চট্টগ্রামের শিক্ষাঙ্গনে জামাত শিবির

বর্তমানে চট্টগ্রামে শিক্ষাঙ্গনে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হল জামাত শিবিরের কুপ্রভাব। মাদ্রাসা তো বটেই, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কোনোটাই এদের আওতামুক্ত নয়। আমি চট্টগ্রামে এমন একটা বিদ্যালয়ে পড়েছি যেখানে শিবিরের প্রভাব সুস্পষ্ট। সেইসূত্রে তাদেরকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছি। এদের প্রভাব যে কতটা শক্তিশালী তা অকল্পনীয়। এদের নির্দেশে স্কুলের টিচার বদলি হয়, স্কুল কলেজের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, এদের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই নিশ্চিত সাসপেন্ড! আমি দেখেছি, তাদের তথাকথিত লাইব্রেরীতে মুসলিম লেখক ছাড়া কোনও লেখকের বই নেই। আমার এখনও কানে ভাসে তাদের সেই কথা,”রবিন্দ্রনাথ তো নোবেল পাইসে ইসলামের বিরুদ্ধে লেখার জন্য!” এদের নীলনকশা অত্যন্ত সুক্ষ্ন। এরা চট্টগ্রামের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কৌশলে তাদের ঘাঁটি গেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখল তো সবারই জানা। চট্টগ্রাম শহরে এদের মূল ঘাঁটি চকবাজারের দেবপাহাড়। যার মূল কার্যক্রম চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মহশীন কলেজ ও চট্টগ্রাম কলেজকে ঘিরে। এরা সমগ্র চট্টগ্রামে “অংকুর” ও “ফুলকুড়ি”নামক শিশু সংস্থার মোড়কে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরা ছুটির সময় আর টিফিনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা নে ঢুকে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তথাকথিত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াকর্মকান্ড এবং লাইব্রেরীর টোপ ফেলে নিজেদের আয়ত্ব নিয়ে আনে। তারপর গার্ডিয়েনদেরকে ধর্মীয় ও মন ভোলানো কথার টোপ ফেলে তাদের দলে ভেড়ায়। তারপর সুকৌশলে তাদেরকে পড়তে পাঠায় শিবির নিয়ন্ত্রিত কোচিং প্রবাহতে। তারপর তাদের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভেড়ায় নিজেদের দলে। তারপর হাতে তুলে দেয় শিবির সাথীদের আমলনামা। (আমিও এই স্টেপ পর্যন্ত তাদের টোপ গিলেছিলাম। শিবিরের আমলনামাও আমার হাতে এসেছিল। আমার সৌভাগ্য, আমার শরীরে মিশে আছে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত যে কারণে আমি সেই ফাঁদ থেকে বের হতে পেরছি।) ব্যস! এভাবেই একজন সাধারণ ছেলে হয়ে ওঠে শিবির সাথী। মাদ্রাসা যে ছাত্রশিবিরের আঁতুড়ঘর তা হলপকরেই বলা যায়। তবে হ্যাঁ, সব মাদ্রাসা নয়। কেবল জামাত নিয়ন্ত্রিত মাদ্রাশা গুলোর এদের জন্মদাতা। তাহলে এই অবস্থা থেকে কিভাবে পরিত্রাণপাওয়া যায়? সহজ ভাবে বললে, সব মাদ্রাসাকে সরকারিকরণ বা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত্‍। তাহলে এদের কার্যক্রম গোপনে চালানোর কোনউপায় থাকবেনা। আর সেই সাথে তাদেরকে শিক্ষা কার্যক্রমও যতটা সম্ভব মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করা উচিত্‍। তাহলে শিক্ষার মানও উন্নত হবে আর সবকিছুই থাকবে সরকারে দৃষ্টিসীমার মধ্যে। স্বাধীন বাংলাদেশ হবে ছাগুমুক্ত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “চট্টগ্রামের শিক্ষাঙ্গনে জামাত শিবির

  1. শিবির করার সময়ে অভিজ্ঞতা
    শিবির করার সময়ে অভিজ্ঞতা গুলো লিখতে থাকুন।

    মাদ্রাসা গুলোতে সরকারের অবহেলার কারনে এখন এই পরিণতির দিকে গেছে। দুইটা দেশ প্রেমের প্রবন্ধ পড়েই কি দেশ প্রেমিক হওয়া যায়। মাদ্রাসা শিক্ষাটা বাতিল করার অবস্থা এখন নেই। তাই সরকারের উচিত দেশ,রাষ্ট্রের অন্যান্য শিক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে এদেরও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা। এবং আধুনিক সময় উপযোগী সিলেবাস প্রণয়ন করা।

  2. পরিবার থেকে বহন করা ধর্মীয়
    পরিবার থেকে বহন করা ধর্মীয় অনুভূতি শিবিরের যন্তর মন্তর ঘরে এসে সাম্প্রদায়িক – মৌলবাদী রূপ নেয় । এর থেকে বের করে আনতে হবে আমাদের কোমলমতি শিশুদের কে । নাহলে একবার মগজ ধোলাই হয়ে গেলে বড় হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন ।

  3. চট্টগ্রামের ‘অংকুর শিশু কিশোর
    চট্টগ্রামের ‘অংকুর শিশু কিশোর সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ’ হল কিশোরদের শিবির বানানোর মূল হাতিয়ার। আর শিশু কিশোরেরা নগরীর ভালো স্কুল হতে গিয়েই কমবেশি প্রথমে পরিচিত হয় অংকুরের সাথে। কারণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় গুলোতে ভর্তিচ্ছু প্রায় সবাই “অংকুর স্কুল ভর্তি গাইড ” পড়ে।
    অংকুর শহরে এমনভাবে সুসংগঠিত যে পুরো শহরটাকে কয়েকটি জোন এরিয়ায় ভাগ করে “কিশোর কন্ঠ ” বিক্রি করে।
    তাছাড়া চালু আছে “অংকুর বৃত্তি প্রকল্প ” নামক বৃত্তি পরীক্ষা। যে পরীক্ষায় মেধাবী মেধাবী অনেক শিক্ষার্থী অতি উৎসাহ নিয়ে অংশ নেয়। আর ফুলকুঁড়ি তো আছেই।
    …..অংকুর মানেই শিবির…..

    1. কী ভয়ংকর !!!
      আমাদের নেতারা

      কী ভয়ংকর !!!
      আমাদের নেতারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমান । ঠিকই তো আছে । হেফাজত এর সমাবেশে কেন লক্ষ লোক হবেনা । এরকম চলতে থাকলে এ দেশে আমাদের বসবাস করা আর হয়ে উঠবেনা ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

33 − 28 =