৫-৬ ফেব্রুয়ারি, যা দেখেছি, বুঝেছি, করেছি

কাদের মোল্লার ফাঁসি। অনেকদিনের অপেক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে। স্কুল জীবন থেকে কবি মেহেরুননেসার হত্যাকারীর বিচার চাই। ২০০৬ সাল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির আন্দোলনে নানাভাবে অংশগ্রহণ করে আসছি। কিন্তু আওয়ামীলীগের প্রতি সংশয় আমার চিরকাল ছিল। ক্ষমতার জন্যে তাদের আপোষকামী রাজনৈতিক ইতিহাসের কারনেই এই সংশয়। জাহানারা ইমামকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে কিনা? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, এমনি এমনি করবেনা, আন্দোলন করতে হবে। আমি তাই আওয়ামীলীগের উপরে ভরশা করে বসে থাকার পক্ষে কখনোই ছিলাম না। ব্লগে, রাজপথে বরাবরি আওয়ামীলীগকে চাপে রাখার স্বিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবল সমালোচকের ভুমিকা বেছে নিয়েছি। এতে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। তাতে কিছু যায় আসেনা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের উপর ভরশা করে থাকলে হবেনা, জনগণকেই আন্দোলন করতে হবে এটা এখন প্রমানিত সত্য। তবুও কাদের মোল্লার ফাঁসি হবে এই বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত ছিলাম। কারন বাচ্চু রাজকারের ফাঁসির রায় হলে কসাই কাদেরের ভিন্ন রায় হওয়ার সম্ভাবনা নাই। মামলার বিবরণগুলা থেকে সহজেই এই ধারণা তৈরি হয়। ৫ ফেব্রুয়ারীর প্রথম প্রহরে ঘুমাতে যাবার আগে স্ট্যাটাস দিলাম –

“জামাত আজকে কতো টাকা ঢালছে সেটা ক্যালকুলেটরে হিসাব করে কুলাবেনা। জামাত কিন্তু এখন আসলেই নিরুপায় পজিশনে আছে। বিএনপি তাদের বিভিন্ন হরতালে নৈতিক সমর্থন দিলেও এবার দিচ্ছেনা, ট্রাইবুনাল বিষয়ে জামাতের পক্ষে তাদের অবস্থান নাই এটা জানিয়ে দিয়েছে। আমি জানিনা বিএনপি জামাতের সাথে এটা কিভাবে ডিল করবে বা করছে, তলে তলে সাপোর্ট দিচ্ছে বা দিবে কিনা তাও শিওর না। কিন্তু আদর্শিক অস্বিকৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে নৈতিকভাবে জামাত আগামীকাল পুরোপুরি একা থাকবে। জামাত আগামীকাল একটা ঘটনা ঘটাতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার, তারা আন্তর্জাতিক এটেনশন চাচ্ছে। এটা সহজ হিসাব। তারা চাচ্ছে বিবিসি সিএনএনএ খবর হউক। সেই খবর হওয়ানো এবং তার প্রচারের জন্যেও তারা অনেক টাকা ঢেলে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। গত কয়দিনে মনে হইছে যে সরকারও এটা বুঝতে পারছে, তাই খানিকটা সতর্কতা অবলম্বন করেছে পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু আগামীকাল তাদের এগ্রেসিভ না হওয়া ছাড়া উপায় নাই। অলরেডি একটা লাশ পরেছে, আগামীকাল কয়টা পরবে সেটা একটা চিন্তা করার বিষয়। এই অবস্থায় জামাত বিরোধী প্রত্যেকটা ব্যাক্তি এবং প্রত্যেকটা গোষ্ঠিকে নিজ নিজ জায়গা থেকে একটিভ থাকা দরকার। বিশেষ করে মিডিয়া এবং সোস্যাল মিডিয়ার দায়িত্ব বেড়ে যাবে অনেক, প্রোপাগান্ডা মেশিন সে জাতীয় হউক অথবা আন্তর্জাতিক তাকে মোকাবেলা করতে হবে, দাঁত ভেঙে দিতে হবে। বাংলাদেশের কপাল থেকে এই কলঙ্কটুকু মুছে ফেলা দরকার। শেষবারের মতো, চিরকালের জন্যে”। – (৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩, রাত ১২:৫)

তাও সংশয় ছিল। বিভিন্ন কারনে ছিল। এদিক সেদিক থেকে আপোসের গুজব শোনা যাচ্ছিল। পুলিশের সাথে জামাতের ফুল দেয়া নেয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। অনলাইন আওয়ামীলীগারদের কারো কারো আচরণে সন্দেহ আরো ঘনিভুত হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির আন্দোলনকে অনলাইনে যারা জনপ্রিয় করেছেন তাদের মধ্যে অমি রহমান পিয়াল অন্যতম। তার ৫ ফেব্রুয়ারীর অনলাইন কার্যক্রম আমি খুব মনযোগ দিয়ে খেয়াল করছিলাম। কাদের মোল্লার রায় আসবে, তার প্রোফাইলে রীতিমত উৎসব লাগার কথা। কিন্তু ৪ ফেব্রুয়ারী রাত থেকেই তিনি একেবারে নিরব। এই নিরবতা ভেঙেছে রায় ঘোষনারও অনেক ঘন্টা পরে। নিরবতা ভেঙে তিনি শাহবাগের বিরোধীতা করলেন। তার এই অবস্থান অবশ্য পরে পরিবর্তন হয়েছে। পুরো শাহবাগ আন্দোলনের সময় ধরেই দল হিসাবে আওয়ামীলীগ এবং আওয়ামীলীগ সমর্থক কিছু মানুষের এইভাবে শাহবাগের সমর্থন, বিরোধীতা, ধারণ, বর্জনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। শাহবাগ ও আওয়ামীলীগযে দুটি আলাদা সত্ত্বা তা বুঝতে সুবিধা হয়।

