ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চারা শাহবাগের বল দিছে মহামুত্ররে

মাঠে প্রতিপক্ষ গোল দিয়েছে, ছলচাতুরী করে দিয়েছে, আমার ডিফেন্ডারকে ল্যাং মেরে গোল দিয়েছে, ওই দলটা এমনিতেই গায়ে মাইরা খেলে। এগুলারে বলে বাঙ্গালির ৩ নাম্বার হাত, অযুহাত। সোজা কথায় আমরা গোল খাইছি। আমগো কাছে বড় বিষয় হইতে হইবো আমগো ডিফেন্ডার কেন, ল্যাং খাইয়া পউড়া গেলো? ওরা মাইরা খেললে আমরা কি বাল ফালাইছি? কারন সব কথার শেষ কথা গোল খাইছি।

২৭ ফেব্রুয়ারি পত্রিকার দেশের নাম্বার ওয়ান পত্রিকার খবর, “ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ চাই: শাহবাগের ঘোষনা”। ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, আইন করে নিষিদ্ধ করো” এই শ্লোগান কোথায় দেয়া হয়েছিল? শাহবাগে। লেঞ্জা টান খাইছে। মহামুত্র সাহেবের শটে পিছাইয়া গেছে। কেনরে খোকারা আগে ভাবস নাই এসব!!!

শাহবাগ, গণজাগরণ মঞ্চ, ধর্ম, অধর্ম সব ঘটনা আর ইতিহাসের নায়ক এখন আমার কাছে একজনই, তিনি হচ্ছেন মহামুত মিয়া। দৈনিক ‘মোর দ্যাশ’ পত্রিকার সম্পাদক। ভাই এইটুকুতেই চেইত্যেন না। কইতে দেন…

আপনাদের যার যার বাড়িতে ফোন দেন, লেবার পার্টি, কংগ্রেস আর যা যা দল আছে হেতো থেইক্যা মোট ১০ জনরে ফোন দেন। দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, ‘শাহবাগে কি হচ্ছে?’ পরীক্ষা করে দেখেন, উত্তর আসবে, ‘ইসলামের বিরুদ্ধে সমাবেশ চলতেছে, এখানে আসলে দৈনিক ৩০০, ৫০০, ১০০০ টাকা করে দেয়, ওখানে নাস্তিকদের আড্ডা,,ইত্যাদি ইত্যাদি।

কি বলবেন? এসব জামাতিদের প্রচারনা। কথা সত্যি এবং এটা মিথ্যা রটনা। যা সফলভাবে রটাতে পেরেছে মহামুত মিয়া।

তাহলে আমরাওতো প্রচারণা কম চালাইনি। কিন্তু মিথ্যাটা প্রচার হলো কিভাবে!!! অবাক হওয়ার কারন নেই। খুলে বলছি…উনারে আমরা বল আগাইয়া দিছি।

৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ছোট ছোট ৩ কিস্তিতে ঢাকার বাইরে গিয়েছিলাম। সুনামঞ্জের দিরাইয়ের উজানধল, লক্ষীপুরের রামগঞ্জের ফতেপুর আর কুমিল্লা-চাদপুর। দিরাইতে এক টেম্পুওয়ালা আমাদের মুখে শাহবাগের কথা শুনে জিজ্ঞাসা করলো, ‘ভাই ওখানে নাকি দৈনিক ৫০০ টাকা করে দেয়?। উত্তর দিলাম, তাইলে এখন আমার পকেটে অনেক টাকা থাকতো। নাই।’
জিজ্ঞাসা করলাম, কে বলছে? উত্তর আসলো, শুনছি। তখনই আমার মনে হলো, এবারের নায়ক মহামুত।

যশোর থেকে মঙ্গলবারই একজন ফোনে দিয়ে অনেক কথা ফাকেঁ জিজ্ঞাসা করলো, শাহবাগে দিনে থাকলে নাকি পাঁচশো টাকা আর রাতে থাকলে এক হাজার টাকা দেয়। মনে মনে ভাবলাম শাবাশ মহামুত কাক্কু।

