বিএনপি’র কাঙ্খিত সংবাদ সম্মেলন আরও কিছু কথা……….

অবশেষে আরম্ভ হলো কাঙ্খিত বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী তারেক-কোকোর মায়ের সংবাদ সম্মেলন……….. সেই পুরানো নিয়মে লিখিত স্বশিক্ষিত নেত্রীর রেকর্ড…কি সুন্দর বক্তব্য! শুনলে মন জুরিয়ে যায় ! কোথায় ছিলেন খালাম্মা! আজ জীবণ ধন্য হলো…….. এতদিন বিভিন্ন মানুষের মুখে শুনেছি তিনি নাকি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের অতিথি ছিলেন। কখনও শুনি তিনি নাকি বিরঙ্গনাও! জিয়া সাহেবের সাথে তার সংসারটা টিকে ছিল নাকি বঙ্গবন্ধুর আশির্বাদে…. সেই বঙ্গবন্ধুর শাহাদত দিবসে নতুন করে তিনি জন্ম দিন পালন করে থাকেন… কি বিচিত্র এই নেত্রী। জিয়া সাহেবের সাথে তার সংসার যদি না টিকতো তাহলে কি তিনি এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন ? তার অনুপস্থিতিতে ফকরুল সাহেবসহ তার চামচারা বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, বিএনপিই যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দাতা। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের পুরস্কৃত করা, মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতি চিহ্ন বা তথ্য প্রমানাদি মুছে ফেলার অপকৌশল নতুন প্রজন্মের কাছে ধরা পড়ে গেছে । তারা কাকের মত চোখ বন্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের সকল তথ্য প্রমানাদি ধ্বংস করে মনে করেছিলেন, কোথায় পাবে তথ্য প্রমান, কেই বা করবে বিচার। কিন্তু আপনারা ভূলে গেছেন ইতিহাস! ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা। তার উপর তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে কোথায় কি তথ্য পাওয়া যায় সেটা ৪০ দশকের আপনাদের মাথায় না ঢুকলেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে ছেলের হাতের মোয়া। যত ঘুরিয়েই বলুন না কেন নতুন প্রজন্ম ঠিকই ধরে নিয়েছে আপনার দলের অবস্থান। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জিতে আপনার দলের অনেক বড় বড় নেতাদের মুখে হরহামেসাই শুনেছিলাম দেশের জনগণ আপনাদের আগামী ৫০ বছরের জন্য গ্যারান্টি দিয়েছে। কিন্তু ২০০৮ এর নির্বাচনের ফলাফল দেখুন একেবারে ২৭টি আসন………….. কি অবাক হয়েছিলেন ? হওয়ারই কথা! কারণ ক্ষমতায় থাকলে চারপাশের চামচারা কোন সময় বুঝতেই দেয়না পাবলিক কি চায়! জনপ্রিয়তা নেমে যাচ্ছে নাকি বাড়ছে? এই চামচারাই আপনার পোলা দুইডারে বিপথে নিয়ে গেছে । যার কারণে এ দেশের নাগরিক হয়েও বিদেশের মাটিতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ২০০১ পরবর্তী সময়ে জামাতিদের সাথে সরকার পরিচালনার সময় আপানার চামচারা ব্যস্ত ছিল লুটপাটের মাধ্যমে রোজগারে, সেই সুযোগে আপনার জোটের জামাতিরা নিজেদের অবস্থান পাকা করতে ব্যস্ত ছিলেন। তাই জামাতিদের ছাড়া আপনি একা চলতে ভয় পাচ্ছেন। জনমত বলে, এখনও সময় আছে বিএনপি’র একা চলার। যুদ্ধাপরাধীদের সাথে যুক্ত থাকায় আপনার দলের জনপ্রিয়তা নামতে শুরু করেছে। হিসাব করে দেখুন কারা এই শাহবাগ চত্ত্বর চালাচ্ছে? এই নতুন প্রজন্ম যাদের কল্যাণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটকে জিতিয়েছে। হিসাব করে দেখুন আপনার জামাতিদের কত ভোট আছে পুরা দেশে? আর কত ভোট আছে এই নতুন প্রজন্মের? আপনি আরও ভূলে যাচ্ছেন, আপনার পোলা দুইডাও নতুন প্রজন্মের, যাদের উপর নির্ভর করছে ভবিষ্যত রাজনীতি। এবার আসি আপানার ডাকা হরতাল প্রসঙ্গে……….এমনিতেই বিগত বেশ কিছুদিন যাবৎ জনসাধারণ হরতাল অবরোধে অতিষ্ঠ, তার উপর জামাতের ২ দিনের সাথে আরও ১দিন আপনার হরতাল কাকে বাঁচানোর জন্য? জনগণকে… নাকি আপনাদের দোসর জামাত তথা যুদ্ধাপরাধীদের? যত হরতাল আর অবরোধই করেন না কেন, কোনক্রমেই বাঁচাতে পারবেন না যুদ্ধাপরাধীদের, পারবেন না জনমত বাড়াতে! জনগণের পালস্ বোঝার চেষ্টা করেন, নইলে যে জনগণকে রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছেন, সেই জনগণই আবার আপনাকে লাল কার্ড দেখাবে। ……..জয়বাংলা………..

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “বিএনপি’র কাঙ্খিত সংবাদ সম্মেলন আরও কিছু কথা……….

  1. কিন্তু আপনারা ভূলে গেছেন

    কিন্তু আপনারা ভূলে গেছেন ইতিহাস! ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা। তার উপর তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে কোথায় কি তথ্য পাওয়া যায় সেটা ৪০ দশকের আপনাদের মাথায় না ঢুকলেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে ছেলের হাতের মোয়া।

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরা ইতিহাস তৈরী করে। ইতিহাস বদলায়। ভাবতে আশ্চর্য্য লাগে, এই মহিলা বাংলাদেশের তিন তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী!

  2. আমি দিবাস্বপ্ন দেখেছিলাম
    আমি দিবাস্বপ্ন দেখেছিলাম বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে দিয়ে রায়ে ফাঁসী না হবার দায় আম্লিগের উপর চাপাবে । আমি বিএনপি আম্লিগ কোনটারই ভক্ত না । তবু এই স্বপ্ন দেখে ছিলাম জামায়াতকে খুব সহজে রাজনৈতিকভাবে উচ্ছেদের আকাঙ্খা থেকে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

76 − 74 =