শুভ বোধের উদয় হোক…..

অনেকদিন ধরেই চাইছিলাম এই কথাগুলো বলব,তুলে ধরব জনতার কাছে,কিন্তু নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে করে থেমে গিয়েছি। হাজার বার চেয়েছি লিখব/বলব,কিন্তু পারি নাই। তবে আজ একপ্রকার বাধ্য হয়েই লিখতে বসলাম।
গতকাল স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, সম্ভবত আমি ভুল করছি,আমার নিজের ক্ষেত্র কথা বলার স্বাধীনতার স্থান থেকে আমি সরে দাড়িয়েছি তাই উচিত হবে ফিরে আসা,অবশেষে সেটাই করেছি।

চট্টগ্রামের আন্দোলনের শুরুর দিক থেকে কিছু কথা তুলে না ধরলেই নয়,এখনো স্পষ্টই মনে পড়ছে সেদিন সকালে ঘুমাচ্ছিল হঠাৎই মা এসে ডেকে বললো হয়েছে তো তোর রায়,যাবজ্জীবন রায় দিয়েছে তোদের জন্য। শুনেই আমি রীতিমতো স্তব্ধ,সাথে সাথেই অনলাইনে ঢুকে দেখলাম হ্যা ঘটনা সত্য। কি করব কোথায় যাব বুঝতেই পারছিলাম না,তাই অগত্যা দুলাল ভাইকে ফোন দিলাম। উনারও দেখি একই দশা,ভাবলাম উনার সাথে দেখা করি কিছু না কিছু করার সিদ্ধান্ততো নেয়া যাবে। পথিমধ্যেই ফোন দিলো সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের একজন মিন্টু চৌধুরী,তিনি জানালেন তাদের কথা ডাকলেন আমাদের কিন্তু তাকে জানিয়ে দিলাম এই মুহুর্তে কিছুটা অপ্রকৃতিতস্থ তাই কিছু বলতে পারবো না। দুলাল ভাইয়ের কাছে পৌছানোর খানিক বাদেই নির্ঝরের ফোন,সে নাকি পৌছে গেছে প্রেসক্লাবে সমাবেশ হচ্ছে যেতে অনুরোধ করলো,উত্তর তাকে জানালাম কি হবে সমাবেশে গিয়ে? হাতে হাত ধরে ঘন্টা খানেক শ্লোগান দিবেন? কয়েকজন সুশীল এনে বক্তৃতা দেওয়াবেন? এরপর একটা মিছিল করে ঘরে গিয়ে ঘুমাবেন? ঐরকম আই ওয়াশের সমাবেশে আমি নাই,এইরকম সমাবেশ অনেক করেছি কিন্তু এই ইস্যুতে পারলাম না,আপনারা করেন।

পরদিন ৬ তারিখে আবারো ফোন, ভাই আমরা এখানে অবস্থান করবো আপনারা আসেন,সবাই করি একসাথে। ভাবলাম যাওয়া দরকার দেখি কয়দিন চালায় তারা,যেহেতু সারাদেশে একই সাথে হচ্ছে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু একটা হবে। গেলাম সেখানে; বিকাল তিনটায় দেখি জনাকয়েক লোকজন,এদের সকলকেই চিনি,একটু হাই হ্যালো তারপর দেখি সেখানে আন্দোলন শুরু। চলতে থাকলো আন্দোলন। ততক্ষণে সারাদেশে শাহবাগ থেকে একটি বার্তা পৌছে গেছে ব্লগারদের আন্দোলন এইটা, তাই এখানেও অবহেলিত হলো না পুচকে ব্লগাররা। কিন্তু সেখানে দেখলাম বসে আছেন সব পয়ত্রিশোর্ধ ব্যক্তিরা। যাই হোক প্রথমদিনের আন্দোলনের ইতি টেনে ঘরে ফিরলাম কিন্তু মনে কিছুটা ক্ষোভ রয়েই গেলো।