আসলে জামাত ইসলাম আর লেবার পার্টি-কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। জামাতের প্রতিটা সমর্থকই কর্মী। তারা শুধু ভোটই দেয় না, দলের স্বার্থের জন্যে যা যা প্রয়োজন প্রচার করে, মাঠে নামে। আর হামাগো অন্যদলগুলানের সমর্থকরা শুধু অপেক্ষায় থাকে কবে ভোট আইবো আর ভোট দিতে যাইবো। আর নেতারা ভাবে, দল আইলে খামু কেমনে।

মহামুতরে বাপের ব্যাডা বানাইছে আমাগো লিডাররা। আমরা নিজেরা ক্ষমতাসীন দলের আগামী নির্বাচনী পূর্ব পরিকল্পনায় নকশায় দাড়িয়ে চিল্লাচিল্লি করতেছিলাম। কাদের মোল্লা আর রাজাকার ইস্যু থেকে ইসলামি ব্যাংক, ইবনে সিনা, রেটিনা আরো কতো কতো কতোকিছু। বিএনপি যেমন খিচুড়ি পাকাইছে, রাজাকারের ফাঁসির সঙ্গে বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার দাবি করা হচ্ছে না কেন? আমরাও তেমন খিচুড়ি পাকাইছি। কারন প্রথম মহাসমাবেশের শপথে যা পড়েছেন ঐতিহাসিক ব্লকার এমড়ান, তা রেডি করে দিয়েছে ক্ষমতাসালীগো ছাত্র সংগঠন।

পোলাপাইনে তহনো বোঝে নাই, কোন শক্তির জোড়ে মহামুত মিয়া ৯ ফেব্রুয়ারি লিড করার সাহস পাইছে, ‘শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি।’ স্বাধীন দেশে নির্বাচিত সরকার থাকাকালীন সময়ে আফনেরা কেমনে ভাবছেন, মহামুত মিয়া এমনে এমনে নিজেই ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটা ব্যাবহার করার সাহস পাইছে!!!

এখনো স্পষ্ট মনে আছে, ৫ তারিখ রাতে, এক ভাইয়ের হাতে সরকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে, ‘যদি বিজয়ের কথা বলিস, তোদের মুখে থুথু দেব।’ এরপর আর কোন সরকার বিরোধী শ্লোগান দেয়া হয় না। একইভাবে ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে দেখা অনেক ব্লগার আর বিপ্লবী ভাইদের মুখও দিন দিন হারিয়ে গেছে। অনেকরে দেখছি আবারো আইস্যা বইস্যা আছে ছবির হাটে।

ক্ষমতাসীনদের কোলে বসে নতুন প্রজন্মের এ মুক্তিযুদ্ধের নেতারা চলছে। মনে হয় না কেউ এ কথার আপত্তি করবেন।

সরকারের সঙ্গী হওয়ার ব্যাপারে অনেকে আমাকে বলেছে সরকার এ মুহুর্তে জনমত তৈরী করছে। যে দল যুদ্ধাপরাধী বিচার করবো অঙ্গীকার কইরা ২৬০টি আসন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার চেয়ে বড় জনমত কি হতে পারে! আমাকে কেউ সদোত্তর দিতে পারেনি।

তাহলে সরকার এখানে এসব করছে কেন? নির্বাচনের আর একবছরও নেই। তত্ত্ববধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি গন্ডগোল করতে পারে, পদ্মাসেতু, হলমার্ক, বিশ্বজিৎ, আর সবচেয়ে বড় অপরাধ শেয়ার বাজার কেলেংকারি সবকিছুকে পেছনে ফেলে আবারো নির্বাচনের মূল ইস্যু হিসেবে যুদ্ধাপরাধী ইস্যুকে তৈরী করতে চায় আওয়ামীলীগ। বিএনপিকে জড়িয়ে তাই আট তারিখের মহাসমাবেশে ঘোষনা হয়েছিল, ‘যুদ্ধাপরাধীদের যারা আশ্রয় দিয়েছে তাদেরও বিচার করতে হবে।’ এক শটে বিএনপিরে ব্যাকফুটে পাঠাইয়া দেছে ব্লকার এমড়ান।

