গ- তে গোলাম আজম তুই রাজাকার (জামাতী তাণ্ডব, গণজাগরণ ও হিট লিস্টের পাশে কিছু অপ্রাসাংগিকতা-২)

-আপনার উপর আমি বিয়াকফ গোস্বা করছি।

-সালাম আদাব নাই, কুশল বাতচিত নাই, নারাজগি দেখাতে হ্যায়, কিয়া বেসারম ঘরওয়ালি। উপুর হয়ে শুয়ে গুয়াজম বিবির কথায় উল্টা রাগ ঝাড়ল আর মুখ ফিরিয়ে নিল বিবির দিক থেকে। একে পশ্চাদ্দেশের ব্যথায় জান কাহিল আর এই বেটী দেখাইতেছে রাগ। ব্যথা সামাল দিব না বিবি সামাল দিব। বিবি গোস্বা ক্যান করল জিগেসা করবেন কি কিরবেন না ভাবতে ভাবতে তাকায় বিবির দিকে সে নেকাব খুলতাছে। ইয়া আল্লাহ্‌ এ কি বিবির তো জোয়ানি আসছে। বিবির বয়স তো ১০ বছর কমে গেছে।
– কি বিবি চেহারা এমুন খোলছে ক্যামনে? কি করছ? রূপটান মাখা ধরছ নাকি? বিস্ময় নিয়ে গোয়াজম বিবি রে জিগেসা করে।

-আপনার উপর আমি বিয়াকফ গোস্বা করছি।

-সালাম আদাব নাই, কুশল বাতচিত নাই, নারাজগি দেখাতে হ্যায়, কিয়া বেসারম ঘরওয়ালি। উপুর হয়ে শুয়ে গুয়াজম বিবির কথায় উল্টা রাগ ঝাড়ল আর মুখ ফিরিয়ে নিল বিবির দিক থেকে। একে পশ্চাদ্দেশের ব্যথায় জান কাহিল আর এই বেটী দেখাইতেছে রাগ। ব্যথা সামাল দিব না বিবি সামাল দিব। বিবি গোস্বা ক্যান করল জিগেসা করবেন কি কিরবেন না ভাবতে ভাবতে তাকায় বিবির দিকে সে নেকাব খুলতাছে। ইয়া আল্লাহ্‌ এ কি বিবির তো জোয়ানি আসছে। বিবির বয়স তো ১০ বছর কমে গেছে।
– কি বিবি চেহারা এমুন খোলছে ক্যামনে? কি করছ? রূপটান মাখা ধরছ নাকি? বিস্ময় নিয়ে গোয়াজম বিবি রে জিগেসা করে।
প্রশংসায় মন ভন ভন করে ওঠে বিবির রাগ ভুলে আদুরে গলায় বলে
-সুন্দর লাগতাছে, তিন সত্যি করে বলেন,
– হা তিন সত্যি রে বিবি। কিন্তু এতো সৌন্দর্যের কারন কি? এই বয়সে হঠাৎ রুপ নিয়ে মাতলা ক্যান? ঘটনা কি?
– পরে কই? আগে আসেন আপনারে ছেচা দিই।
– কি কইলা আমারে ছেচা দিবা? রাগে গরগর করে ওঠে বুড়ো শূয়রের মত গোয়াজম।
– কিযে কন না আমি তো ছেঁচা পানের কথা কইতাছি। কোলের উপর রাখা ঢাউস ব্যাগ থেকে পান বের করতে করতে বিবি উত্তর দেই।
-তাই কও। ছেঁচা পান কিন্তু আমার তো হোগায় ব্যথা দাঁতে না।
-আস্তা পানে আপনার বেগ চাপলে তো টাট্টিখানায় যাইতে হবে তখন কি করবেন তখন দাতের বদলে হোগায় দরদ হইবে। এই কইদিন সমানে শুধু সূপ খাইতেছেন টের পান না।
-তুমি দেখি রাজনীতি শিখে ফেলছো। এক কামে আরেক কামের প্রতিক্রিয়া হয় ক্যামনে সামাজ গিয়া।
– তাইলে আমারে দিয়া রাজনীতি হইবে কি বলেন।
বিবির থুতনি নেরে আদর করে বলে,
– হবে না মানে আলবাত হবে বিবি কার দেখতে হবে না।