পরদিন সেই ক্ষোভের অবসান ঘটানোর ঘটনা মন-মানসিকতা নিয়েই মঞ্চে বসে পড়লাম। মঞ্চে ইতিমধ্যেই গণমানুষে পরিণত হয়েছিল সেই এলাকা কিন্তু অনেকবার চেয়েও সেদিন মনের ক্ষোভ অবসান করতে পারলাম,তবে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং লজ্জাবোধও ছিল বলে সেদিন পারি নাই। আর অন্যান্য দিকের কাজের জন্যও পারছিলাম না।

পরদিন মঞ্চে এসে বক্তব্য দিলেন হাসানুল হক ইনু,বাদল খানসহ কয়েকজন বামপন্থী নেতা। এরপরেই এলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মহিউদ্দীন চৌধুরী তবে তিনি মাইক হাতে বলে দিলেন আমি আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে আসি নাই আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা আর সেই কারণেই এসেছি।

পরদিন আন্দোলনে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এসে সংহতি প্রকাশ করে ভাষণ দিলেন এরপরেই মহিউদ্দীন চৌধুরী আসাতে তাকেও বক্তব্য দিতে আমন্ত্রণ জানানো হলে সেখানে মূল মঞ্চে থাকা কয়েকজন পিছন ফিরে হইহই করে উঠলো,যদিও দিলীপ বড়ুয়ার সময় তারাই করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছিলো।

পরদিনেও হাসান মাহমুদ এবং আফসারুল আমিনের সময়েও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুধু দেখে যাচ্ছিলাম আর সেখানে মাইক হাতে নিয়ে বামফ্রন্টের একজন নেতা বলছিলেন এইখানে কোন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এসে বক্তৃতা দিতে পারবেন না,এটা নির্দলীয়,অরাজনৈতিক একটি আন্দোলন। ব্যস যেটাই দরকার ছিলো সেটাই পেয়ে গেলাম। রাতে বৈঠকে সুন্দর করে সহীহ বাঁশ উপহার দিলাম সকলকেই ৭১ নিয়া আন্দোলন হচ্ছে জামায়াতে বিরুদ্ধে কিন্তু সেটি অরাজনৈতিক? কেউ কেউ বলছে এখানে কোন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দিতে পারবেন না,তাহলে তারা কেন চেরাগী পাহাড় মোড়ে দাঁড়িয়ে ঐ লাল ঝান্ডার তলে দাঁড়িয়ে কমিটির গেঞ্জী গায়ে চাপিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়? ইনু,বাদল,দিলীপ এরা বক্তব্য দিলে তালিয়া ফুটে আর মহিউদ্দীন,হাসান,আফসার আসলে হৈ হৈ হয় কেন? উত্তরে নির্বাক বৈঠক কক্ষ,তখনই একটি ডায়ালগ মেরে দেই দয়া করে আমাকে ক্ষেপাবেন না,ল্যাংটা হয়ে যাবো সবাইকে উলঙ্গ করতে।

