জগন্নাথের আন্দোলন ডোবাচ্ছে ছাত্রলীগ!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল উদ্ধার আন্দোলন থমকে গেছে। শিক্ষার্থীরা সেই উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলেছে। ছাত্রদের অধিকার আদায়ের দাবিতে যারা সক্রিয় থাকে সেই সংগঠনগুলোও দ্বিধাবিভক্ত। আন্দোলনের কোনো প্রতিনিধিত্বশীল কেন্দ্র নেই। শিক্ষকরাও আন্দোলনের সঙ্গে নেই। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশেপাশে বসবাসরত সাধারণ জনগণ এজন্য ছাত্রলীগকেই দায়ি করছে! সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় দুই যুগ ধরে বেদখলে থাকা জবি’র ১০টি হল উদ্ধারের আন্দোলন ছাত্রলীগের কারণে এবারও ডুবতে বসেছে।

আন্দোলনের বর্তমান অবস্থা
জবি’র হল উদ্ধার আন্দোলনের শুরু ২০০৫ সাল থেকে। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি আদায় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্ররা হল উদ্ধারের দাবি তোলে। ২০০৮ সালে এই আন্দোলন কিছুটা গতি পায়। ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি হল উদ্ধারের আন্দোলন সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য। এরপর থেকে প্রতি বছর ২৭ জানুয়ারি হল উদ্ধার আন্দোলন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা।

এবারের আন্দোলন গোড়ার দিকে অনেক শক্তিশালী ছিল। শিক্ষার্থীরা আশাবাদি হয়ে উঠেছিল এই ভেবে যে, প্রতিবার আন্দোলনের বিরোধিতা করে ছাত্রলীগ হামলা চালায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর। এবার তারা নিজেরাই আন্দোলনে এসেছে। সুতরাং এবার আন্দোলনের জয় সম্পর্কে অনেকেই আশাবাদি ছিলেন। কিন্তু পা কাটল সেই ছাত্রলীগের পঁচা শামুকেই।

আগে ছাত্রলীগ এসে সাধারণ ছাত্রদের মিছিল, সমাবেশে হামলা করত। এরপর তারা আন্দোলন আরো বেড়ে উঠলে শিবির ধরত। ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে ডেকে এনে মিষ্টি খাইয়ে বরণ করে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে গত বছর আন্দোলন বানচালের চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু এবার তারাই প্রথম আন্দোলনে এগিয়ে আসে। সবাই আশাবাদি ছিল, এবার হয়তো কিছু হবে। কিন্তু এবার ছাত্রলীগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, সকলের ওপরই চোটপাট নিচ্ছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, অন্য সংগঠনগুলোকে মারপিটের ঘটনা দিয়ে যা হবার তাই হচ্ছে। আন্দোলন এখন শক্তি হারিয়েছে। এখনো ছেলেরা মিছিলে যাচ্ছে। তবে মিছিল যদি দুইশ জন দিয়ে শুরু হয়, দশ কদম যেতে না যেতে পঞ্চাশজন হয়ে যাচ্ছে। এবারের আন্দোলনও খুব বেশি দূর এগুবে না বলেই মনে হচ্ছে।

আন্দোলনের শুরুতেই ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত হল উদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এখন অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। গত ২৩ মার্চের কর্মসূচী স্থগিতের পর থেকে ছাত্রলীগও তিব্বত হল বিষয়ে তেমন কোনো কড়া বক্তব্য বা কর্মসূচী রাখেনি। শিক্ষকরা ইতোমধ্যে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে থাকা ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্রফ্রন্ট আন্দোলনে থাকলেও ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে তারা কোনো কর্মসূচীতে আগে থেকেই নেই। এতদিন যুগপৎ কর্মসূচীর মাধ্যমে আন্দোলনে থাকলেও এখন ছাত্রলীগকে বাদ দিয়ে নিজেরাই আন্দোলন গতিশীল করার কথা ভাবছেন জোটের নেতারা। ইতোমধ্যে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ কর্তৃক হামলার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখা অফিসটি স্থানান্তরের জন্য ছাত্ররা এর ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের পক্ষে শাখা স্থানান্তর সম্ভব নয়। তারা কোনো জায়গা দখল করেননি। উপরন্তু তাদের জায়গার বেশ কিছু অংশ এখনও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভোগদখল করছে। একটি হলের জবরদখল কিছু পুলিশ পরিবারের হাতে থাকায় প্রশাসনের পক্ষপাতটাও স্পষ্টভাবে ছাত্রদের বিরুদ্ধে।