কিন্তু ভুলটা হয়ে গিয়েছে অন্যখানে। এক নম্বার বিরোধীদল পর্যন্ত আনা মনে হয় ঠিক ছিল, কিন্তু ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, আইন করে নিষিদ্ধ করো’ এ ধরনের শ্লোগান কাল হয়ে দাড়াইল।

১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শাহবাগের আন্দোলনে মানুষের উপস্থিতি ক্ষমতাসালীগো আরো বোকা বানিয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমে রাজধানীর আমজনতাকেও টেনে নিয়ে এসেছে। মানুষ ভেবেছে শাহবাগ না গেলে ইতিহাসের অংশ হওয়া যাবে না। একটু ভেবে দেখেন, বিগত বছরগুলোতে কি পয়লা ফাল্গুন আর ভেলেন্টাইনস ডে’তে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা্য় ভীড় কম হতো?? এবার পাবলিক এসে রথ দেখা আর কলা বেচা এক সঙ্গে করেছে। আর বইমেলাতো রয়েছেই, শুক্রবারগুলোতে ভীড় আরো বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা প্রত্যেকটা মানুষ জানে পুরো ফেব্রুয়ারি জুড়েই এই এলাকা জমজমাট থাকে।

তবে এটাও সত্যি এ আন্দোলন উপলক্ষে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা আবারো দেশকে রাজাকারমুক্ত করতে এক হয়েছে। তারা এসেছেন প্রাণ দিয়ে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা আমরা দেখাতে পারিনি। তারা যে স্বপ্ন নিয়ে এখানে এসেছিলেন সেটাকে পুজি করে ফেলেছে কালো বিড়াল। যে তরুন প্রজন্ম হৃদয় নিয়ে পথে নেমেছিল, সমর্থন দিয়েছিল দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে, তাদের হতাশ করেছে বিড়ালের মিঞাও মিঞাও। হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছে অনেকে, আবার অনেকে স্বপ্ন নিয়েই ফিরেছে। স্বপ্ন স্বার্থকতা আর তরুনের হতাশা আমাদের ব্যর্থতা।

তবে বাম সংগঠনগুলো সঙ্গে থাকায় আন্দোলনে বৈচিত্র এসেছে। ৩ মিনিটের নীরবতা, মোমবাতি প্রজ্বলন, জাগরনের গাণ সবকিছুই আন্দোলনের উপকরণ ও ঘটনা হিসেবে প্রশংসার দাবিদার। ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে বিএসএমএমইউর অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা প্রসেনজিৎ বোঁসও তার সি ব্লকের কেবিনের বারান্দায় মোমবাতি জ্বালিয়েছিলেন। কিন্তু গ্যাস বেলুন দিয়ে চিঠি ওড়ানোটা মনে হয় না ভালো মাথা থেকে এসেছে। কারন গ্যাসের বেলুন কেনা সবখানে সম্ভব নয়।

আন্দোলনের গলা ফাটানো চিল্লানোর মধ্যেই অনেক কিছু ঘটছিল। চিল্লানোর মধ্যেই এমন অনেকজনের মাথায় হলুদ রংয়ের ব্যান্ড উঠে পড়লো, যাদের ব্যাক্তিগতভাবে চিনি। তারা ব্লগতো দূরের কথা, তাদের ফেসবুক ঘাটলে নোটতো দূরের কথা, রাজনীতি নিয়ে একটা স্ট্যাটাসও চোখে পড়বে না।

শাহবাগ চত্বরে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের গণআদালতের চিত্রপ্রদর্শণী করছিলো ফোকাস বাংলার জয় ভাই। ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি বললেন, ‘শাহবাগের আন্দোলনের সঙ্গে কখনোই শহীদ জননীর গণআদালত এক নয়। কারন সেখানে আমরা ভয়ে থাকতাম, এই বুঝি পুলিশ হামলা করবে, এই বুঝি শিবির এসে হামলা করবে। আর এখানটা হচ্ছে এখন দেশের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।’

