ছাত্রলীগ খাওয়ার চেয়ে গায়ে মাখে বেশী ?

আমরা ও আমাদের ফুফাতো ভাই বোনরা প্রায় পিঠাপিঠি ভাবে মানুষ হয়েছি । আমার সব থেকে ছোট ফুপাতো ভাই –এর বয়স যখন ৩/৪ বছর তখন তার বায়না ছিল দুপুরে আমাদের সাথে বসে নিজ হাতে খাবে । কারো কথাই শুনতো না । ফলে তাকেও বসার জন্য একটা পাটি দিতে হতো । সেই সময় মাটিতে পাটির উপর বসেই খেতাম । তো তার জন্য আলাদা পাটি, থালা, বাটি গ্লাসে পানিও দিতে হতো । আমাদের খাওয়া শেষে দেখা যেত সে প্রায় সব ভাতই তার মুখে , গালে, পেটে বুকে সারা শরীরেই শুধু ভাত আর ভাত এবং থালার চারি পাশে ছিটিয়েছে কিছুটা । পেটে ভাত গেছে ২/৪ টা আর বাকী সবই পড়েছে বাইরে । শেষে ফুপু এসে তাকে আবার আলাদা ভাত মেখে খাইয়ে একেবারে গোসল করিয়ে তার খাওয়া পর্ব শেষ করত । আমরাও এই সিস্টেমের সাথে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম ।

আমার ছোট ছেলেকে কিছু খেতে দিলে কিংবা সে যদি চুপিচুপি কিছু খায় তাহলে সেই খাওয়া চোখে না দেখলে বুঝাই যায় না সে খেয়েছে কি না । অথচ আমার বড় ছেলে কোন কিছু চুপচাপ খেতেই পারে না । যাই খায় তারই কোন না কোন চিহ্ন দেখা যায় । চুপ করে খেতে গেলে গালে, মুখে লেগে থাকে । নিজে নিজে মুখ ধুয়ে ফেললেও কোথাও না কোথাও লেগে থাকবেই । সেই কারনে তার মায়ের কাছে থেকে বকুনির সাথে সাথে বোনাস হিসাবে টুকটাক চড় ত্থাপ্পর থাকেই । কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোন উন্নতি হলো না । তাই বাসায় সবাই আমার বড় ছেলেকে ছাত্রলীগ ও ছোট ছেলেকে শিবির নামে ডাকে । আমিও যে মাঝে মাঝে ডাকি না তা নয় ।

আপনারা হয়তো ভাবছেন কিরে বাবা এর মধ্যে ছাত্রলীগ ও শিবির আইলো কইত্থন ! একটু খেয়াল করলেই দেখবেন মিল আছে । এই যেমন ধরুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা । ওখানে সাধারন ছাত্র ছাত্রীদের সাথে নিয়ে প্রথম আন্দোলন করেছিল ছাত্রলীগ । কর্তপক্ষ যখন সেই দাবী মেনে নিল সেই সময়েই সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব চলে গেছে শিবিরের হাতে । ছাত্রলীগের কোন কিছুই করার নাই । সেই পরিস্থিতে শিবির আন্দোলন চালাতেই থাকে (যা অপ্রয়োজনীয়) । ফলে ছাত্রলীগকে পুলিশি পাহারায় নিজেদের অস্ত্রের মহড়া দেখাতে হয় (যার কোন দরকার ছিল না ) । পুলিশই যথেষ্ঠ ছিল সেই আন্দোলন থামানোর জন্য ।