ছাত্রলীগের চোরাবালি
সারা দেশে ছাত্রলীগের যে ভাবমূর্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সেক্ষেত্রে কোনো দিক থেকে এগিয়ে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশেপাশে বসবাসরত এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেই দেখে। এর অন্যতম কারণ বিশ্বজিৎ হত্যা। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশেপাশে যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা থাকে তারাও ছাত্রলীগের ওপর কোনো আস্থা রাখেন না। এছাড়া বাংলাবাজার এলাকা থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার বিস্তীর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় কর্মরতদের মধ্যে ছাত্রলীগ ভীতি রয়েছে। বিভিন্ন সময় এই সংগঠনের নামে যে চাঁদাবাজি ও হামলা, হুমকির ঘটনা ঘটে, তাতে জনতা তটস্থ না থাকার কারণ নেই। স্বাভাবিকভাবেই, ছাত্রলীগের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এবারের হল উদ্ধারের আন্দোলনকে এলাকাবাসীরা খুব সহজভাবে নেননি। অনেকে আবার এবারের হল উদ্ধার আন্দোলনকে ছাত্রলীগ ও হাজি সেলিমের দ্বৈরথ হিসেবেই দেখছেন। ছাত্রলীগ সম্পর্কে এলাকাবাসীর মতামত সব মিলিয়ে নেতিবাচকই। এতে করে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে যে এই আন্দোলন খুব বেশি দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব না, এটা স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এলাকাবাসীর মধ্যে যে ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছে, তাই আজ তাদের পেছনে ঠেলে দিচ্ছে। অতীত কর্মকান্ডের কারণেই ছাত্রলীগ হয়ে উঠেছে চোরাবালি। আর ছাত্রদের অনেক আশা আকাঙ্খার আন্দোলন তাতে ডুবতে বসেছে।

ছাত্রলীগের শিক্ষক পেটানো
গত ১৯ মার্চ জবি’র ১৩ জন শিক্ষক একটি বিবৃতি দিয়ে জানান দেয় যে, ‘১৩ মার্চ ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা শামীম, শ্যামন ও শিশিরসহ কিছুসংখ্যক ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলমকে লাঞ্ছিত করে। সৈয়দ আলম অভিযোগ করেন, তিনি ছাত্র কল্যাণের পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তাকে আহ্বায়ক করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কমনরুমের জন্য টেন্ডারকৃত মালপত্র বুঝিয়ে নেওয়ার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কমনরুমের জন্য ওই মালপত্র সরবরাহ না করেই ঘটনার দিন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে শামীম, শ্যামন ও শিশিরসহ কিছুসংখ্যক উচ্ছৃঙ্খল ও সন্ত্রাসী ছাত্র পিস্তল ও লাঠিসোটাসহ সৈয়দ আলমের কক্ষে যায় ও দরজা বন্ধ করে তার মাথায়, বুকে ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়নপত্র বের করতে বলে এবং সেখানে স্বাক্ষর করতে বলে। তিনি ওই প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসীরা ড. সৈয়দ আলমকে ধাক্কা মেরে মেঝেতে ফেলে দেয়। স্বাক্ষর না করলে তাকে গুলি করে হত্যা করার হুমকি দেয়।’