-তাইলে নিলুফার রে এতো টাকা দিলেন ক্যান, ঐ বেটির থেকে আমি অনেক সুন্দরী, আর আরও সুন্দর করে কইতে পারতাম, আরও কমাইয়া কইতে পারতাম। আপনি গুল্লাপিরে ছাড়ি নিলুফার চুন্নি রে ধরছেন। আমি খুবই গোস্বা হইছি। আপনি জেলে হাসপাতালের খাটিয়া পে শুয়েও সুধরাইতেছেন না ক্যান? টিভিতে কথাগুলা গোলাপিরে দিয়ে বাতাইলে মানুষ বিশ্বাস করত, নাইলে আমি যাইতাম, শহীদ মুক্তিদের সংখ্যা ৩০ কইতাম। আপনি নিষ্পাপ শিশু, বিছানায় করেন পিসু কইয়া আসতাম, ১৯৭১ এ আপনি আল্লাহর পথে ছিলেন, এইটা বুঝাই কইতাম।
-ধুর তোমার এই বুদ্ধিনিয়া রাজনীতি করতা ক্যামনে, গুল্লাপির খসম হাজার হইলে মুক্তি আছিল, মুখের উপরে তো কইতে পারব না। আর এই সব কথা চাকর বাকর দিয়ে কোয়াইতে হয়। সব কাম কি মালিকরা করে। নিলুফার এখন গাইল শুইনাই শেষ হইবে, যে টাকা নিছে তাতে সব গালি গুলি হজম। তুমি আমারে সেবা কর এইতাই তোমার বড় সোয়াবের কাম। অশেষ নেকি হাসিল হইবে। এই সব বাদ দেও শাহবাগে হৈ চৈ দেখি গেছে গা। আমাগো পুলা পান দেখি ভাল খেল দেখাইতাছে।
– কি যে কন শাহবাগিরা এহন আরও বড় হইতাছে, মিরপুর আর মতিঝিলেও সমাবেশ করছে, মানুষ দেহি আরও আসতাছে। টাকা খাইয়া সব হজম করতাছে, ঠিক মত কাম কেউ করতাছে না, শক্ত নেতা লাগব, আপনে তো বের হইতে পারবেন না, এক কাম করেন নতুন শক্ত লিডার দেখেন, যে আরো নাশকতা করতে পারবে, পুলা পানরে মাইরা ছেঁচা দিয়ে লেংরা লুলা বানায় দিব, ধ্বংস করে ফেলব সব, ভঁয়ে শাবাগ ক্যান আপনাগো বিচার ভুলে যাবো।
-হুম দেখি কইটা দিন আরো। আমাগো সুইসাইড স্কোয়াডের খবর কি এদের ব্যবহার কর। মসজিদভিত্তিক ‘শব বেদারি’ কর্মসূচির জোর দাও, ছাইদির রায়ের পর চুপ হয়ে গেলি এই জন্মে আর মাথা তুলি দাড়াতি পারব না, মরণ কামর দিতি হবে, জেল থেকে সোজা মসনদে যাইতে চাই। তবে হা আমাদের ‘তালিম তরবিয়ত’ও নিতে হবে। ‘শব বেদারি’ ও ‘তালিম তরবিয়ত’ এই দুই বাহিনীর মগজ ভালো করে ধোলাই দিও, বার বার করে বাতলাবা, মরলে শহীদ বাচলে গাজী। কিন্তু এই মিছা বাত কুন ভাবেই যেন না জানে। মগজ ধোলাই থাকলে সত্যি মিথ্যা যাচাই করবে না।
-কাম চলতাছে, মেশিন বন্ধ নাই। মগজ ধোলাই চলতাছে, টাকা ঢালা চলতাছে, গত হরতালে ভাল গণ্ডগোল দিছে দুইতিন টা জেলায়। এবার আরো বড় করবো।
-হ বিবি হামলার পর হামলা করে দেশটা রে অচল করে দিতে হবে। রক্তের নদী বানাও বিপক্ষের শক্তি রে গুড়া গুড়া করি দেও।
-সবার আগে ভয় ঢুকাও ধর্ম ভয়, ইজ্জতের ভয় তারপর জানের ভয়, সেই সাথে যে ভাবেই পারো ফাটল ধরাও সমাবেশের মানুষের মনে। ফাটল ধরাও একতায়। একতা না থাকলে কিছুই করতে পারবে না।
-এর জন্য তো কইলাম হয় আপনার বাইরে আস্তে হবে নাইলে নয়া নেতা লাগব।
-আমি বাইরে আসব কি করে এখন আর এতো তাড়াতাড়ি নতুন নেতাই বা পাব কই।
-ক্যান আমারে চোখে ধরে না। আপকা ফাঁসি কে বাদ তো আমাকেই দলের হাল ধরতে হবে।
– কিক ক্কি কইলা মেরা ফাঁসি?
