মুখেই শুধু ধর্ম,কাজে পুরাই অধর্ম।

শুক্রবার ০৯ জিলহাজ্ব মাস ১০ হিজরী সনে মক্কা নগরীর আরাফাত ময়দানে লক্ষাধিক সাহাবার সমাবেশে মহানবী (সাঃ) তার ঐতিহাসিক ভাষণে বলেনঃ-

“সাবধান! ধর্ম সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করো না। এই বাড়াবাড়িরকারণে তোমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।”

তাইলে জামাতিদের সাথে তাল মিলাইয়া অন্যান্যরা কি এই নির্দেশ জানেনা?

“শুনে রেখো, কারো সম্পত্তি- সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয় তবে তা অপর কারো জন্য হালাল নয়। শিরক করো না। অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যা করো না। ব্যাভিচারে লিপ্ত হইয়ো না। সর্বপ্রকার মলিনতা হতে নিজেকে মুক্ত রেখে পবিত্রভাবে জীবন যাপন করো। চিরদিন সত্যাশ্রয়ী থেকো।”

উপরের একটার সাথেও কি জামাতীদের মিল পাওয়া যায়? প্রথম লাইনে বলা হয়েছে স্বেচ্ছায় না দিলে হালাল নয় তাইলে ৭১ থেকে জামাতীরা যে গনিমতের মাল বলে লুন্ঠন করে যাচ্ছে এই পর্যন্ত, সেগুলোর কি হবে? সাধারণ মুসল্লিদের কে জানাবে এই কথা?
গত কয়দিনে জামাতীরা যে কয়জনকে হত্যা করলো তা কি অন্যায় ভাবে নাকি ন্যায়ভাবে? অন্যায়ভাবে হলে তারা কি মহানবীকে মান্য করলো? যেখানে মহানবী সাবধান বাণী উচ্চারণ করে একইদিনেই বলেছেন

“হুঁশিয়ার! নেতার আদেশ কখনো অমান্য করবে না। “

যদি তারা মহানবীকেই নেতা মানে তাহলে কি করছে তারা?

“মনে রেখো, কোন অনারবীয়দের ওপর আরবীয়দের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, না কোন আরবীয়দের ওপর অনারবীয়দের; না কোন কালোর ওপর সাদার, না কোন সাদার ওপর কালোর। শ্রেষ্ঠত্বের বুনিয়াদ শুধু মাত্র তাকওয়া। “

উপরে নবীজীর কথা থেকেই স্পষ্টতই বুঝা যায় উনি সকল শ্রেণী,জাত-পাতের মানুষকে সমান করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন অথচ জামাতীরা কি বাড়াবাড়ি করে না যে তারা ছাড়া আর কেউ মুমিন নয়?

যতদুর জানি নবীজী বলেছেন কখনোই অন্যধর্মালম্বীদের অবহেলা না করতে,জোর করে ইসলামধর্মালম্বী না করতে বরং দাওয়াত দিতে।

ছোটবেলায় বইতে পড়েছিলাম মহানবী আর বুড়ির গল্প, এখনো যারা যেই গল্প পড়বে তারা সবাই নিশ্চয়ই নবীজী সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করবেন নিশ্চিত,কিন্তু যখন এই জামাতীদের নৃশংসতা,উগ্রতা দেখবে তখন ইসলাম সম্পর্কে কি ধারনা আসবে বলতে পারেন?
আজকে ইসলাম সম্পর্কে কেউ কিছু বললেই খচ করে উঠেন অনেকে,কিন্তু তারা কি জানেন না নবীজী কি বলে গেছেন? নাকি তারা মানেন না নবীজীর কথা? শুধু মুখেই নবীপ্রেমে দিওয়ানা!!

সহজে একটা কথাতেই শেষ করি, ধর্ম মানবতার জন্য,মানব হত্যার জন্য নয়।
আজ সারাদেশে জামাতীরা যা করছে আর সেই সাথে যারাই তাল মিলাচ্ছে তাতে করে জনমানুষের মনে কি আসতে পারে একবার ভেবে দেখবেন কি?
জামাতী এবং তাদের দোসররা যদি আস্তিক হয় এবং শাহবাগীরা যদি নাস্তিক হয় তাহলে কাদের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জনজীবন?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “মুখেই শুধু ধর্ম,কাজে পুরাই অধর্ম।

  1. চমৎকার কাউন্টার দিয়েছো।
    (তুমি

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    চমৎকার কাউন্টার দিয়েছো।
    (তুমি দেখি ইসলামী চিন্তাবিদ হয়ে গেছো!)

      1. ফটোশপ করে পুরুস্কার দেওয়ার
        ফটোশপ করে পুরুস্কার দেওয়ার ঘোষনা দিতে পার। আমারে আরবের শেখ বানাও। তোমার আমি পুরুস্কার দিতাছি। 😀

  2. সুমিতের বড় ভাই নিছে সৌদি
    সুমিতের বড় ভাই নিছে সৌদি বাদশার কাছ থিকা। সুমিত নিবো বারাক ওবামার কাছ থিকা। একটা ব্যাপার আছে না। 😀 😀

    1. মিতু আফা বিলিব ইটা অর নট
      মিতু আফা বিলিব ইটা অর নট :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে:

      এই মাত্র,আরে হ,এই মাত্রই ফুন আইছে হুয়াইট হাউস থিক্ক্যা, হেরা মনোনয়ন দিছে আমারে।

  3. তুমিতো ভুল শুনছো। ভালো
    তুমিতো ভুল শুনছো। ভালো কইরা মনে করো ফোনালাপ। মনোনয়ন দেই নাই। একমাত্র তুমারেই বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচন করছে 😀 😀

  4. মদীনা সনদে স্পষ্টত উল্লেখ আছে
    মদীনা সনদে স্পষ্টত উল্লেখ আছে ,

    যার যার ধর্ম সে পালন করবে এবং রাষ্ট্র সকল ধর্মের মানুষদের সমান নিরাপত্তা দিবে ।

    বাট এই জামায়াত-শিবির শুয়োরের বাচ্চারা একবার যদি মদীনা সনদ আর রাসুল (স) এর জীবনে মন দিয়ে পড়ে অনুধাবন করতো তাহলে আর এইসব হৈতো না ।

    1. আপনি ভুল করছেন, আপনি বোধ হয়
      আপনি ভুল করছেন, আপনি বোধ হয় জানেন না..আল্লাহ বানাইছে ইসলাম আর শয়তান বানাইছে জামায়াত ইসলাম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 4 =