প্রকৃতি ভালোবাসেন? লাঠি হাতে এগিয়ে আসুন!

মাত্র ৬০ টাকা পুঁজি নিয়ে ৭ম শ্রেণীর ছাত্র তবারক হোসেন কুসুম একটি স্বপ্ন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নামেন তিন যুগ আগে। চাচার দেয়া জমির ওপর প্রথমে কাজ শুরু করেন তিনি। স্বপ্ন ছিল একটি মনোরম উদ্যান গড়ে তোলা। বাবা জমি দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় ঘর ছেড়ে দেন সেদিনের ছোট্ট কিশোর ছেলে কুসুম। দীর্ঘ ছয় বছর বাড়ির ভাত মুখে তোলেননি তিনি। অবশেষে তার সংগ্রাম সফল হয়। বাবা তার ৬০ বিঘা জমি তুলে দেন ছেলের হাতে।

শত প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে থাকেন কুসুম। সংগঠিত করেন যুবকদের। প্রতিষ্ঠা করেন সমবায়ভিত্তিক সংগঠন অগ্রপথিক পল্লী সমিতি। সকলের চেষ্টায় তিলে তিলে গড়ে ওঠে স্বপ্নের উদ্যান। অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অগ্রপথিক পল্লী সমিতি সামাজিক দায়বদ্ধতায় দান, ক্রয় ও লিজের মাধ্যমে ১৫০ বিঘা জমি সংগ্রহ করে এ পার্কটি গড়ে তোলে।

অগ্রপথিক পল্লী সমিতির তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা পার্কটির নাম দেয়া হয় ঐকতান। আজকের যুগে সর্বত্র দেখা যায় ইট, কাঠ, পাথরের থাবায় মুমূর্ষু প্রকৃতি। সেখানে ঐকতান পার্কটি যেন প্রকৃতিরই এক অভয়ারণ্য। এখানে রয়েছে দুই হাজার চার শ’ প্রজাতির গাছপালা। পার্কের চারপাশে তৈরি করা হয়েছে মনোরম হ্রদ।

বিদ্যালয়, পাঠাগার, খেলার মাঠ, মসজিদ-মক্তব, ঈদগাহ, কবরস্থান, ক্লিনিক, সমিতির কার্যালয় আর প্রয়োজনীয় ও সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় পরিপূর্ণ এই পার্কটি। হ্রদে ঘেরা হাজারো প্রজাতির গাছে পরিপূর্ণ এই পার্কটি টিলা, ঝর্ণা, অরণ্য সমন্বিত অনন্য এক প্রাকৃতিক নিসর্গ। কাঠের মনোরম কটেজ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেস্তোরাঁ সবই গড়ে তোলা হয়েছে এখানে।

পার্কটির পরিচালনা ব্যবস্থা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই পার্কটি। প্রতি দুই বছর অন্তর অগ্রপথিক পল্লী সমিতির নির্বাচন হয়। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থিতার কোনো বিষয় থাকে না। সদস্যরা যে কাউকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করতে পারেন। পার্কের ব্যবস্থাপনা এমন যে, প্রতিষ্ঠাতা বা নির্বাচিত সভাপতি যেই হোন না কেন প্রত্যেক সদস্যকে মাসে অন্তত একদিন পার্কের রাত্রিকালীন পাহারাদারের কাজ করতে হয়। মাসে অন্তত একদিন প্রতি সদস্যকে পার্কের বিভিন্ন স্থানে থাকা টয়লেট পরিষ্কার করতে হয়। পার্কের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাবার সময় সামনে কোনো আবর্জনা পড়লে তা তুলে ময়লা রাখার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হয়। এ কাজটি না করলে অন্য কেউ যদি অভিযোগ করেন তাহলে জরিমানা গুনতে হয় ওই সদস্যকে। প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা পাঠাগারে পড়াশোনার কাজে সময় কাটাতে হয় প্রতি সদস্যকে। না করলে এক্ষেত্রেও রয়েছে জরিমানার ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রায় তিন হাজার সদস্য রয়েছে এই পার্কটিতে।

পার্কে অবস্থিত গাছগুলোর কোনো ফল বিক্রি করা হয় না। দিনের বেলা কোনো ফল যদি কারো সামনে ঝরে পড়ে তাহলে ফলটি তিনি নিতে পারবেন। কিন্তু ফল গাছ থেকে পাড়তে গেলে কর্তৃপক্ষ বাধা দেবেন। রাতে যে সমস্ত ফল পড়ে সেগুলো পার্ক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সদস্যদের। দর্শনার্থীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে অবস্থান করতে পারবেন। সূর্যের আলো নিভে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বের হয়ে যেতে হবে। তবে স্কুল বা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাকসমেত পার্কে প্রবেশ নিষেধ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাদ দিয়ে বেড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা। বয়সভেদে দর্শনার্থীদের প্রবেশমূল্য ২০, ৩০ ও ৫০ টাকা।