– না মানে যদি হয় তখন তো আপনার এতো সাধের দল আপনার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে আপনার আপন কাওকেই তো আসতে হবে।
– তোর কি মাথা নষ্ট হইছে রে মাগি? বেহায়া, নির্লজ্জ, কুলটা, দোজখ বাসী হবি তুই। তোর কত শখ রে আমি মরলে তুই মসনদে বসবি? হারামজাদি আপনা ভাতার কো খানা চাস?
– আমি ছাড়া কে আপনার মনের আশা পূরণ করবে আপনার বড় পুলা তো জেলে।
– হারামজাদি আমার আরও ৫ পোলা আছে না।
– কি ভায়ে ভায়ে যুদ্ধ লাগাইতে চান? কে ক্ষমতায় বসবে তা নিয়ে নিজেরা খুনো খুনি করবে। আমি আপনার সেফ ছইয়েচ। মানিয়া লন। দেখেন না গুল্লাপির মত কত মানুষ আমার পিছনে ঘুরবে।
– হ্যাঁ আর টাকা খাইয়া দলের আদর্শের প্রতি বেইমানি করবা। সুন আমরা নারী নেত্রি মানি না।
– ইস সেইটা তো লোক দেখানো, গুল্লাপি আর হাসিনা রে মানছেন আর আমারে মানবেন না।
– আরে ওইটা তো কাম হাসিনের জন্য সময়ে অসময়ে, নিজেদের দরকারে মানছি। কাম শেষ হইলে নারীর ঘরের বাইরে বের হতে দিব না। আর নেত্রী হেরা আমাদের খেলার ঘুটি এদের কাম আমাদের প্রয়োজনে। নারীর কাম রান্না ঘরে আর বিছানায়। ক্ষমতা হাতে আসলেই বুঝায় দিব কত ধান আর কত নৌকা।
-কিন্তু আপনি কথা দেন ছেলেদের না দিয়ে ক্ষমতা আমারে দিবেন, দেখেন কত টাকা খরচ করে ফেস লিফট করছি, তিনটা বিউটিশিয়ান রে চাকরি দিছি আমার পারসোনাল বানায়া। রাগ করেন না আমারে দলের রানি করে দেন।
-কোন পুলারে মাদ্রাসায় পড়ায় নি, ইংরেজি সিক্কাহ দিছি, জাতে ওদের ভবিষ্যৎ উজ্জল হয় নিজের আর পরিবারের ভাল মন্দ বুঝে, দল কে ঠিক মত চালায় তে পারে। সেই পোলা বাদ দিয়ে তোরে রানি বানামু যাতে হাজার পুরুষের সামনে জন্য তুই যুবতী সাজবি, আমার আমার মরণ চাইবি, আমি মরব ক্যান আমি অমর, বাইচা থাকুম দলের মাথা হইয়া, আমি মরব না, কেউ আমারে মারতে পারব না।
– ও আল্লাহ্‌ এই টা কি বলেন আপনি তো আল্লাহ্‌ কে অমান্য করলেন এই কথা কই। জন্ম মৃত্যু সব আল্লাহ পাকের হাতে। আপনি এইটা কি বললেন, তোওবা করেন। আল্লাহ্‌ তালার আদেশ ছাড়া গাছের একটা পাতা নড়ে না আর আপনি কি কইতাছেন।
– তওবা করার কিছু নাই বিবি। আমি বা আমার দল কোন দিনই আল্লাহ্‌তালা ও রসূল (সাঃ) মানিনি। আমাদের কাজের আর কথার সাথে ইসলামের কই কুন মিল পাও? পাও না, পাইবাও না। ক্ষমতার জন্য আমরা আল্লাহ্‌তালা ও রসূল (সাঃ)’র নাম নিই, কিন্তু ইসলাম মোতাবেক চলি না, ইসলাম পালনও করি না। কিন্তু মানুষের মগজ ধোলায়ের জন্য ইসলামের পতাকা তলে থাকা খুবই জরুরি। আমাগো পুলা পান যদি টের পায় আমাদের আসল পরিচয় তাইলে এরাই পিঁপড়ার মত ।
-আমি কিন্তু রান…
-চুপ একদম চুপ। তোর রানী হবার খায়েসে আমার মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিন দিন আসিস নি সাজসজ্জা করার জন্য। তুই আমার মরণ চাস, তোর মুখে এসিড মারব, তুই আমারে মরতে কস।