এর পরদিন জামায়াত চট্টগ্রামে হরতাল ডাকলো আর তার প্রতিবাদেই ফেটে পড়লো জনতা,ঘোষণা এলো সকালেই জমায়েত হবে। যথারীতি তাই হলো ঐ সকাল নয়টার সময়ই ছাত্রফ্রন্টের জনা দশেক এসে জামালখান মোড় থেকে চেরাগী পাহাড় এলাকায় মহড়া দিতে থাকলো সকাল নয়টা পর্যন্ত। এরপর তারাই তাদের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বসে পড়লো,যদিও মূল মঞ্চে গান গাইবে উদীচী এরকম একটা ব্যাপার চালুই হয়ে গিয়েছিলো যার কারণে গিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শানিত দলটি প্রস্তুতি নিয়ে এসেও সুযোগ পায় নাই। ছাত্রফ্রন্টের নেতৃবৃন্দরা শ্লোগানে দেখলাম খুব পটু,কি ছেলে কি মেয়ে সবাই সমানতালে ভালোই দিচ্ছে,তাই ভাবলাম আজকে নিজের ক্ষোভের অবসান ঘটাবোই আর যাই হোক। তাই নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়ে সুযোগ আসতেই মাইক হাতে আওয়াজ তুলি “জয় বাংলা” তাতে সাধারণ জনগন আওয়াজ দিলেও আশেপাশের ছাত্রফ্রন্ট একটু ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়ার মতন তাদের চেহারা করলো,সেই দেখে আমি আবারো বলে উঠলাম “জয় বাংলা”,এবার কয়েকজন সুর মেলালো। কিন্তু আফসোস পরবর্তীতে আর মাইক ধরার সুযোগ পাই নাই। দুপুরে সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা কয়েকজন মিলে যে আমরা মিছিল করবো কিন্তু সেখানে বাদ সাধলেন মুরুব্বীরা,তাদের মতে এতে হানাহানি হতে পারে,আমি বললাম আমার সাথে থানার ওসির কথা হয়েছে উনি রাজি আছেন এবং সম্মতি দিয়েছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হবে। কিন্তু তাদের মন ভরায় কে? তারা মঞ্চ ছাড়বে না,বললাম থাক তোরা মঞ্চ আকড়ে,আমরা বের হবো,কয়েকজন অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম শ্লোগানে শ্লোগানে রাজপথ কাপিয়ে ফিরলাম,কিন্তু হায় যেখানে মঞ্চে মায়ের কোলে শিশু পেচ্ছাব করলে নিউজ হয় অনলাইনে সেখানে এই মিছিল নিয়ে বিডিনিউজ/বাংলানিউজে কোন সংবাদ পেলাম না। এটা অবশ্য মিছিলের সময়ই খেয়াল করেছিলাম,কেননা সংঘর্ষের ভয়েই কোন মাধ্যম আসে নাই আমাদের সাথে। এদিকে যা হবার তাই হয়েছিলো,আন্দোলনের এক পর্যায়ে গিয়ে ছাত্রফ্রন্ট এবং ইউনিয়ন তাদের উর্ধ্বতনের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। যদিও এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিলো।
রাতে বৈঠক ঘরে আমি ক্ষোভে ফেটে পড়লাম, আমরা ৭১ এর ব্যাপার নিয়ে এখানে আন্দোলন করছি কিন্তু সেখানে ৫২ কিনবা ৬৯ আসে কেনো? আমরা ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লড়ছি সেখানে সূর্যসেন/প্রীতিলতা কি করে? প্রায় সকলকেই সালাম দেয়া হয় কিন্তু বঙ্গবন্ধু কিনবা সাত বীরশ্রেষ্ঠ কই গেলো? কিন্তু তারা আমাকে উল্টো ইতিহাস শিখাইতে বসলো,রীতিমতো স্তব্ধ করে দেওয়ার দশা। বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের তাই এখানে তার নাম নেয়া যাবে না,জাতীয় চার নেতা আওয়ামীলীগের তাই তাদের নামও নেয়া যাবে না,সাত বীরশ্রেষ্ঠের নাম নিয়ে শ্লোগান মেলানো যাবে না তাই সম্ভব না। যখন আবার প্রশ্ন করলাম এই প্রীতিলতা,সূর্যসেন এদের কি এই রাজাকারেরা মেরেছিলো? নাকি তারা এই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছিল? তাহলে কিসের ভিত্তিতে বলছেন প্রীতিলতার বাংলায় রাজাকারের ঠাই নাই? অতঃপর খুব উচ্চ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে দেখে বয়োজেষ্ঠ্যরা আমাকে থামিয়ে দিতে চাইলেন কিন্তু বাধ সাধলেন রিয়াজ হায়দার ভাই,অনুপ শুর,এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম।

