বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন।

কেউ কেউ দেশের এই অবস্থা নিয়ে হতাশ। কিছুটা হতাশ আমিও। প্রতিটা বিপ্লবের পরেই একটা প্রতিবিপ্লব আসতে পারে। শাহবাগের গণ আন্দোলনকে পশ্চাৎদেশ যেমন নষ্ট করে দেয়ার চেষ্টা করেছে। এই ধরনের নিকৃষ্ট স্বরযন্ত্র এই ২০১৩সালে হতে পারে আমি চিন্তাও করতে পারিনা। তাই মানসিক ভাবেও প্রস্তুত ছিলাম না। আমার মতো অনেকেই তাই কিছুটা হতাশ হয়েছেন।

আজ দেলু রাজাকার ফাঁসির রায়ের পর যা ঘটেছে। তার কিছুটা আগে থেকেই আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। আগেই অনেক বার দেলু রাজাকারের গুণ্ডা বাহিনী বলেছে দেলু রাজাকারের ফাঁসি হলে দেশ অচল করে দেয়া হবে….। এই সব হুমকি তো অনেক পুরনো। পুলিশের উপর ঝটিকা আক্রমন করে, গাড়ি জ্বালিয়ে,মানুষ মেরে নতুন করে এক আতংক তৈরী করতে সক্ষম হয়। এরশাদ শিকদারের নাম শুনলে যেমন মানুষ আতংক গ্রস্থ হতো, ভয়ার্ত হতো আজ জামাত শিবিরের নাম শুনলেও এমন হয়। জামাত শিবির এখন হিংস্র দানব।

আজকে সরা দিন অনলাইনে বিডিনিউজ ও বাংলানিউজ এর পাতায় চোখ রেখেছি। প্রতিটা খবর পড়ার চেষ্টা করেছি। জামাত শিবিরের তাণ্ডব দেখে আন্দাজ করার চেষ্টা করেছি একাত্তুরে এরা কতটা ভয়ানক ছিল।

যদি ধরে নেই জামাত একটি রাজনৈতিক দল। যেহেতু এখনো তাদের নিষিদ্ধ করা হয় নি । তাই তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার থাকতে পারে। এই প্রতিবাদের সুবাদে আজ সারাদেশে সকাল সন্ধা হরতাল ডেকেছে। আগামিকাল শুক্রবার দোয়ার আয়োজন করেছে। শনিবার দিন তারা বিক্ষোভ করবে। রবি ও সোম বার সকাল সন্ধা হরতাল। ঠিক আছে এই কর্মসূচি নিয়ে কোন দ্বিমত নাই।

এই দেশে হত্যা ,খুন নতুন কোন ঘটনা নয়। দুই দলের সংঘর্ষে প্রতিদিনই কিছু না কিছু হত্যা কাণ্ড ঘটে। আজ আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপেও সংঘর্ষ হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা আমরা স্বাভাবিক হিসেবেই নিতে শিখে গেছি।
কিন্তু কথা হলো আজ বিকালে তারা কেন পথে এই তাণ্ডব করলো? কেন পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমন করে তিনজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করলো? কেন অস্ত্র লুট করলো? কেন হামলা হলো হিন্দু বাড়িতে, কেন লুট হলো মন্দির?

সব শেষে ফলাফল কি দাঁড়াল পুলিশের গুলিতে নিহত ৪৪জন। এর দায় কে নেবে? সরকার নেবে নাকি জামাত নিবে? সরকার তার দেশের মানুষের সম্পদ রক্ষার জন্যই তৈরী করেছে পুলিশ বাহিনী।অতীতের কয়েকটি ঘটনায় দেখেছি জামাত শিবির কর্মীরা অকারণে পুলিশের উপর আক্রমন করছে। এই খবর মিডিয়াতে খুব স্পষ্ট ভাবেই দেখতে পেয়েছি। কিছু মানুষে ক্ষোভ ছিল কেন পুলিশকে গুলি করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। কেন এই জনগনের পুলিশ জামাতী কুলাঙ্গারদের হাতে মার খাবে?