এই অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এই ঘটনায় হল উদ্ধারের আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে কর্মবিরতিতে থাকা শিক্ষকেরা মুষড়ে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস ও সাধারণ সম্পাদক ড. পরিমল বালা ১৫ মার্চ এক জরুরি সাধারণ সভা ডাকেন এবং সে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের যেসব সদস্যের নেতৃত্বে এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তাদের ব্যানারে কোনো কর্মসূচিতে শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করবেন না। শিক্ষক সমিতি ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, তাদের সনদপত্র বাতিল এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা ও গ্রেফতার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানায়।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের কয়েকজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। জবাবে ছাত্রলীগ সাতজন শিক্ষকের নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পাশাপাশি তারা কর্মী সমর্থকদের নিয়ে শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গেট তালাবদ্ধ করে শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেয়। কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে এবং মারধরের হুমকি দিতে থাকে। এমনকি শিক্ষকদের বাসার ঠিকানা জিজ্ঞেস করে সেখানে গিয়ে আক্রমণ করার কথা বলে। শিক্ষকদের ছবি তুলে চিহ্নিত করে রাখার কথা বলে। গাড়ি চড়ে ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়ে তারা গাড়ির জানালার কাঁচ ঢিল ছুড়ে ভেঙে ফেলে।

শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের হল উদ্ধারের যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষকদের কোনো ভিন্নমত নেই। বরং রয়েছে অকুণ্ঠ সমর্থন। কিন্তু ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের নেতা ও ছাত্রলীগ নামধারী যে সন্ত্রাসীরা শিক্ষককে পিস্তল ঠেকিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে, তাদের নেতৃত্বাধীন কর্মসূচিতে ন্যায্যতার প্রশ্নে শিক্ষকরা কীভাবে অংশ নেবেন? শিক্ষকরা সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যায্যতার আন্দোলন কখনোই ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বের অধীনে চলতে পারে না। অর্থাৎ ছাত্রলীগের সঙ্গে আর এক পাও চলতে রাজী নন তারা।

নেতৃত্বের মধ্যে বিভেদ
ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসা এবং উন্নয়ন ফি বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো দাবি করেছে, এই আন্দোলনে ছাত্রলীগ গোড়া থেকেই নিজেদের মতো করে যা খুশি করে আসছে। সংগ্রাম পরিষদের কমিটি তারা নিজেরাই করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে যারা আন্দোলনের সামনের সারির মুখ, এলাকাবাসি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ছাত্রনেতাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে তাদের কাউকে না রেখে ছাত্রলীগের কমিটি দিয়েই সংগ্রাম পরিষদকে সাজানো হয়। অভিযোগ আছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের ছাত্রসংগঠন ছাত্র মৈত্রী ও জাসদ ছাত্রলীগের দুজন নেতাকে সংগ্রাম পরিষদে রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে এদুটি সংগঠনের তেমন কোনো কর্মকান্ড এখনো কারো চোখে পড়েনি। এমনকি তাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিও নেই।

প্রগতিশীল সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে, তারা হল উদ্ধারের লক্ষ্যে একের পর এক কর্মসূচীতে গিয়েছে। ছাত্রলীগের বাধায় ও হামলায় তখন আন্দোলন এগিয়ে নেয়া যায়নি। এবার তারা নিজেরা এসে কমিটি করে নিজেদের নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখন তারা শিক্ষকদের ওপর চালানো হামলাকে বৈধতা দিতে, নিজেদের নেতাকর্মীদের বাঁচাতে কর্মসূচী দিচ্ছে সংগ্রাম পরিষদের নাম করে। এটা খুব স্পষ্ট যে, হাজী সেলিমের ছাত্রলীগ বিরোধী মন্তব্য এবং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের হিসেবেই ছাত্রলীগ এই আন্দোলনে যোগ দেয়। ইতোপূর্বে এই আন্দোলন বানচাল করার জন্য ছাত্রলীগ বিভিন্ন সময় মিলিয়ে কম করেও ডজন খানেক হামলা চালিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর ওপর। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। গত ৫ মার্চ তারা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ওপর হামলা চালায়। তাই ছাত্রলীগের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে এই আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।

