অহেতুক কিছু যন্ত্রণায়ময় কথা….

শুরুতেই সতর্কীকরণ দিয়ে রাখি, এটি কোনভাবেই দরকারী শিক্ষামূলক পোস্ট কিনবা গল্প নয়। ব্যক্তিগত কিছু অহেতুক কথাবার্তা।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার বদলে সেটি পোস্টের আকৃতি আসাতেই ভবিষ্যতের সংরক্ষণের কথা ভেবেই ব্লগে লিখে রাখলাম। এখানে বলে রাখাই ভালো শুরুতে, ব্যক্তিগতভাবে সম্পর্ক ভালো হলে পড়ে দেখতে পারেন কিন্তু এসব নিয়ে ভবিষ্যতে কোনবাজে কথাবার্তা বলা বা গুজব ছড়ানো হলে সেটি নিয়ে নিশ্চয়ই চুপ করে বসে থাকবো না, চুড়ান্ত খারাপ যাই হওয়া দরকার তাই হবো। পরামর্শ, সমাধান, সহায়তা কিনবা গঠনমূলক কথাবার্তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য।


শুরুতেই সতর্কীকরণ দিয়ে রাখি, এটি কোনভাবেই দরকারী শিক্ষামূলক পোস্ট কিনবা গল্প নয়। ব্যক্তিগত কিছু অহেতুক কথাবার্তা।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার বদলে সেটি পোস্টের আকৃতি আসাতেই ভবিষ্যতের সংরক্ষণের কথা ভেবেই ব্লগে লিখে রাখলাম। এখানে বলে রাখাই ভালো শুরুতে, ব্যক্তিগতভাবে সম্পর্ক ভালো হলে পড়ে দেখতে পারেন কিন্তু এসব নিয়ে ভবিষ্যতে কোনবাজে কথাবার্তা বলা বা গুজব ছড়ানো হলে সেটি নিয়ে নিশ্চয়ই চুপ করে বসে থাকবো না, চুড়ান্ত খারাপ যাই হওয়া দরকার তাই হবো। পরামর্শ, সমাধান, সহায়তা কিনবা গঠনমূলক কথাবার্তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য।

পুনঃ অনুরোধ এবং সতর্কতাঃ- যদি মনে করে থাকেন আপনি অনেক ব্যস্ত, এই পোস্ট পড়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে অন্য একটি কাজ করলে আপনার অনেক সুবিধা হবে তাহলে এখানেই থামিয়ে দিন পড়া। আর যদি খুব ভালো একটা সম্পর্ক বিদ্যমান আপনার আমার মাঝে তাহলে হাতের কাজ সেরে তারপর অবসর সময়ে পড়ুন। আর অন্যকেউ অবসর সময় কাটাতে পড়তে চান তারাও পারেন।
————————————————————————————–

কিছু কথা চেপে রাখা অনেক বেশি কষ্টের, সহ্যের সীমা যখন ছাড়িয়ে যায় তখন উপশমের মাধ্যম শেয়ারিং করা। *

একটি প্রবাদ বাক্য আছে, কাকের মাংস কাকে খায় না। কিন্তু এমন এক উৎকৃষ্ট শ্রেণীর প্রাণী আছে যারা একের মাংস অপরে খেতে পারলে ছাড়ে না। জ্বী, হ্যাঁ আপনি হয়তো ঠিকই ধরেছেন আমি আমাদের শ্রেণীর কথা বলছি। আপনার আমার এই মানুষ নামের প্রাণী শ্রেণীটার, আমরা এমন এক শ্রেণীর প্রাণী যারা নিজেদের মাংস নিজেরা খেতে পারলে ছাড়ি না।

শুধু একবার স্মরণশক্তি ঘেটে দেখুন জীবনের এমন কিছু অতীত যেখানে আপনি মানুষের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলেছেন, অথচ তার বা তাদের সাথেই এক সময় ছিলো বেশ ভালো দহরম-মহরম। প্লীজ অন্তত একটিবারের জন্যে হলেও সম্পর্কটি নষ্টের ক্ষেত্রে নিজের দোষটাকেই প্রধান করে তুলুন, দেখুন না একটিবার। **

এবার ভাবুন তার দোষের কথা, এর পরপরেই ভাবুন (বেশিক্ষন অপরপক্ষের দোষ না খুঁজে) সম্পর্ক নষ্টের পরে প্রতিশোধ নেবার ইচ্ছার কথা। আমি নিশ্চিত খুব বেশি না হলেও কয়েকজনকে তো খুন করতে ইচ্ছা করছিলো, হয়তো কিছু খুন খুব নৃশংসভাবে করতে ইচ্ছা হয়েছিলো, সমস্যা নেই এখনও না হলে ভবিষ্যতে হবে নৃশংসভাবে খুন করতে।

এই এতোগুলো কথা বলার কারণটা কিন্তু এখনো শুরু করিনি, এবার আর কথা না বাড়িয়ে মূল কথাতেই সরাসরি চলে যাই। বাস্তবজীবন, রাজপথ ইত্যাদির অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে রেহাই পেতে কাল্পনিক জগত অনলাইনকেই অনেক বেশি আপন করে নিয়েছিলাম। তিক্ত অভিজ্ঞতা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্বালাতন পেয়েছি দুই নদীর মাঝেখানে পড়ে পড়ে। সেই জ্বালা থেকে যখন মুক্তি পেতে অনলাইনকে বেশি আপন করে নিলাম অবশেষে সেই অনলাইনেও এখন একই যন্ত্রণায় আছি। কাউকে কিছু বলতে হবে না, শুধুমাত্র নিজের একটা ক্ষুদ্র “কূটনৈতিক” বিবেকবোধ থেকেই নদীর মাঝখানেই পড়ে আছি এমন একটা তীব্র জ্বালায় আছি।

প্রথম দিকের জ্বালাটা ছিলো সামান্য, আস্তে আস্তে জ্বালার পরিমাণটা বাড়তে লাগলো। একসময় জ্বালা-যন্ত্রণাটা এমন এক পর্যায়ে দাঁড়ালো যেখানে আদর্শ আর নীতির প্রশ্ন এসে দাঁড়ালো, যেখানে এমন কিছু বিরোধের মধ্যে পড়েছিলাম যে একদিকে ছিলো আমার নিজের আদর্শ আর অন্যদিকে ছিলো বিবেকবোধ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। উদাহারণ দিয়ে বলতে গেলে বলব, ক এর বা দের সাথে আমার লালন করা একটি রাজনৈতিক আদর্শের চরম মিল আবার খ এর বা দের সাথে ব্যাক্তিজীবনের একটা ভালো সুহৃদ্যতার সম্পর্ক থাকে যা অনেক গভীরও হতে পারে অনেকক্ষেত্রে। এখানে যখন দু’পক্ষের সাথে ভালো সম্পর্কটার সুত্রপাত হয় অনলাইন থেকে এবং সেখানে যদি এই দু’পক্ষের মধ্যে বিভেদ তৈরী হয় এবং কোন কোন সময় তা তীব্রতর অবস্থায় পড়ে তখন জ্বালাটা হয়ে দাঁড়ায় অকল্পনীয়।

“অভ্যাস মানুষের দাস” কিনবা “মানুষ অভ্যাসের দাস” যাই বলেন না কেনো, মূল ব্যাপারটি হলো এইধরণের জ্বালায় দীর্ঘ সময় থাকতে থাকতে একসময় সেটির যন্ত্রণা সহ্যের বাইরে চলে যাওয়া শুরু করে এবং একসময় “ওভারডোজ” হলে সেটি থেকে চাপ আসা বা নেয়া কম হতে থাকে। এই যখন অবস্থা সেই সময় চুরি হয় ল্যাপটপ, ল্যাপটপ হারানোর শোক ভুলে থাকার মতো ছিলো না ঘুম থাকা অবস্থায় ব্যাতীত। যতক্ষন জেগে থাকতাম তার প্রায় পুরোটা সময়জুড়ে ল্যাপটপের প্রয়োজন অনুভব করতাম বিভিন্ন কারণে বা প্রয়োজনে। কখনো অনেক বেশি কখনো বা একটু বেশি, কম কখনো হয়নি। সেখানে সবচেয়ে বেশি এই অনলাইন জগতটির প্রয়োজন অনুভব করতাম খুব বেশি, অবশ্য যখন একা থাকতাম তখনতো একটাই প্রয়োজন আর সেটি অবশ্যই অনলাইন।***