এই পার্কেই উদযাপিত হয় বৈশাখী মেলা। সেজন্য পার্কের মধ্যে মাটি ফেলে ঘাস লাগিয়ে এবং নানা ফুল গাছের সমারোহে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ একটি বেদি। এই বেদিটি ব্যবহৃত হচ্ছে মঞ্চ হিসেবে। পার্কের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে শালবন। সাধারণত শালবনকে ধরা হয় প্রকৃতির দান। গাছ লাগিয়ে শালবন তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব বলে বিবেচিত হয়। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে অগ্রপথিক পল্লী সমিতি। তিন বছরের প্রাণান্তকর চেষ্টায় বারবার গাছ লাগানো, বারবার মরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এই শালবন। লবণ পানির এলাকা না হলে ঝাউবন হয় না। পার্কের সদস্যরা তাই মাটিতে লবণ মিশিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ঝাউবনও গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছেন।

পার্কের চারপাশ ঘেরা হ্রদে চাষ করা হয় বিভিন্ন ধরনের মাছ। এসব মাছ বছরে একবার বিক্রি করা হয়। ঠিক বৈশাখী মেলার আগের দিন বসে মাছ বিক্রির এক বিশেষ মেলা। এ থেকে পার্কের কিছু আয় হয়। এছাড়া নাটকের শুটিংয়ের জন্য কটেজ ভাড়া দিয়ে এবং দর্শনার্থীদের টিকেট থেকেও আয় আসে পার্কের। বছরে ২২ থেকে ২৫ লাখ টাকার মতো আয় হয় এখানে। কিন্তু ব্যয়ের তালিকা আরো বড়। সমিতির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পার্কের বাইরেও লিজ নেয়া আরো কিছু জমি আছে। সেগুলোর আয় এনে পার্কের ঘাটতি মেটানো হয়।

বাইরে থেকে পার্কের নানা স্থাপনা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা দেখে অনেকেই ধারণা করেন এখান থেকে হয়ত অনেক আয় হয়। আর সেটাই পরিবেশবান্ধব এই পার্কটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় একটি গোষ্ঠী সমিতির কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করে। সমিতি তা দিতে অপারগ হওয়ায় ক্ষোভ পুষে রাখে তারা। পার্কের তিন হাজার সদস্যের বিশাল বাহিনীর সঙ্গে না পেরে তারা অপেক্ষার প্রহর গুনে সময় কাটায়।

তাদের অপেক্ষা সার্থক হয় যখন এই অঞ্চলে রাজউক আসে পূর্বাচল প্রকল্প নিয়ে। ওই কুচক্রী গোষ্ঠী রাজউককে পার্কটি অধিগ্রহণের পরামর্শ দেয়। রাজউকও সাদরে তা গ্রহণ করে। কোনো অর্থ ব্যয় না করে প্রকল্পের মধ্যে যদি এরকম একটি পরিবেশবান্ধব পার্ক পাওয়া যায় তাতে ক্ষতি কি। বরং এজন্য পূর্বাচল প্রকল্পটি হয়ে উঠবে আরো বেশি আকর্ষণীয়। ১৯৯৩ সালে পূর্বাচল প্রকল্পের একেবারে শেষাংশে পার্কটিকে যুক্ত করে ব্রোশিয়ার তৈরি করে তারা। জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু করে দ্রুত গতিতে।

পার্ক বাঁচাতে সমিতির সদস্যরা অনেকের কাছে ছুটে যান। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। রাজউক তাদের বলে জমি তো আমরা নিয়ে নিয়েছি। এখন তোমরা তোমাদের টাকা তুলে নাও। টাকা নিলে যা হবে, না নিলেও এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। এও বলা হয়, পার্ক যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। সমিতিকেই পরবর্তীতে পার্ক পরিচালনার দায়িত্বে রাখা হবে।

