জামাত শিবিরের তাণ্ডব ! আমরা কি করতে পারি।

একটা বড় ধরনের তাণ্ডব ঘটাতে পারে এমন ধারনা সবাই করছিল। কিন্তু ধারনা করতে পারেনি সরকার।তারা বিষয়টাকে হালকা করে দেখার চেষ্টা করেছে। শত্রুকে ছোট করে দেখতে হয় না। কিন্তু আওয়ামীলীগ শত্রুর উপর কোন ধারনা ই করতে পারেনি।জেলা লেভেলে জামাতের কিছু বড় নেতাকে গ্রেফতার করেই দায়িত্ব শেষ করেছে।এখানেও তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা মার খেয়েছে। লীগ বা বিএনপি এলাকার বড় নেতার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ বা ছাত্র দল চলে।শিবিরে বিষয়টা এমন নয়। ছাত্র শিবিরের আলাদা কমান্ডিং করার সুযোগ আছে। এই কারনে কেবল জামাতের কিছু নেতাকে ধরে নাশকতা ঠেকানো যায় নি। শিবিরের রুই মাছ গুলো এই তাণ্ডবের জন্য দায়ী। মিডিয়ায় তাদের ফেস দেখা না যাওয়ায় সরকার তাদের নিয়ে সতর্ক অবস্থানে যায় নি।

প্রজন্ম চত্ত্বর থেকে যখন জামাত শিবির নিষিদ্ধের ডাক আসে। সরকার মুচকি হেসেছে। আইন খুঁজা হচ্ছে এসব তালবাহানা আমারা শুনে আসছি। সবার কাছেই বিষয়টা পরিষ্কার যে জামাত শিবির নিষিদ্ধ করার ব্যপারে সরকারের আন্তরিক নয়। কেন সরকার এই সাপ নিয়ে খেলা করতে গেল? ভোটের রাজনীতি?হায়রে ভোটের রাজনীতি। গতকাল বিএনপি চেয়ার পার্সন তার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিল তারা জামাতের সাথে আছে,থাকবে। প্রয়োজনে বিএনপি বিলুপ্ত করে জামাতের সাথে থাকবে। এটা তাদের রাজনৈতিক ব্যপার।

কিন্তু আমার কাছে মনে হয়। বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নিতে বেশ দেরি করেছে। তারা হয়তো আশা করেছিল জামাত নিষিদ্ধ হবে। কিন্তু সরকারের গড়িমসি দেখে শেষে সোসাইড করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্যই হলো বলতে গেলে। কিন্তু তার বিকল্প বিএনপি আর কি করতে পারতো? যারা এখনো ভাবেন বিএনপি প্রজন্ম চত্ত্বরকে স্বাগতম জানিয়ে যুদ্ধপরাধীদের বিচারে সম্মত হবে। তারা দুইটা রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ অবস্থাটা বার বার ভুলে গেছেন বলতে হয়। এই যুদ্ধাপরাধীর বিচারটা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে পারলে অবশ্যই আমাদের দেশের লাভ হবে। এই লাভ দেখিয়ে ভোট চাইতে পারবে আওয়ামীলীগ , বিএনপি কি তা পারবে? পারবে না,তারা যতই বলুক তারা সমর্থন দিয়েছে এটা মানুষের কাছে কোন খবরই হবে না। তো বিএনপি কেন তার প্রতিপক্ষকে একটা সুযোগ দিবে? কটা কথা আছে না “আমি যেহেতু খেতে পারিনি তোকে ও খেতে দেব না তাই দুধের মাঝে চানা দিয়ে নষ্ট করে দিলাম।” বিএনপি তাই করলো।

সমালোচনা অনেক ভাবেই করা যায়। কিন্তু এই সময়ে মুক্তির পথ কি এটাই চিন্তার ব্যপার। জামাত শিবিরের তাণ্ডব দেশের মানুষকে উৎকণ্ঠায় ঠেলে দিয়েছে। সরকার আছে অস্বস্তিতে ।মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যারা আছে তারা আছে শঙ্কায়। শাহবাগের আন্দোলন যাবে অনিশ্চয়তায়। ক্ষুদ্র অবস্থানে থাকলেও বড় বিষয় গুলো নিয়ে আমিও চিন্তা মুক্ত থাকতে পারিনা। কে মানবে কে ,শুনবে এইটা বড় বিষয় না, তবু আমি তো আমাকে একটা শান্তনা দিতে পারব। আমি নিজেই যদি একটা পথ বের করতে না পারি তবে সরকারকে কি করে দুষ দেব?