পরদিন আর দেখা গেলো না তাদের কেননা তারা রীতিমতো কট খাওয়া পাব্লিকের দশা,এদিকে ইতোমধ্যেই মঞ্চে ব্যাপক পরিবর্তন যেই শ্লোগান দিচ্ছে শুরুতে “জয় বাংলা” বলছে,তবে রাতের দিকে এসে আবারো সেই একই কাজ,আগুন জ্বালিয়ে একাকার করছে,প্রীতিলতা/সূর্যসেনদের এনে দাড় করিয়ে দিচ্ছে,সর্বহারা বানিয়ে দিচ্ছে সকলকে রীতিমতো একটা সেই মাপের ব্যাপার। রাতে আবারো বৈঠক,বৈঠকে সেই একই অবস্থা,বয়োজেষ্ঠ্যরা ভাষণ দিচ্ছেন তাতে তরুণরা হাত তালি দিয়েই যাচ্ছে,তারা বলেই যাচ্ছেন তরুণদের এই আন্দোলন তারা ভালোভাবেই চালাচ্ছেন,তাদের আমরা সাধুবাদ জানাই আর আমি মনে মনে বলছি জ্বী স্যার কলকাটি সব আপনারাই নাড়ছেন,আমরা সারাদিন কামলা দিবো আর রাতে এসে বিচার দিবো এলাহি কারবার। ঐদিকে বিডিনিউজ/বাংলানিউজ থেমে নেই তারা এককভাবেই চট্টগ্রামের এই আন্দোলনে অনলাইন এক্টিভিস্টদের রীতিমতো একদিকে করে রেখে তাদের পরিচালিত তরূণ উদ্যোগ আর তাদের নেতাকে রীতিমতো প্রতিদিনই হিট করিয়েই যাচ্ছিলেন (এখনো করেই যাচ্ছেন)।

এভাবে চলতে চলতে ঢাকা থেকে ঘোষণা এলো তিনটা থেকে দশটা পর্যন্ত চলবে আন্দোলন,ব্যস এমনিতেই যেখানে রোজ জেগে শাহবাগের বিপরীতে আমরা ১২ টা পর্যন্ত অবস্থান নিতাম সেখানে ঐ ঘোষণাতে সেটি দশটার আগেই থেমে গেলো। থাবা বাবা খুন হওয়াতে শাহবাগ জেগে উঠলেও চট্টগ্রাম তখন কাথার নিচে শোক প্রকাশ করছে।

থাবা মরে যাওয়াতে সকলের এক বিশাল দরদ দেখে আমি তো রীতিমতো থ,হায় কপাল বাইচা থাকাকালে থাবারে এরাম কদর করলেতো হইছিলোই একখান কান্ড,সবাই থাবারে আইডল বানানি শুরু করলেও থাবা মরার তিনদিন আগে তার স্ট্যাটাসে তার যেই ইচ্ছা প্রকাশ করছিলো সেইটা নিয়ে কারোই কোন চিন্তা নাই দেখলাম। তাই অবশেষে আমিই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবারো অঘটন ঘটাইলাম, জয় বাংলা বলে জয় বঙ্গবন্ধু বললাম আর সাথে সাথে কানের গোড়ায় এসে ফিসফিস করে বললো প্লীজ এটা বইলেন না। আর কই যাই শ্লোগান থামাইয়াই জনতার কাছ থেইক্যা জবাব নেওয়াইয়া দিলাম। আমরা ৭১ এর চেতনার কথা বলি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কথা দ্বিমত,আমরা থাবারে আইডল বানাইতে চাই কিন্তু তার ইচ্ছারে প্রাধান্য না দিয়াই।

এরপর আল্টিমেটাম এলো শাহবাগ স্তিমিত হলেও চট্টগ্রাম হারিয়ে গেলো,জামাতীরা মোল্লাদের ক্ষেপিয়ে সারাদেশে তান্ডব চালালে তার প্রতিবাদে শাহবাগ ফুঁসে উঠলেও চট্টগ্রাম ঐ একই অবস্থা। চট্টগ্রামের ঐ সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা সব বাঁধা উপেক্ষা করে জ্বালানো শুরু করলো আমার দেশ,সংগ্রাম,জামায়াতের কার্যালয়,কেয়ারি সহ কয়েকটি জামাতী প্রতিষ্ঠান,যেহেতু ঐ সময়ে আমি ঢাকায় অবস্থান করছিলাম তাই যোগ দিতে পারি নাই। তবে চট্টগ্রাম ফিরতেই অভিযোগের ডালা খুলে বসলো ভাইয়েরা আমার,কিভাবে কত বাঁধা উপেক্ষা করে সাধারণ জনতা এই কাজগুলো করেছে। অথচ জামাতী মিডিয়াগুলোতে প্রচার পেলো ছাত্রলীগের ক্যাডাররা এসব করেছে,সারাজীবন বাম ঘরানার শরীফ চৌহানকেও তারা ছাত্রলীগ বানিয়ে দিলো। এরপর তো চলছেই এভাবে।