-রাগেন না ব্যথা বাড়বে, অফ যান। আর রাগোনের কাম নাই…দরকার নাই রানী বানানোর। নিলুফার রে রানী করেন।
-চুপ কর বিবি দিলে একটু শান্তি দে, একে আসিস নি তিন দিন, হোগার ব্যথায় খালি সূপ খায়। আয় কাছে একটু হোগা মালিশ করে দে। আজকের হরতালে সারা দেশ যেন ছারখার হয়ে যায় খোদা। ওফফ ব্যথা রে, একটু গরম সেঁক দেও।
-দিতাছি, অস্থির হইয়েন না। পরেসানিতে ব্যথা কমবে না।
-আমি এখন পরেসান আন্দলুন নিয়ে ব্যথা নিয়ে না। ছিবিরের পুলাপান কি ঠিক মত মাঠ দখল করতে পারবে, নাকি এবারো ঘর থেকেই বের হতি পারবে না, ওহ মেরা বাতএন…ওহ মেরা বাতএন কাব মিলেগি মুঝে।
– এখন চুপ যান বাতেন বাতেন করেন না। এই ব্যথার উপর আবার বাতেনের সাথে মিল দিলে এখনি আপনার পুলছেরাত পার।
-আ রে বিবি বাতেন না বাতএন। মানে আমার পাকিস্তান।
-ওহ তাই কন। পাকিস্তান।
গরম সেঁক দিতে দিতে বিবি গুনগুন করতেছে। আরামে চোখ বুজে আছে মাথা দোলাচ্ছে গুয়াজম।
– বিবি একটু গলা খুলে গাও, একটু দিল লাগি কর। তিন দিন আসনি একটু পেয়ার মহব্বত কর। গানের শব্দে সাইদির রায়ের কথা ভুলে থাকতে চাইল গোয়াজম। নিজের চিন্তাও তাকে কুরেকুরে খাইতেছে, মনের দুর্বলতা কই বিবির সামনে প্রকাশ করা যায়।
গুয়াবিবি আজ আর স্বামী কে সত্যি কথা বলেনি, বলেনি ছিবির কে পাইলে জনগণ গণ ধোলাই দিতাছে, মাইর দিয়ে জেলে দিতাছে, ইমাম ওলামারা, ইসলামিক চিন্তাবিদরা জামাতের আসল চেহারা তুলে ধরছে। দিনে দিনে মানুষের ভুল ভাংতাছে। দিন দিন জনগণ আরো এক হইতাছে, আরো বেশি একতা হইতাছে… যদিও তারা আপ্রাণ চেস্টা করতাছে ফাটল ধরাতে, নেতাদের খরিদ করতে। চারদিকে টাকা পয়সা ঢালাও খরচ হইতাছে, কাজ হব হব করে হইতাছে না। কি আছে কপালে কি জানে। বুড়াটারে একটু আমোদই দেই বলে গোয়াজমের পচন্দের গান ধরল বিবি। গানের কথা এদিক অদিক করে
– মে তেরি জোহ্রাজাবি তুঝে মালুম নেহি….
– আরে থাম থাম আজকালকার সব থেকে হিট গান গাও, ফেবিকল সে’র পরে নতুন কি হিট আসছে সেইটা গাও।
বিবি অবাক হইল কি আজকালকার সব থেকে হিট গান…কি কই মমিন!
– সত্যি গামু রাগ হবেন নাতো?
-গাও মেরি পাকিস্তানি বুলবুলি।
– গ-তে গোলাম আজম তুই রাজাকার, ফ- তে ফাঁসি তোর, ত -তে তুই রাজাকার। বিবির গান শুনে গোয়াজম বুক চেপে ধরে উপুর থেকে চিত হয়ে পড়ে গেল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “গ- তে গোলাম আজম তুই রাজাকার (জামাতী তাণ্ডব, গণজাগরণ ও হিট লিস্টের পাশে কিছু অপ্রাসাংগিকতা-২)

  1. চমৎকার। একাবারে ফাটিয়ে
    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
    চমৎকার। একাবারে ফাটিয়ে দিয়েছেন। তৃতীয় পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 4 =