আসলে যে মানুষ একবার দেখেছে এখানে দুপুরে খাওয়া দেয়া হয়, রাতে খাওয়া দেয়া হয়, আর সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমান টয়লেট, রাতে মশার ওষুধ দেয়া, তাকে কি করে বোঝানো যায়, যে এ আন্দোলন ক্ষমতাসীনদের নয়….।

আগেও কইছিলাম, সরকারকে সঙ্গে নিয়ে বা সাহায্য নিয়ে আমরা কার কাছে দাবি জানাচ্ছি!!! দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে নেমেছি ক্ষমতাশালীদের নিয়ে!! যাদের ওপর দ্বায়িত্ব ফাসিঁতে ঝোলানোর, তারা সে কাজটি না করে সংহতি জানানোটা কি ধরনের ভন্ডামি!!! সরকারও মনে হইছে আন্দোলনকারী! আরে ভাই এ আন্দোলনের দাবিগুলোতো তোমাদেরকেই পূরণ করতে হবে। ভ্রাম্যমান টয়লেট, মশার ওষুধ আর বিশুদ্ধা পানি খাওয়ানোর দরকার নেই। ৫ ফেব্রুয়ারি এসব কিছুই ছিল না, আমরা সে রাতেও ছিলাম। সরকার তুমি এদের বিচার করো, ফাঁসিতে দাও, জনমত, জনরোষ বিশ্ববাসী জেনে গেছে, এবারতো করো..।..না পারলে বলে দাও জনতাই বিচার করুক। তোমার মায়াকান্নার দরকার নেই।

কি অদ্ভুত! যে সরকার ৩ ফেব্রুয়ারিতে সাঈদীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করতে জামাত শিবিরকে রাস্তায় নামার অনুমতি দেয়, তারাই আবার সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের আন্দোলনকারীদের জন্যে ভ্রাম্যমান টয়লেট বসাইয়া যায়!……….

৮ ফেব্রুয়ারির মহাসমাবেশ থেকেই একটা আল্টিমেটাম আসা উচিত ছিল। সেদিনকার ঘোষনা আর শপথে ছিল না কোন সুনির্দিষ্ট আন্দোলনের দিক নির্দেশনা। তারপরও চলতে থাকে। আর লেবু চিপা খেতে খেতে তিতা হতে থাকে। সেটাকে ছুড়ে ফেলে দিতে যা যা প্রয়োজন সেসব মিশিয়ে দেয় সরকার।

আমাদের নেতা এমড়ান সেদিনকার শপথে শাহবাগের পথহারাদের পথ দেখালো এই শপথে যে, কেউ ইসলামি ব্যাংকে একাউন্ট খুলবে না, ইবনে সিনায় চিকিৎসা নিবে না, জামাতের কোচিংগুলোতে ভর্তি হবে না…ইত্যাদি ইত্যাদি। ভাগ্য ভাল মুখ ফসকে বলে ফেলেনি, যারা ইসলামি ব্যাংক থেকে আর্থিক সহযোগীতা নেয় তাদেরও বিচার করতে হবে। কিন্তু সরকারের কাছে কেন ইসলামি ব্যাংক নিষিদ্ধ বা জাতীয়করনের দাবি তুললেন না। কারন, এমড়ান পাখির মা পাখিরাও জানে এ সরকারের পক্ষে ইসলামি ব্যাংক বন্ধ করা সম্ভব নয়।

যতটুকু জানি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমে আর ব্যাংক খাতে সরকারের সকল মুনাফার ১৮ শতাংশ দেয় এই ব্যাংক। এ ব্যাংকে চলতি একাউন্ট রয়েছে ৩ কোটির ওপর। আর সেগুলোর মধ্যে কার্যকর রয়েছে আশি শতাংশ। তাহলে পরিকল্পনা ছাড়া না বুঝে কেন এ ধরনের ঘোষনা দিল মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি!!

