উপলব্ধি

জামায়াত বলে, তারা ইসলামি দল। নিজেদের ছাত্র সংগঠনকে (শিবির) বোঝায় তারাই ইসলামের রক্ষক। তারা না থাকলে এ দেশ থেকে ইসলাম উধাও হয়ে যেত, এবং যারা উধাও করত তারা হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

এই দাবি যখন করে জামায়াত, তখন তারা পাশে থাকে বিএনপির। যেই বিএনপির প্রধান আওয়ামী লীগের মতই এক নারী। যেই বিএনপি আওয়ামী লীগের মতই গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোতে বিশ্বাসী। কিন্তু নারী নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র, দুটোই ইসলামে হারাম। জামায়াত ‘ইসলাম রক্ষায়’ নিয়োজিত হয়েছে দুই হারামকে সামনে রেখে।

ইসলামকে পুঁজি করে আজীবন ভুল সিদ্ধান্তের রাজনীতিই করেছে দলটি। ৪৭ সালে তারা ভারত ভাগের বিরোধীতা করে, ৭১ এ বিরোধীতা করে পাকিস্তান ভাগের। বিরোধীতা করে থামলেও হত; মুখে দাঁড়ি রেখে, মাথায় টুপি লাগিয়ে, ইসলামের নাম তুলে খুন, লুণ্ঠন, ধর্ষণ সবই করেছে। যুদ্ধের উত্তাল সময়কে হয়ত এর পেছনে তারা যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এসব যে করেছে, তার জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনাবোধ তাদের মধ্যে হয় না। বরং ইসলামেরই নাম করে বড় গলায় চেঁচিয়ে যায়।

জামায়াতের মধ্যে নেই ন্যূনতম পরমতসহিষ্ণুতাবোধ। নেই অন্যকে বোঝানোর চেষ্টাও। নিজেদের মতের বাইরে গেলেই মুনাফিক, মুশরিক অথবা নাস্তিকসহ ইচ্ছামত লেবাস তারা পরিয়ে দেয়।

তারা রাজনৈতিক সভা করতে পারে, মিটিং-মিছিল, প্রেস ব্রিফিং সবই করতে পারে। কিন্তু ইসলামিক ইভেন্টগুলোতে কোন আয়োজন করে না। যদি করেও, তার প্রচার করে না। প্রচার শুধু হয় তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেরই। এ কারণেই বাংলাদেশের কোন ইসলামী দল জামায়াতকে পছন্দ করে না।

আওয়ামী লীগ ইসলাম শেষ করে ফেলছে বলে চিন্তিত এই দলটির আমেরিকাকে নিয়ে কিন্তু কোন সমস্যা নেই। যেই আমেরিকা আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিসর, পাকিস্তান শেষ করে এখন ইরাকের দিকে এগুচ্ছে; হরতালে তাদের গাড়িতে ইটের কণা ফেলেই তারা ক্ষমা চেয়ে, আগ বাড়িয়ে জরিমানাও দিয়ে দিবে বলে।

কিন্তু এ জাতির কাছে তারা ক্ষমা চায় না। ক্ষমা চায় না ৭১ এর অপরাধের জন্য, ক্ষমা চায় না হরতালে নিরীহ মানুষ মারা কিংবা সম্পদ নষ্ট করার জন্য। ঠিকই এসব করতে গিয়ে নিজেদের কর্মী মারা গেলে তাকে ‘শহীদ’ উপাধি দিয়ে দেয়।

জোকার, বর্বর ও অসহিষ্ণু, ইসলামের নাম তুলে চলা এই দলটি অনেকটা বিচ্ছিন্নতাবাদী দলে পরিণত হয়ে গেছে। হতই, যে ভ্রান্ত নীতিতে অন্ধ হয়ে ক্ষমতার মোহে তারা মোহিত ছিল, এমনই হত তাদের।

প্রিয় সহযোদ্ধারা,

একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে বাঁচাবার জন্য জামাত-শিবির সারাদেশে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ।দায়িত্বরত পুলিশ, নিরীহ মানুষ, মন্দির, গির্জা, সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি সবকিছুর উপর সশস্ত্র আক্রমন চালাচ্ছে। এসব জঙ্গি কার্যক্রম সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়ান। ৩০ লক্ষ শহীদের দেশ বাংলাদেশ জঙ্গিদের নয়, লালনের বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধীদের আস্তানা নয়।এটা আমাদের নিজেদের লড়াই, আমাদেরকেই লড়তে হবে।

জয় বাংলা………

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “উপলব্ধি

  1. একজন দণ্ডপ্রাপ্ত

    একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে বাঁচাবার জন্য জামাত-শিবির সারাদেশে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ।দায়িত্বরত পুলিশ, নিরীহ মানুষ, মন্দির, গির্জা, সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি সবকিছুর উপর সশস্ত্র আক্রমন চালাচ্ছে। এসব জঙ্গি কার্যক্রম সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়ান। ৩০ লক্ষ শহীদের দেশ বাংলাদেশ জঙ্গিদের নয়, লালনের বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধীদের আস্তানা নয়।এটা আমাদের নিজেদের লড়াই, আমাদেরকেই লড়তে হবে।

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. চমৎকার লিখেছেন। জামাত-শিবিরের
    চমৎকার লিখেছেন। জামাত-শিবিরের আসল রূপ মানুষ দেখছে। যারা এতদিন শিবিরের ভাইয়াদের মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে আর বিভিন্ন হাদিয়া তোহফা পেয়ে বলত- শিবির খুব ভালু, তারা এখন দেখুক এদের আসল চেহারা। এরা ভুলে যায়, সাপ সার্বক্ষনিক ফনা তুলে রাখেনা, সময় হলেই তোলে আর ছোবল মারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + = 9