অর্ধ শিক্ষার বেড়া জালে সমগ্র জাতি । – একেই কি বলে “গোড়ায় গলদ “?

আজকের আমার এই লেখায় কেউ অভিধান, বই বা অন্যকোন রেফারেন্স খুজে সত্যতা নির্ধারন করতে যাবেন না প্লীজ । শুধু নিজের বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে বিচার বিশ্লেষন করুন । আজ যেসব বিষয়ে আলোচনা করব তা খুবই সাধারন কথা বার্তা কিন্তু তার বিকৃত বা আধাসত্য বললে কি অবস্থার সৃস্টি হয় সেটা বুঝানোর জন্যই এই লেখা । আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত ও ব্যবহৃত কয়েকটা শব্দ নিয়ে আলোচনা করব – যা আমাদের দেশে বিকৃত ও আধা সত্য ভাবে বহুল আলোচিত ও প্রচারিত হচ্ছে ।

যেমন ছোট বেলায় একটা গল্প শুনেছিলাম – একটা দেওয়ালে প্রায় লোক জন হিসু করত । সেটা বন্ধ করার জন্য দেওয়ালের মালিক দেওয়ালে লিখে দিলেন – এখানে প্রস্রাব করিবেন না, করিলে ৫০টাকা জরিমানা । একজন সেই লেখাটা পড়লেন – এখানে প্রস্রাব করিবেন, না করিলে ৫০টাকা জরিমানা । ফলে তিনি সেখানে টাকার কথা চিন্তা করে সেখানে প্রস্রাব করে জরিমানা গুনে ছিলেন । ঠিক এরকমই অবস্থা আমাদের দেশের । যেমন –

স্বাধীনতা = অন্যকে কোন রূপ বিরক্ত না করে যা খুসি তাই করার অধিকার(মোটা দাগে)।

অথচ আমাদের দেশের অধিকাংশ জনতাকে যদি প্রশ্ন করা হয় স্বাধীনতা মানে কি তাহলে সবাই এক বাক্যে বলবে স্বাধীনতা মানে –“যা খুসি তাই করার অধিকার “(যা আধা সত্য)। অর্থাৎ “অন্যকে কোন রূপ বিরক্ত না করে” –এই অংশটকু বাদ দিয়ে নিজের সুবিধা মত অর্থ তৈরি করলেন । তাদেরকে এমনটাই শিখানো হয়েছে বা শিখেছে । তাদের কথা শুনলে মনে হয় উনি মাঝ রাস্তা দিয়ে বুক ফুলিয়ে হেলে দুলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্টাইলে আয়াশ করে হাটবেন কেউ উনাকে কিছুই বলতে পারবে না । ফলে আমরা দিন মজুর থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত সবাই যা খুসি তাই করতে চাই। কেউ বাধা দিলেই বলি আমাদের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে । আর এই হস্তক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন সময় লঙ্কাকান্ডও বেধে যায় । কেউ বলেন আমার বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে , কেউ বলেন রাজনীতি করা আমার গনতান্ত্রিক অধিকার অথচ সেই অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে অতএব এই সরকার স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদী । কেউ বলেন আমার ধর্ম পালন করার অধিকার হরন করা হচ্ছে । অতএব এরা নাস্তিক এদের সরকার নাস্তিক , তাই এই সরকারের পতন চাই ও এদের কল্লা চাই।

অথচ এই বাকস্বাধীনতা কামী, স্বাধীন ধার্মিক ও স্বাধীন গনতন্ত্রের রাজনীতিবিদদেরকে যদি বলা হয় আপনি যে ধরনের স্বাধীনতা চাচ্ছেন সেই স্বাধীনতা কাউকে কি কখনও দিয়েছেন বা ভবিষ্যতেও কি দিবেন ? আমার বিশ্বাস তিনি তা অবশ্যই দিবেন না । অথচ তিনি তা চান ও এসব বলে সাধারন জনতাকে বিভ্রান্ত করেন । তিনারা তা কেন করেন ? পানি ঘোলা করে উনার অন্তরের মধ্যে লুকায়িত ভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ? যাতে সহজেই কেউ তা বুঝতে না পারে ? তাই কথায় কথায় উনারা বেশ দুঃখ করে বলেন দেশ স্বাধীন হয়ে কি লাভ হলো ? কি পেলাম আমরা !!! আমরা উনাদের এই আবেগী কথা শুনে হাততালি দিই আবার কেউ কেউ চোখের পাতা ভিজিয়ে বলি দামী কথা বলেছে । স্বাধীনতার আগেই ভাল ছিলাম !!! তাইতো কি পেলাম স্বাধীন হয়ে !! এই সব বক্তারাই আসল দেশ প্রেমিক !! এদের কথায় মনে হবে যে একমাত্র এদের ইচ্ছা পুরন করার জন্যই এই দেশ স্বাধীন করা হয়েছে । এসব শুনে অনেকেই মনে মনে ভাবেন এই বার ভুট এদেরকেই দিব । মোট কথা স্বাধীনতা শব্দটাকে অর্ধ সত্য বা বিকৃত করে উপস্থাপন করে ক্ষনিকের ফায়দা হাসিল করাই আমাদের এই নেতা ও বিশিষ্টজনের একমাত্র লক্ষ্য । কিন্তু এর পরিনতি যে দিন দিন কত খারাপ হচ্ছে তা আমরা এখনই হাড়ে হাড়েই টের পাচ্ছি ও যে যার খুসি মত কাজ করছি , এক্কেরে ১০০% হালাল স্বাধীন ।