শুনেন ভাইয়েরা এখনো দেশে অনেক লোকই আছে যারা যানে না ইসলামি ব্যাংক জামাতে ইসলামীর। ইবনে সিনা জামাতে ইসলামির জানে না। ছাগলের বাচ্চারা যখন এগুলোকে জবাই করার কথা বলছিল, ঠিক সে সময়ই কুত্তার বাচ্চা জামাতিরা সাধারন পাব্লিকরে বুঝাইছে শাহবাগে ইসলামের বিরুদ্ধে সমাবেশ চলতেছে।

১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আইসা দেখলাম, শাহবাগের মোড়ে পাব্লিক মুড়ির মতো কমতাছে। কাহিনী শুনেন, ১২ তারিখ রাত আটটায় মোটর সাইকেল করে হাতিরঝিল প্রকল্প হয়ে রামপুরা গেছি। হায়…হাতিরঝিল ফাঁকা। একই দর্শনীয় স্থান যারা বার বার দেখতে যাচ্ছিল, সেই লোকগুলোও আসলে তখন শাহবাগে। এখন তাদের শাহবাগও দেখা শেষ। এখানে ছবি তুলে ফেলেছে, ফেসবুকেও দেয়া শেষে। এখন ৩ দিন যাবে হাতিরঝিল আর ৩ দিন যাবে শাহবাগ।

আবার মহামুত কাক্কুর কথায় আসি। লক্ষ্য করেন, শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে বিএনপি ব্যাকফুটে, জামাত ব্যাকফুটে। আর মহামুত স্ট্রাইকিংয়ে দাড়িয়ে একের পর এক শট দিয়েই যাচ্ছে। যে মাঠে সাবেক প্রতিমন্ত্রীকে ‍মহিলাদের পার্স চুরির অপরাধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়, সে মাঠে মহামুত্র সাবকে স্ট্রাইকিং থেকে নিয়ে জেলে ভরতে পরতাছে না ম্যাচ রেফারি। কারন সে চায় মাঠ আরেকটু জমুক। আমাগো গোল্কিবার ব্লকারতো আর পারছে না। টিভি আর প্রিন্ট মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে স্ট্রাইকারের বিরুদ্ধে কয়েক পাতা লিখে বিচার দিতে গিয়েছেন উনার মাম্মুর কাছে। মাম্মু নাকি এ ব্যাপারে আইন দেখছেন। মহামুত সাবও সন্ধ্যাতেই আরেকটা শট করলেন।

মহামুতরে বলা হইতেছে হলুদ সাংবাদিকতায় নাকি সে গোল্ড মেডেল পাইছে। বাবুরে হলুদ সাংবাদিকতা মনে হয় অনেক বড় কোন উপাধি!!! তাহলে গোল্ড নয় শুধু ডায়মন্ড আর কোহিনূর দিয়া অনেকগুলো মেডেল বানাইয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় সবগুলো মিডিয়ার ওস্তাদদের দিতে হইবো। মহামুতের ফেনায় অরা এখন টিকতাছে না কেন!! আগে ভাবে নাই হুজুগে না চিল্লাইয়া আস্তে ধীরে আওয়াজ বাড়াই।

আঠারো ফেব্রুয়ারি হরতাল দিল জামাতিরা। হরতাল প্রত্যাখানের স্লোগান দিয়া ঘরে বইসা থাকলো আমাগো আন্দোলনের নেতা আর ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চারা। শিবির কয়েকজায়গায় তান্ডব চালাইলো। শাহবাগ দেখলাম সকালে খালি। কারন, বীরেরা ভাবছে হরতালের দিন, একটু আরাম আয়েশ কইরাই যাই।

