এরা ধর্মীয় সর্বহারা শ্রেণী

ইতিহাসে হিটলারের ব্যার্থতার বড় একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তার রাশিয়া আক্রমন । বলা হয়ে থাকে একই সাথে একাধিক ফ্রন্ট এ লড়াই শুরু করার কারণেই হিটলারের অভিযানের ব্যার্থ পরিণতি ।

আমাদের গণ জাগরণ মঞ্চের ও একি অবস্থা!! ভুল ইস্যুতে কথা বলে জামাতের ফাঁদে পা দিয়ে আজকে হজবরল অবস্থার সৃষ্টি!! আপনি যখন কোন আন্দোলন করতে যাবেন আপনাকে মাথায় রাখতে হবে সেই দেশের মানুষের চিন্তা চেতনা সম্পর্কে!!


ইতিহাসে হিটলারের ব্যার্থতার বড় একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তার রাশিয়া আক্রমন । বলা হয়ে থাকে একই সাথে একাধিক ফ্রন্ট এ লড়াই শুরু করার কারণেই হিটলারের অভিযানের ব্যার্থ পরিণতি ।

আমাদের গণ জাগরণ মঞ্চের ও একি অবস্থা!! ভুল ইস্যুতে কথা বলে জামাতের ফাঁদে পা দিয়ে আজকে হজবরল অবস্থার সৃষ্টি!! আপনি যখন কোন আন্দোলন করতে যাবেন আপনাকে মাথায় রাখতে হবে সেই দেশের মানুষের চিন্তা চেতনা সম্পর্কে!!

ভাই!! এই দেশের ৭৬% লোক এখন ও গ্রাম কিংবা মফস্বল এলাকায় বাস করে! হ্যা! ৭৬%!! এরা সেই ৭৬% যাদের কাছে ধর্ম মানে হইলো মসজিদের ইমাম সাহেব কে এক বেলা ভালো করে খাওয়ানো! এই ৭৬% হলো সেই ৭৬% যারা গ্রামের বাড়িতে বা এলাকায় মাদ্রাসা বা মসজিদ স্থাপন করাকে চরম পুণ্যের কাজ মনে করে!!! এই ৭৬% হলো সেই ৭৬% যারা টিভি বা মিডিয়া না ধর্মীয় বিষয় গুলা জানার জন্য গ্রামের হুজুর এর শরণাপন্ন হয়!!

জামাত কে তৃণমূল থেকে নির্মুল করতে হলে সবার আগে দরকার ছিলো এই হুজুরদের সহযোগিতা!! এই মাদ্রাসা গুলোর সহযোগিতা!! অনেক এরই ধারণায় আছে মাদ্রাসা এর ছাত্র মানেই জামাত সমর্থক!! ইসলামী দল মানেই জামাত!! অন্যান্য ইসলামী দল গুলা যে জামাতরে কি পরিমাণ অপছন্দ করে তা বলার মতো না!

খালি একটা তথ্য শেয়ার করি আমিনী সাহেব এর এলাকায় জামাত প্রবেশ নিষেধ ছিলো!! আর আপনারা কি করলেন? একটা আন্দোলন এ বিভিন্ন পেশার, মতের শ্রেণী এর মানুষ অংশ নিবে! এক জন নাস্তিক মারা গেল ( নাস্তিক আস্তিক নিয়া আমার মাথা ব্যাথা নাই….ব্যাক্তিগত ভাবে আমি অতো টা ধার্মিক না, ধর্মীয় নিয়ম কানুন বিভিন্ন কারণে মানা হয়ে উঠেনা) তারে ন্যাশনাল হিরো ( শহীদ ) বানাইয়া দিলাম! জানাজা পড়লাম!
যাই হোক! সে আন্দোলন এ ছিলো এতো টুকু সম্মান তার প্রাপ্য (যদি ও বিভিন্ন মিডিয়া তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভিন্ন কিছু উল্লেখ করছে ) সত্য মিথ্যা আল্লাহ জানেন (বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেই মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কারণে কবি দাউদ হায়দারকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। তখন নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্র ছিল ধর্মনিরপেক্ষ। ) তার উপর আবার থাবার লেখা গুলা থাবার লেখা না বইলা প্রচার ও শুরু করলেন! ওই সময়ই ব্যাপার টা ইগনোর করা উচিত ছিলো ! কিন্তু বক্তব্য পাল্টা বক্তব্য…

এরপর মঞ্চ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলা হলো! ভাই রে এই মাদ্রাসার পোলাপান গুলা রে আমি খুব কাছ থিকা দেখছি! ওদের কোন কিছু নিয়া কোন মাথা ব্যাথা নাই!হুজুর যা বলে তাই! আজকে যদি হুজুর বলেন অমুক জায়গায় যাও ওরা তাই যাইবো! আপনারা তাদের চেতাইলেন! ফলাফল? যেই জামাত এর সাথে ইসলামী ঐক্য জোট এর আদায় কাচকলায় সম্পর্ক তারা আজ কে “সমমনা ইসলামিক দল!”
জামাত এর বাপের সাধ্য নাই সারা দেশে এমন শোডাউন দেয়!