এইতো বললাম একনজরে একপ্রকার গত ২১ দিনের কিছু কথা, এবার আসি কিছু তরুণদের পদক্ষেপ আর তাতে বাঁধা।
ইতোমধ্যেই কিন্তু একবার বলেছি যে মিছিল করা নিয়ে তাদের কোন সমর্থন ছিলোনা এবং তারা তাতেও আসেও নাই। এরই মাঝে একবার শিবিরের কর্মীরা হঠাৎ জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে আসতে চাইলে সেখানে এগিয়ে যায় বাঁধা দিতে ছাত্রলীগেরা গুন্ডারা,কয়েকশ শিবিরের বিরুদ্ধে মাত্র জনা পঞ্চাশেক ছাত্রলীগ লাঠি হাতে দৌড়ে যায় আর প্রশাসনের সহায়তার ফলে পিছু হটে শিবির,কিন্তু ঐখানেও বাঁধা ছিলো বয়োজেষ্ঠ্যদের। সারদেশে তরুণদের আন্দোলন চললেও চট্টগ্রামে নীতি নির্ধারনে বয়োজেষ্ঠ্যরাই যা করার করছিলো।
শুক্রবার যখন জামাতের প্রতিষ্ঠানে হামলা করতে চাইছিলো তরুনেরা তখনও নাকি বাধ সেধেছিলো,কোনভাবেই যেনো হামলা না হয় সেই আপ্রান চেষ্টা চালিয়েছিলো তারা কিন্তু পারে নাই। পরদিনে কিন্তু সফল হয়েছে তারা, তখন মনে হচ্ছিলো চারপাশে প্রশাসনিক প্রহরা নিয়ে শুধু শ্লোগানে শ্লোগানেই তোমরা জামাতীদের জ্বালিয়ে দিতে পারবে, ঐ শ্লোগানেই শুধু তোমরা গোলটেবিলে বসো না,আপোষ করো না ঐ শ্লোগানেই তোমরা রক্তের সাগর বইয়ে দিতে পারো আর ঐ মাইক হাতেই তোমরা বিপ্লবী কিন্তু মাইক ছাড়া মাত্রই তোমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ো মিডিয়ায় নিজের চেহারা দেখাতে কিনবা চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ো একটা বেনসন হ্যাজেস আর এককাপ চা নিয়ে। তোমরা শপথ করেছো বদলা না নিয়ে বাড়ি ফিরবে না (আমি খাড়াইয়া ছবি তুলতাছিলাম) তাহলে এখন কি তোমরা হোটেলে থাকছো?
আজকেও ঐ শহীদদের মাটির উপর দাঁড়িয়ে একইভাবে শপথ নিলে জামাতীদের প্রতিহত করবার জন্য কিন্তু এখন কি করছো? ঐ মুহুর্তে ডাক দিয়েছিলাম মিছিল করে পাহাড়তলী থেকে প্রেসক্লাব যাবো কিন্তু তোমরা বললে অসম্ভব মানুষ পারবে না এতোটা হাঁটতে, কিন্তু আমরা তো দেখালাম। হেটেই আসলাম এতোটা পথ বিশ্বাস করো কোন ক্লান্তিই লাগে নাই। এরপর আমরা ঘোষণা দিলাম রায় হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রেসক্লাবেই থাকবো,ঠিক তখনই তোমরা লেগে পড়লে রাতে থাকার অনুষ্ঠান বাতিল করতে। গোলটেবিল থেকে শুরু করে আপোষ সবই করলে। জনে জনে বোঝাতে লাগলে প্রশাসন আমাদের সারারাত নিরাপত্তা দিবে না তাই চলে যেতে হবে,প্রতিউত্তর যখন বললাম তাহলে কি তোমরা প্রশাসনের বলে বলীয়ান হয়ে এতো লম্ফঝম্ফ করছো? বাহ বেশতো,তোমাদের মন চাইলে তোমরা যাও আমরা যাচ্ছি না,অনড় অবস্থান নিলাম। কিন্তু মানতে গুরু তোমরা আসলেই দারুন কারিগর। ঠিকই ম্যানেজ করে ফেলেছো,কাকে কিভাবে টোপ খাওয়াতে হয় তোমরা ভালোই জানো আর শেষমেশ তাই করলে। ঘোষণা করালে সকাল নয়টায় এসে জমায়েত হবে আবার সেই প্রশাসনের প্রহরায় বসে লম্ফঝম্ফ করবে।