প্রায় আড়াইমাস পরে অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে(#) ল্যাপটপ কেনা হলেও শুধুমাত্র নিজের উদ্যোগ আর “না” বলতে পারার সাহসিকার অভাবে কেনা হয়ে উঠেনি মডেম সেই যে একবারই সামান্য কিছু টাকার অভাবে মডেম কেনা হয়নি সেই থেকে একটি কাজ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আর নেয়া হয়নি। কাজটি তিনভাগের মাত্র একভাগ; নির্দিষ্ট সময় পার করে দীর্ঘ একটি সময় নিয়ে শেষ করতে পারলেও এখনও অন্য দুইভাগে হাত দেওয়া হয়নি উদ্বোধন ব্যতীত। কাজটির জন্যে মডেমটি ব্যবহারের যেই সুযোগ পেলাম সেটিই আমার মোট পারিশ্রমিকেরও দ্বিগুন, যেহেতু মনের সুখই আসল।

এই অভাগার কপালে সবচেয়ে চরম পরিতাপের বিষয়, জানা স্বত্ত্বেও এই অনলাইনে খুব খুশি আর উৎফুল্ল ভাব নিয়ে প্রবেশ করলেও সেই ভাবটি ম্লান হতে খুব বেশি সময় মোটেও নেয়নি। মাত্র দুইদিনের মাথা থেকেই চাপ তৈরী হতে থাকে। শুরুর দিকে ব্যক্তি ভিত্তিক দ্বন্দ্বে থাকলেও একসপ্তাহের মধ্যেই মাত্র তিনমাস আগে ছেড়ে দেওয়া জগতটিকে আবারো সেই আগের মতই আপন করে নেয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এটি কেমন জানি চরম নেশার মতই। রিহ্যাব(#) করবার পর থেকেই কম ভালো-খারাপ অনেক নেশা নিয়মিত করেও নিমেষেই ছেড়ে দিয়ে পরবর্তীতে সেটি থেকে কোন প্রকার আসক্তিবোধ বা পরে পেয়েও আপন ভাবা শুরু না করলেও এই অনলাইনের ক্ষেত্রে সেটি পারছি না। কেমন জানি দূর্বলতা তৈরী হচ্ছে, সেই সাথে মায়া, এই জানা স্বত্ত্বেও যে ইতোমধ্যে নদীর মাঝখানে আছি আগের চাইতেও চরম খারাপ অবস্থায়। আগেরবারের চাপ দুটি শ্রেণীর থাকলেও এবারের চাপটি একই শ্রেণীর মধ্যেই।

এই সেদিনও যারা একসাথে “সহযোদ্ধা” উপাধি দেয়া নেয়ার মাধ্যমেই অনলাইন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছি আজ তারাই দলে দলে বিভক্ত হয়ে একে অপরকে নগ্ন করতে চাইছি কিনবা চরম ক্ষোভ থেকে মাঝে মাঝে নৃশংসভাবে খুনের স্পৃহাও জাগছে। একটু খেয়াল করলেই কিন্তু বুঝতে পারা খুব একটা সমস্যা/ঝামেলা বা কষ্টকর হবে না বলেই আশা করছি। এখন একই আদর্শের বা কাছের মানুষগুলোর নিজেদের শ্রেণীর আপন মানুষদের সাথে যখন দ্বন্দ্ব তৈরী হয় তখন তাদের মধ্যে কি আর কোন শ্রেণী তৈরী হয় বা করা যায়? যদি হয় সেটিকে “স্বার্থপরতার” নামক শ্রেণীতে ফেলব নাকি “অসভ্যতা” নামক অনমনীয়তা শ্রেণীতে ফেলব? বুঝতেই পারছি না। কারণ এরা আগেরবার চাপের সময়তেই চুড়ান্তভাবেই অনলাইনের খুব আপনভাবা মানুষগুলো দুইটি শ্রেণীতে ভাগ হয়ে এক-একটিতে এসেছিলো, এও বলে রাখা ভালো এরা কিন্তু উক্ত শ্রেণীর একদম প্রথম সারির মানুষগুলোই। অথচ আজ এরা শতাধা বিভক্ত আবার এদের মাঝেও গুটিকয়েক হয়তো বিভ্রান্ত। অথচ আমি যে কি পরিমাণ “বিভ্রান্ত” এবং “উদভ্রান্ত” ধরণের উদ্ভট এক অবস্থায় আছি তা সঠিকভাবে বুঝানোর ক্ষমতা নেই। হতে পারে অজ্ঞতা বা মূর্খতার অভাব, হতে পারে চাপে চরম বেকুব হয়ে যাওয়ার প্রভাব।

