আসেন দেখি বুঝাতে পারি কিনা।

কতিপয় দুর্বল মস্তিষ্কের মানুষের কিছু কাজ দেখে লিখতে বাধ্য হলাম,আসেন দেখি বুঝাতে পারি কিনা।আর যাদের মনে হবে আমি ভুল পথে আছি ,বা আমি এ বিষয়ে কথা বলার মত যথেষ্ট মেধাবী নই,তারা শুধু আমাকে নয় ,২৩ বছর ধরে যারা আমাকে চিনে তাদের কাছে প্রমাণ দিয়ে যাবেন।আর যারা আমার বয়োজ্যেষ্ঠ তারা শুধুমাত্র বয়স বিবেচনা করে বড় বর কথা বলার আগে একটু ভেবে দেখবেন।
যারা বলছেন “আন্দোলন যখন শুরু হল তখন মনে করেছিলাম অংশগ্রহন করা উচিত কিন্তু এখন শুনছি ……”আপনাদের বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে আপনি মনে করেছিলেন যে অংশগ্রহন করা উচিত এবং এখনও কেবল কিছু শুনছেন ,অর্থাৎ আপনি সশরীরে কখনই আন্দলনে উপস্থিত ছিলেন না। কাজেই যেটা আপনি নিজে অব্জারভ করেননি সেটা নিয়ে কথা না বলা মুসলমান হিসেবে আপনার ঈমানের দৃঢ়তার পরিচায়ক।
যারা সশরীরে উপস্থিত না থেকে বলছেন “আমার নবিজী (সঃ) কে অবমাননা করা হল ……” তাদের উদ্দেশ্যে বলছি ,নবিজী (সঃ)শুধু আপনি বা জামাত শিবির কর্মীর একার না ,সমগ্র দুনিয়ার জন্য উনি ছিলেন শেষনবী ,উনার প্রেস্টিজ এতো হালকা নয় যে কয়েকজন তাকে নিয়ে কিছু বললেই তিনি তার প্রেস্টিজ হারাবেন।যুদ্ধাপরাধীদের বেলাই যদি আপনি মানেন যে আল্লাহ্‌ যা ভাল বোঝেন তাই করেন তাহলে এক্ষেত্রেও আপনার বিশ্বাস থাকা উচিত যে আল্লাহ্‌র এতো প্রিয় একজন বান্দাকে অপমান করলে আল্লাহ্‌ যা ভাল মনে করবেন তা অবশ্যই করবেন ,আপনাকে ফেসবুকে ঝড় তুলতে হবেনা ,কারন ফেসবুক তো তৈরিই করেছে নাস্তিকরা ,এখানে আসা মানে নাস্তিকদের জিনিস ব্যাবহার করে তাদের উৎসাহিত করা যেটা আপনার ভাব অনুযায়ী পাপ হবার কথা।
এবারে যারা সশরীরে উপস্থিত না থেকে বলছেন “ইসলামকে অবমাননা করে কথা বলা হচ্ছে শাহবাগে…… “তাদেরকে বলছি ,আপনি চিন্তা করেন যে আপনি নিজে মর্মান্তিক গণ ধর্ষণের স্বীকার হলেন ,অন্য ধর্মের(আমি কোন নির্দিষ্ট ধর্মকে উল্লেখ করছিনা ,যেকোনো ধর্ম হতে পারে ) পশুর দ্বারা ,আপনার অবস্থা মৃত প্রায় ,ঠিক তখন কি আপনি আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন যে অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান করতে হবে ???আপনার কি সেই ধর্মের মানুষের প্রতি ঘৃণা জন্মাবে না ???আপনি কি উক্ত ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না???বিচার চাইবেন না???
নাকি বলে বসবেন “ধৈর্য ধারণ কর ,পরকালে পুরস্কার পাবে,দুনিয়া কয়েকদিনের জায়গা ……।”
আপনাদের বুঝা উচিত ,ঘুরে ঘুরে যারা হিন্দু বাড়ির মেয়েদের চিনিয়ে দিল তাদের শুধু হিন্দু নয় ,বিবেক সম্পন্ন কোন মুসলমানও বরদাস্ত করবেনা ,যদিও আপনাদের জানা উচিত ছিল যে মুসলমানরাও যে তাদের দ্বারা ধর্ষিত হয়নি এমনটাও নয়।
এখন আবার কেউ কেউ বলবেন “নিজের চোখে যারা যুদ্ধাপরাধ দেখেনি তারা( অর্থাৎ তরুণ প্রজন্ম) কিসের ভিত্তিতে আন্দলনে গেল?” বা এমনও বলছেন কেউ কেউ যে “উনাকে বাসা চিনিয়ে দিতে সাহায্য করুক আর যায় করুক নিজে তো আর কিছু করেন নি (!!!!)।”
এই ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বক্তাকে কিছু বলার নায়,উনার “মানুষ” পরিচয়টাই আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।
তবে তরুণ প্রজন্মের আন্দলনে যাওয়ার ভিত্তি নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তাদের বলি ,আপনি কোন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রমনে গেলেন ,সেখানে আপনাকে খাতায় নাম লিখে ঢুকতে হবে এবং আমার যদি জানার প্রয়োজন যে আপনি সত্যি সেখানে গিয়েছেন কিনা তাহলে কিন্তু আমি অই খাতায় চেক করব ,আপনার পেছন পেছন সেখানে গিয়ে দেখার প্রয়োজন আমার হবেনা।আর যথাযথ সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া তরুণ প্রজন্ম নিশ্চয় খেয়াল খুশি অনুযায়ী শখ করে কষ্ট করছেনা।আপনারা তো কেবল ফেসবুকেই তরুণ প্রজন্মের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ,সাহস থাকলে প্রকাশ্যে তাদের সম্মুখীন হন,বুঝতে পারবেন ,তাদের ভিত্তি কি??

এখন হয়ত বলবেন নাস্তিক,বামদল কমিউনিস্টদের কথা।এরা হয়ত লাখো মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করে দিল !!!
শোনেন মহাশয়,হাতে গোনা কয়েকজন নাস্তিকরা যদি আপনার সংখ্যাগুরু আস্তিকদের দেশে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের ব্রেইন ওয়াশ করার ক্ষমতা রাখে ,তাহলে উন্নত বিশ্বের নন মুসলিম দেশ গুলো তাদেরকে সসম্মানে নিয়ে যেত ,শুধু আস্তিকদের ব্রেইন ওয়াশ করার জন্য।
আর এতো এতো ছাত্র ,ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ,ও আরও বিচক্ষণ সব ব্রেইন , এমনকি আস্তিকদেরও ব্রেইন ওয়াশ করা যে এতো সহজ কিনা ,আশা করি ভেবে দেখবেন।
নিজেকে আস্তিক দাবি করবেন আবার ভোট দিয়ে নাস্তিক কমিউনিস্ট নির্বাচিত করবেন,আবার চাকরীর সময় নাস্তিকদের সহযোগিতা আশা করবেন ,তাহলে আপনার নিজেকে নিয়েই তরুণ প্রজন্ম প্রশ্ন তুলবে। কারন আপনাদের মত জামাত শিবিরের চামচা বা জামাত শিবিরের অন্ধ বিশ্বাসীরাই আবার নিজের স্বার্থের সময় বাম ডান,Left Right ,leavo Dextro সবই ভুলে যান।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “আসেন দেখি বুঝাতে পারি কিনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

21 + = 26