সেদিন বলছিলাম, আমাদের নিজেদের দূর্বলতা স্বীকার করা উচিৎ। তা না হলে জামাতের পরবর্তী হরতালকেও প্রতিহত করা যাবে না। ১৭ ফেব্রুয়ারি ঘোষনা দেয়া হয়েছিল পরেরদিনের হরতাল প্রতিরোধ করা হবে। অনেককেই ফেসবুকে দেখলাম খুব গলাবাজি করছে। এ রকম অনেককে চিনি যারা গলাবাজি করেও হরতালে নিজের গাড়ি নামাননি, নিজের বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাননি। সকাল থেকে অন্তত দুপুর একটা পর্যন্ত হরতালের সারা শহর মোটরসাইকেলে ঘুরে দশটাও প্রাইভেট কার চোখে পড়েনি। কয়টা স্কুলে ক্লাস হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস হয়েছে সেটাও আমরা নিজেরাই জানি….. আবার এই ভন্ডরাই নিজেদের মুখোশ আড়াল করতে সেদিন সন্ধ্যার থেকে বলেছে, গাড়ির চাকা ঘুরেছে, দোকানপাট খুলেছে!!!! আচ্ছা আরো ভেঙ্গে বলি, সুবর্ণা মোস্তফা, শম্পা রেজা, ঝুনু চৌধুরী, জয়া আহসানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক টিভি শিল্পী বিকেল ৩ টায় জড়ো হয় শহীদ মিনারে। নিজ চোখে দেখছি, একজনও নিজের গাড়ি নিয়ে আসেননি। সকলেই এসেছে রিক্সায়। তারপর এসব টিভি শিল্পীরা শাহবাগে যেয়ে মাইকে বলেছে, ‘আজ জামাত শিবিরের হরতাল মানুষ প্রত্যাখান করেছে।’

শীর্ষস্থানীয় সকল মিডিয়ায় ১৯ ফেব্রুয়ারি খবর বেরিয়েছে মানুষ হরতাল প্রত্যাখান করেছে। ১ নাম্বার পেপারে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের যে শ্রেণীকক্ষটির কয়েকজন ছাত্রের ছবি তোলা হয়েছে, তাদের পেছন দিকে যে বিরাট ফাঁকা সেটি কারও নজর এড়ায় না।

২৪ ফেব্রুয়ারির হরতাল নিয়া অবশ্য ‍বেশরমদের লাফালাফি ‍ফেসবুকে দেখা যায় নাই। তবে মিডিয়াগুলো বলেছে হরতাল মানেনি জনতা। শাহবাগে ছাত্রলীগ যে মিছিল নিয়ে আসছিল, সেটাকেই মিডিয়া বলেছে, আমজনতা ছুটে এসেছে হরতালের বিরুদ্ধে। একটা অনলাইনে আসছে গাড়ি মালিকরা কথা দিয়াও তাগো গাড়ি নামায় নাই। কেমনে নামাইবো!! সরকার যেইখানে এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত পিছাইয়া দিছে। অবশ্য এক নাম্বার পত্রিকা পরের দিন একটা ছবি দিয়ে ক্যাপশনে বলছে, প্রাইভেট কারের সংখ্যা অন্যদিনের তুলনায় কিছুটা কম। তবে ছবিতে কিছুটা না, একটা প্রাইভেট কারও নেই। তেলে মাথায় তেল দেয়ার জন্যে সত্যরে আড়াল করা কি???

অবশ্য ২৬ ফেব্রুয়ারি এক নাম্বার পত্রিকার প্রথম পাতায় দিছে জামাত আর ইসলামি দল এক না। মানে দাড়ায় এতোদিন যেসব অরাজকতা হইছে, হয় এগুলা জামায়াত করছে, নাইলে ইসলামি দলগুলো করছে। যে কোন একপক্ষ নির্দোষ। ২৭ ফেব্রুয়ারিতেও প্রথম পাতায় স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার যে মিছিলের ছবি দিছে, মিছিলের প্রথম (অগ্রভাগে) আর তিন নাম্বার (শেষভাগে) প্যাকেজ বাদ দিয়া মাঝখানের প্যাকেজের ছবি দিছে। ছবিতে বুঝা যায় না এই প্যাকেজে মানুষ ছিলো কম। ছাত্রলীগের মেয়েরা ছিল প্রথম প্যাকেজে। আর সবচেয়ে বড় মিছিল ছিল তিন নাম্বার প্যাকেজে, যেখানে ছাত্রলীগের নেতারা। সত্য বড় নির্মম।