প্রগতিশীল ছাত্রজোট তাই শিক্ষকদের ও ছাত্রদের নতুন করে আন্দোলনে টেনে আনার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কার্যকর কিছু কর্মসূচীর কথাও ভাবা হচ্ছে। আন্দোলন তারা থামাচ্ছেন না। আগামী ৩১ মার্চ এলাকাবাসীদের সঙ্গে মত বিনিময় এবং সংহতি সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে গণঅবস্থান এবং প্রশাসন যদি দাবির প্রতি শ্রদ্ধা না দেখায় তাহলে ৩ এপিল সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচীর কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতারা মনে করেন, এই আন্দোলন এগিয়ে নিতে হলে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করাটা সবচেয়ে বেশি জরুরী। কিন্তু ছাত্রলীগ সেক্ষেত্রে বরাবরের মতো এখনও বাধা। তারা এই প্রথম আন্দোলনে এসেছে। আর এর চেয়ে বড় ক্ষতি তারা কখনো করতে পারেনি। সন্মানীত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তারা ছাত্রদের উষ্কানি দেয়ার চেষ্টা করেছে। আপাতত ছাত্রলীগকে বাদ দিয়েই নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দাবি করলে পরবর্তীতে আরো বৃহত্তর ব্যানার গড়ে তোলা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণার সঙ্গে এর আয়তনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এতে থাকবে ছাত্রছাত্রীদের বসবাসের জন্য হল, যা একেকটি প্রতিষ্ঠানের মতো। থাকবে খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়াম এবং বিবিধ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সেখানে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি নিজেদের মানসিক বিকাশ ও নেতৃত্বের গুণাবলির উন্নয়ন ঘটাতে পারে। কিন্তু ক্যাম্পাস যদি আয়তনে বড় না হয়, তাহলে এ কাজগুলো যথাযথভাবে করা সম্ভব হয় না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন কম। হলগুলো আগেই বেদখল হয়ে আছে। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একক সমস্যা নয়। রাজনৈতিক মদত ছাড়া হল দখল হয়নি। সুতরাং এর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকারকে বাধ্য না করে যে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় করতে পারবে না এটা এত দিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতা থেকে স্পষ্ট। সুতরাং আন্দোলন এগিয়ে নিতে হলে সরকারের প্রতিনিধি ও পাহারাদার ছাত্রলীগকে সরাতে হবে। নইলে তাদের ভাবমূর্তির কারণে আন্দোলন এখন যে তলানিতে এসে পৌঁছেছে, আগামীতে তা আরও হতাশাজনক রূপ ধারণ করবে।

উল্লেখ্য, আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে অনেক শিক্ষার্থী মারা যান। তখন এরশাদ সরকার জগন্নাথ কলেজের হলগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে। এ সুযোগে স্থানীয় জালিয়াত চক্র হলগুলো দখলে নেয়ার জন্য ১৯৮৫ সালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধিয়ে জোর করে তা থেকে শিক্ষার্থীদের বের দেয়। ১৯৮৬ সাল থেকে হাজার কোটি টাকার ১০টি হলের জায়গা দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে হল উদ্ধারের আন্দোলনের পর সরকার কিছুটা উদ্যোগী হয়। ওই বছর ১১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক মাসের মধ্যে ১২টি হল ও বেদখল অন্যান্য সম্পত্তি উদ্ধারে সুপারিশ করতে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালের মার্চে ৫টি হল (আনোয়ার শফিক হল, শাহাবুদ্দিন হল, আজমল হোসেন হল, তিব্বত হল ও হাবিবুর রহমান হল) বিশ্ববিদ্যালয়কে লিজ দেয়ার সুপারিশ করে কমিটি।

একই বছরের ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঁচটি হলের দীর্ঘমেয়াদি লিজের আবেদন করে। ৯ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়। ২১ জানুয়ারি, ২০১০ জেলা প্রশাসক আইনগত সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়কে হলগুলো লিজের বদলে অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নিতে বলে। কিন্তু একাধিক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা ও আইনি জটিলতায় হল উদ্ধার কার্যক্রম থমকে আছে। এবারের আন্দোলনেও সরকারি উদ্যোগের চাকা এখনো গতিশীল হয়নি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “জগন্নাথের আন্দোলন ডোবাচ্ছে ছাত্রলীগ!