কাদের মোল্লার রায় জানতে পারলাম দুপুর ১২টার দিকে। রায়টা জেনে মুখে ঘুসি লাগার মতো অনুভুতি হলো। টিভিতে কাদের মোল্লা ভি চিহ্ন দেখালেন। যাকে বলে পিত্তি জ্বালিয়ে দিলেন। কিশোর বয়সের আবেগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। বেজায় মাথা গরম হলো। দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে হরতাল ঘোষনা করে স্ট্যাটাস দিলাম। তারপর একটু পরপরই স্ট্যাটাস দেয়া শুরু করলাম। এবং কি ইভেন্ট করা যায় তা নিয়া জাতীয় স্বার্থে ব্লগয়ার-অনলাইন একটিভিস্ট ফোরমের গ্রুপে আলোচনা করছিলাম। আমাদের মধ্যে অনেকেই ৫ তারিখ সমাবেশ ডেকে দেয়ার পক্ষে ছিলেন। আমি মতামত দিলাম ৬ তারিখ সমাবেশ আর মশাল মিছিল করার। তাই স্বিদ্ধান্ত হলো। আর ঐদিন ছাত্র ইউনিয়নের মশাল মিছিলে যোগ দেয়ার স্বিদ্ধান্ত নিলাম। এই সময়ের মধ্যে আমি অনেকগুলা স্ট্যাটাস দিয়েছি। এরমধ্যে কিছু নিচে ধারাবাহিক তুলে দিলাম।

“আওয়ামীলীগ বেঈমান, এটা আমি বারবার বলেছি। তারা আবারো যুদ্ধাপরাধীদের সাথে আপোষ করেছে। ছিয়ানব্বই সাল আবার ফিরে আসছে। এই রায় আমি মানিনা, মানবো না। আমি হরতাল ঘোষনা করছি, লাগাতার হরতাল। আর কেউ পালন না করলে একলা একলা করুম। কেউ হাসতে পারেন, কেউ ফান করতে পারেন। আমি কেয়ার করিনা। রাজাকারের সাথে আমি আপোষে বিশ্বাসী না”। – ৫ ফেব্রুয়ারী, দুপুর ১২:২২)

“অতি আবেগে ভুল করা চলবেনা। একটা জিনিস ভুলে গেলে চলবে না যে আমাদের প্রতিবাদ কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে। ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে না। এই বিষয়টা সবাই খেয়াল রাখবেনা। ট্রাইবুনাল নিয়েও সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু সেটা কখনোই যাতে জামাতের ট্রাইবুনাল বাতিলের আন্দোলনে শক্তি না যোগায় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দরকার বিচার, ন্যায় বিচার। নানান মহলের খেলায় পরে যাতে বিচার প্রহসনে পরিণত না হয় সেটাই আমাদের দাবি”। (বিকাল ৩:৪৮)

“রাজু ভাস্কর্যের সামনে আজকের সন্ধ্যা ৬টার মশাল মিছিল ও আগামীকালের প্রেসক্লাব থেকে শিখা চিরন্তনের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিলে যোগদিন। দল মত নির্বিশেষে জনগণের রায় দেয়ার সময় হয়েছে”। (বিকাল ৪:১৯)

