“সৃজনশীলতার সুত্র কি ?” – একজন নোবেল বিজয়ীর সাথে দেড় ঘন্টা !

আজ আমার কর্মস্থলে একটি ঘরোয়া সেমিনার এ গিয়েছিলাম। সেমিনার এর বিষয় ছিল “সৃজনশীলতার সুত্র কি ?” । প্রধান বক্তা ছিলেন ২০০৬ সালে রসায়নে নোবেল বিজয়ী স্ট্যানফোর্ড অধ্যাপক রজার কর্নবার্গ । যে সকল বন্ধুরা ইউরোপের বা আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়াশুনা বা কোনও ইভেন্ট এ অংশও নিয়েছেন তারা জানেন সাধারনত এই ধরনের সেমিনার এর ফরম্যাট হয়ে থাকে খুব ই সাদা-মাটা, একদম গ্ল্যামার বিহীন। শুরুতে বা শেষে কোনও আপ্যায়ন নেই, শুধুই বক্তৃতা ও প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। এই সেমিনার টি আমার সংস্থা ও নোবেল মিডিয়া সেল এর একটি যৌথ উদ্যোগ, যেখানে বিজ্ঞানের ছাত্র ও গবেষক দের কে প্রেরনা দেয়ার জন্যে বিভিন্ন বিষয়ে নোবেল বিজয়িদের নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেশ (আমি স্বপ্ন দেখছি এই দলটি একদিন অচিরেই বাংলাদেশে যাবেন)।

প্রথমত বলে নেয়া ভালো, একটি সাধারন ধারণা আছে যে সৃজনশীলতা বিশয়টি বোধ হয় শুধুমাত্র শিল্পকলা বা সাহিত্যের বিষয়, বিষয় টি একেবারেই তা নয় বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের সৃজনশীল হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। এই লেখাটি মুলত বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণায় সৃজনশীলতা নিয়ে আলোচনা, যদিও প্রতিটি কথাই সাধারন ভাবে সকল ডিসিপ্লিন এর জন্যেই প্রযোজ্য।

সৃজনশীলতার সুত্র কি, এই বিষয়ের উপর শত শত বই আছে, প্রবন্ধ আছে অন-লাইনে। নানান মত ও পদ্ধতির কথা আছে। এই সেমিনার টি তে অধ্যাপক রজার কর্নবার্গ এর একান্তই ব্যক্তিগত মতামত গুলোই তুলে ধরলেন তিনি। সেমিনার টি তে অংশ নিয়ে আমার কয়েকটি ভুল ভেঙ্গেছে, আমি আমার পুরনো কিছু মতামত বদলে ফেলেছি। আসুন প্রথমে সেই বদলে যাওয়া মতামত গুলোর কথা বলি –

– অধ্যাপক রজার এর মতে দুই একটি ব্যতিক্রম ব্যতীত, ব্যক্তি মানুষ আসলে সৃজনশীল হয়ে জন্ম নেন না, ব্যক্তি সৃজনশীল হয়ে ওঠেন।

– যথাযথ পরিবেশ পেলে প্রতিটি মানুষ ই সৃজনশীল হয়ে উঠতে পারেন, প্রশ্ন হচ্ছে কোন বিষয়ে কে সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাবেন সেটি ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেটি খুজে বের করার দায়িত্ব হচ্ছে পরিবারের এবং শিক্ষা ব্যবস্থার।

– সাফল্যের মধ্যে দিয়ে সৃজনশীলতা কে পরিমাপ বা মূল্যায়ন করাটা ভুল এবং বোকামী, বরং একজন মানুষের সৃজনশীলতার মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার সকল কাজের মধ্যে দিয়ে, অথবা নিদেন পক্ষে তার ব্যর্থতার দিক থেকে। ব্যর্থতার মূল্যায়ন সৃজনশীলতা কে ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করে, সাফল্যের চাইতে। সুতরাং কোনও একজন মানুষ কতটুকু সৃজনশীল, সেটা বোঝার জন্যে তার ব্যর্থতার খতিয়ান দেখা দরকার প্রথমে।

– একজন লেখকের পুরস্কার প্রাপ্ত একটি বই পড়ে তাঁকে বোঝার চাইতে, পুরস্কার পায়নি এমন কিছু পুরনো বই পড়েই তাঁকে ভালো ভাবে বোঝা যায়।

এই চারটি পয়েন্ট নিয়ে আপনারা ভাববেন। একমত হতেই হবে এমন কোনও কথা নেই। তবে আমি কনভিন্সড, আমি এখন আর মানুষের সাফল্যের মাঝে তার সৃজনশীলতার নজির খুজব না, বরং তার ব্যর্থতার মাঝেই তার সৃজনশীলতা খুজবো।

এবার আসি মূল আলোচনায়, অধ্যাপক রজার যেহেতু একজন কেমিস্ট এবং পরবর্তীতে বায়ো-মেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট, তিনি তার আলোচনার উদাহরন গুলো দিয়েছিলেন তার কাজের সাথে মিল রেখেই –
দুটি প্রধান প্রশ্ন –

সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার মূল বিষয় গুলো কি ?

১ একটি ভয়ভীতি বিহীন সমাজ ব্যবস্থা – যেখানে কি লেখক কি শিল্পী বা বিজ্ঞানী কে তার লেখা প্রকাশের ক্ষেত্রে বা তার গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কোনও আইনি পরিনতির কথা ভাবতে হবে না। প্রাথমিক ভাবে সৃজনশীল কাজের পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের একমাত্র ভূমিকা হতে পারে সাহায্যকারীর, মুলত অর্থ সাহায্য বা অবকাঠামোগত সাহায্য। এর বাইরে রাষ্ট্র কে বরং দূরে রাখাই ভালো হবে।

২ একটি ভয়ভীতি বিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা – যেখানে ব্যর্থতার সামাজিক – সাংস্কৃতিক মূল্যায়নটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের। ব্যর্থতার সাথে ভয় বা গ্লানির কোনও সম্পর্ক থাকবে না। ব্যর্থতা র একটাই অর্থ তা হলে আরেকবার চেষ্টা করে দেখতে হবে। ব্যর্থতার সাথে কোনও রকমের “ভালো-মন্দ” বা “উচিত-অনুচিত” কে জুড়ে দেয়া যাবে না।

৩ মুক্ত ভাবে চিন্তা করার জন্যে অফুরন্ত সময় –সৃজনশীলতা ঘড়ি ধরে হয় না। বরং সৃজনশীলতার সাথে সময়ের সম্পর্ক টি আনুপাতিক, সত্যিকারের সৃজনশীল ভাবনার জন্যে নিরবিচ্ছিন্ন সময় দরকার। এই সময় কখনও এক বছর বা কখনও দশ বছর ও হতে পারে।

সৃজনশীল পরিবেশে একজন মানুষ কিভাবে কাজ করবেন ?

একজন সৃজনশীল মানুষ কে অন্তত চারটি বিষয় বুঝতে হবে –

১ ঝুঁকি (Risk) – যেকোনো সৃজনশীল মানুষ কে ব্যর্থতা কে ভালবাসতে হবে। ব্যর্থতা বিহীন মানুষ বেশিরভাগ টাই যান্ত্রিক অথবা কম সৃজনশীল। আধুনিক যুগে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে হয় । তা সে বিজ্ঞানী কিম্বা সঙ্গীত শিল্পী যেই হন না কেনও। ব্যর্থতার ভীতি মানুষ কে ঝুঁকি নিতে বাঁধা দেয়, পেছন থেকে টেনে ধরে । এই টেনে ধরা মানুষ কে পিছিয়ে দেয়। তাই ঝুঁকি নিতে শিখতে হবে। ব্যর্থতার “সামাজিক কালিমা” বা “social stigma” কে জয় করতে না পারলে ব্যর্থতার আগাম ভীতি আপনাকে সবসময়েই সিদ্ধান্ত গ্রহনে বাঁধা দেবে। সুতরাং “Social Stigma of failure” এর বিরুদ্ধে শক্ত করে দাড়াতে হবে।ঝুকি নিতে হবে।