  1. ছাত্রলীগ একটা গণআন্দোলনের কি
    ছাত্রলীগ একটা গণআন্দোলনের কি হাল করতে পারে সেটা দেখার জন্য তো খুব বেশি দূরে যেতে হয় না। গত ফেব্রুয়ারীর শাহবাগ আন্দোলন এর অনেক বড় নজির। হাসিমুখে এগিয়ে এসে পিঠে হাত বুলিয়ে আন্দোলনের গলা চেপে ধরতে তাদের জুড়ি নেই। কোন আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রন করতে হলে আন্দোলনের নেতৃত্বে দালাল রাখা মালিকপক্ষের রাজনীতি ছিল। আওয়ামী লীগের সহযোগী বামপন্থীরা এই বুদ্ধিটা জানে। তারা কৌশলটা বদলে ছাত্রদের মধ্যে নিজেদের লোক নেতৃত্বে ঠেলে দিয়েছে। জনতা ছাত্রদের শ্রদ্ধা আর সমর্থন করবে কি ! তার চেয়ে বরং ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা তাদের।

  2. ছাত্রলীগের কাজই হচ্ছে ধ্বংস
    ছাত্রলীগের কাজই হচ্ছে ধ্বংস করা। এরা দেশটাকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে। শুধু দেশ না, যেখানে যাবে, সামনে যা পাবে সবই তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। ইদানিং অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফরম দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। শুধু একটা কথাই বলব, এই দিন দিন না, আরো দিন আছে…….!

    জাবি’র হল দখলের আন্দোলন সফল হোক, ছাত্রলীগের কবল থেকে মুক্ত হোক।

  3. জগন্নাথের আন্দোলন ডোবাচ্ছে
    জগন্নাথের আন্দোলন ডোবাচ্ছে ছাত্রলীগ। আর আপনি ডোবাচ্ছেন ছাত্রলীগকে। আপনি বহুত খারাপ। আপনি ছাগু…..। এসব ট্যাগায়া দেওয়া সম্প্রদায়ের ইস্টিশনে করুণ পরিনতি দেখে এমনিতেই বিনোদিত হচ্ছিলাম। তার ভিতর আপনি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লাগতে আইছেন? আপনি মিয়া আগুনে ঘি ঢাইলা দিছেন। :হয়রান:

  4. প্রথম অংশঃ আপনি এসব কি বলছেন
    প্রথম অংশঃ আপনি এসব কি বলছেন আনিস ভাই? আপনি নিশ্চয় শিবিরে যোগ দিয়েছেন। ছাত্রলীগ নিয়ে এসব কি আজে বাজে লিখেছেন? ছাত্রলীগ এসব করতেই পারে না!

    আপনার লেখার প্রতিবাদে, লেখাটিকে সরাসরি প্রিয়তে নিয়ে নিলাম।

    দ্বিতীয় অংশঃ বঙ্গবন্ধু, এসে দেখে যান আপনার ছাত্রলীগ এখন আর ছাত্রলীগ নেই। দলের পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। “শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি” এই তিন মূলনীতি সস্তায় বিক্রিকরে চালাচ্ছে সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য, ঠিক যেমনভাবে ছাত্রলীগ দ্বারা বারবার বিক্রি হচ্ছেন আপনি এবং আপনার আদর্শ।

  5. ছাত্রলীগ এখন একদল নেড়ীকুত্তার
    ছাত্রলীগ এখন একদল নেড়ীকুত্তার পালের নাম। এদের দিয়ে এদেশে আর কখনই ছাত্রদের কোন অধিকার ভিত্তিক রাজনীতি করা সম্ভব না। এরা নষ্টদের দলে চলে গিয়েছে। বাংলাদেশের সব আন্দোলনকে এরা গিলে খাবে। এজন্যই সরকার এসব নেড়ীকুত্তাকে লালন পালন করছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 47 = 48