এসব স্ট্যটাস কিছু ঘরে বসে দিয়েছি, কিছু বাকী বিল্লাহ ভাইয়ের ফকিরাপুলের অফিসে। এরি মধ্যে খবর পেলাম ব্লগার এন্ড অনলাইন একটিভিস্ট নেটওয়ার্ক নামের একটি সংগঠন শাহবাগে ইভেন্ট ডেকেছে। সংগঠনটির নামের সাথে পরিচিত ছিলাম না। তবে মাহমুদুল হক মুনসি (বাধন)এর ফোন পেয়ে বুঝতে পারি সংগঠনটির সাথে সে যুক্ত আছে। এখানে উল্লেখ্য যে, বাধন অনলাইনকেন্দ্রীক একটিভিজমের সাথে জড়িত শাহবাগ আন্দোলনেরও অন্তত দুই বছর আগে থেকে। কনকো ফিলিপ্সএর সাথে সরকারের চুক্তি বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে। জাতীয় স্বার্থে ব্লগার-অনলাইন একটিভিস্ট ফোরামের অন্যতম সদস্য ছিল বাধন। ব্লগারদের এই সংগঠনটি প্রথম অনলাইনকেন্দ্রীক রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে আবির্ভুত হয়েছিল। আমি, আসিফ মহিউদ্দীন, সবাক এবং সচলায়তনের নজরুল ভাই সংগঠনটির সমন্বয়ক নির্বাচিত হয়েছিলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭।৪ ধারা বাতিলের আন্দোলনের পর থেকে সংগঠনটিতে একধরণের আওয়ামী বনাম বাম বিভেদের কারনে ভাঙন ও অচলাবস্থা তৈরি হয়। বাধনের ফোন পেয়ে আমি এবং বাকী বিল্লাহ ভাই শাহবাগে পৌছলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম ব্লগ দুনিয়র অনেক পরিচিত মুখের পাশাপাশি অনেক অপরিচিত মুখ উপস্থিত, শাহবাগ চত্তরে বেশ উত্তপ্ত অবস্থা। প্রথম দর্শনেই বুঝলাম এখানে কিছু একটা হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। বাধনের মাধ্যমে ইমরান এইচ সরকারের সাথে পরিচয় হলো। এর আগে তার নাম শুনেছি। দিন বিশেক আগে একবার দেখেছি, আসিফের অপারেশনের সময় হাজির হয়েছিলেন। তারও মাস দুই আগে তার কথা শুনেছিলাম আম জনতা ফেসবুক গ্রুপের ছোট ভাইদের কাছে। তিনি একদা ছাত্রলীগ করেছেন এবং আওয়ামী ঘনিষ্ট এই তথ্য জানতাম তাই তার বিষয়ে সংশয় মুক্ত হতে পারলাম না। ঐদিন জামাতের ডাকা হরতাল ছিল, রাস্তাঘাট ফাকা। শাহবাগ চত্তরে গোল হয়ে বসে দখল নিতে বেশি বেগ পেতে হয়নাই। এই আন্দোলনে নীতিগত এবং রাজনৈতিক কৌশলগত কারনেই সরকার পুলিশি হামলা ঘটাবেনা এটা নিশ্চিত বুঝতে পারছিলাম। বাকী ভাই এবং আমি স্বিদ্ধান্ত নিলাম রাজু ভাস্কর্য থেকে যে মশাল মিছিলটি শুরু হবে তা শাহবাগের জমায়েতে এনে শেষ করে জমায়েত আরো বড় এবং জঙ্গী করে তোলা যায়। তাই করা হলো। মশাল মিছিলের আগমন সন্ধ্যার শাহবাগগে আরো জঙ্গী করে তুললো। ছাত্র ইউনিয়নের ছেলে মেয়েরা হাজির হওয়ার পর একে একে অন্যান্য ছাত্র সংগঠন এসে হাজির হতে থাকে। সাংগঠনিকভাবে না হলেও ছাত্রলীগের কিছু কর্মী অবশ্য প্রথম থেকেই ছিল। উদিচি আসলো। মাইক আসলো। নানান শ্রেণী পেশার মানুষ আসতেই থাকলো। বক্তৃতা, স্লোগান চলতেই থাকলো। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না এই আন্দোলন কতোদুর যেতে পারে। বড় কোন গণআন্দোলনে পরিনত করা সম্ভব কিনা নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। আমার মনে আছি আমি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শুভর সাথে বারবার কথা বলছিলাম, তার মতামত চাইছিলাম। বড় কিছু করতে হলে আন্দোলনটি সারা রাত রাখতে হবে। এক রাত টিকে গেলে বড় কিছু ঘটার সম্ভাবনা থাকবে বুঝতে পারছিলাম। শুভ খুব একটা আশাবাদী ছিলনা। শহুরে মধ্যবিত্ত্ব তরুনরা খুব বেশি রাত পর্যন্ত থাকবেনা এবং কয়েক ঘণ্টা পরেই তাদের উৎসাহ মরে যাবে বলে তার ধারণা। আমি নিজেও খুব বেশি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না।

শাহবাগে সেদিন হাজির হয়েছিলেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান। একাত্তরের এই গেরিলা কমান্ডার আমাকে ধমক দিয়ে জিজ্ঞাস করলেন আমি কেনো ল্যাপটপ খুলে মানুষ ডাকছিনা। তিনি বললেন, আগামীকাল এখানে লাখো লাখো মানুষ হবে, আমাদের সেই লক্ষ্য মাথায় নিয়াই কাজ করা উচিৎ। তিনি আরো বললেন, শুভকে একবার তার কাছে ডেকে এনে দিতে। আমি শুভকে ডেকে এনে ল্যাপটপ খুলে বসে পড়লাম। মনজু ভাই শুভকে কি নসিহত দিছিলেন আমার জানা নাই। আমি কাধের ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ খুলে স্ট্যাটাস দেয়া শুরু করলাম।

“যারা এখনো শাহবাগের মোড়ে আসেন নাই তারা বিরাট মিস করছেন। এখানে জনতার ঢল নেমেছে। এখানে মোমবাতির মিছিল, এখানে মশাল মিছিল, এখানে গান আর স্লোগান আজ একাকার হয়েছে। আসতে থাকুন। অকুপাই শাহবাগ। যতোক্ষন না ফাঁসির রায় আমরা আদায় করে নিতে পারি”। – (সন্ধ্যা ৭:৩৪)