২ সময় বা সময়ের উপাদান (Time or element of Time) – কামার যেমন করে বোঝেন কখন আগুনে দেয়া লোহাটি সত্যি ই যথেষ্ট গরম হয়েছে এবং সেই রক্তিম লোহার খন্ড টিকে আঘাত করার সঠিক সময়, একজন বিজ্ঞানী কেও একই ভাবে বুঝতে হয় তার সময়ের উপাদান গুলো কে। মনে রাখা দরকার সময়ের কোনও কোনও উপাদান হয়ত সারা জীবনে একবারই আসে এবং সৃজনশীল মানুষের দক্ষতা হচ্ছে সেই মুহূর্ত টুকু কে বুঝতে পারা ধরতে পারা।

৩ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন (Neccessity) – সৃজনশীল মানুষ সমাজের বাইরের মানুষ নন। কখনও কখনও নানান বাহ্যিক কারনে সৃজনশীল মানুষদের কে মনে করা হয় সমাজের বাইরের মানুষ। কখনও বা তাঁদের সময় উত্তীর্ণ ভাবনার জন্যে, কখনও বা তাঁদের কাজের ধরনের বা বেশভুশার জন্যে। কিন্তু সৃজনশীল মানুষেরা তাঁদের সমাজেরই মানুষ, তাই সমাজের প্রয়োজন টুকু কে দারুন ভাবে বুঝতে না পারলে সৃজনশীলতা কে এগিয়ে নেয়া যায় না।

৪ সমালোচনা গ্রহন করবার ক্ষমতা (Criticism) – সৃজনশীল ভাবনায় যেমন থাকে বর্তমানের কথা তেমনি থাকে ভবিষ্যতের প্রয়োজনের দিক নির্দেশনা। ইংরেজি তে Forward looking thoughts বা অগ্রবর্তী ভাবনা (অনুবাদ টি ঠিক হোল ?) হচ্ছে সৃজনশীলতার একটি আবশ্যকীয় অংশ। আর তাই প্রায়শই সৃজনশীল ভাবনা কে পড়তে হয় সমালোচনার কবলে। একথা ধরেই নিতে হবে যে সমাজে Sober criticism বা ভদ্রস্থ সমালোচনার অভাব রয়েছে, তাই সৃজনশীল মানুষদের সকল ধরনের সমালোচনার বিপরীতে নিজের ভাবনা কে ধরে রাখার ও এগিয়ে নেয়ার দক্ষতা টি অর্জন করতেই হয়। একথাও সত্যি যে, একমাত্র সমালোচকই একটি সৃজনশীল কাজ কে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন, মুগ্ধ বন্ধুরা তা করেন না, তাই বন্ধুর মুগ্ধতার চাইতে অভদ্র সমালোচক এর সমালোচনা বেশী কার্যকর।

পুরো সেমিনার টি তে আমার মস্তিষ্কের এক অংশ জুড়ে ছিল অধ্যাপক রজার কর্নবার্গ এর বক্তৃতা র প্রতি মুগ্ধতা আর অন্য অংশে ছিল আমার দেশের জন্যে মন খারাপ হওয়া এক রাশ মেঘ ! আমি জানি আমার দেশে পরীক্ষায় ভালো করার সামাজিক মূল্য হচ্ছে সব চাইতে বেশী। কে কত সৃজনশীল তার চাইতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে কার বেতন কত, কার প্রমোশন হোল, কোথায় পোস্টিং হোল, কার ছেলে বা মেয়ে গোল্ডেন জিপিএ পেলো বা কতো টা লেটার পেলো ইত্যাদি ইত্যাদি ……… !

লেখাটি শেষ করবো অধ্যাপক রজার এর সেই তিনটি আবশ্যকীয় শর্তের কথা বলে। আপনাদের সৃজনশীল ভাবনার কাছে তিনটি প্রশ্ন ঃ

== বাংলাদেশে আমাদের সমাজ কতো টা ভয় ভীতি হীন সমাজ ?
== আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা ভয় ভীতি হীন শিক্ষা ব্যবস্থা (এখানে “ফেল” করার সামাজিক অর্থ টা কতটা গঠনমূলক আর কতটা গ্লানিকর ?) ?
== মুক্ত ভাবে চিন্তা করার জন্যে অফুরন্ত সময় (আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্ম ক্ষেত্র আমাদের কে কতটুকু সময় দেয় মুক্ত ভাবে চিন্তা করার ?) কি আমাদের আছে ?