বাধ্য হয়ে সমিতির সদস্যরা জমি অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে পাওয়া টাকা তুলে নেন। অনেকে এখনো টাকা তোলেননি। টাকা দেয়ার ক্ষেত্রেও রাজউকের চাতুরী চোখে পড়ার মতো। এমন স্থাপনা, উদ্যানের মূল্য বিঘাপ্রতি মাত্র ২০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। রাজউকের পক্ষ থেকে বলা হয়, পার্ক তো তোমাদেরই থাকছে। শুধু সরকার জমিটুকু তার ব্যবস্থাপনায় নিচ্ছে বলে তোমাদের কিছু টাকা দেয়া হচ্ছে। সব তো তোমাদেরই। বেশি টাকা তোমরা নেবে কিভাবে। এভাবেই ১৯৯৩ সালে দখল হয়ে যায় অনিন্দ্যসুন্দর এই পার্কটি।

অধিগ্রহণের পর রাজউক বেশ কিছুকাল চুপচাপ বসে থাকে। পূর্বাচল প্রকল্পই তখন ঝিমুচ্ছিল। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পূর্বাচল প্রকল্প আবার জেগে ওঠে। সেই সঙ্গে জেগে ওঠে রাজউক। রূপগঞ্জের স্থানীয় দুর্র্বৃত্তদের মুখে হাসি ফোটে। হঠাৎই একদিন চিঠি আসে, ১০ দিনের মধ্যে সব স্থাপনা পার্ক থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। ১০ দিন বাদে রাজউক এসে উচ্ছেদ করবে সমিতিকে। পার্ক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে রাজউক। সমিতির সদস্যদের তো এই খবর শুনে মাথায় হাত। ছোটাছুটি শুরু করেন তারা।

রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে পার্কটি দেখতে আমন্ত্রণ জানান। তারা পার্কে আসতে অসম্মতি জানালে সমিতি পার্কের বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনার ছবি তুলে নিয়ে যান। সেই ছবিগুলো দেখে রাজউকের কর্মকর্তা এবং তৎকালীন সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা আগ্রহী হন। তারা উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে কয়েক দফা পার্ক পরিদর্শনে আসেন। তখন তারা পার্ক এই অবস্থায় থাকবে বলে আশ্বাস দেন এবং ঐকতান নাম বদলে পার্কের সংশ্লিষ্ট জিন্দাগ্রামের নাম অনুযায়ী পার্কটির নাম জিন্দাপার্ক রাখার প্রস্তাব করেন। অগ্রপথিক পল্লী সমিতি এই দাবি মেনে নিয়ে পার্কের নাম বদলে জিন্দাপার্ক নামকরণ করেন।

এরপর আবার ২০১০ এ পার্কটি দখলের চেষ্টা চালায় রাজউক। কিন্তু স্থানীয় জনগণ এবং পরিবেশবাদিদের উদ্যোগে সেই যাত্রায় রক্ষা পায় পার্কটি। এরপর পার্কটি এগিয়ে চলছিল ঠিকঠাকভাবেই কিন্তু সম্প্রতি আবার সেই ভূত সওয়ার হয়েছে রাজউকের ঘাড়ে। ২ মার্চ রাজউক পার্কটি উচ্ছেদ করতে আসবে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পার্ক দখল চেষ্টার প্রতিবাদে তখন এলাকার শত শত ছাত্র, শিক্ষক, নারী পুরুষসহ হাজার হাজার মানুষ জিন্দাপার্ক এলাকায় জনসমাবেশ, মানববন্ধন ও রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। পঙ্কজ ভট্টাচার্য, আবু নাসের খান, মিহির বিশ্বাস, মিতালী হোসেনসহ পরিবেশবাদি ও শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের অনেকেই এতে অংশগ্রহণ করেন। ইতোপূর্বেই বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল লোহানীর নেতৃত্বে জিন্দাপার্ক রক্ষা ও উন্নয়ন কমিটি করা হয়। আন্দোলনকারিদের পাশে দাঁড়িয়েছে বেলা, বাপা, পবা’র মতো পরিবেশবাদি সংগঠনগুলো।

আন্দোলনকারীদের মতে, পার্ক বা মাঠ রক্ষায় রাজউক আজ পর্যন্ত কোনো দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারেনি। মূল উদ্যোক্তাদের অপসারণ করা হলে পার্কটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা আর থাকবে না। ফলে ইকোলজি নষ্ট হবে, বিনোদনের বিপরীতে বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা পাবে। পূর্বাচল প্রকল্পে অনেক ভিটেমাটিহারা মানুষ এ পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে জড়িত। ফলে বিরাট সংখ্যক মানুষের কর্মক্ষেত্র নষ্ট হবে। বিগত ৩০ বছরের হাজারো মানুষের বিনিয়োগ, শ্রম, মেধার অপূর্ব নিদর্শন জিন্দাপার্ক রক্ষায় ও এর যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূল উদ্যোক্তাদের কাছেই রাখতে হবে।

