পরমানু গল্প : ভয়

খুব ভয় হয়।
ভয়টা যেন ইদানিং বেড়ে গেছে।
আগে এমনটা হত না। এখন হয়।
আগে কতবার একসাথে দেখা করতাম। একসাথে খেতাম। একসাথে ডেটিং এ যেতাম। ভয় হত না। আর এখন ফোনে কথা বলতেই ভয় লাগে। যতই ভয়টা দূর করতে চাই, ততবার মনে পড়ে। শাওন যদি তার বাবার কাছে আমাকে নিয়ে ধরা না খেত, তাহলে হয়ত এমন লাগত না।
-কি এত চিন্তা কর?
-না কিছু না।
-নাহ, তুমি কিছু একটা চিন্তা করছ।
-চিন্তা করছি, তোমার বাবার কথা। তুমি যদি সেদিন আমাকে নিয়ে ধরা না খেতে তাহলে আজ দেখা করতে এতটা চিন্তা করতে হত না।
.

খুব ভয় হয়।
ভয়টা যেন ইদানিং বেড়ে গেছে।
আগে এমনটা হত না। এখন হয়।
আগে কতবার একসাথে দেখা করতাম। একসাথে খেতাম। একসাথে ডেটিং এ যেতাম। ভয় হত না। আর এখন ফোনে কথা বলতেই ভয় লাগে। যতই ভয়টা দূর করতে চাই, ততবার মনে পড়ে। শাওন যদি তার বাবার কাছে আমাকে নিয়ে ধরা না খেত, তাহলে হয়ত এমন লাগত না।
-কি এত চিন্তা কর?
-না কিছু না।
-নাহ, তুমি কিছু একটা চিন্তা করছ।
-চিন্তা করছি, তোমার বাবার কথা। তুমি যদি সেদিন আমাকে নিয়ে ধরা না খেতে তাহলে আজ দেখা করতে এতটা চিন্তা করতে হত না।
.
আমি খেয়াল করলাম, শাওনের মুখে ফুটে উঠল চিন্তার রেখা। সেদিনের কথাই হয়ত সে মনে করছে। প্রতিবারের মত সেদিনও শাওনকে চিঠি লিখেছিলাম। শাওনও মন দিয়ে চিঠি পড়ছিল। শাওনের বাসার ছাদে একটা ভালো জিনিষ হচ্ছে বাতাস। এই এলাকার সবচেয়ে বড় বিল্ডিং তাদের। তাই তাদের ছাদে দাড়ালেই পাওয়া যায় প্রকৃতির সুখ। আমি পাশের ছাদ থেকে খেয়াল করছিলাম। বাতাসে শাওনের চুল উড়ছে, ওরনা উড়ছে, আর উড়ছিল তার জামার নিচের অংশ। আর তারই মধ্যে দুই হাত দিয়ে ধরে আমার চিঠি পড়ছিল। তার পাশেই দাড়িয়ে ছিল তার বান্ধবী। তাদের পাশের বাসায় থাকে। হঠাৎ শাওনের মা ছাদে উঠল। শাওনও কিছু না বুঝতে পেরে চিঠিটা দিল তার বান্ধবীকে। আর তাই দেখে গিয়েছিল তার মা।
-পরী?
-জি আন্টি?
-তোর হাতে এটা কি?
-সাজেশন আন্টি…
কথা বলার আগে ছো মেরে চিঠিটা তুলে নেয় শাওনের মা। আর চিঠিটা পড়েই হতভম্ভ হয়ে পড়েন। তারপর ছাদেই শুরু হয় বকাঝকা। আমি সব দেখছিলাম পাশের ছাদ থেকে। আর এই নিয়ে চরম তুলকালাম চলছিল শাওনের বাড়িতে। এখন আমরা দেখা করতে হলে অনেক কষ্ট করতে হয়।
-নিরব??
-হু
-সরি
-কেন?
-ওই ঘটনাটার জন্য।
-সমস্যা না। তোমার বাবা না আবার তোমার বিয়ে দিয়ে দেই, সেই চিন্তা করছি।
-বিষ খেয়ে মরে যাব।
-পাগল নাকি?? আমার জন্য মরার কিছু আছে! হয়ত যার সাথে তোমার বিয়ে হবে, সে তোমাকে আমার থেকে বেশি সুখ দিতে পারবে।
-আর একবার যদি এই বিষয়ে কথা বল তাহলে আমি বাসায় চলে যাব কিন্তু!
.
খেয়াল করলাম, শাওনের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। বাহিরে বইছে বাতাস। বাতাসে আজও শাওনের চুল উড়ছে। আমি আর শাওন বসে আছি শাওনের বাসার ছাদে। অনেক রিস্ক নিয়ে উঠেছি। এই জায়গা ছাড়া যে দেখা করার আর সুযোগ নেই।
.
হঠাৎ একটা ঘটনা ঘটে গেল। হঠাৎই ঘটল। এত তাড়াতাড়ি ঘটল যে আমাদের চিন্তা করার সময় পেলাম না। কেউ একজন ছাদের দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। হায় হায় তবে কি এবার আমি ধরা খেয়ে গেলাম?? কি ঘটনা অপেক্ষা করছে আমার জন্য?
আমি পানির ট্যাঙ্কির পিছনে লুকিয়ে গেলাম। শাওন গেল দরজার কাছে।
-কে? কে দরজা লাগিয়েছে?
কিছুক্ষন নিরব থাকার পর দরজা খুলল। দরজার ওপাশ থেকে বের হল শাওনের বান্ধবী!
-কিরে ভয় পাইছস?
-তুই পাগল! জানস কতটা ভয় পাইছি?
-কেনরে? নিরব ভাই ছিলনা পাশে? তিনি থাকলেতো ভয় পাওয়ার কথা না! কোথায় তোমার রাজপুত্র?
-এমনিতে বাপ্পি আম্মির কাছে কেস খেয়ে আছি। তার উপর তুই এই ফাজলামী করস?………
.
আমি আস্তে আস্তে বের হলাম। শাওনের বান্ধবীর জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়ত ঝগড়াই শুরু করে দিতাম। কিন্তু কোন কোন জায়গার নিরবতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
শাওন আর তার বান্ধবীর বকবক চলছে। থামাতে চাই না। কারন মেয়েরা একবার বকবক শুরু করলে তা আর শেষ হয় না। আমি চাই না তাদের কথায় বাধা আসুক। শুধু বাসায় যাওয়ার পথটাই চিন্তা করছি। আপাতত এখান থেকে যেতে পারলেই বাচি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “পরমানু গল্প : ভয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + = 13