আসুন প্রশ্নগুলোকে ছড়িয়ে দেই !

 

(এটি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ইস্টিশন এর পাঠক বন্ধু দের সাথে শেয়ার করার জন্যে লেখা)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on ““সৃজনশীলতার সুত্র কি ?” – একজন নোবেল বিজয়ীর সাথে দেড় ঘন্টা !

  1. প্রথমেই একটা অভিযোগ দিয়ে শুরু
    প্রথমেই একটা অভিযোগ দিয়ে শুরু করছি। নিয়মিত না লিখে আপনি অনেক বড় একটা অন্যায় করেন। এভাবে আমাদের বঞ্চিত করা ঠিক না। ফেসবুকে আর যাই হোক, সৃজনশীলতার চর্চা হয় না। যা হয় তার বেশীর ভাগটাই হচ্ছে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি। তাই আশা করছি এখন থেকে নিয়মিত আপনার লেখা পাবো ইস্টিশনে।

    আপনার লেখাটা পড়ে আমারও অনেক ধারণা নতুনভাবে ভাবনাচিন্তা করার খোঁড়াক পেলো। ধারণা চেঞ্জ হয়েছে সেটা জোর দিয়ে বলছি না। আরও চিন্তা করতে হবে এবং লেখাটা আরও সময় নিয়ে পড়তে হবে। অনেক কিছু নতুন ভাবে চিন্তা করার বিষয় তুলে ধরেছেন আপনার লেখায়। আর লেখাটা এমন এক সময়ে লিখলেন যার ঠিক আগের দিনই আমাদের পাঠ্য পুস্তকের খৎনা করন হয়েছে বলে একটা নিউজ এসেছে পত্রিকায়। আর মুক্তভাবে, ভয়ভীতিহীন ভাবে চিন্তা করা তো দূরে থাক, নিজের পিঠ বাঁচাতে আজ সবাইকে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকতে হচ্ছে ৫৭ ধারার ভয়ে। হায়রে আমার স্বদেশ…

    চমৎকার লেখাটার জন্য ধন্যবাদ সারওয়ার ভাই। :ফুল:

    1. আতিক, আপনাকে ধন্যবাদ। ফেসবুক
      আতিক, আপনাকে ধন্যবাদ। ফেসবুক এর লেখা নিয়ে আপনার সাথে একশো ভাগ একমত।
      মুশকিল হচ্ছে, আমি লেখক নই। তবুও চেষ্টা করবো ব্লগ এ লিখতে, ইসটিশন কে ধন্যবাদ লেখার সুযোগ করে দ্যার জন্যে।

  2. আপনার এত ভাল লিখতে পারেন,
    আপনার এত ভাল লিখতে পারেন, তারপরও কেন আপনাদের মৌলিক লেখাগুলো থেকে আমরা বঞ্চিত হই!

    আশাকরি এই ধরনের চিন্তার খোরাক নিয়মিত পাব।

    1. ভালো প্রশ্ন করেছেন ভাই । তিন
      ভালো প্রশ্ন করেছেন ভাই । তিন ভাবে এর উত্তর দেয়া যেতে পারে –
      ১ না, সবাইকে সৃজনশীল হতেই হবে এমন কোনও কথা নেই
      ২ সৃজনশীলতা ই সমাজ কে এগিয়ে নেয়, সেই জন্যে সৃজনশীলতার জন্যে এক ধরনের ভাবনা থাকতেই পারে
      ৩ আসলে সকল মানুষ ই সৃজনশীল ……… শুধু সঠিক ক্ষেত্র টি খুজে নেয়া দরকার

      1. আমি প্রথমটা পছন্দ করে
        আমি প্রথমটা পছন্দ করে নিলাম।
        সমাজকে আমার কেনো এগিয়ে নিতেই হবে এ প্রশ্নের আর অবকাশ থাকে না তাহলে।
        আর আমার ধারনা কোনো মানুষ বা কোনো কিছুই সৃজনশীল নয়, কোনো কিছুই সৃষ্টিশীল নয়। স্রেফ টিকে থাকার খাতিরে যতটুকু প্রয়োজন। পৃথিবীতে টিকে থাকবে কারা, ডারউইন বলেছেন survival of the fittest.

        কেনো বেঁচে আছি? থাকতে হয় বলে। সার্বিকতা আসলে কখোনোই গ্রহনযোগ্য না।

        1. ১ একমত, প্রয়োজন একটা পয়েন্ট
          ১ একমত, প্রয়োজন একটা পয়েন্ট সৃজনশীলতার পক্ষে
          ২ কিন্তু, মনে রাখা দরকার যে সৃজনশীলতা এখন পুজির সাথে যুক্ত, ব্যক্তিগত সৃজনশীলতা এখন যত না প্রয়োজন এর তাগিদে, তার চাইতেও অনেক বেশী ব্যবহৃত হচ্ছে পুজির লাভের পরিমান বৃদ্ধি তে
          ৩ বাই দ্যা ওয়ে, আপনি হয়ত জানেন “Survival of the fittest” এই ইংরেজি phrase টির প্রথম প্রবর্তক কিন্তু ডারউইন নয়, বরং ডারউইনের “Natural selection” এর সামাজিক অর্থনৈতিক সমরুপ হিসাবে প্রথম বলেছিলেন ব্রিটিশ দার্শনিক, সমাজবিদ, অর্থনীতিবিদ Herbert spencer, পরবর্তী তে ডারউইন কথা টি কে পছন্দ করেন এবং তার পুস্তকের পঞ্চম সংস্করনে যুক্ত করেন। (http://en.wikipedia.org/wiki/Survival_of_the_fittest)

          মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

          1. সৃজনশীলতা হচ্ছে শৈল্পিক
            সৃজনশীলতা হচ্ছে শৈল্পিক বেশ্যাবৃত্তি। পছন্দ হয়েছে আপনার কথা। :তালিয়া:
            কিছু মনে করবেন না যেনো :আমারকুনোদোষনাই:

          2. কিছু মনে করার প্রশ্ন টি
            কিছু মনে করার প্রশ্ন টি শুধুমাত্র আমার নিকট জন্ দের কথার বেলাতেই আমি বিবেচনা করি, সবার ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং আপনার কথায় কিছু মনে করার সুযোগ নেই।
            আর “বেশ্যা বৃত্তি” নিয়ে বাঙ্গালী সব সময়েই এক ধরনের ম্যাগালোম্যানিয়া তে ভোগে, সেটা নিয়ে আরেকদিন আলাপ করা যাবে।
            ভালো থাকবেন।

  3. তবে একটা প্রবাদ আছে “অধিক
    তবে একটা প্রবাদ আছে “অধিক সন্যাসী তে গাজন নষ্ট। ”

    সব্বাই খালি মুক্ত চিন্তা করলে, সৃজনশীল হলে, সৃজনশীলদের চিন্তা কে বাস্তবে রূপ দিবে কারা?
    তখন তো সব্বাই সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাতে ব্যস্ত হয়ে যাবে।

  4. একথা ধরেই নিতে হবে যে সমাজে

    একথা ধরেই নিতে হবে যে সমাজে Sober criticism বা ভদ্রস্থ সমালোচনার অভাব রয়েছে, তাই সৃজনশীল মানুষদের সকল ধরনের সমালোচনার বিপরীতে নিজের ভাবনা কে ধরে রাখার ও এগিয়ে নেয়ার দক্ষতা টি অর্জন করতেই হয়। একথাও সত্যি যে, একমাত্র সমালোচকই একটি সৃজনশীল কাজ কে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন, মুগ্ধ বন্ধুরা তা করেন না, তাই বন্ধুর মুগ্ধতার চাইতে অভদ্র সমালোচক এর সমালোচনা বেশী কার্যকর।

    এই জিনিসগুলো বোঝার ক্ষমতার বড়ই অভাব আমাদের বাংলা ব্লগারদের!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 − 72 =