দুঃখিত এরকম আন্দোলনে আমি নেই,তাই মাঠা কর্মসুচী থেকে ইস্তফা দিলাম। আইওয়াশের আন্দোলন্ন করে নিজের অস্তিত্ব বিকানোর চাইতে ঘরে বসে ময়ুরীর ছবি দেখাও ভালো হবে।

তবে এতোদুর পর্যন্ত যা করেছি কিনবা যতটুকু মর্যাদা পেয়েছি তার জন্য বয়োজেষ্ঠ্য বা নীতি নির্ধারকের মধ্যে অনুপ শুর,রিয়াজ হায়দার এদের সহযোগিতা এবং সমর্থন না থাকলে হয়তো পারতাম না।

জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “শুভ বোধের উদয় হোক…..

  1. মন যোগ দিয়ে পড়লাম। আপনার

    মন যোগ দিয়ে পড়লাম। আপনার কথার সাথে একমত। প্রশাসনের প্রহরায় নিরাপদে আন্দোলন করতে যারা চায় তাদের উপর আসলেই ভরসা করার সুযোগ নাই।

    বামরা নিজেদের কূপমণ্ডুকতা থেকে এখনো বের হতে পারেনি। প্রথম দিন আমিও দেখেছি তারা জয় বাংলা বলতে দ্বীধা করছে। এবং দলীয় ব্যানার ব্যবহারে বেশি প্রচারের দিকে অনেকেরই নজর ছিল।

    তবে আওয়ামীলীগ এই ক্ষেতে বামদের থেকে অনেক এগিয়ে আছে। মাইক দখলের লড়াই কেন্দ্র করে বেশ কয়েক জেলায় আলাদা কর্মসূচি দিয়েছে। আর জনগন আর মাইক পেলে লীগের(সিনিয়র) নেতারা বক্তৃতা থামাতে ভুলে যান। স্লোগান হবে গান হবে কিন্তু লীগের নেতারা এত উদার না। এবং অনেক জেলার গণজাগরণ মঞ্চের কাজ লীগের জন্য বাধা গ্রস্থ হয়েছে।

    তবে জনমানুষের এই জোয়ার লীগ বা বামদের দেখে আসে নাই। তারা এসেছে তাদের প্রাণের দায় থেকে।

    তবু আপনাকে বলবো, এখন অভিমান করার সময় না। তারা না বুঝলেও আপনি ভাল করেই বুঝেন এখন একজন সক্রিয় কর্মীর কত প্রয়োজন।

    1. জোয়ার লীগের না সেটা আমিও জানি
      জোয়ার লীগের না সেটা আমিও জানি কিন্তু শুক্রবারের পর কার কাছে গিয়ে ধর্না দিয়েছে তারা?
      কার ছেলে-পেলে ছিলো বলে পরদিন অর্থাৎ শনিবার এতো বিশাল শোডাউন দিয়েছে?
      আপনারা পারেনও বটে,সে শুধু করেই যাবে বিনিময়ে কিছু চাইলে সে লোভী।

  2. এই আন্দোলনে আমি চট্টগ্রামের
    এই আন্দোলনে আমি চট্টগ্রামের অনেক বড় বড় খ্যাতিমান ব্লগারের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তারা যে ব্লগার এটা আমি জানতামই না। মিডিয়ার কল্যানে এখন জানি তারা অনেক বড় ব্লগার। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি আজ পর্যন্ত সেই বিখ্যাত ব্লগারদের কোন ব্লগ খুঁজে পাইনি।

