পরমানু গল্প : আনাড়ি

বারান্দায় দাড়িয়ে আছি। রোদে বোরুতে মন চাচ্ছে না। এখানেও গরম লাগছে। তবে এতটা না। বারান্দা থেকে দেখছি,
একটা মাঠ,
মাঠের পাশে রাস্তা,
রাস্তাদিয়ে কিছু সুন্দরী হেটে যাচ্ছে। ইদানিং কেন জানি মেয়ে দেখতে ভাল লাগে না। আগে একটা সময় ছিল যখন রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতাম। সব বন্ধুরা মিলে মেয়ে দেখতাম। আমার বন্ধুরা এখনো দেখে কিন্তু আজ আর আমি যাই না। তার অবশ্য একটা কারনও আছে। একটা ড্রিম গার্লের সন্ধান পেয়েছি। যাকে না দেখলে আজ আমার দিন কাটে অর্থহীন।



বারান্দায় দাড়িয়ে আছি। রোদে বোরুতে মন চাচ্ছে না। এখানেও গরম লাগছে। তবে এতটা না। বারান্দা থেকে দেখছি,
একটা মাঠ,
মাঠের পাশে রাস্তা,
রাস্তাদিয়ে কিছু সুন্দরী হেটে যাচ্ছে। ইদানিং কেন জানি মেয়ে দেখতে ভাল লাগে না। আগে একটা সময় ছিল যখন রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতাম। সব বন্ধুরা মিলে মেয়ে দেখতাম। আমার বন্ধুরা এখনো দেখে কিন্তু আজ আর আমি যাই না। তার অবশ্য একটা কারনও আছে। একটা ড্রিম গার্লের সন্ধান পেয়েছি। যাকে না দেখলে আজ আমার দিন কাটে অর্থহীন।
–রিজবী?
–কি?
–ম্যামের কথা শুনছস?
–কি বলছে ম্যাম?
–ম্যাম বলছে কেউ যাতে মাঠে না ঘুরাফেরা করে। সবাইকে ক্লাসে যেতে বলছে, আর আমাদের বলছে কেউ যাতে মাঠে না দাড়ায়।
–ও
–ও মানে?
–এখন কি করতে চাস?
–মাঠে কিছু মেয়ে দাড়িয়ে আছে। তাদের ক্লাসে যেতে বলতে হবে।
–ঠিকাছে। চল।
বারান্দা থেকে সিড়ি। সিড়ি থেকে সোজা মাঠ। পাশে হাটছে আমারই বন্ধু অমি। অনেকটা নিরব ছেলে। একা থাকতে সবচেয়ে বেশী ভাল লাগে তার। সবসময় এমন একটা মুডে থাকবে, যেন মনটা খুব খারাপ। থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। থাকে হোস্টেলে। পুরোনো বন্ধু, পুরোনো পরিবেশ ছেড়ে আজ সে এসেছে সম্পূর্ন নতুন দুনিয়ায়। যদিও মেয়ে সম্পর্কিত বিষয়ে তার প্রচন্ড আগ্রহ। যখন যেখানে যেই মেয়ে দেখে তার দিকেই তাকিয়ে থাকে।
হা হা হা।
.
হাটতে হাটতে মাঠের একেবারে কোনায় চলে এসেছি। এখানে ২টা দোলনা আছে। যা সবসময় এই কলেজের মেয়েদের দখলে থাকে। কলেজের ছেলেরা তা নিয়ে গল্প বানিয়েছিল। এই দোলনা বানানোর সময় নাকি শ্রমিকদের সাথে মানুষরুপি পরীরা প্রেম করত। তাই এই দোলনা গুলো নাকি সুন্দরীদের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। যাই হোক দোলনার কাছে যাওয়ার উদ্দ্যেশ্য ছিল সেখানে ২টি মেয়ে বাতাসে দুলছিল। তাদের ক্লাসে যেতে বলা।
আরেকটু এগিয়েই হতভম্ভ হলাম আমি। সেই ২টি মেয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে নিপু। আমার জানের জান। কলিজার টুকরা। এই কলেজে কত মেয়ের সাথে কথা বলি, ভাব আছে, বন্ধুত্ব আছে। কত ফ্রিলি চলাচল করি। অথচ এই নিপু সামনে আসলেই যেন আমি আনাড়ি হয়ে যাই। তবে আর না, আজ কিছু বলতেই হবে। যেভাবেই হোক তার সাথে ভাব করতে হবে।
.
হঠাৎ কিছু বুঝে উঠার আগেই অমি বলে উঠল
–এই মেয়েরা! তোমাদের এখানে কি? ক্লাসের ঘন্টা দিছে সেই কখন! যাও ক্লাসে যাও।
–এই তো ভাইয়া, যাচ্ছি।
হায় হায় আমি এটা কি করল! আবার আমার স্বপ্নের মৃত্যু ঘটল। ভেবেছিলাম এবার একটু নিপুর সাথে কথা বলার সুযোগ পাব! কিন্তু নাহ। তা আর হল না। এই মেয়ের সামনে আসলেই যেন হাবাগোবা হয়ে যাই আমি।
–কি এত ভাবছিস রিজভী?
–নাহ কিছু না।
–তাহলে চল, ক্লাসে চল।
–চল।
কিছুক্ষন চুপ করে থেকে আবার বললাম,
–অমি, তোকে আমি একটা মেয়ের কথা বলেছিলাম না!
–হু। নিপু।
–দোলনায় বসা হিজাব পরা মেয়েটাই ছিল নিপু!
ভ্রু কুচকে অমি বলল,
–ধুর! আগে বলবি নাহ!!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “পরমানু গল্প : আনাড়ি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1