গনতন্ত্রপ্রেমীদের সাথে কথা কইতে গেলে তারা তো এখন মায়া কান্ন জুড়ে দেন । কেউ বলেন গনতন্ত্র হারিয়ে গেছে খুজতে হবে , কেউ বলেন গনতন্ত্র চুরি হয়েছে চোর ধরাতে ব্যস্ত, কেউ কেউ বলেন গনতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে ফলে উনারা হত্যা মামলা করতে ব্যস্ত, কেউ কেউ রায়ও দিয়ে দেন । এমতাবস্তায় কেউ গনতন্ত্রের দাফন কাফন করতে ব্যস্ত, কেউ তার চল্লিশার দিনখনও ঠিক করেন । অথচ উনারা গনতন্ত্র যে কি – তা জানেন বলে আমার মনে হয় না । শুধু গনতন্ত্রের জন্য মায়া কান্না করেন জনগনকে বিভ্রান্ত করার জন্য ।

এবার আসি গনতন্ত্র নিয়ে । গন = সমূহ, গোষ্ঠী । তন্ত্র = আইন (গনদের চলার জন্য যে আইন )।
গণতন্ত্র মানে সাধারন জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক ভাবে চলার জন্য যে আইন তাহাই গনতন্ত্র । এখন আপনারাই বলুন জনগনের কোন আইন (গনতন্ত্র)মারা গেছে যাতে করে হায় গনতন্ত্র!! হায় গনতন্ত্র!!! বলে কান্নাকাটি করতে হবে ? গত একবছরে উনারা সাধারন মানুষকে আগুন, ককটেল, চাপাতি ও গুলি দ্বারা হত্যা করে কোন ধরনের গনতন্ত্র ও স্বাধীনতা রচনা করেছেন তা কি তারা জানেন ? তাহলে কি আমরা উনাদের ঐধরনের জ্বালাও পোড়াও গনতন্ত্র চর্চা শুরু করব ? তাহলেই কি উনারা খুসি হবেন ? তখন তো উনারা বলবেন, না না এসব তো অগনতান্ত্রিক !! তাহলে কি আসল কথা উনারা যা করবেন তাই গনতন্ত্র কিন্তু আমরা করলে তা অগতান্ত্রিক !!!? মোদ্দা কথা গনতন্ত্র যায়গা বা পাত্র ভেদে অর্থ বা নাম পরিবর্তন হয় ? যেমন মাথায় থাকলে চুল, গালে থাকলে দাঁড়ি – এই রকম ?

যেমন মহিলাদের বোরকা পরা বা পর্দা নিয়ে একটা আয়াত আছে – মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। (নুর : ৩০)

যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে, তারা যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতৃপুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারো নিকট তাদের আভরণ প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সকলকাম হ’তে পার’ (নূর ৩১)। –

এখানে দেখুন পুরুষ ও মহিলা উভয়কেই পর্দা করতে বলা হয়েছে আগে পুরুষরা নিজ নিজ চোখের বা দৃস্টির পর্দা করবে ও মেয়েরা শরীরের বাহ্যিক পর্দা করবে । কিন্তু আমাদের দেশে প্রচারিত হয়েছে শুধু মেয়েরা বোরকা পরে ভুতের মত চলাফেরা করবে ও ইসলামের বিভিন্ন আইন মেনে বাইরে বের হবে কিন্তু আমরা পুরুষরা আমাদের চোখ অবনত করব না, পারলে মেয়ে দেখলেই এক্সরে করে মনের চোখ দিয়ে বিভিন্ন স্বাদ গ্রহন করব । অর্থাৎ আমাদের পুরুষদের জন্য কোন বাধা নাই , আমরা এক্কেরে খুললাম খুল্লা হয়ে ষাড়ের মত চলাফেরা করব । তবুও আমরা নিজেদেরকে মুমিন বান্দা হিসাবে জাহির করি । মেয়েরা চুন থেকে নুন খসলেই অমনি ফতোয়া । আর আমরা যে মেয়েদেরদিকে হা করে চাইয়া চাইয়া লালা ফেলাই তাতে আমাদের কুনু দোষ নাই !