প্রকাশ্যে পুলিশি ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগের অস্ত্রবাজী দেখলো সারা দেশ । কিন্তু সেই অস্ত্র দিয়ে কোন কাম হইছে ? না হয় নাই, শুধু শুধু তাদের মেঘের হুদা গর্জন শুনেতে হয়েছে সবাইকে । অথচ শিবিরকে দেখুন কখন কাকে মারছে তা কেউ জানতেও পারছে না । শুধু ঘটনার আলামত দেখেই বুঝা যায় এটা তাদের কাজ । শিবিরকে তার জন্ম লগ্ন থেকেই সরকারের সাপোর্ট ছাড়াই(২০০১-২০০৭ সময় ছাড়া )তারা তাদের অস্ত্রবাজী ও ক্ষমতার নিদর্শন দেখাতে হচ্ছে । এর মধ্যে কতবার কাদেরকে অস্ত্র হাতে কেউ দেখতে পেয়েছে তা মনে হয় হাতে গোনা যাবে । যাও দেখা গেছে তা তাদের উপর সরকারের তরফের কর্তপক্ষের টাইট আচরনের কারনে । অথচ শিবির যদি ছাত্রলীগের মত পুলিশি সমর্থন পেত তাহলে তাদের অস্ত্র কেউ দেখতে পেতে না কিন্তু আলীগের উইকেট যে নিয়মিত পড়তো তা হলফ করেই বলা যায় । কিন্তু ছাত্রলীগ শিবিরের উইকেটের ধারে কাছে নাই, শুধুই শরীরে মাখায় । অর্থাৎ কাজের চেয়ে ঘামে বেশী । তাদের এই হুদাই ঘামার কারনে সারা দেশ –এর কাছে বিতর্কিত হতে হচ্ছে ।

তাহলে কি আমার সেই ফুপুর মত আলীগ বা শেখা হাসিনা তাদেরকে গোসল করিয়ে সবার কাছে গ্রহণীয় করাতে হবে ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৮ thoughts on “ছাত্রলীগ খাওয়ার চেয়ে গায়ে মাখে বেশী ?

  1. সেই পরিস্থিতে শিবির আন্দোলন

    সেই পরিস্থিতে শিবির আন্দোলন চালাতেই থাকে (যা অপ্রয়োজনীয়) । ফলে ছাত্রলীগকে পুলিশি পাহারায় নিজেদের অস্ত্রের মহড়া দেখাতে হয় (যার কোন দরকার ছিল না ) । পুলিশই যথেষ্ঠ ছিল সেই আন্দোলন থামানোর জন্য ।

    সমস্যাটাই তো এইখানেই। এরা যে কি ভাবে আর কি করে সেইটা মনেহয় তারাই বুঝে না… অন্যদিকে অহেতুক লাফালাফি করে ঐ সন্ত্রাসী শিবিরদের সুযোগ করে দেয় । :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

    1. এরা যে কি ভাবে আর কি করে

      এরা যে কি ভাবে আর কি করে সেইটা মনেহয় তারাই বুঝে না

      এসব হাইথট বিষয় । 😀 😀 :হাহাপগে: :হাহাপগে: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

  2. এরা যে কি ভাবে আর কি করে

    এরা যে কি ভাবে আর কি করে সেইটা মনেহয় তারাই বুঝে না.

    এক্কেরে খাটি কইছেন , :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

    1. জলহস্তির মত, মল ছিটায় সারা

      জলহস্তির মত, মল ছিটায় সারা গায়ে!

      :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. একজন দলকানা হয়েও এইরকম

      একজন দলকানা হয়েও এইরকম সমালোচনা মাথা পেতে নিলাম বিনা বাক্যে।

      শুধু মাথা পেতে নিলেই হবে ? তার সমাধান কে করবে ? :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

      1. সমাধানের ব্যবস্থা একেবারেই যে
        সমাধানের ব্যবস্থা একেবারেই যে হচ্ছে না এটা মানতে নারাজ। যখনই কোন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে তখনই সাংগঠনিক ক্ষমতানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে দ্রুততর।

        1. কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে

          কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে তখনই সাংগঠনিক ক্ষমতানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে দ্রুততর।

          আমার কাছে এটা আপদকালীন সমাধান । ক্ষতের ব্যাথার জন্য পেইনকিলার খাওয়ার মত, তাতে সাময়িক লাভ হবে কিন্তু ক্ষত ভাল হবে না ।
          :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