এটা নিশ্চিত যে যতক্ষণ না পর্যন্ত শ্রেণী বিভাগ করা যাচ্ছে না ততক্ষণ পর্যন্ত এটি থেকে উত্তরণ কিনবা চাপ কম নেয়ার সুত্র বের হবার সম্ভাবনা একদম নেই বললেই হয়। এখানে আরেকটি উপায় হলো যদি এই আপন মানুষগুলো দ্বন্দ্ব, হিংসা এসব ছেড়ে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসেন তাহলে এই জ্বালা যন্ত্রণাতো মিটবেই সাথে আনন্দের পরিমানও অপরিসীম হবে। এখন মাঝে মাঝে অবশ্য নিজেকে প্রবোধ দিতে দিতে স্বপ্ন দেখি, ভাবতে থাকি একদিন এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবো তাদের জন্যেই। আমার ভালোবাসার, শ্রদ্ধার, অনেক আপনভাবা মানুষগুলো নিজেদের মধ্যে একটি ত্যাগ আর মনোভাব থেকে একে অন্যের আপন হয়ে যাবে সেদিন খুশির সীমা থাকবে না। জানিনা এই ধরণের স্বপ্ন সত্যি হবে কিনা, তবে অতীতের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে পূর্বাভাস পাই ঋণাত্মক। কেন জানি বর্তমানের অভিজ্ঞতাগুলো বড়ই নৃশং, একে অপরকে এমনভাবে উলঙ্গ করায় মত্ত; যেন সামনে পেলে খুন করতেও সমস্যা নেই; হয়তোবা নৃশংসভাবেও খুন করার একটা ইচ্ছা থাকে সেখানে।

ভীষণমাপের যেমন চাপবোধ হয় একইভাবে হতাশা জাগে, দুঃখবোধ হয়। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ যেমন কাউকে ছেড়ে যেতে চায় না তেমনি আমিও চাই না আর তাই অনলাইন জগতের একদম শেষ বাছাইয়ের খুব আপন মানুষ ভেবে নির্ভর করা লোকগুলো যখন নিজেদের মধ্যে চরম বিভেদ তৈরী করে তখন নিজেকে নদীর মাঝখানে পড়া অসহায় মানুষ লাগে। কেননা বুঝতে পারি না কোন কূল ছেড়ে কোন কূলে উঠবো। কাকে বা কাদের কষ্ট দিবো আর কাদের সঙ্গ নিয়ে চলবো, কেননা এদের প্রত্যেকেই যে খুব খুব আপন এদের একজনকেও ছেড়ে আসা সম্ভব নয় অনেক ঐ নেশার মতোই।