খেয়াল করে দেখেন ওরা কখনোই সারা দেশে এক বারে দাঁড়াইতে পারে নাই! এক জায়গায় সব কর্মী জড়ো কইরা কখনো ঢাকা , কখনো চিটাগং কখনো নারায়ণগঞ্জ এ ঝামেলা করে! কাল কি করলো! সাধারণ মুসুল্লিদের ব্যবহার করে পুরা দেশে আবার সোডাঊন দিলো! জামাত এর শক্তি এর মিথ আর ও শক্তিশালী হইলো!!

আর পাব্লিক অপিনিয়ন? ফেসবুক ইউজ করে খুব বেশি হইলে ৫০ লাখ বাংলা দেশী ?
বাকি ৭০%? তারা দেখবে তার পাশের মসজিদ এর ইমাম গণজাগরণ মঞ্চ নিয়া বাজে কথা কইতেছে!—–এই টাই তো চাইছিলো জামাত!!!

ভুইলা যাইয়েন না- দেশের সিংহভাগ মফস্বল এলাকার মানুষ জামাতকে পছন্দ করেনা কিন্তু ইসলামকে ভালোবাসে। জামাত যদি ইনাদের ঘাড়ে পা দেবার চেষ্ঠা করে, এমনিতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে কিন্তু ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলোতে আঘাতকারীকে প্রমোট করলে সাধারন ধর্মভীরু মুসলিমরা তা মেনে নিবেনা।

ভাই মাথায় রাখেন এরা জামাত না এরা মার খাওয়া মাদ্রাসা ছাত্র! এখন ও সময় আছে কোন ভাবে এদের কে বুঝানো শাহবাগ আন্দোলন মাদ্রাসা বা অন্য ইসলামি দল এর বিরুদ্ধে না! এইটা জামাত এর বিরুদ্ধে!!
এদের সম্পর্কে দাসত্ব এর মুল্যায়ন

“এবার কিছু তিতা সত্য বলি।

এদের ভেতরে কোন অপরাধ বোধ নাই, এরা ক্রাশিং , এরা বাধা মানবে না।

এরা জামাতের মত সৌদি তেলে গায়ে চর্বি জমানো না।

এরা পান্তা ভাত, ভর্তা আর কাচা পেয়াজ দিয়ে ভাত খেয়ে সকালে ঘর থেকে বের হয়, ২০০ টাকার সস্তা পাঞ্জাবী আর ৪০ টাকার সস্তা স্যান্ডেল পরে দিন কাটায়।

এরা হাড্ডিসার।

এদের অনেকের জগত সংসারে বাবা মা নাই , এতিম , কোন বউ – প্রেমিকাও নাই।

এরা জামাত না, জামাতের মত এদের ভেতরে কোন শয়তানি বোধ – পাপ বোধ – ধূর্ততা বোধ নাই।

এরা সত্যিই মনে করে – এরা মরলে “শহিদ” হবে, আপনাদের “… শহিদ” না।

দে হ্যাভ নাথিং টু লুজ, জামাতের মত ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা হারানোর ভয় এদের নেই, এদের হারানোর কিছু নাই।

বটম লাইন – এরা ধর্মীয় সর্বহারা শ্রেণী।

ওদের যেটা শান্তি সেটা নিয়ে খোঁচালে – শুধু মনে রাখেন……

ইউ গাইজ আর মেকিং রং এনিমি ।”

কথা ১০০% না ১২০ % সত্য!! ইউ গাইজ আর মেকিং রং এনিমি !!

জয় বাংলা, জয় জনতা, জয় তারুন্য

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “এরা ধর্মীয় সর্বহারা শ্রেণী

  1. এত হতাশ কেন ভাই। গন আন্দোলনে
    এত হতাশ কেন ভাই। গন আন্দোলনে হারাবার কিছু নাই। ভুল-ভ্রান্তি থাকেই। তাছাড়া সরকারের অসহযোগিতা এবং নীরব ব্যালান্স নীতি এই সব গাঁজাখুরি” ইসলাম গেলো” রব তুলে জামাতী সহ সমমনাদের প্রমট করছে। নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে সব কিছুতে আপোষ করা ঠিক না। আন্দোলনের সুফল দীর্ঘমেয়াদী। হতাশার কিছু নাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 10 = 18