“ঘটনা হচ্ছে যে আমার কাছে কোন ছবি নাই। তাই ছবি দিতে পারছিনা। কিন্তু যারা টিভিতে দেখার তারা নিশ্চয় দেখেছেন। শাহবাগ চৌরাস্তা এখন তাহরীর স্কয়ারে পরিণত হয়েছে। হাজারে হাজার মানুষ আসছে। সারা রাত সবাই থাকবে। এখানে গান হচ্ছে, স্লোগান হচ্ছে। এখানে মোমবাতি জ্বলছে, এখানে মশাল জ্বলছে।

সারা দেশে এইরকম ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন। আর ঢাকায় তো আমরা আছি শাহবাগেই, চলে আসুন। ইতিহাসের সাক্ষি হউন। নাইলে সারা জীবন পস্তাইবেন।

আজকে যারা পারবেন না তারা আগামীকাল চলে আসুন। আমরা চাই শাহবাগ থেকে পল্টন পর্যন্ত মানুষের ঢল নামুক। আজকে শত থেকে হাজার হয়েছে। আগামীকাল আমরা চাই হাজার থেকে লাখো মানুষের ঢল নামুক। আজকে শাহবাগ, আগামীকাল পল্টন পর্যন্ত গণমানুষের অবস্থান ধর্মঘট হউক। জামাত হরতাল ডেকেছে। আমরা রাজপথ দখল করে হরতাল রূখে দেবো। ভয়ের কিছু নাই, লাখো জনতা আপনার সাথে আছে। এই ঐতিহাসিক সংগ্রামের অংশ হউন, ইতিহাসের অংশ হউন।

মুক্তিযুদ্ধের বাঙলায়, রাজাকারের ঠাই নাই”। (রাত ৮:৫০)

শাহবাগে ৫ ফেব্রুয়ারী প্রতি মুহুর্তে এতকিছু ঘটেছে সবকিছু এক নোট কেনো কয় নোটে প্রকাশ করতে পারবো আমি জানিনা। তবে সেদিন রাতেই কেউ কেউ আন্দোলনে বিরতি দিয়ে সকাল থেকে শুরু করতে চেয়েছিলেন। একবার মাইকে একজন ঘোষনাও দিলেন। কিন্তু আমরা জানতাম একবার বিরতি আসলে সকালে আর বসা যাবেনা। রাত জেগে অন্তত ২/৩শ জনের মতো আন্দোলনকারী শাহবাগকে সেদিন রাতের মতো টিকিয়ে দিয়েছিলেন। আমি তাদের মধ্যে ছিলাম না। আমি বাসায় ফিরে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটা স্ট্যাটাস দিলাম-

“আমি এখন আমার অনলাইন জীবনের সবচেয়ে সিরিয়াস একটি স্ট্যাটাস দেবো। বাংলাদেশের অনলাইন প্রজন্ম চরিত্রগতভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে এই প্রজন্মের গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা হচ্ছে রাজাকার বিরোধী, এই কারনে অনলাইনে রাজাকার এবং তার সমর্থকদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে। রাজাকারদের আমরা পুরো বাংলাদেশ থেকেই বয়কট করতে চাই।

আজকে যে রায় হয়েছে তা আপনাদের অনেকের মতোই আমাকে হতবাক করেছে, ক্ষুদ্ধ করেছে। আমি আবেগের চোটে লাগাতার হরতাল ডেকে বসেছিলাম। পাগলের মতো বলেছিলাম যে কেউ না করলেও একলা একলা হরতাল করবো। এটা আবেগের ব্যাপার। কবি মেহেরুননেসার আমার কাছে একটি আবেগের ব্যাপার, একটি চেতনার ব্যাপার, যে চেতনার কারনে আমরা বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র পেয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন, তরুন বয়সে কবি হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন বিশেষ করে ‘জনতা জেগেছে’ নামের কবিতাটি লিখে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্যে সক্রিয় একটিভিস্ট ছিলেন। কাদের মোল্লা তাকে হত্যা করেন। সাথে হত্যা করেন তার মা, বাবা, ভাই বোন পুরো পরিবারকে। কেটে টুকরো টুকরো করেন। গলা কেটে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখেন। এইটা ইংরেজি স্ল্যাশার মুভি না, বাস্তব। এই কাদের মোল্লা দলবল নিয়ে ১১ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষন করে মেরে ফেলেছে। এগুলো কোর্টে প্রমান হয়েছে। অথচ তাকে যাবজ্জীবন দিলো? মেহেরুননেসার হত্যাকান্ডের জন্যে ১৫ বছর জেল! এটা কি কোনভাবে মেনে নেয়া যায়? কেনো এমন হলো? এর পেছনের কারন কি? সেই প্রশ্ন তুলতে হবে। কিন্তু তার আগে আমাদের দায় বেরে গেছে। শাহবাগে যে গণজাগরনের স্মৃষ্টি হয়েছে তা সফল করতে হবে, যে সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে সবধরণের অপরাজনৈতিক চর্চার বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়াতে হবে। জামাতের সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। কাদের মোল্লার কমপক্ষে ফাঁসির রায় নিশ্চিত করতে হবে। এটা দাবি না, এটা জনতার আদেশ। মানতে হবে।