অনলাইনে আজ অনেকগুলো দিন, অনেকগুলোসময় পার করছি। এতোদিন কাজ আছে কাজ আছে বলে মনকে বুঝিয়ে রেখেছিলাম কিন্তু একটিভাগ শেষ হতেই ভেতর থেকে চাপ আর নিতে না পারার আওয়াজ আসছিলো। দুইদিন টানা বিশ্রাম আর বিনোদন করার একটা চরম বৃথা চেষ্টা করলাম। দুইদিনের মধ্যে গতকাল শুধু শুয়ে কাটানোর একটা বৃথা চেষ্টা করেছি। ভোররাত পর্যন্ত বিনোদন নেয়ার বৃথা চেষ্টা করে ঘুমাতে গেলে; অস্থিরতার জন্যে ঘুমাতে পারি না। কিছু সময়ের জন্যে কাজে হাত দিলেও সেই অস্থিরতার দরুন আবারো শুয়ে পড়ি। যেহেতু কাজটি শুরু করেছিলাম তাই সেই পর্বটি কেমনে দ্রুততর সময়ে শেষ করে অস্থিরতা থেকে মুক্ত হবো সেই চেষ্টায় ছিলাম সুতরাং একনাগাড়ে পর্বটি সেরেই আবারো শুয়ে পড়লাম ক্লান্তি মেটাতে। আগেরবার দীর্ঘ একটা সময় ধরে শুয়ে থাকলেও ঘুমাতে পারি নাই এবার শুয়ে পড়ার খানিক বাদেই ঘুমানো গিয়েছিল দুই ঘন্টার জন্য। ঘুম থেকে উঠে সময়ের ব্যবধান দেখেছিল আড়াইঘন্টার মতো এরপর সম্ভবত আরো আধাঘন্টা শুয়ে ছিলাম, যদিও শুয়র থাকা ২০ (বিশ) মিনিট অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভাববা আসলেও যেই অস্থিরতা আসতে শুরু করেছে সাথে সাথেই উঠে স্নান সারলাম। কিন্তু লাভ হলো না তাতে, শুধু ঐ স্নানের সময়টা ব্যতীত ঘরে থাকা পুরো সময়টা জুড়েই এই আপন মানুষগুলোর দ্বন্দ্ব কেবল ভাবিয়েছে।

অবশেষে না পেরে গত তিনমাস (ল্যাপটপ না থাকাকালীন) যাবত যেখানে থেকে চাপ নিয়ন্ত্রন করেছি সেখানে এসে গেলাম। প্রচুর চেষ্টা করেছি অনেকটা সময়জুড়ে বলা চলে একদম ভোরের আলো ফুটে ওঠার একটু আগ পর্যন্ত অসম্ভব চেষ্টা করেছি। নেই হেন কোন পন্থা আশা করি বাকী রাখি নাই, মাথা ধোয়া থেকে বারান্দায় দাঁড়ানো, অন্যদের ল্যাপটপ ব্যবহার করতে দিয়ে নিজে কাজে ব্যস্ত থাকা, এমনকি কিছুটা সময়ের জন্য একদম নিশ্চিন্ত হতে শেষ আশ্রয়ে যাওয়া এসবের কিছুই বাদ দিলাম। যা কিছুই সম্ভব হয়েছে তার সবটাই পূরণ করে যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে চেষ্টা করেছি। যখন সব চেষ্টাই বৃথা যাচ্ছে তখন বেছে নিলাম অনলাইনে লিখে জানানো। বিশেষ করে সেই চরম আপন ভাবা মানুষগুলোর উদ্দেশ্যে, কেন জানি মনে হচ্ছিলো যদি সত্যিই তারা আমার খুব আপন হয় তাহলে তাদের সাথে একটা হৃদয়ের সম্পর্ক থাকবে যেখান থেকে সহজেই এটি পড়ে মাত্র সে বা তারা কিনবা আপনি বুঝে যেতে পারেন। একমাত্র আপন মানুষের সাথেই হৃদয়ের একটা অন্যরকম সম্পর্ক থাকে যা কিনা দেখলেই কিনবা আকার-ইঙ্গিত বা ভাব-ভঙ্গিমায় বুঝে যায়, এইরকম একটা বিশ্বাস চরমভাবেই ভর করাতে লিখতে বসা আর সেই সাথে ক্ষুদ্র একড়ি স্ট্যাটাসকে পোস্ট বানিয়ে ফেলা।

