শাহবাগের রাষ্ট্রপ্রকল্প


এতো এতো জাতের হিশাব লালন কখনো মানেন নাই। তাই তিনি বলেছিলেন – জাতের কিরূপ দেখলাম না। অর্থাৎ জাতের বাস্তব অস্তিত্ব তিনি অস্বিকার করেছেন। কিন্তু লালন জাত ভিন্ন অন্য কোন পরিচয়ও দাঁড়া করাইতে চান নাই, মানুষ পরিচয় বাদে। লালন বাঙলার আদ্যিকালের জাত প্রশ্নের মোকাবেলা করেছেন, উপনিবেশ বিরোধীতা করে জাতি তৈয়ার করার রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তার মোকাবেলা করতে হয়নাই। কিন্তু নজরুল এইটা করেছেন। তাই তিনি জাতের সাথে জাতির তুলনামূলক প্রশ্ন এনেছেন। আমাদের নেতাদের কোন পরিচয়কে মূখ্য ধরে রাজনীতি করা উচিৎ, স্বাধীনতা সংগ্রাম করা উচিৎ? জাত নাকি জাতি? এই দেশে যদিও বহু জাত ছিল সেই সময়ে মুসলিম এবং হিন্দু এই দুই জাতের মধ্যে লড়াই তুঙ্গে ছিলো। বহু জাত মুক্ত হয়ে এইদেশের কিছু মানুষ মুসলমান হইছিলো মধ্যযুগে, আর বহু জাত ধারণ করে আরো বহু মানুষ হিন্দু হইলো ইসলাম, বৈষ্ণববাদ আর ব্রিটিশ শিক্ষা ও সাহচার্যের বদৌলতে। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় দেখা গেলো যে এই দুই জাত পরস্পর দুশমন হইয়া দাঁড়াইছে। নজরুলের এই দুশমনিতে আপত্তি। তাই তিনি বলেছেন ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম, ঐ জিজ্ঞাসে কোনজন? কান্ডারি বলো ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার। মায়ের সন্তান, আমার মায়ের সন্তান। কে এই মা? এই মায়েরর একটা মানচিত্র নজরুলের মাথায় ছিলো কি? অথবা এই মায়ের সন্তানদের কোন জাতীয় নাম তার মাথায় ছিল কি? নজরুল বলেছেন, “কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর, বাঙ্গালীর খুনে লাল হ’ল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর! ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পুনর্বার”। কবি ‘বাঙালি’র কথা বলেছেন। কিন্তু তার মানে তারে এখন ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী’ বলতে হবে বিষয়টা এমন না। তিনি কিভাবে বাঙালি শব্দটা ব্যাবহার করেছেন সেটা দেখতে হবে। কবি পলাশীর দিগন্তে তাকাতে বলেছেন। বলেছেন বাঙালির রক্তের গঙ্গায় পুরা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ডুবে গেছে। আবার এই বাঙালির রক্তেই ভারতের স্বাধীনতার সূর্য উঠবে। ………… পশ্চিম বাঙলায় জন্ম নিলেও কবি বাংলাদেশেই মৃত্যু বেছে নিলেন। কারন এই বাংলাদেশ তার স্বপ্নের জাতীয় রাষ্ট্র, যেই বাংলাদেশ থেকে গোটা ভারতবর্ষের তাবৎ গণমানুষের স্বাধীনতার সূর্য উঠবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এই সূর্যের কিঞ্চিত আভা একসময় ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ড, কাস্মির সহ বহু মুক্তিকামী জাতি দেখেছিলোও বটে। কিন্তু সেই সূর্য আর উদয় হইলোনা। কারন আমরা আবারো জাতি বনাম জাতের তর্কে ফিরা গেছি। কারন আমরা আবারো জাতি বনাম জাতের তর্কে ফিরা গেছি। বাঙালি জাতীয়তাবাদ বনাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কুতর্ক তৈয়ার করেছি। কিন্তু আমাদের জাতীয় কবি এই রাষ্ট্রের জাতীয়তা বলতে জাত পাত সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত জাতীয়তার কথা বলেছেন, বলেছেন সংগ্রামী ও বিপ্লবী জাতীয়তাবাদের কথা। যে জাতীয়তাবাদ শুধু বাঙালি না, ভারতের সকল জাতিসত্ত্বার মুক্তির কথা বলে, স্বাধীনতার কথা বলে।

শাহবাগের রাষ্ট্রপ্রকল্প

পাওয়া যাবে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর স্টলে। স্টল নং ৩৯-৪১।
মূল্যঃ ২১০ টাকা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “শাহবাগের রাষ্ট্রপ্রকল্প

  1. প্রচ্ছদ চমৎকার হয়েছে। বইও আশা
    প্রচ্ছদ চমৎকার হয়েছে। বইও আশা করি আপনার লেখার মতোই ভালো হবে। পড়ার ইচ্ছে আছে। শেয়ার দিলাম ফেসবুকে সবার জন্য। শুভকামনা রইল পারভেজ ভাই।

  2. যেদিন থেকে বাংলাদেশের
    যেদিন থেকে বাংলাদেশের সুযোগসন্ধানী কোপাইন্ন্যা ব্যক্তি কালো সানগ্লাস পরে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছিলো তখন থেকেই এইদেশে “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” তৈরী হয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এটিও একটি কোপ তবে কোদালের ব্যবহার ব্যতীত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =