ধর্ম ধার্মিক ধর্ম

টিভিতে ইসলামী সাওয়াল জবাবের অনুষ্ঠান অত্যন্ত জনপ্রিয় দেখলাম। প্রচুর দর্শক ফোন করেন, চিঠি পাঠান, মেইল করেন। তারা জানতে চান অমুক কি ইসলামে জায়েজ? ওটা খাওয়া কি হালাল? কাজটা শরীয়ত সম্মত হবে তো?… যে দেশের রন্ধে রন্ধে দূর্নীতি সে দেশের মানুষ যে হালাল সাবান খুঁজবে বাজারে গেলে এ আর নতুন কি? যে সমাজে পচন ধরে যায় সে সমাজে হালাল-হারাম নিয়ে মানুষ অতি ব্যস্ত হয়ে পড়ে।অসৎ সমাজে ধর্মালয় বৃদ্ধি পায়। মানুষের মাথার উপরে ছাদ না থাকলেও ঈশ্বরের মাথার উপরে সবাই ছাদ দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যারা কোটি কোটি মানুষের মাথার উপরের ছাদটা টেনে সরিয়ে দিয়েছে তারাই ঈশ্বরের মাথায় ছাদ বানায়, গম্বুজ গড়ে দেয়।বাড়ির যে কিশোরী কাজের মেয়েটা, এঁটোকাঁটা খেতে দিয়ে, পশুর মত বিরামহীন খাটিয়ে নিয়ে, আপনি হিজাব পরে কোন লাল দাড়িঅলা মাওলানার হালাল-হারাম কিচ্ছা শুনবেন একমাত্র নষ্ট কোন সমাজের বাসিন্দা হলেই! হজযাত্রীদের সিংহভাগই থাকে চোর-ডাকাত লুন্ঠনকারী। ২০ বছর আগেও দেখেছি আসর নামাজে এক কাতার হওয়ার মত লোকও মসজিদে থাকতো না।এখন দেখি বারান্দায় পর্যন্ত মানুষ! ঘটনা কি? আমরা কি খুব সৎ হয়ে গেছি ২০ বছর আগের তুলনায়? নৈতিকতা আমাদের বেড়েছে? নামাজি লোক বাড়লে দেশ দূর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হয় কি করে? সরকারী-বেসরকারী অফিসগুলোর বড়বাবু থেকে পিয়ন পর্যন্ত পাক্কা নামাজি, ঘুষ ছাড়া লেনদেন হয় না।রমজান মাসে আমাদের বাড়াবাড়ি চরম পর্যায়ে উঠে।লোকজন যেন প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়া করে রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করতে না পারে আমাদের চেষ্টা থাকে সেরকম।মানুষের মাঝে ধর্মকর্ম বেড়ে গেলে তো সমাজে সততা ও নিষ্ঠা বেড়ে যাবার কথা, তাই না? তাহলে উল্টোটা হচ্ছে কেন?

আগের চেয়ে মানুষ অপেক্ষাকৃত কম বয়েসে দাড়ি রাখা শুরু করে সুন্নত মেনে।পায়ের গোড়ালীর উপর কাপড় পরে নবীর তরিকা মেনে। যারা সুট্য-টাই পরে তারা জাকির নায়েকের মত মাথায় একটা টুপি চাপিয়ে মুসলমানিত্বটা প্রকট করে।যতই হাস্যকর লাগুক দেখতে তবু গোফ ছাড়া দাড়ি রেখে সুন্নত পূর্ণ করে।উদ্দেশ্য যে করেই হোক আপনাকে দেখে যেন মুসলমান মনে হয়।…

আমরা সততা আর নিষ্ঠার উদাহরণ দিতে গেলেই ইউরোপ-আমেরিকাকে টেনে আনি। বেমালুম ভুলে যাই এশিয়ার জাপান কোরিয়ার কথা।দক্ষিণ কোররিয়ায় এক বন্ধু থাকে, সে প্রায়ই বলে ওদের সততার কথা। মুজরী, শ্রমিকের শ্রমের মূল্য ঘাম শুকোবার আগে পরিশোধ করে দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি…। ওদের শরীয়ত নেই। হারাম-শুয়োর খায়।শফি হুজুর-বাবুনাগরী নেই।কে দিবে শরীয়তের বিধান? ধর্মই পালন করে না। আছে একজন গড, ব্যস, বছরে কোন পালা-পার্বনে গির্জা কি প্যাগোডায় একবার দর্শন দিলেই হলো…।

মাগরিবের নামাজের সময় আপনি পাড়া-মহল্লায় একটা ফার্মেসীও খোলা পাবেন না জরুরী অষুধ কেনার জন্য!জুম্মার সময় সমস্ত দোকানপাট বন্ধ। রাস্তা আটকে জামাত হয়। মানুষের কি ঢল মসজিদে!মাগরিবের সময় বেশির ভাগ দোকানের ঝাপ নামানো থাকে। এটা যখন শতভাগ হবে আমি নিশ্চিত পয়সা দিয়েও আপনি ভাল জিনিসটা পাবেন না। বেশিরভাগ মানুষের মোবাইল নামাজের সময় সাইলেন্স করা থাকে। আমার মত বেনামাজিরা ফোন করে দেখে ধরে না।পরে জিজ্ঞেস করে দেখা যায় নামাজে ছিল।ধর্মের সঙ্গে আশ্চর্য কম্প্রমাইজ করে নিয়েছে এরা। যা-ই করি না কেন, নামাজটা ঠিক পড়ি জামাতের সহিত! নামাজ বেহেস্তের চাবি! শত হলেও একজন নামাজিকে তো আর দোজগে ফেলা যাবে না।তাই যা খুশি তাই করো।থুমছে হারাম কামাও!বাস্তবে যা-ই করো খুব শরীয়ত ভক্ত হও।শফির লালাতত্ত্বর সঙ্গে একমত হও।নিজে ফস্টিনস্টি করো ইচ্ছা মত কিন্তু মুক্তমনাকে বেয়াল্লাপনা বলে প্রচার করো।নিজের জীবনে শতভাগ ইসলাম মানতে না পারলেও নাস্তিকদের উচিত শিক্ষা হওয়া উচিত বলে রায় দাও।…আমার অফিসে নতুন নিয়ম হয়েছে, নামাজের আগে যেন কেউ কেন্টিনে খেতে না যায়! …

একজন পেশাদার খুনি এলাকার বড় ভাই ছিল।কয়েক বছর আগে সে ক্রসফায়ারে ঝরে যায়। তাকে একবার দেখেছিলাম, আজানের সময় সে কিছু খায় না।নামাজী না হলেও খুব আল্লা রাসূলকে মান্য করে। হুজুর-মাওলানাদের খাতির করে খুব…।বেশির ভাগ সিনেমার নায়িকার ইন্টারভিউতে দেখেছি তাদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব হযরত মুহাম্মদ! আসলে এগুলো আসে পাপবোধ থেকে।আমাদের আসলে কোন নৈতিক চরিত্র নেই।একটা নৈতিকতাহীন সমাজের ধর্মের বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয়।এ্ই সমাজে এখন সেই বিজ্ঞাপনই চলছে…।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “ধর্ম ধার্মিক ধর্ম

  1. মসজিদের ফ্লোর যতই পাকা হচ্ছে,
    মসজিদের ফ্লোর যতই পাকা হচ্ছে, আমাদের ইমান ততই চৈত্রের মাঠের মত শুকিয়ে যাচ্ছে। ভাল লিখছেন, তবে অনেক প্রশ্ন করে ফেলছেন। ভুলেও যেন এই প্রশ্নগুলো আপনার পাশের কোন মুসল্লিকে বলবেন না, ইমানের দান্দা আপনার উপরেই খাড়া হবে।

  2. বাংলাদেশের তথাকথিত ইমানদার
    বাংলাদেশের তথাকথিত ইমানদার মুসলমানদের কাজ দেখলে আমার বড়ই মায়া হয়।
    তাদের মুখে বিসমিল্লাহ আর করে সুদী কারবার। কই আমরা হারাম জিনিস খাই না , আর করে মদের কারবার।

    1. গত হলি খেলায় এক হিন্দু ছেলে
      গত হলি খেলায় এক হিন্দু ছেলে (৬ বছর) তার মুসলিম ফ্রেন্ডকে রং দিয়েছিল, তাতেই কাম সারা। মুসলিম ছেলেটার মা যা তা গালি শুরু করে দিল হিন্দু ছেলেটিকে ও তার বংশকে মালায়ুন গালি দিয়ে। তার তিনদিন পর সেই মুসলিম নারাটা হিন্দু বাড়িতে এসেছে সিন্নির চাল চায়। আজব…

    2. সবকটা সুদের কারবারে দেখবেন
      সবকটা সুদের কারবারে দেখবেন শরীয়া বোর্ড থাকে, সেখানে লম্বা লম্বা দাড়ির মাওলানা সাবরা মোটা অংকের বেতন ভাতা নেন!

  3. একজন পেশাদার খুনি এলাকার বড়

    একজন পেশাদার খুনি এলাকার বড় ভাই ছিল।কয়েক বছর আগে সে ক্রসফায়ারে ঝরে যায়। তাকে একবার দেখেছিলাম, আজানের সময় সে কিছু খায় না।নামাজী না হলেও খুব আল্লা রাসূলকে মান্য করে। হুজুর-মাওলানাদের খাতির করে খুব…।বেশির ভাগ সিনেমার নায়িকার ইন্টারভিউতে দেখেছি তাদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব হযরত মুহাম্মদ! আসলে এগুলো আসে পাপবোধ থেকে।আমাদের আসলে কোন নৈতিক চরিত্র নেই।একটা নৈতিকতাহীন সমাজের ধর্মের বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয়।এ্ই সমাজে এখন সেই বিজ্ঞাপনই চলছে…।

    দারুণ বলেছেন!

    :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  4. যে দেশের রন্ধে রন্ধে দূর্নীতি

    যে দেশের রন্ধে রন্ধে দূর্নীতি সে দেশের মানুষ যে হালাল সাবান খুঁজবে বাজারে গেলে এ আর নতুন কি? যে সমাজে পচন ধরে যায় সে সমাজে হালাল-হারাম নিয়ে মানুষ অতি ব্যস্ত হয়ে পড়ে।অসৎ সমাজে ধর্মালয় বৃদ্ধি পায়।

    বেশির ভাগ সিনেমার নায়িকার ইন্টারভিউতে দেখেছি তাদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব হযরত মুহাম্মদ! আসলে এগুলো আসে পাপবোধ থেকে।আমাদের আসলে কোন নৈতিক চরিত্র নেই।একটা নৈতিকতাহীন সমাজের ধর্মের বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয়।এ্ই সমাজে এখন সেই বিজ্ঞাপনই চলছে…

    দে প্রমিজ ইউ হেভেন, সো দে ক্যান স্টিল ইওর ওয়ার্ল্ড।

    লেখা বরাবরের মতো ভালো লেগেছে।

    #########################################################

  5. সত্যি কথা । এই নৈতিকতার
    সত্যি কথা । এই নৈতিকতার অভাবের কারণে ধর্ম তার সুযোগটা নিচ্ছে দারুণভাবে । আর বিশেষকরে আমাদের সমাজের যারা মাথা বলে বিবেচিত তারা ধর্মের এই সুযোগ ব্যাবহার করাটাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটে নিচ্ছে । অদ্ভুত একটা চক্র । আমি বা আপনারা সহজে কিন্তু দেখিনা ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রান্তিক মানুষদের মসজিদে ছুটে যেতে , যাদের দেখি তারা সবাই অফিস আদালতের মানুষ ,তথাকথিত শিক্ষিত মানুষ । কাজেই , খুব সহজে ধারণা করা যায় এই ধর্মপ্রীতির শিকড় লুকিয়ে আছে মানসিক প্রশান্তিতে । হ্যাঁ , মানসিক প্রশান্তি । ইচ্ছেমত দূর্নীতি করে এই মানুষগুলা যখন তাদের পরকালের ভয়ে কাঁপে, তখন একমাত্র ধর্মের আশ্রয়তো তাদের মানসিক শান্তি দিতে পারে , তাইনা ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

30 − 27 =