রাজউকের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। এরকম প্রতিষ্ঠান পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। তারা তাদের কাজ বাদ দিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়ার জন্য স্পট খুঁজে বেড়াচ্ছে। রাজউকের নীতিমালা সংশোধন করে তাকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া উচিত। রাজউক আজ পর্যন্ত একটি ভালো কাজ করে দেখাতে পারেনি। তাদের হাতে যা গেছে তাই ধ্বংস হয়েছে।

রাজউক আজ এই পার্কের নাম বদল করে শেখ রাসেলের নাম নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ফন্দি এঁটেছে। আসলে এখানকার মানুষকে উত্তেজিত করে রাজউকে থাকা কিছু অসৎ ব্যক্তি ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। সরকারের মধ্যে থাকা কিছু অসৎ লোক এতে উষ্কানি দিচ্ছে। যারা পরিবেশ, প্রতিবেশ, প্রকৃতি নিয়ে ভাবেন, তাদের আজ কথা বলতেই হবে। এই স্বাপ্নিকদের পাশে দাঁড়ান। লাঠি হাতে এগিয়ে আসুন। অন্যায় রুখে দাঁড়ান। প্রকৃতি বাঁচান। দেশ বাঁচান। মানুষ বাঁচান।

ছবিগুলো তুলেছেন কাজী তাইফুর।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৯ thoughts on “প্রকৃতি ভালোবাসেন? লাঠি হাতে এগিয়ে আসুন!

  1. পার্ক বাঁচতে হবে যে করেই হোক।
    পার্ক বাঁচতে হবে যে করেই হোক। মানুষের নিঃশ্বাস নেয়ার যায়গা এভাবে ধ্বংশ হতে দেয়া যায় না। সাথে আছি

  2. ঘাস ফুলকে তুলে এনেছেন ড্রয়িং
    ঘাস ফুলকে তুলে এনেছেন ড্রয়িং রুমে। চমৎকার উদ্যোগ, চৎমকার লেখা।

    রাজউক আজ এই পার্কের নাম বদল করে শেখ রাসেলের নাম নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ফন্দি এঁটেছে। আসলে এখানকার মানুষকে উত্তেজিত করে রাজউকে থাকা কিছু অসৎ ব্যক্তি ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। সরকারের মধ্যে থাকা কিছু অসৎ লোক এতে উষ্কানি দিচ্ছে। যারা পরিবেশ, প্রতিবেশ, প্রকৃতি নিয়ে ভাবেন, তাদের আজ কথা বলতেই হবে। এই স্বাপ্নিকদের পাশে দাঁড়ান। লাঠি হাতে এগিয়ে আসুন। অন্যায় রুখে দাঁড়ান। প্রকৃতি বাঁচান। দেশ বাঁচান। মানুষ বাঁচান।

    কিন্তু এ প্যারাটার সাথে কেন যেন মিলছে না নিজের মত। শেখ রাসেলের নামে শিশুদের তৈরি একটা পার্ক হলে ক্ষতি কি? আমার তৈরি একটা পার্ক বা এ জাতিয় কিছু বঙ্গবন্ধু বা বেগম মুজিবের নামে হলে নিজে গর্বিত হবো। ঐ শিশুদের ব্যাপারটা বোঝাতে পারলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ভাল থাকুন দাদা।

    1. আপনি আমার তৈরী করা কোন
      আপনি আমার তৈরী করা কোন প্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিককরণের পক্ষে কিভাবে বলছেন? রাসেলের নামে যদি এই রকম কোন প্রজেক্ট করতেই হয় সেটা সরকারই করুক। ব্যক্তিগত কোন উদ্যোগকে উদ্দ্যোক্তার আপত্তি ছাড়া কিভাবে নাম পরিবর্তন করার চিন্তা করছেন? সংবিধানের কোন ধারায় এই অধিকার আপনাকে দিয়েছে। আর রাসেলের পরিচয় একমাত্র বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে। স্বাধীন বাংলাদেশে তার কোন ধরনের অবদান আছে বলে আমার জানা নাই। তবে শিশু রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যাকে কোনভাবেই সমর্থন করিনা।

      আপনি দেখি পুরাই দলকানা লজিক্যাল ম্যান!