ক্ষমা করবেন যারা এটি পড়ে সময় অপচয় করেছেন। আন্তরিক দুঃখিত, লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী এই সময় অপচয়ের জন্য। যেহেতু আপনি আমার সাথে কিছুটা হলেও পরিচিত আছেন সুতরাং অনুরোধ থাকবে এই অপরাধটিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আবারো বলে যেতে ইচ্ছে করছে অনেক বেশি আপনভাবা মানুষগুলোর চাপ যদি কমানোর একটা উপায় পেতাম তাহলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পেতাম এতোদিন পরে অনেকদিন যাবত প্রয়োজন অনুভব করা অনলাইনে। কাজটির পরে হয়তো বা অনলাইনকে বিদায় জানাতে হবে, চাইছি না এটির প্রতি একটি ভিন্ন ধারণা জন্মাক যাতে এটিতে আসার প্রেরণা, চাহিদ বা আকাঙ্ক্ষা হারিয়ে ফেলি। বাস্তব জগত যেহতু ছেড়ে এসেছি এই অনলাইনকে ভালোবেসে, সুতরাং এরপর আর কোন জগত নেই যে যেটির উপর একটি আশা করে স্বস্তিতে চাপমুক্ত থাকবো। বাস্তবজগতে ফিরে গেলে কি হবে তা গত তিনমাসে বুঝেছি, যা ছেড়ে আসা হয় পিছুটান ছেড়ে সেই জগত আর আগের মত থাকে না। থাকলেও সেই ছেড়ে আসা অবস্থায় ফিরে যাওয়া যায় না জানিনা কার ক্ষেত্রে কি হয় তবে গত তিনমাস শুধু আমি জানি, সময় জানে আর আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর সাথে কেউ যদি জড়িত থাকে তারাই জানে। এর বাইরে এখনো কেউই জানেনা। শুধু এইটুকুই বলতে পারি অনলাইন জগতটির একটি পিছুটান আছে বলেই নিজেকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রনে রেখেছিলাম শুধু খুব আপনভাবা মানুষগুলোর মাঝে ফিরে আসবো। এতোটা খারাপ অবস্থায় যদি পড়ে অনলাইন ছাড়তে হয় তাহলে এই পিছুটান হয়তো আর থাকবে না। এরপর জানিনা কি হতে পারে তবে এটাও ঠিক কেউ কেউ রঙ্গতামাশা করতে বলতেও পারেন, “আত্মহত্যা” করব নাকি? তাহলে একদম সুস্পষ্টভাবে জেনে রাখুন এই একটা এতো সহজে হারাতে চাই না। একে পূনর্জীবন পাওয়া আর দুইয়ে জীবনের মূল্য খুব বেশি না জানলেও অল্প কিছুটা জানার ফলে এই অনলাইন জগত ছেড়ে “আত্মহত্যা” করব এমন ফালতু কথাও যেমন বলব না তেমনি করবও না (যদিও করার প্রশ্নই আসে না যতক্ষন সুস্থ মস্তিষ্কে আছি। এও বলে রাখা ভালো এসবের জন্য কষ্ট, যন্ত্রণা দীর্ঘ মেয়াদী হতে পারে তবে এর চাপে মস্তিষ্ক বিকৃতির সম্ভাবনাও নাও।)

——————————————————————————-
যেহেতু সর্বপ্রথম ব্লগেই তুলে ধরছি তাই একটু বড় করছি।
* এখানে মনে পড়লো চেয়েছিলাম স্ট্যাটাস দিয়ে থেমে যাবো কিন্তু লেখার সময় মনের সব কথা বেরিয়ে আসাতে আর থামিয়ে ফেলিনি লেখা। অবশ্যই ব্যক্তিগত বিষয় ভেবেছি বলেই লেখা বড় করেছি। যতটুকু এসেছি, পেরেছি তার সবটাই লিখেছি।

** এখানে শুধু প্রেমের সম্পর্কই আনবেন না, এমনকি লিঙ্গ ভিত্তিকও নয়। এখানে যে সম্পর্কের যন্ত্রণাকে মূল করার চেষ্টা করেছি সেটি এসব প্রেম বা লিঙ্গ ভিত্তিক সমস্যার বিপরীত মেরু। যেখানে সম্মান, ভালোবাসা, আস্থা থাকে সম্পূর্ণ নিঃষ্পাপ প্রকৃতির