এবার খুবি টেকনিকাল কিছু জিনিস বলি, যেগুলা মাথায় রাখলে আন্দোলন এগিয়ে নিতে সুবিধা হবে। রায় ঘোষনার পরই অনলাইনে সবার দাবি ছিলো যে একটা কিছু করতে হবে। আমরা ‘জাতীয় স্বার্থে ব্লগার অনলাইন একটিভিস্ট’ ফোরাম থেকে আগামীকাল বিকাল সাড়ে চারটায় কর্মসূচী ঘোষনা করি, ফেসবুক গ্রুপ ‘আম জনতা’ আমাদের সাথে একাত্ত্বতা ঘোষনা করে। তবে অনেকেই সেসময় ফোন করে কনফিউশন প্রকাশ করেন যে কর্মসূচী আজকে না আগামীকাল। পরে জানতে পারি ভিন্ন একটি ব্যানার ‘ব্লগার অনলাইন একটিভিস্ট নেটওয়ার্ক একটি কর্মসূচী নিয়েছে আজকেই। সাথে সাথেই আমি এটিকে সমর্থন দিয়ে স্ট্যাটাস দেই এবং সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলে নিজেও উপস্থিত থাকি। আমার ব্লগ পোস্ট ও স্ট্যাটাস পরে যারা হাজির হয়েছেন তাদের কেউ কেউ আশংকা প্রকাশ করেছেন যে কর্মসূচীটি আওয়ামীলীগ গিলে ফেললো কিনা, এটা খুব সম্ভবত উল্লেখ্য ব্যানারটির নেতৃস্থানীয় কারো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারনে করে থাকতে পারেন। কিন্তু জনতার দাবি এবং আবেগকে আপনার মূল্য দিতে হবে। আসল কথা হচ্ছে, তারা জমায়েত হয়েছে। জামাতের সন্ত্রাস আর সরকারের খামখেয়ালির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। এই কাতারে যুক্ত হয়েছেন অনেক অনেক মানুষ, ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, মন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

বিকালের পর থেকেই জাতীয় স্বার্থে ব্লগার অনলাইন একটিভিস্টের সবাই আমরা এই আন্দোলনে আছি। এরপর আরো অনেক সংগঠন এবং তার কর্মীরা এসেছে। আগামীকাল আরো অনেকে করবে। এটাকে গণ আন্দোলনে পরিনত করুন। প্রত্যেকে নিজ নিজ গ্রুপ, নিজ নিজ বন্ধু বান্ধব, নিজ নিজ ফেসবুক এবং ব্লগ কমিউনিটি অথবা সংগঠন নিয়ে হাজির হয়েযান। দল মত নির্বিশেষে জনতার আন্দোলন হলে কোন বিশেষ দল বা গোষ্ঠি তা নষ্ট করতে পারবেনা। আমরা জাতীয় স্বার্থে ব্লগা অনলাইন একটিভিস্ট ফোরাম আগামীকালের কর্মসূচী জারি রাখবো, মশাল মিছিলের গতিপথ অথবা সময় পরিবর্তিত হতে পারে, সেটা জানার জন্যে নিজেকে সজাগ রাখুন। এখন ঘুমিয়ে থাকার সময় নয়। এখন ভাঙচুরের সময় (শেষ লাইনের কোর্টেসি-চিৎকার)”। (৬ ফেব্রুয়ারী, রাত ১:৫০)

আমার সাথে ছিল এম আর খান জিতু এবং কাজী মনির হোসেন। শাহবাগ আন্দোলনের একনিষ্ঠ এই দুই কর্মী শাহবাগে কি কি করেছেন তা নিয়া ভিন্ন কোনদিন লিখবো। ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আমাদের মশাল মিছিলের কর্মসূচী আমরা অব্যাহত রেখেছিলাম। প্রেসক্লাব থেকে নয়, শাহবাগ থেকেই শুরু করে শাহবাগের আশপাশের এলাকায় প্রদক্ষিন করে ছিল হাজার হাজার মানুষের সেই মশাল মিছিল। জাতীয় স্বার্থে ব্লগার-অনলাইন একটিভিস্ট ফোরামের সেই মিছিলে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং boanএর কর্মীরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাতে ফেসবুকে দেখি লাকীর স্লোগানের ছবি কে যেনো শেয়ার দিছে। লাকী আক্তার, জাহিদুল ইসলাম সজিবরা জগন্নাথের ২৭/৪ ধারা বাতিলের সময় থেকে জাতীয় স্বার্থে ব্লগার-অনলাইন একটিভিস্ট ফোরামের সাথে যুক্ত। পরে তারা ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতেও যুক্ত হয়। আমি লাকীর ছবি মনের আনন্দে শেয়ার দিলাম।পরদিন সকালে শাহবাগে পৌছানোর পরে দেখলাম অনেক ভিড়ের মাঝখানে লাকী, সজিবরা স্লোগান দিচ্ছে, আরো কিছু সংগঠনের কর্মীরাও পালাক্রমে স্লোগান দিচ্ছে। আমি ভিড়ের ভেতরে অনেক কস্টে ঢুকে লাকীর কাছে গিয়ে বললাম, লাকী আমিতো তর ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিয়া তরে হিট বানায়া আসলাম। সজিব হা হা করে হেসে বললো, ভাই কি কন, লাকীতো অলরেডি সারা বাংলাদেশে হিট হইয়া গেছে। চারিদিকে টিভি ক্যামেরা দেখে ঘটনা বুঝতে পারলাম। বুঝলাম যে, লাকী, সজিবরা শাহবাগ আন্দোলনে যে বেগের সঞ্চার করেছে সেই বেগের তুলনায় আমি অত্যাধিক ধিরগতির মানুষ। তারপর থেকে শাহবাগ আন্দোলন আপন গতিতে এগিয়েছে। আমি আন্দোলনের পেছনে পেছনে ছুটেছি। এর বাদে তেমন কিছু করেছি এই দাবি অন্য কেউ করে থাকলেও আমি করবোনা। তবে আন্দোলন যখন পতনমুখি তখন পেছন থেকে ঠেলা দিয়ে দাঁড় করানের চেষ্টা করেছিলাম, এই দাবিটুকু নিজেই করবো।