          1. এছাড়া আর কিইবা করার থাকে
            এছাড়া আর কিইবা করার থাকে সাংগঠনিকভাবে? দলীয়ভাবে কিন্তু কোনই ছাড় দেয়া হচ্ছে না, এসবের প্রমান আমরা বিশ্বজিত হত্যাকান্ডে যেমন দেখতে পাই তেমনি দেখতে পাই মাত্র আগুন নেভা রাবির সময়ে অস্ত্র উঁচিয়ে থাকা ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার হওয়ার ক্ষেত্রে।

            বাকীটা নির্ভর করছে কর্মীদের উপর, তাদের সচেতনতার উপর।

          2. এছাড়া আর কিইবা করার থাকে

            এছাড়া আর কিইবা করার থাকে সাংগঠনিকভাবে?

            মানতে পারলাম না । :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

            ক্যাডার দিয়ে দল গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে বারে বারেই এমন দৃশ্য দেখতে হবে । বুদ্ধিমান শিক্ষিতদেরকে দল পরিচালনার দ্বায়িত্ব দিতে হবে । :ভাবতেছি: :ভাবতেছি:

          3. ক্যাডার দিয়ে দল গঠন প্রক্রিয়া

            ক্যাডার দিয়ে দল গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে বারে বারেই এমন দৃশ্য দেখতে হবে ।

            একটি পরিবারে সবাইকে একইরকম হলে সেই পরিবার পরিপূর্ণ হয় না। পরিবারের কাউকে হতে হবে নরম আর কাউকে হতে হয় গরম।

            খেয়াল করে দেখুন, বর্তমান সময়ের ছাত্রলীগের পদমর্যাদায় নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে কাদের অবস্থান। আর যদি বলেন ক্যাডারদের কথা তাহলে বলব ঐ ক্যাডাররা আছে বলেই এখনো ছাত্রলীগকে ভয় পায় ছাত্রদল বা শিবিরেরা। যেদিন থেকে এরা থাকবেনা সেদিন থেকে ছাত্রলীগ ২০-৩০ জনের এইমাথা থেকে ঐমাথা পর্যন্ত মিছিলকারী একটি সংগঠনে পরিণত হবে।

            বুদ্ধিমান শিক্ষিতদেরকে দল পরিচালনার দ্বায়িত্ব দিতে হবে ।

            এই প্রক্রিয়া চলছে, একটু খেয়াল করে দেখুন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিতে যারা পদ পেয়েছেন তাদের রেকর্ড। খুনী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, ভাঙ্গারীর দোকানদার বা ধর্মান্ধ প্রকৃতির কাউকে স্থান দেয়া হয়নি।

          4. আর যদি বলেন ক্যাডারদের কথা

            আর যদি বলেন ক্যাডারদের কথা তাহলে বলব ঐ ক্যাডাররা আছে বলেই এখনো ছাত্রলীগকে ভয় পায় ছাত্রদল বা শিবিরেরা।

            তা ঠিক আছে , তবে সেই ক্যাডারদেরকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে শিক্ষতদের দারা ।

  3. গায়ে মাখার সুযোগ দেওয়া হয়
    গায়ে মাখার সুযোগ দেওয়া হয় বলেই তো মাখে। এই ব্যাপারে দলের আরও সিরিয়াসলি ভাবার সময় হয়েছে। বান্দররে লাই দিলে মাথায় উঠবেই।
    আপনার লেখাটা ভাল্লাগছে।

  4. বান্দররে লাই দিলে মাথায়

    বান্দররে লাই দিলে মাথায় উঠবেই।

    তাহলে আপনি মানেন সে – ছাত্রলীগ বানর ? :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  5. আর কিছু লাগে না। শুধু এই
    আর কিছু লাগে না। শুধু এই ছাত্রলীগের জন্যই আওয়ামীলীগের ধরাশায়ী হতে হয়।
    স্বৈরাচারীর অপর নাম ছাত্রলীগ!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1