      1. রাজউক বা সরকারি একটি জমি কেউ
        রাজউক বা সরকারি একটি জমি কেউ তাদের ইচ্ছেমত পার্ক বানাতে পারে? নিজেদের জমিতে বানায় না কেন? এদেশে এরকম বহু মসজিদ-মাদ্রাসা সরকারি জমিতে বানাতে আমরা অহরহ দেখছি, তার পেছনে অনেক কথিত ঘটনাাও আমরা কমবেশি জানি। জানিনা এরূপ স্বরূপ কি? যদিও আজ রাজউক এ পার্কের ব্যাপারে “অবৈধভাবে সরকারি জমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারেরর” বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

        আর এ জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর কোন ঋণ নেই? তো তার নিষ্পাপ শিশুর নামে একটা কিছু হলে আমরা মানতে পারিনা কেন? এটা কি দলকানা হলো? যতই “দলকানা” বলুন, এ জাতির জন্য বঙ্গবন্ধু, তাঁর পিতামাতা, স্ত্রী ও পরিবারের ঋণ বাঙালি শোধ করলেই কেবল সে কৃতজ্ঞ হবে, অন্যথায় অকৃতজ্ঞই থেকে যাবে ইতিহাসের কাছে। ধন্যবাদ

        1. রাজউক বা সরকারি একটি জমি কেউ

          রাজউক বা সরকারি একটি জমি কেউ তাদের
          ইচ্ছেমত পার্ক বানাতে পারে? নিজেদের
          জমিতে বানায় না কেন?

          পোস্টে তো পড়লাম বানানো পার্ক রাজউক নিল!!

          হ্যাঁ বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকার করবার মত নয় এটা ঠিক।

          1. শেখ রাসেলের নামটা খুবই
            শেখ রাসেলের নামটা খুবই প্রাসঙ্গিক। এটা বলে যে কোনো অকর্ম হালাল করা যায়। জিন্দা পার্ক দখল করে শেখ রাসেলের নাম দিলে এটা আর দখল হবে না, এটা তখন হয়ে যাবে উদ্ধার!

            আর মি. লজিকাল সম্ভবত পুরা পোস্টটি না পড়েই মন্তব্য করেছেন। কারণ পার্কটা সরকারের জায়গায় করা হয়নি। তারা নিজেদের জায়গাতেই করেছিল। পরে সরকার চাতুরি ও জোরপূর্বক এটা অধিগ্রহণ করেছে।

        2. @ মিঃ লজিক্যাল
          @ মিঃ লজিক্যাল ম্যান,
          বঙ্গবন্ধুর অবদানকে কিভাবে আমি খাটো করলাম? আর শিশু রাসেলের নির্মম হত্যাকে আমি সমর্থন কোথায় করলাম। ইস্টিশন দলবাজির জায়গা না। আর পোস্টের কোথাও এই কথাটা লেখা নেই যে জায়গাটি রাজউকের ছিল। পুরা দেশের নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু দেশ করে ফেলেন। এটাই এখন বাকি আছে। বঙ্গবন্ধু বাণিজ্যিক কোন জিনিস না, এটা একটা প্রেরণা ও আদর্শের নাম। আর বর্তমান আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক স্বার্থে বাণিজ্যকরণে লিপ্ত। এতে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করার চেয়ে সম্মানহানি হচ্ছে বলে মনে করি।

          আমি দলবাজি না, আদর্শকে সম্মান করি। অন্ধরাই দলবাজি করে। দলীয় অন্ধদের থেকে সব সময়ই দুরে থাকি।

  3. আজ এ বিষয়ে রাজউকের বিশাল
    আজ এ বিষয়ে রাজউকের বিশাল বিজ্ঞাপন দেখলাম যে, কতিপয় ব্যক্তি সেখানে অবৈধ বাণিজ্য করছে বিধায় রাজউক তা পার্ক হিসেবে উদধার করে পার্কই রাখতে চাইছে। এলাকার জনগণের সহায়তা চায় রাউজক এ ব্যাপারে। দেখা যাক সত্য মিথ্যা!

    1. একটি ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগকে
      একটি ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগকে রাজনৈতিক করনের সকল অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐখানকার মানুষই দাঁড়াবে।

  4. সবকিছু নিয়েই ধান্দাবাজি না
    সবকিছু নিয়েই ধান্দাবাজি না করলেই কি না। একটা পার্ক নিয়েও নোংরা রাজনীতি করাই চায়? ধিক্কার জানানোর ভাষা নাই। আর শেখ রাসেলের নাম দেখেই যারা খুশীতে আটখানা হচ্ছেন তারা জীবনেও বুঝবে না এর পেছনের ধান্দাবাজিটা কোথায়। যদি সত্যিই শেখ রাসেলকে মন থেকে সম্মান জানাতে চান, তাহলে অন্তত কোন ধান্দাবাজির সাথে ঐ নিষ্পাপ শিশুটির নাম জড়ানর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 68 = 74