    এবার আন্দোলন প্রসঙ্গে বলি, দ্বিতীয় দিন থেকে আমি নিয়মিত ছিলাম। চট্টগ্রামে মুলতঃ দ্বিতীয় দিন থেকেই প্রতিবাদ জোরালো হয়েছে। শুধু এতটুকু বলব, আমার সাধ্য অনুযায়ী আন্দোলনের সাথে সব ধরণের সম্পৃক্ততা রাখার চেষ্টা করেছি। কাদের মোল্লার রায়ের অনেক আগে থেকেই চট্টগ্রামের ব্লগারদের একমাত্র সংগঠন ‘চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম’ থেকে আমরা বেশ কিছু সফল কর্মসূচী সম্পন্ন করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী নিয়ে চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম থেকে কিছু বড় ধরণের কর্মসূচী পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বেশ কয়েকটি মিটিং-ও আমরা করেছিলাম বিষয়টি নিয়ে। তখনও চট্টগ্রামে অনলাইনের এক্টিভিস্টদের নিয়ে কোন সংগঠন বা কর্মসূচী ছিল না। কিন্তু কাদের মোল্লার রায়ের পর রাতারাতি অনেক নেতার জন্ম হল, অনেক সংগঠনের জন্ম হল, অনেক ব্লগারের জন্ম হল। আন্দোলন নিয়ে অনেক ধরনের রাজনীতি দেখলাম। অনেক ধরনের উপহাসের পাত্র হলাম। সবকিছু নীরবে সয়ে যাচ্ছি আন্দোলনের স্বার্থে। আমাদের এই আন্দোলনটি কারো নেতা হওয়ার জন্য না। এই আন্দোলনটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। দেশের মানচিত্রকে অক্ষত রাখার আন্দোলন এটি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য এই আন্দোলন। ৪২ বছরের ময়লা পরিস্কার করার আন্দোলন এটি। তাই এই আন্দোলনকে ঘিরে নেতা হওয়ার বাসনা কখনই আমার মনে আসেনি। এখনো নেই। আমরা কি-বোর্ড যোদ্ধা। আমাদের যুদ্ধের মুল ক্ষেত্র হচ্ছে অনলাইন। রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার দ্বায় মোছনের জন্য আমরা কি-বোর্ড ছেড়ে রাস্তায় নেমেছিলাম। কিন্তু এখানেও নোংরামীর বাজার। তারপরও হাল ছাড়ি নাই। কি-বোর্ডের পাশাপাশি প্রয়োজনে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আজ যারা রাতারাতি নেতা হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে, তারা ইচ্ছে করলেই কি-বোর্ড সৈনিক হতে পারবেনা। তাই এদের এসব হরিদাস পাল মার্কা আচরণে মাঠ ছাড়া যাবেনা। আবার মাঠে থাকতে গিয়ে আমাদের মুল জায়গা অনলাইনও কোনভাবেই ছাড়া যাবেনা। সব সময় মনে রাখতে হবে- গলা ফাটিয়ে একশ জনের শ্লোগানের চেয়ে একজন ব্লগারের একটি ব্লগপোস্ট অনেক বেশী শক্তিশালী।

    জয় আমাদের হবেই হবে।

    1. দুলাল ভাই রাতারাতি ঐ
      দুলাল ভাই রাতারাতি ঐ ব্লগারদের জন্যই কিন্তু আমি জানতে চেয়েছিলাম ব্লগারের সংজ্ঞা কি আর উত্তর ব্লগার মানে কিতা?