এখন আর আমগো মিডিয়া ক্যান বিএসএমএমইউ’র ছাদে যাইয়া ক্যামেরা ধরে না!!! ক্যান মানুষ কম আছে দেখলে আপনেগো রাজায় গোস্বা করতে পারে!! কেন সবসময় এড়িয়ে গেছে আট তারিখের পর প্রায় প্রতি রাতেই লোক সংখ্যা থাকতো ১০০ থেকে ২০০।

রাজিব ভাইয়ের ব্যাপারে আসি। রাজিব ভাইরে কে মারছে, এটা প্রধানমন্ত্রীসহ শাহবাগের লিডাররা সবাই জানে!!! ১৫ তারিখেই ঘোষনা দিয়া দিলো রাজিবরে হত্যার প্রতিশোধ নিবো শিবির মাইরা। কিন্তু কি বিস্ময় কি বিস্ময়, রাজিবের হত্যাকারীরে ধরার জন্যে সরকারের কাছে দাবি নাই। উনারে আমরা শহীদ বানাইয়া লাশ লইয়্যা শপথও কইরা ফালাইলাম আরেক দফা।

বাবায় থাবা দিয়া কি কি লেখতো, সেটার সুযোগ নিয়া ফালাইছে মহামুত মিয়া। ব্যটায় রটাইয়া দিছে থাবা নাস্তিক আছিলো, তারে লইয়া যেহেতু শাহবাগে মিছিল হইছে শাহবাগও নাস্তিক। নিজের আন্ডা বাচ্চা দিয়া থাবার ব্লগও লেইখা ফালাইলো মুত্র। ব্যাটায় বুঝছে এই শটে কাম হইবো। শাহবাগের বারপোষ্টে যাইয়া এতোজোরে শট লাগছে, পুরা পোস্ট কাইপা গেছে, এমড়ান ভাই দলবল লইয়্যা গোলপোস্ট ছাইড়া দৌড় দিছে।

রাজিব শহ মোট ১০ জনের জান গেছে গত কয়দিনে।

একটা ঘোষনা দিছি আমিও। ‘শাহবাগে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গাড়ি চলছে। তবে প্রতি শুক্রবার মহাসমাবেশ হবে। পুরো বছর জুড়েই মাঝে মাঝে শাহবাগ জ্বলে উঠবে। বছরের মাঝদিকে বা শেষ দিকে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। সকলকে ধণ্যবাদ।’

তবে আমগো শাহবাগ অনেক বড় একটা জিনিস দিছে। শাহবাগ থেকে ইতিহাসের পুনরুদ্ধার হয়েছে। অন্তত পরবর্তী দুটি প্রজন্ম জানলো রাজাকারদের কথা। এখন আর চাইলেই কেউ এসে ইতিহাসের বিকৃতি করতে পারবে না। রাজাকারের গাড়িতে পতাকা উঠলে তার প্রতিবাদ করবে অন্তত দুটি প্রজন্ম। এই ইতিহাসই হোক আমাদের রাজনীতি, লেবার পার্টি বা কংগ্রেসরে এবার বিদায় জানাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চারা শাহবাগের বল দিছে মহামুত্ররে

  1. পরে উপদেশ দেয়া খুব সহজ কাজ।
    পরে উপদেশ দেয়া খুব সহজ কাজ। আসুন শাহবাগে এখনও সময় আছে। তৈরি করুন নির্ভূল পরিকল্পনা। এগিয়ে নিয়ে যান তরুনদের জাগরণ মঞ্চ……… পরামর্শ দিন সার্বক্ষনিক। অপরের কাজের সমালোচনা করা খুব সহজ। নুতন কিছু উদ্ভাবন করুন……….. দেখিয়ে দিন তরুনদের…….. ঝাঁপিয়ে পড়ুন নতুন স্বাধীনতা যুদ্ধে………… আমরা আছি আপনার সাথে…. জয় বাংলা…………..

    1. ভাই সমালোচনা কি খারাপ???!!!
      ভাই সমালোচনা কি খারাপ???!!! সমালোচনা থেকে কি পরামর্শ পাওয়া যায় না?? আর ভাই ৫ তারিখ রাত থেইক্কাই শাহবাগে আছি। নতুন কইরা যাওনের দরকার হইবো না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 41 = 47