ছবি কার্টেসিঃ শরত চৌধুরী

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২১ thoughts on “৫-৬ ফেব্রুয়ারি, যা দেখেছি, বুঝেছি, করেছি

  1. চমৎকার। গণজাগরণ নামের
    চমৎকার। গণজাগরণ নামের আন্দোলনের শুরুর প্রকৃত ইতিহাস আপনি এত সুন্দরভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করেছেন, এ জন্য আপনাকে স্যালুট। গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে অনলাইনে অহেতুক বিতর্কের জন্ম দিয়ে আরো একটি নতুন ভুল ইতিহাসের মধ্যে আমাদের জড়িয়ে ফেলতে চাচ্ছে যারা; আপনার এই পোস্ট তাদের গালে থাপ্পড় মারার শামিল। আমরা আর ভুল ইতিহাসের মধ্যে বেড়ে উঠতে চাই না।

    পোস্টটি স্টিকি করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

  2. চমৎকার করে সবকিছু ব্যাখ্যা
    চমৎকার করে সবকিছু ব্যাখ্যা করেছেন পারভেজ ভাই। আফসোস হচ্ছে যারা বুঝবে না বা বুঝতে চাইবে না, তাদের হাজার বুঝালেও লাভ নেই। ইতিহাস তার নিজ গতিতেই সত্যকে ধারণ করে আগামীকে পথা দেখাবেই। আমিও পোস্টটি স্টিকি করার আবেদন জানাচ্ছি।

    1. মামা আমিতে বিরক্ত হইতে নাই আর
      মামা আমিতে বিরক্ত হইতে নাই আর বিরক্ত হইলে এইখানে কান পাতেন বাপ্পি লাহিড়ির সুর তাপ্পি লাগিয়ে প্রণীত আমিসঙ্গীত।
      ইল্লায়ারাজার সুরের হিল্লা হয়ে গেলো আমিসঙ্গীতের সাথে।

      :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:

  3. ভাবছি শাহবাগ নিয়ে আমিও একটা
    ভাবছি শাহবাগ নিয়ে আমিও একটা পোস্ট লিখে ফেলবো।কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার পূর্বের আইডিটার সাথে সাথে আমার স্ট্যাটাসগুলোও হারিয়ে গেছে।ভবিষ্যতের কথা ভেবে কেউ আমার ছবি তুলে সংরক্ষণ করে রাখার প্রয়োজনবোধও করেনি।তাই আপাতত তা আর হয়ে উঠছেনা। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  4. শাহবাগ যে চেতনা জাগিয়ে দিয়েছে
    শাহবাগ যে চেতনা জাগিয়ে দিয়েছে লাখো তরুণ সমাজের ভেতর, তার অনুরণন দেখলাম আপনার লেখায়। ভাল থাকুন।

  5. শাহবাগ নিয়ে বেশ কয়টা পোষ্ট
    শাহবাগ নিয়ে বেশ কয়টা পোষ্ট দেখলাম। সব কয়টা লেখার ভেতর দিয়েই একটা কথাই ফুটে উঠছে আর তা হল দেশের প্রতি ভালবাসা আর যারা এই দেশের প্রতি বেইমানি করেছিল তাদের প্রতি ঘৃণা।
    দেশের শত্রু কিন্তু সেই ১৯৭১ এর পর আরও বেড়েছে। ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, ক্ষমতাবাজ রাজনীতিবিদ, ভেজাল ব্যাবসায়ি – এরা সবাই দেশের শত্রু। এদের বিরুদ্ধেও আমাদের আন্দোলন করতে হবে।
    লেখককে ধন্যবাদ তাঁর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।

  6. নিম্নের মন্তব্যগুলো
    নিম্নের মন্তব্যগুলো ব্যক্তিআক্রমণ হিসেবে না নিলেই খুশি হই।

    প্রথমকথা জানিনা কিসের উপর ভিত্তি করে বা কাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এইরকম “আমি” এবং নিজ দলের বা সংগঠনের প্রচারণা টাইপ পোস্ট স্টিকি হলো!!!! :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:
    ব্লগার পারভেজ আলম বয়সে সিনিয়র সেই হিসেবে ইতিহাস অনেক বেশীই দেখেছেন, জেনেছেন আশা করি। তো জনাব কি জানেন ১৯৯২ সালে রাজাকার বিরোধী আন্দোলন কতক্ষণ স্থায়ী হতে পেরেছিলো এবং ২০১৩ সালে কতক্ষণ স্থায়ী হতে পেরেছিলো এটা কি জানেন?
    জনাব এখানে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিবর্গের নাম তুলে দিয়েছেন অথচ কেমনে জানি হারিয়ে গেলো সেইদিনের অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ সালে প্রথম শাহবাগের ডাক দিয়েছিলো যে ব্যক্তি তার নাম, হারিয়ে গেলো প্রথম শ্লোগান যিনি দিয়েছিলেন তার নাম, হারিয়ে গেলো প্রথম তিনজনের নাম যারা সেখানে দাঁড়িয়েছিলো।

    অবশ্য এসব নিয়ে এখন মাথা ব্যাথা করি না। এই জন্যে করি না এখন সকলেই “আমি, আমি, আমি” করাতে ব্যস্ত, ক্রেডিট নেয়াতে ব্যস্ত। মানত করে মঞ্চ পেয়েছে যারা তারাই থাকুক মঞ্চে, আমার দেশপ্রেম আমার অন্তরেই আছে এর জন্যে আমার মঞ্চের দরকার নেই। ঢাকাতে কি হয়েছে তা হয়তো জানিনা তবে চট্টগ্রাম দেখেছি। দেখেছি এখানে “বিপ্লবীদের” মঞ্চ দখলের হীন মনমানসিকতা এবং তার প্রতিটি ঘটনাই সেই সময়ে লিখে দিয়েছিলাম।

    পরিশেষে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য একটা চিরন্তন সত্য কথা বলে যাই, এইদেশে আগামী বছরগুলোতে ক্ষমতায় থাকবে হয় আওয়ামীলীগ নয়তো বিএনপি এবং এদের নেতৃত্বেই। সুতরাং একথাও স্পষ্ট যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজাকারদের কি হবে সেই সাথে কেমন হবে রাজাকার বিরোধী আন্দোলনের অবস্থা। সুতরাং যারা এই সময়ে বসে বসে শ্লোগান দেয় “রাজাকারের পাহারাদার – আওয়ামীলীগের সরকার” অথবা যারা ভয় পেতো “জয় বাংলা” শ্লোগান দিতে এবং এখন ভয় পায় “জয় বঙ্গবন্ধু” শ্লোগান দিতে তাদের চিনে রাখুন। সময় বদলাবেই, ক্ষমতার পরিবর্তন হবেই তখন দেখবো এরা কোথায় যায়, সেইদিনের তীব্র থেকে তীব্রতর অপেক্ষায় আছি।

    1. বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজাকারদের

      বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজাকারদের কি হবে সেই সাথে কেমন হবে রাজাকার বিরোধী আন্দোলনের অবস্থা। সুতরাং যারা এই সময়ে বসে বসে শ্লোগান দেয় “রাজাকারের পাহারাদার –
      চমৎকার বলেছেন সুমিতদা… :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :বুখেআয়বাবুল:

      আওয়ামীলীগের সরকার” অথবা যারা ভয় পেতো “জয় বাংলা” শ্লোগান দিতে এবং এখন ভয় পায় “জয় বঙ্গবন্ধু” শ্লোগান দিতে তাদের চিনে রাখুন। সময় বদলাবেই, ক্ষমতার পরিবর্তন হবেই তখন দেখবো এরা কোথায় যায়, সেইদিনের তীব্র থেকে তীব্রতর অপেক্ষায় আছি।

      আমিও অপেক্ষায় আছি… :মাথাঠুকি: :ভাবতেছি: :অপেক্ষায়আছি:

  7. সুমিত ভাইর মন্তব্যের সাথে
    সুমিত ভাইর মন্তব্যের সাথে সহমত ।

    আওয়ামীলীগের ছায়া ছাড়া শাহবাগ একদিনও ঠিকে থাকতো কিনা সন্দেহ ।আজ যারা আমি হেন করেছি আমি তেন করেছি বলতেছেন তারা পরবর্তীতে কি করেছেন, কোন স্বার্থে করেছেন বা আগামীতে কি করবেন, কি স্বার্থে করবেন তা একরকম স্পষ্ট হয়ে গেছে ।
    যে সিপিবি আঁতাত আঁতাত রব তুলে শাহবাগের মূল চেতনাকে ভূলুন্ঠিত, কলংকিত ও ছিনতাই করতে চেয়েছিল সেই সিপিবি ই নানা ছলে-কৌশলে জামাতের সাথে অদৃশ্য আঁতাত করে পুরো বিচারকে ধ্বংশ করতে চেয়েছে এবং এখনও চাচ্ছে ।
    একমাত্র আওয়ামীলীগই মনে প্রাণে রাজাকারের বিচার চেয়েছে, এখনও চায়, এবং করেও ছাড়বে ইনশাআল্লাহ ।

    1. শাহিন ভাই, একেবারে মনের
      শাহিন ভাই, একেবারে মনের কথাগুলো বলেছেন… :মাথানষ্ট: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :বুখেআয়বাবুল:

  8. সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই
    সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই শাহবাগের সহিহ ইতিহাস লেখার জন্যে এই পোস্ট নয়। শাহবাগ লাখো মানুষের। প্রত্যেকের নিজ নিজ অংশগ্রহণের ইতিহাস আছে। আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছি মাত্র। শাহবাগ তো এক দুইজন মানুষের কারনে হয়নাই, সবাই মিলেই শাহবাগ। কতো না জানা কাহিনী আছে। আশা করি আস্তে আস্তে সবাই নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, নিজ নিজ ইতিহাস বলবেন। আমার এই পোস্টকে শাহবাগের একমাত্র ইতিহাসতো আমি দাবি করিনাই। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণকে তো আমিত্বের দোষ দেয়া উচিৎ না। এই লেখাকে মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য দাবি অথবা স্টিকি করার দাবি অথবা স্টিকিকরণ, কোনটাই আমার দ্বারা হয়নাই। আমি এই ব্লগের একজন ব্লগার মাত্র।

  9. চমৎকার চমৎকার চমৎকার একটি
    :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:
    চমৎকার চমৎকার চমৎকার একটি পোস্ট।
    আপনি আপনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন নির্ভেজাল ভাবে। তেমনি আপনার মত আরও অনেকেই আছে যাদের অভিজ্ঞতা নির্ভেজাল। এমন মানুষদের জন্য শাহবাগ আজও টিকে আছে, এবং থাকবে।

  10. পরিশেষে বাংলাদেশের

    পরিশেষে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য একটা চিরন্তন সত্য কথা বলে যাই, এইদেশে আগামী বছরগুলোতে ক্ষমতায় থাকবে হয় আওয়ামীলীগ নয়তো বিএনপি এবং এদের নেতৃত্বেই। সুতরাং একথাও স্পষ্ট যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজাকারদের কি হবে সেই সাথে কেমন হবে রাজাকার বিরোধী আন্দোলনের অবস্থা। সুতরাং যারা এই সময়ে বসে বসে শ্লোগান দেয় “রাজাকারের পাহারাদার – আওয়ামীলীগের সরকার” অথবা যারা ভয় পেতো “জয় বাংলা” শ্লোগান দিতে এবং এখন ভয় পায় “জয় বঙ্গবন্ধু” শ্লোগান দিতে তাদের চিনে রাখুন। সময় বদলাবেই, ক্ষমতার পরিবর্তন হবেই তখন দেখবো এরা কোথায় যায়, সেইদিনের তীব্র থেকে তীব্রতর অপেক্ষায় আছি।

    যে সিপিবি আঁতাত আঁতাত রব তুলে শাহবাগের মূল চেতনাকে ভূলুন্ঠিত, কলংকিত ও ছিনতাই করতে চেয়েছিল সেই সিপিবি ই নানা ছলে-কৌশলে জামাতের সাথে অদৃশ্য আঁতাত করে পুরো বিচারকে ধ্বংশ করতে চেয়েছে এবং এখনও চাচ্ছে ।
    একমাত্র আওয়ামীলীগই মনে প্রাণে রাজাকারের বিচার চেয়েছে, এখনও চায়, এবং করেও ছাড়বে ইনশাআল্লাহ ।

    আমার সোনার বাংলা
    আমি তোমায় ভালবাসি…

    উপরে সুমিতদা আর শাহিন ভাই আমার কথাগুলো বলে দিয়েছেন… :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :ফুল: আমিও অপেক্ষায় আছি সেইদিনের… :অপেক্ষায়আছি:

  11. ভালো লেখা হয়েছে পারভেজ ।
    ভালো লেখা হয়েছে পারভেজ । লেখকের খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়াবিদ্ধ না হয়াটাই ভালো । বরং অন্যের প্রতিক্রিয়া কে পড়ে যাওয়া ও নোট করা একটা কাজের কাজ সব সময়েই ! ধন্যবাদ ও অভিনন্দন !

  12. সিপিবি র সাথে জামাত এর সন্ধি
    সিপিবি র সাথে জামাত এর সন্ধি বিষয়ক মন্তব্য টি বেশ ভালো লাগলো । এই জন্যেই আমি আওয়ামীলীগের বন্ধু দের রাজনৈতিক মেধা / সৃজনশীলতার একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ! আগামি বিশ বা তিরিশ বছর নয় বরং আগামি তিনশো বছর বাংলাদেশ রাজত্ব করবে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি এবং আমার মনে হয় বাংলাদেশ কে একটি স্বপ্নময় মানবিক বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই দুই দলের কোনও বিকল্প নেই এবং হয়ে ওঠাও উচিত হবে না ! কি বলেন সবাই ?

  13. ভালো লেগেছে আপনার অভিজ্ঞতার
    ভালো লেগেছে আপনার অভিজ্ঞতার কথাগুলো পড়ে। আসলে ‘শাহবাগ’ আন্দোলন একটি সমষ্টগত কর্মফল। এখানে প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তা ভাবনা এবং চেতনার বহিপ্রকাশ ঘটেছে। সবারই নিজস্ব অভিব্যক্তি এবং অভিজ্ঞতা আছে। প্রত্যেকের অভিজ্ঞতাই গোটা শাহবাগের ‘খন্ডকালীন’ রেখাচিত্র। কাজেই সবার ‘আমিত্বই’ সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 5