সরকার সব সাংসদদের তার এলাকায় অবস্থান নিতে বলেছেন। এটা অবশ্যই এটা ভাল উদ্যোগ নেতা এলাকায় থেকে যদি সব সংগঠনকে মাঠে নামার তাগিদ দেন তবে একটা বড় পরিবর্তন হতে পারে। প্রতিদিন শহরে বাজারে বড় বড় মিছিল করতে হবে তাহলে জনমনে শঙ্কা একেবারে উড়ে যাবে। আর মহাজোট মাঠে অবস্থান নিলে জামাত শিবিরের এই নির্ভীক তাণ্ডব বন্ধ হতে বাধ্য। তারা পুলিশকে ফাঁকি দিতে পারলেও স্থানীয়দের সাথে পেরে উঠবে না। এলাকায় লীগের লোকজন মাঠে নেমে এলে অন্য দলের লোকজনও প্রতিরোধে এগিয়ে আসবে। কেন না কোন মানুষই বিশৃঙ্খলা চায় না। সবাই শান্তিতে থাকতে চায়। এই তাণ্ডবে যাদের ক্ষতি হচ্ছে তারা সবাই তো আর আওয়ামীলীগ বা তার ১৪ দলের লোকজন নয়। জনগনের এগিয়ে আসার সুযোগ করে দিতে হবে।

প্রজন্ম চত্ত্বরে কার্যপরিধি অবশ্যই এখুনি বাড়াতে হবে। প্রজন্ম চত্ত্বর কোন রাজনৈতিক অর্গানাইজেশন নাই। তাই তারা চাইলেও দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে তাদের কথা পৌছাতে পারবে না। প্রতিটা অঞ্চলে কমিটি গঠন করতে পারবে না। আর অনলাইন ভিত্তিক অর্গানাইজেশন তৃনমূল পর্যায়ে কোন ভাবেই কাজের উপযুক্ত নয়। তার উপর অপপ্রচার তো আছেই। তাই প্রজন্ম চত্ত্বরের কাজ করতে হবে অন্য ভাবে। প্রজন্ম চত্ত্বর চাইলেই এই দেশের অনেক অর্গানাইজেশনের সাথে আলাপ করতে পারে। অনেক সংস্থা আছে যারা এই ব্যপারে এখনো নিরব ভুমিকা পালন করেছে। অনেক বুদ্ধিজীবী আছে যারা এখনো মুখ খুলেনি তাদের সমর্থন আদায় করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায় করা একটা সুযোগ তো থাকছেই। তার উপর জামাত শিবিরের তাণ্ডবের পরে এই কাজটা অনেক সহজ হবে বলেই মনে করি।

এই সমর্থন আদায়ের জন্য বিএনপির অংগ সংগঠনের সাথেও আলাপ চালিয়ে যেতে পারে। এমন কি বিএনপির সাথে জোট বদ্ধ দল গুলোর সাথেও এই আলাপ চলতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।এত গুলো তরুন বুদ্ধিদীপ্ত ছেলে মেয়ে যদি কোন ব্যক্তিকে বোঝাতে যায়। তারা নিরাশ হবে বলে আমি মনে করিনা। বিএনপি ছাত্র সংগঠন আগে থেকেই শিবিরের উপর ক্ষেপা। তারা হয়তো সমর্থন দিতেও পারে। সমর্থন না দিলেও অন্তত শাহবাগের আন্দোলন ব্যপারে তাদের বাস্তব ধারনা দেয়া তো সম্ভব।আজকে সমর্থন না দলেও কালকে অন্তত প্রজন্ম চত্ত্বর বিরোধিতা করতে একটু বিবেচনা করবে। কেন আমরা আমাদের প্রতিটা সুযোগ কাজে লাগাব না !

আমাদের দেশের মানুষের ধৈর্যের একটা সীমা আছে। আশা করছি জামাত শিবিরের তাণ্ডবের পরে এক সময় সাধারণ মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠবে। প্রথম দুই তিন দিন অতর্কিত আক্রমনে সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারেনি কি ঘটেছে। কিন্তু জনসাধারণের প্রতিরোধ আসবেই এটা আমার বিশ্বাস।জামাত শিবিরের নিষিদ্ধ ব্যপারে দ্রুতই সরকারের পদক্ষেপ চাই। আর জামাতের এই তাণ্ডবের বিরুদ্ধে জনগণের সচেতন প্রতিরোধ দেখার অপেক্ষায় আছি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “জামাত শিবিরের তাণ্ডব ! আমরা কি করতে পারি।

  1. আমি মনে করি তরুণদের এই
    আমি মনে করি তরুণদের এই গণজাগরণের জোয়ার গ্রামে-গঞ্জে-হাটে-মাঠে ছড়িয়ে দিতে হবে। জামায়াতের নেটওয়ার্ক গ্রামে খুব শক্তিশালী। দেশের ৮০ ভাগ মানুষের বসবাস গ্রামে। দেশের সাধারণ মানুষকে মোটিভেট করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের মত। এর কোন বিকল্প নাই।