আর তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে পিতৃহীনদের ওপর সুবিচার করতে পারবে না তবে বিয়ে করবে (স্বাধীন) নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই, তিন বা চার জনকে। আর যদি আশঙ্কা কর যে সুবিচার করতে পারবে না তবে একজনকে বা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে। এভাবেই তোমাদের পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা বেশী। (নিসা -৩ )

এখানে বলা হয়েছে একের অধিক বউ থাকলে কারো প্রতি পক্ষপাত মূলক আচরন করা যাবে না । সবাইকে সমান নজরে দেখতে হবে । কোন মানুষ তার দুই সন্তান থাকলে সেই দুজনকে সমান চোখে দেখতে পারে না । কারো না কারো প্রতি দুর্বলতা একটু বেশী থাকেই । সুতরাং একাধিক বউকেও যে সমান চোখে দেখা যায় না এটা বাস্তব সত্য । তাহলে বিয়ে যে একটাই করতে হবে – এটা বুঝতে কি আল্লামা বা পিএইচডি ডিগ্রী নিতে হয় ? অথচ হুজুররা সারা দিন বলেন পুরুষরা ৪টা বিয়ে করা জায়েজ । কিন্তু তাদের সাথে কেমন আচরন করতে হবে তা কিন্তু ঘুনাক্ষরেও বলেন না । অর্থাৎ এখানেও পানি ঘোলা করার ব্যবস্থা ।

অর্থাৎ সাধারন শিক্ষা থেকে শুরু করে ধর্মিয় শিক্ষা পর্যন্ত সব যায়গায় নিজের সুবিধা মত অর্ধ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে । ফলে পরিবার, সমাজ ও রাস্ট্র সবাই বিভ্রান্ত হয়ে চর্কীর মত একই আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছি । কখনও কখনও পিছনের দিকেও দৌড়াচ্ছি । তাই আসুন সবাইকে যে কোন বিষয়ে পূর্ন শিক্ষায় শিক্ষা দিয়ে সকল বিভ্রান্তির অবসান করে নিজে ভাল থাকি ও অপরকেও ভাল থাকার ব্যবস্থা করি ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৮ thoughts on “অর্ধ শিক্ষার বেড়া জালে সমগ্র জাতি । – একেই কি বলে “গোড়ায় গলদ “?

  1. এখানে দেখুন পুরুষ ও মহিলা

    এখানে দেখুন পুরুষ ও মহিলা উভয়কেই পর্দা করতে বলা হয়েছে আগে পুরুষরা নিজ নিজ চোখের বা দৃস্টির পর্দা করবে ও মেয়েরা শরীরের বাহ্যিক পর্দা করবে । কিন্তু আমাদের দেশে প্রচারিত হয়েছে শুধু মেয়েরা বোরকা পরে ভুতের মত চলাফেরা করবে ও ইসলামের বিভিন্ন আইন মেনে বাইরে বের হবে কিন্তু আমরা পুরুষরা আমাদের চোখ অবনত করব না, পারলে মেয়ে দেখলেই এক্সরে করে মনের চোখ দিয়ে বিভিন্ন স্বাদ গ্রহন করব । অর্থাৎ আমাদের পুরুষদের জন্য কোন বাধা নাই , আমরা এক্কেরে খুললাম খুল্লা হয়ে ষাড়ের মত চলাফেরা করব । তবুও আমরা নিজেদেরকে মুমিন বান্দা হিসাবে জাহির করি । মেয়েরা চুন থেকে নুন খসলেই অমনি ফতোয়া । আর আমরা যে মেয়েদেরদিকে হা করে চাইয়া চাইয়া লালা ফেলাই তাতে আমাদের কুনু দোষ নাই ! –

    চমেতকার হইছে… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া:
    :তালিয়া:
    বাই দ্যা ওয়ে… আপনার জান্নাতখান বুঝি হাতছাড়া হইয়া গেলো… :ভেংচি: :ভেংচি: 😀 :চোখমারা: :চোখমারা:

  2. আপনার জান্নাতখান বুঝি হাতছাড়া

    আপনার জান্নাতখান বুঝি হাতছাড়া হইয়া গেলো..

    দুনিয়াতে জান্নাত লোভীদের সাথে স্বস্তিতে থাকতে পারছি না তাদের সাথে জান্নাতে স্বস্তিতে থাকতে পারব বলে মনে হয় না । তাই তাদের সাথে জান্নাতে যেতে ইচ্ছা নাই । তারা জান্নাতে গেলে সেই জান্নাত অচিরেই জাহান্নামে পরিনত হবেই 😀 😀 ।

    কষ্ট করে পড়ে মতামতের জন্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: ।

      1. ও বাইছাব একেনে হাসির কি
        ও বাইছাব একেনে হাসির কি পাইলেন ? বেশী হাসি ভালা না । আগে হাসি পরে কান্না বলে গেছেন রাম শর্মা । :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

        1. আগে হাসি পরে কান্না বলে গেছেন

          আগে হাসি পরে কান্না বলে গেছেন রাম শর্মা

          :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :কেউরেকইসনা: :কেউরেকইসনা: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

  3. কারাগার ভাই, কষ্ট করে পড়ার
    কারাগার ভাই, কষ্ট করে পড়ার জন্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: ও মন্তব্যের জন্য :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  4. বরাবরের মতই ক্ষুরধার যুক্তি
    বরাবরের মতই ক্ষুরধার যুক্তি আর চমৎকার উপস্থাপনা… :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :ফুল: :বুখেআয়বাবুল:

  5. ডন ভাই, কষ্ট করে পড়া ও
    ডন ভাই, কষ্ট করে পড়া ও মতামতের জন্য আন্তরিক :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

58 − = 48