ফাইজুরা কামড়িয়েছে, মাজারেও ব্যবসা হয়েছে, কিন্তু এটাই একমাত্র সত্য নয়, “গণজাগরণটাই পূর্ণ সত্য…

যারা লেখার জন্য একজন লেখককে রাস্তায় পেলে কোপায়, চিরতরে তার লেখনী বন্ধ করে দেয় তাদের সঙ্গে ফাইজুদ্দিনদের তফাত কোথায়? ফারাবী আর ফাইজুদ্দিন আদর্শ দিক দিয়ে ভিন্ন নয়, তাদের ভিন্নতা রাজনৈতিক দলবাজীতে। ফারাবী রকমারি থেকে অভিজিৎ রায়ের বই সরিয়ে ফেলতে বলে কারণ অভিজিৎ রায়ের লেখনী সে সহ্য করতে পারে না। ফাইজুদ্দিনও যাদের মতামত সহ্য করতে পারে না রাস্তায় ধরে পিটুনি দিতে উস্কানি দেয়। ফারাবী একে হত্যার হুমকি দেয়, তাকে শাঁসায়, এই ফাইজুদ্দিনও ‘ওকে পিটিয়ে শিক্ষা দেয়া উচিত’, ‘ওকে হামলা করো’ বলে লোকজনকে উস্কে দেয়। কারণ ওর কলমের জোর নাই আছে খিস্তির জোর। ফারাবী সাম্প্রদায়িক গালাগালি করে ফাইজুদ্দিন রাস্তার অসভ্য মানুষের মত গালাগালি করে। ফারাবীরা গণজাগরণ মঞ্চকে শুরু থেকে সহ্য করতে পারেনি, এত মানুষের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে মেনে নিতে পারেনি। ফাইজুদ্দিনও গণজাগরণে দেখে শুয়োরের মত ফুঁসেছে প্রথম থেকে…।

এদের গোত্র চেনা যায় মুক্তমনা লেখকদের বিষয়ে এদের এ্যালার্জি দেখলে। আসিফ মহিউদ্দিনকে কোপালে এরা খুশি হয়। কোন প্রকৃত লেখক-ব্লগার কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করতে বলে না। পাড়ার মাস্তানদের মত ভিন্নমত হলেই “সাইজ” করতে যারা তৎপর হয় তাদের জায়গা ফারাবীদের উঁচুতে নয়। রাজীবকে যখন মারা হয় আন্দোলন চলাকালে তখন এরাই উল্টো রাজীবকে দায়ী করেছে আন্দোলনকে “নাস্তিক” ট্যাগ মারার জন্য। যারা জনগণের আবেগ নিয়ে ধান্দা করতে চেয়েছে তারাই “নাস্তিক” ট্যাগে ব্যবসা বন্ধের উদ্ববেগ করেছে। দেশের মানুষ জানুক, শাহবাগে “নাস্তিকরা” একাত্তরের ধর্ষণকারী, হত্যাকারীদের ফাঁসি চায়, সমস্যা কোথায়? ভোট তো চাইতে যাইনি শাহবাগে। ইমেজের প্রশ্ন আসে কেন? মঞ্চকে দুদলই মাজার বানাতে চেয়েছে হালুয়া-রুটি খাওয়ার জন্য। একদল যখন মাজারের খাদেমের পদ বাগিয়ে নিয়েছে অন্য গ্র“প তখন গুন্ডা-বদমাশের মত গ্যাং তৈরি করে চেতনার নতুন ব্যবসা খুলে বসেছে। আদতে এই দুই গ্র“প এক সময় হরিহর আত্মা ছিল। বখরা নিয়ে বণিবণা না হওয়ায়, নেতাগিরি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এখন কুকুরের মত বসচায় লিপ্ত হয়েছে। যে কিশোর ছেলেটি মাথায় জাতীয় পতাকা পট্টি বেধে শাহবাগ এসেছিল কসাই কাদের মোল্লার বিচার চাইতে সে এই ধান্দাবাজীর কিছুই জানে না। যে গৃহিনী রোজ সংসারের জুটঝামেলা সামলে একবেলা শাহবাগ গিয়ে শ্লোগানে গলা মিলিয়েছিল সে শিন্নির ভাগ নিতে মঞ্চে যায়নি। কোটি কোটি মানুষের আবগেকে যারা ব্যবসার কাজে লাগাতে চেয়েছে তারাই আজ মাংসের টুকরা নিয়ে নির্লজ্জ কামড়াকামড়িতে গোটা রাজাকার বিরোধী জেনারেশনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে…।

হেফাজত রাস্তায় নামলে একটা চরম সত্য প্রকাশিত হয়। হেফাজত “নাস্তিক” ব্লগার খুঁজতে গেলে তেল আর জল আলাদা হয়ে যায়। প্রকৃত মানবতাবাদী, মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীল লেখকগণ একদিকে আর দলবাজ, মতলববাজ, চটিবাজ, আর ছুপাছাগু ফাইজুদ্দিনরা আরেক দিকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এই দ্বিতীয় দলই একটা দলীয় সমর্থনগোষ্ঠির গন্ডির মধ্যে এনে “মদিনা সনদের” সঙ্গে খাপ খাওয়ায়! যেখানে শফির ১৩ দফাকে এরা খন্ডন করতে কোরআন-হাদিস নিয়ে রিসার্চ করতে বসে! মুক্তিযুদ্ধ করার সময় কোন শরীয়াবোর্ড কি মুক্তিযুদ্ধকে হালাল বলে সার্টিফিকেট দিয়েছিল? আজ যদি কেউ মুক্তিযুদ্ধ আর তার চেতনাকে অনৈসলামিক বলে দাবী করে আমরা তাকে কোরআন-হাদিস থেকে প্রমাণ দেখাবো? এই শফি, গোলাম আযমরা কারা যে তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামী প্রমাণ করতে আমাদের বুখারী শরীফ প্রয়োজন হবে? নাস্তিক ব্লগার তাই চোখের কাঁটা। ব্লগারদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালাল কারা নাস্তিক আর কারা ঈমানদার। কেউ কেউ মসজিদ কমিটির সেকেটারি হয়ে গেলেন! চারজন ব্লগারকে গ্রেফতার করলো ইসলামপ্রেমী সরকার। আরো যারা বাইরে ছিলেন “নাস্তিক ব্লগার” প্রমোদ গুণতে লাগলো।… পরের ইতিহাস সবার জানা। “আমরা সবাই ভাই ভাই নাস্তিক ব্লগারের ফাঁসি চাই” এই শ্লোগানে লীগ-জামাত-হেফাজত-বিএনপি সবাই এক কাতারে শামিল হয়। শাহবাগ আন্দোলনের সময়ে মাহমুদুর আর তার ‘আমার দেশ’ কাগজের ভূমিকার কথা মনে আছে? প্রথম আলো? হাসতান আবদুল হাই আর অদিতি ফাল্গুনীর মত ছুপাছাগু লেখকদের কথা? বাঁশের কেল্লা থেকে যখন একের পর এক গাঁজার ধোঁয়া ছড়ানো হতো চরিত্র হননের জন্য তখন আমরা লড়েছি কি সত্যের বিরুদ্ধে? বিরিয়ানি যদি কেউ খেয়ে থাকে ফাইজুদ্দিনের দোস্তরাই খেয়েছে! এখন জিপাঞ্জি ডাক্তার বাঁশের কেল্লার গলায় কথা বলছে ইতিহাসে শাহবাগের গণমানুষের আন্দোলনকে বিকৃত করার জন্য। লক্ষ লক্ষ মানুষ শাহবাগকে মাতিয়ে ছিল যে প্রাণের টানে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সেটা কি নেতা হবার জন্য? আজ যখন দুই কুকুরের লড়াই দেখে খেদের সঙ্গে বলি: ‘তাহলে আর মাহমুদুর কি দোষ করেছে? ওর মুক্তি চাই! তখন ফাইজুদ্দিন কামড়াতে আসে। বাকরুদ্ধ করে দেয় মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে। আমাদের চেতনাকে নিয়ে নোংরামী করা এই ব্লগসন্ত্রাসীরা যতটা মুক্তচিন্তা ও ভিন্নমতকে গলা চেপে ধরতে উদ্যত ততটা কি এতকাল যাদের মৌলবাদী, ছাগু, স্বাধীনতা বিরোধী বলে গাল দিয়েছি তারা? আমার মত প্রকাশের জন্য ফাইজু কাল উস্কে দিবে, ওকে ধরে একটু “সাইজ” করে দাও! …