এই জামাত শিবির কুলাঙ্গারদের জন্য আজকের এই ৪৪ লাশ আমাদের দেখতে হলো। তারা জামাতের কর্মী হলেও পুলিশের গুলিতে একদিনে এত মানুষের মৃত্যু কোন ভাল কথা নয়। কেবল মৃত্যুই তো শেষ নয় এই লাশ হয়তো কারো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আজ বিএনপির এক বিবৃতিতে এই নিদর্শন দেখা গেল।

পুলিশ যে বাধ্য হয়ে গুলি করেছে এটা সত্য। আর জামাত শিবির যে পুলিশের উপর আক্রমনে উস্তাদ তার প্রমাণ তো আছেই। কিন্তু এই মৃত্যুর সংখ্যাটা এতটা বাড়তে দেয়া কি ঠিক হলো? আমার ধারনা যদি গুলি গুলো আগের মতো হাঁটুর নিচে করা যেত! যদি রাবার বুলেটে ই তাদের নাস্তানাবুদ করা যেত! হয়তো সম্ভব ছিল। এই দেশে পুলিশ অদক্ষতার পরিচয় আগেও দিয়েছে। আমি মনে করি আজও তারা অদক্ষতার পরিচয় দিল। পুলিশ তো গুলি করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করল। কিন্তু সরকার তো এত সহজে এর দায় থেকে মুক্তি পাবে না।

বিশ্ব মোড়লদের কাছে আগেই কেঁদেকেটে গুলজান বিবি চিঠি লিখেছেন। চুদির রহমান তার পশ্চাৎদেশে ধর্মীয় উস্কানি অব্যহত রেখেছে। আর মাথাহীন বিএনপি জামাতের পেইড দালাল হিসেবে বিশ্ব মিডিয়ার কাছে হাত বাড়াবে? ভোটের রাজনীতির জন্য হয়তো বিএনপি রবি এবং সোম বার দিন হরতালকে সমর্থন দিবে। আগেও দিয়েছে এবার যদি মাঠেও নেমে যায় অবাক হওয়ার কিছু নাই। নামতেই পারে। পরিস্থিতিটা তখন ঘোলাটে হতে বাধ্য? আমাদের হয়তো আবার অন্ধকার দিকে যেতে হবে? আর যদি বিএনপি শেষ মূহুর্তের সঠিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দেশের জন্য শেষ ভালোবাসাটি দেখাতে পারে। তাহলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সহজ পথেই সম্ভব।

বন্ধুর সাথে বন্ধুত্বও চির ধরে। সব আপনই পর হয়। সব আত্মীয়ই একদিন শত্রু হতে পারে। তাই সব সময়ই সাবধান থাকতে হয়। আজকে যে বিএনপি জামাতের সাথে এত পিরিত দেখাচ্ছে, তারও কিন্তু শেষ আছে।আজকে যে ধর্মীয় উগ্রামী ব্যবহার করে বিএনপি ফায়দা লুটবার চেষ্টা করছে তারও কিন্তু পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিএনপির দলের লোকজন যতই ধর্মের কথা বলুক তারা বেশির ভাগই কিন্তু ধার্মিক না। যদিও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে হলে ধার্মিক হওন লাগে না। কিন্তু একটা রিক্স কিন্তু থেকেই যায়। আজকে যে কালসাপ আঁচলের তলে শত্রুকে ভয় দেখানের জন্য রাখলেন কালকে কিন্তু সেই ছোবল দেবে। আপনারা ছোবল খেলে সমস্যা নেই। কিন্তু সেই বিষের জ্বালা কিন্তু সাধারণ জনগণকেই ভোগ করতে হয়।

তবু আশাবাদ থাকবে।আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। ঘুরে ফিরে আওয়ামীলীগ আর বিএনপিই ক্ষমতায় আসতেছে হয়তো আবারও আসবে। তাই দেশের জন্য মানুষের জন্য একটিবার অন্তত সুস্থ চিন্তা করুন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের দিকে তাকিয়ে মিলে মিশে জামাত শিবির কালপ্রিট প্রতিহত করুন(বিএনপি)।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন।

  1. জামাতের নেতৃত্ব কিন্তু
    জামাতের নেতৃত্ব কিন্তু চাচ্ছেই লাশ পড়ুক। নেতাদের নিজেদের পোলাপাইনের লাশ তো পড়ছে না, পড়ছে শহীদ হওয়ার বিষ গেলানো কর্মীরা। এইসব বোকাচোদা কর্মীগুলা নিজেও জানেনা তাদের নেতারা চায় তারা লাশ হোক। সাঈদীর পোলা তো দুই মিনিটের একখান লেকচার দিয়াই ঘরে ফিরে গেছে। কিন্তু আবাল গেলমানগুলা নিজের জান দিয়ে দিতেছে। সরকারকে আরও কৌশলী হতে হবে। কারন এসব লাশ নিয়ে জামাত এখন বিশ্ব মিডিয়া কাঁপিয়ে বেড়াবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

57 − 56 =