      আমি কিন্তু শুরুতেই এরকম আইডিয়া করেছিলাম আরো জেনে খুশি হবেন যে চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্টদের ক্রিকেট নিয়ে যেই আন্দোলন সেই আন্দোলন কিছু মিডিয়া কিন্তু ব্যক্তিবিশেষের আন্দোলন বলে চালিয়ে দিয়েছে রাতের আধারে।

      তবে ভাই মাঠ ছেড়ে দেওয়াটাই ভালো,দুইখানে পা দিয়া দুইভাগ হইতে চাই না।

      1. আরেকটি কথা এখানে প্রাসঙ্গিক,
        আরেকটি কথা এখানে প্রাসঙ্গিক, চেরাগীপাহাড়ের মোড়ের দিকে ছাত্রলীগসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে মুল গণজাগরণ মঞ্চের পাশে ভিন্ন আয়োজনটা কি ঠিক ছিল? এই আয়োজনগুলো কাদের ইশারায় হয়েছে? এটা কি কেউ জানেনা? আসলে দোষ সবারই আছে। তবে যে আন্দোলন ছিল তরুনদের, সেই আন্দোলনের মধ্যে বুড়োদের প্রবেশ করানোটা ভুল ছিল। যারা সেই কমিটিগুলোতে আছে বা ছিল- তাদের মধ্যে কতজন অনলাইন এক্টিভিস্ট বা ব্লগার? আন্দোলনটাকে দলীয়বৃত্তি থেকে বের করতে হবে অনলাইন এক্টিভিস্টদের। প্লাটফরম আমাদের তৈরী আছে। প্রয়োজন হলে আমরা আমাদের মত করে আন্দোলন করব। এই আন্দোলনটা কেউ নেতা হওয়ার জন্য না। এই আন্দোলনে আমরা সবাই রাজা আবার সবাই প্রজা। এটা ক্ষমতা দখলের আন্দোলন না। প্রয়োজনে সময়মত প্রকৃত অনলাইন এক্টিভিস্টরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবে প্রকৃত অনলাইন এক্টিভিস্টদের ব্যানারে। আশাকরি সবার বোধদয় হবে। সময় বলে দেবে….. দাবী সবার একটাই, তবে কেন এত ভেদাভেদ?

  3. Sumit bhai… apnar lekha ta
    Sumit bhai… apnar lekha ta ami porlam..dekhun ekhan kintu man abhiman er samoi na.. apnar lekhai anek kichu jemon khub sathik abar kichu jinis ektu bhul o ache.. ar ei rakom ekta andolon kichu jinis hoiye thake..ekhan amra jodi ei gulo niye man abhiman kore dure sore jai tahole sotti amader 1st e nijer thik hoya uchit.. nijer sartho kei boro kore dekha hoche na.. ami nije ekjan khub sadharon manus.. but jedin theke andolon suru se din roj ami attend korechi.. amar kintu kono din echha hoini ami microphone hate niye slowgan dite.. ami kakhan o mancher maje chilam kakhan o ami ekdam jekono ekta coner e dhariye slowgan dharechi michil korechi.. abar anek din Chittagong University student ra jekhane boseche sekhane oder sathe bosechi.. ekhane amar mone amader 1st e nijer kache clear haoya uchit ami keno ekhane esechi ki jonno esechi…ami jodi nijer kache ei jinis ta clear thaki tahole mone hoina eto man abhiman ase.. apnar lekha pore bhujlam apnar sathe anek guni and respected manus er sathe parichai ache.. even apni press club er meeting o chilen roj…but ami kintu ekjan sadharon manus.. karo dake kintu jamal khan jaini.. so kindly apnara ektu sadharon manus er kothao bhabar chesta korun..ar asa korbo ei andolon e phire asben..

    ……………………………………………………….
    প্রিয় অতিথি, এভাবে ইংরেজি হরফে বাংলা লিখে মন্তব্য না দেওয়ার জন্য আপনিসহ সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো গেলো।

    -ইস্টিশন কর্তৃপক্ষ
    ………………………………………………………..

  4. যারা কৈশোর বয়সটাই পেরুতে
    যারা কৈশোর বয়সটাই পেরুতে পারলো না যদি তাদেরকেই ব্লগার বলা হয় তাহলে ব্লগারদের কি বলবো ? যারা কৈশোর তারা রাজনীতির অ আ ক খ কতটুকুই বা বুঝবে ? রাজনীতিবিধরাই ঠিকমতর পারে না আর তো তারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 − 15 =