*** একাকীত্বের সময় অনলাইনের আপন মানুষগুলোর কথা বেশি ভাবতাম। কেননা অধিকাংশ অনলাইন জগত তাদের সাথেই কেটেছে।

(#) একটু বলে রাখা ভালো যারা আফসোস করছেন ল্যাপটপ কিনতে পারছেন না অথচ একই বছরে দু’টো ল্যাপটপ কিনেছি শুধুমাত্র তাদের উদ্দেশ্যেই বলবো, শত্রুও যেনো এরকম দশায় না পড়ে। হারিয়ে যেনো কেউ আমার দশায় না পড়ে আবার কেনার পরে দৈন্য দশায় অভাবের মাঝে না থাকে।

(#) নতুন কথা নয় রিহ্যাব করেছি। সবচেয়ে বড় কথা অন্তত নিজের ব্যাপারে যেখানে যতটুকু দরকার মনে করেছি ঠিক ততটাই নিজের ব্যাপারে সত্যি বলেছি। সত্যি বলতে না পারলেও মিথ্যা খুব একটা বলিনি। সুতরাং রিহ্যাব, নেশা এসব বলে কেউ যদি ফায়দা লুটে নেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে সেই হবে চরম বোকা আর অবশ্যই অজ্ঞ, মূর্খ বোকা। এখানে একটু সতর্কবাণী দিয়ে রাখি, জন্ম-বুদ্ধি, জ্ঞানে-অজ্ঞানে-স্বজ্ঞানে, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় কোনভাবেই হিরোইন নামক মাদকের স্বাদটাও অনুভব করি নাই এবং এ পর্যন্ত না করে থাকতে পেরেছি রিহ্যাবের জন্যই। এমনকি প্যাথেড্রিন নামক জিনিসটিও শরীরে অপারেশন করতে চিকিৎসক ব্যবহার করেছেন নিজে নেশার উদ্দেশ্যে নই।

==> চাপটা আবারো তৈরী হতে পারে। লেখা শেষ করে পড়তে চাইছি কিন্তু কিছুতেই যেন মন ভরছে না, মনে বারবার বুঝতে চাইছে লেখা শেষ এবার কি করব। আবারো ক্ষমা চাইছি অদ্ভুতটাইপ লেখাকে ব্লগে পোস্ট করবার জন্য। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে নিবেন।
(*** বিরোধীরা কিনবা আমাকে যারা অপছন্দ করে থাকে তারা হয়তো নেশার সুত্র ধরে বলতে পারে (এখন না হলেও ভবিষ্যতে) নেশা করে আবোল-তাবোল শুরু করেছি। তাদের উদ্দেশ্য বলবো “ভূল সবখানে না হলেও তোমার এইজাতীয় মন্তব্য বা প্রচারণা পুরাই বৃথা। প্রথমত যেমন মূল্য পাবে না দ্বিতীয়ত যার সম্পর্কে বলছে তার সম্পর্কে ধারণা না থাকার ফলে এবং তৃতীয়ত আর সবচেয়ে বড় শক্তি যারা আমাকে এই দুই দুনিয়াতে চিনেন ভালোভাবে তারা নিশ্চয়ই বুঝবেন এই লেখা মালের ঠেলায় নাকি যন্ত্রণাময় চাপ থেকে বাঁচতে কিছুটা সময়ের জন্যে হলেও।)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “অহেতুক কিছু যন্ত্রণায়ময় কথা….

  1. জীবনের এই ছোট ছোট ঘটনা গুলির
    জীবনের এই ছোট ছোট ঘটনা গুলির জন্যই মনে হয় জীবনটা এত সুন্দর !! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. ভীষণ আফসোস হচ্ছে ডাক্তার
      ভীষণ আফসোস হচ্ছে ডাক্তার সাহেব! ভীষণ আফসোস…
      প্রথমত কষ্ট করে, সময় দিয়ে এত্তো বড় হুদা কথার পোস্ট পড়ে আপনার মাথা আউলাইয়া যাওয়ার জন্য আর দ্বিতীয়ত আপনি ডাক্তার হয়ে বুঝলেন না একজন আম জনতার সমস্যার কথা!!!
      এখন কি হইবো আমার!!!! :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 1