  2. জামাত শিবির সাধারন মানুষকে
    জামাত শিবির সাধারন মানুষকে কুমন্ত্রণা দিতে মসজিদকে ব্যাবহার করে। সাইবার যুদ্ধের মতো দেশের বিভন্ন এলাকায়, প্রতিটি গ্রামে জামাত শিবিরের অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। তাদের আসল চেহারা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে

    1. মসজিদ ব্যবহার করে যারা
      মসজিদ ব্যবহার করে যারা অপপ্রচারের জবাব দিতে পারবে তারা তো এগিয়ে আসছে না। আমি আপনি তো মসজিদ ভিত্তিক কাজটা করতে পারবো না। প্রতিটা গ্রামেই আওয়ামীলীগের লোকজন আছে, এমন কি প্রভাবশালী লোক জনই আছে। তারা যদি এগিয়ে না আসে তাহলে কিভাবে সম্ভব? আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক দুর্বলতাটা এখন হারে হারে টের পাচ্ছে।

    2. মসজিদ ব্যবহার করে যারা
      মসজিদ ব্যবহার করে যারা অপপ্রচারের জবাব দিতে পারবে তারা তো এগিয়ে আসছে না। আমি আপনি তো মসজিদ ভিত্তিক কাজটা করতে পারবো না। প্রতিটা গ্রামেই আওয়ামীলীগের লোকজন আছে, এমন কি প্রভাবশালী লোক জনই আছে। তারা যদি এগিয়ে না আসে তাহলে কিভাবে সম্ভব? আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক দুর্বলতাটা এখন হারে হারে টের পাচ্ছে।

  3. আমাদের দেশের মানুষের ধৈর্যের

    আমাদের দেশের মানুষের ধৈর্যের একটা সীমা আছে। আশা করছি জামাত শিবিরের তাণ্ডবের পরে এক সময় সাধারণ মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠবে। প্রথম দুই তিন দিন অতর্কিত আক্রমনে সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারেনি কি ঘটেছে। কিন্তু জনসাধারণের প্রতিরোধ আসবেই এটা আমার বিশ্বাস।জামাত শিবিরের নিষিদ্ধ ব্যপারে দ্রুতই সরকারের পদক্ষেপ চাই। আর জামাতের এই তাণ্ডবের বিরুদ্ধে জনগণের সচেতন প্রতিরোধ দেখার অপেক্ষায় আছি।

    সহমত।

    সরকারের পাশাপাশি জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার কোন বিকল্প নাই। কিছু কিছু এলাকায় অলরেডি শুরু হয়ে গেছে।

  4. সরকারের হোমওয়ার্ক ছিল না এটা
    সরকারের হোমওয়ার্ক ছিল না এটা সত্যি।এখন তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।সমস্যা হচ্ছে অনেক জায়গাই লীগের সাথে জামাতের নেতাদের সম্পর্ক একটু বেশী ভাল।কারন সবাই পেটনীতি তেই ব্যাস্ত।যে কারনে তারা নিশ্চুপ।এটাও কিন্তু অবাক করার মত।তরুনদের আওয়াজ যে লিগের সবার কাছেই যাচ্ছে এইটা মনে করারও কোন কারন নাই।

    এখন সরকার কি করবে?আমার মতে যদি আন্তরিকতা থাকে তাহলে টাকা হরচ করবে।অনিচ্ছা সত্তেও বলতে হচ্ছে।বেশীরভাগ বুদ্ধিজীবি এদেশে টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়,অন্তত ইতিহাস তাই বলে।তাদেরকে কিনে নিতে হবে,অন্তত নিজেদের সার্থেই,যেমনটা জামাত করতেছে।সেই সাথে হোমওয়ার্ক চলবে,জামাতকে নিষীদ্ধ করার ব্যাপারে।সেই সাথে বিরোধী দলের আন্দোলনে পানি ঢালতে তত্তাবধায়ক ইস্যুটা মেনে নেয়া যেতে পারে।সম্ভবত সেটা বিএনপি কে আরো কোনঠাসা করবে।

    আমরা কি করব?প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দিব?আদৌ এটা সম্ভব?না,সম্ভব না।প্রত্যন্ত এলাকায় কেউ ব্লগিং করে না,নেট নাই সেখানে,ফেইসবুকও হয়ত বুঝে না অনেকেই।এখানেও প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।তবে আমরা কিছু শব্দ অন্তত পরিহার করতে পারি সচেতন ভাবে।যেমনঃ গৃহযুদ্ধ,সাম্প্রদায়িক দাংগা,তৃতীয় শক্তি ইত্যাদি।আমাদের পরিহারে যে খুব বেশী কিছু হয়ে যাবে তা নয়,কিন্তু যতটা পারা যায় আর কি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 − = 79