান্টাস্টিবুলাস্টিক আইডিয়া।
      ফ্যান্টাস্টিবুলাস্টিক আইডিয়া। কিন্তু, পুরো গল্পটা শেষ করার পরেই প্রথম পর্ব পোস্ট করেছি। নতুন প্লট নিয়ে এমন করা যায়। বাকি ব্লগারদের মতামত কামনা করছি।

      1. সহমত। এই গল্পটা থাক। এটা
        সহমত। এই গল্পটা থাক। এটা ক্লান্ত ভাই যেহেতু লিখে ফেলেছেন সেহেতু এটা বাদে অন্য কোন প্লট নিয়ে ওরকম করা যায়। মন্দ হয়না।

  6. দারুণ। আপনার প্রতি বড় ভাই
    দারুণ। আপনার প্রতি বড় ভাই হিসেবে আমার একটাই অনুরোধ, খবরদার আপনি লেখা থামাবেন না। লিখে যাবেন যা মনে আসে তাই। আমি একজন বড় মাপের লেখকের ছাপ দেখতে পাচ্ছি আপনার মধ্যে। লিখতে থাকুন। এর আগে আরেকটা ছেলে এরকম লিখত ব্লগে। পরে নেশা টেশার ক্ষপ্পরে পড়ে কোথায় যে হারিয়ে গেলো ছেলেটা? আপনাকে ওভাবে বা অন্য কোনভাবেই হারিয়ে যেতে দেখতে চাই না। একদিন এদেশের একজন বড় কথাসাহিত্যিক হিসেবে আপনার নামটা দেখতে পাবো, আমি প্রবলভাবে এমন বিশ্বাস লালন করি।

    মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের লেখকেরা অনেক সাহিত্য রচনা করেছেন। কারণ তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে দেখেছেন। আমি তুলনায় যাচ্ছিনা। কিন্তু আমাদের প্রজন্মের সামনে শাহবাগের জাগরণ একটা গুরুত্বপুর্ন ঘটনা। তাই শাহবাগ আন্দোলন ঘিরে দারুণ দারুণ সব মানসম্মত সাহিত্য এই যুগের সাহিত্যিকেরা লিখবেন এটাই স্বাভাবিক। আপনার এই গল্পও তেমন কিছু একটা হয়ে উঠুক না…

    1. আর আমি সিরিয়াসলি লেখালেখি
      আর আমি সিরিয়াসলি লেখালেখি শুরুই করছিলাম, লেখালেখি খপ্পরে পইড়া… 😛

      শুভকামনার জন্য ধইন্যা… :বুখেআয়বাবুল:

  7. যাস্ট চোখ বুলালাম দেখি লিংকন
    যাস্ট চোখ বুলালাম দেখি লিংকন ভাই এর মন্তব্যে আমার নাম। বুঝলাম আমিও আছি। পরে পর্ব।

    আর এটা কিন্তু আমার স্টাইল ইস্টির নাম ব্যবহার করা। 😉

  8. চমৎকার লিখনি…মুগ্ধ হয়ে
    চমৎকার লিখনি…মুগ্ধ হয়ে গেলাম… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :ফুল: :ফুল: পরের পরবের অপেক্ষায় আছি… :জলদিকর: :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 6