বাংলা ব্লগের শুরুর দিকে, অনলাইনে লেখালেখির প্রারম্ভে কিছু সন্ত্রাসী টাইপের লোকজন যারা কোন রাজনৈতিক দলের ক্যাডার, চাঁদাবাজ, চ্যালা-চামুন্ডা হবার যোগ্য তারাই দূর্ভাগ্যজনকভাবে ব্লগার হয়ে গিয়েছিল। কোন লেখক আর যাই হোক সন্ত্রাসী হন না। লেখার জবাব লেখা দিয়ে দিতে হয়। নুন্যতম যার মধ্যে লেখক সত্ত্বা উপস্থিত আছে তিনি কখনো বলেন না, ওমুককে ধরে একটু টাইট দেয়া দরকার। ওটাকে একটু পিটিয়ে শিক্ষা দেয়া উচিত…। বাংলা ব্লগ ও ফেইসবুকে এই সন্ত্রাসীরা পোস্ট লেখার নামে রোজ ব্যক্তি আক্রমন, কুৎসা, রটনা, প্রচ্ছন্ন উস্কানি, ভিন্নমতের লেখকদের জীবননাশের প্ররচণা করে যাচ্ছে পাড়ার মাস্তানদের মত। এরা ব্লগ খুলে বন্ধুবান্ধব নিয়ে মডারেটর প্যানেলে বসে মাস্তানি করার জন্য। ব্লগ খুলে এরা আসলে মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলে না বরং নিজেদের হালুয়া-রুটির রক্ষার কবজ বানায়। এই মঞ্চ আর মঞ্চ বিরোধী ধান্দাবাজরা আস্তকুড়েই নিক্ষেপ হবে! শাহবাগ জেগে রইবে সাধারণ জনগণের মনে। সেখানে গালিবাজ ফাইজুদ্দিন কি পাঞ্জাবীঅলা…বাঘা পীর কি গ্যাং… কারুরই স্থান নাই…।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “ফাইজুরা কামড়িয়েছে, মাজারেও ব্যবসা হয়েছে, কিন্তু এটাই একমাত্র সত্য নয়, “গণজাগরণটাই পূর্ণ সত্য…

  1. আইজুদ্দিনরে তো ভালোই পচানি
    আইজুদ্দিনরে তো ভালোই পচানি দিলেন!
    আইজুদ্দিনের আমার ব্লগের লেখাটা আমি দেখেছি
    :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন:

    আর ‘আমার ব্লগ’-এ যেভাবে আপনাকে ব্যান করা হয়েছে, সেটারও প্রতিবাদ জানাই।

  2. ফারাবী আর ফাইজুদ্দীন দুজনেই
    ফারাবী আর ফাইজুদ্দীন দুজনেই মানসিক বিকারগ্রস্থ। অতএব তাদের নিয়ে চিল্লাচিল্লি নিজের সময়ের অপচয় ব্যতীত আর কিছুই না।

    1. আমি তো ভাই নিজের খেয়ে বনের
      আমি তো ভাই নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো লোক, নইলে কি দায় পড়েছে ব্লগ লিখবো? দিব্যি খেয়ে দেয়ে চাকরিবাকরি করে কোনদিকে না তাকিয়ে আর দশজন লোকের মত জীবন কাটাকে। মানুষের মুক্তচিন্তার জাগরণ হোক এটাই আমি চাই। এজন্যই লেখালেখি।

  3. শিরোনামটা দারুন হৈছে!
    আইজু

    শিরোনামটা দারুন হৈছে!

    আইজু নিজেই স্বীকার করে সে বাল ছাল আইজুদ্দিন ।তার বাল ছাল নিয়া আমাদের টানাটানি করাই বোকামি ।

  4. বাংলা ব্লগ ও ফেইসবুকে এই

    বাংলা ব্লগ ও ফেইসবুকে এই সন্ত্রাসীরা পোস্ট লেখার নামে রোজ ব্যক্তি আক্রমন, কুৎসা, রটনা, প্রচ্ছন্ন উস্কানি, ভিন্নমতের লেখকদের জীবননাশের প্ররচণা করে যাচ্ছে পাড়ার মাস্তানদের মত। এরা ব্লগ খুলে বন্ধুবান্ধব নিয়ে মডারেটর প্যানেলে বসে মাস্তানি করার জন্য। ব্লগ খুলে এরা আসলে মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলে না বরং নিজেদের হালুয়া-রুটির রক্ষার কবজ বানায়।

    ঠিক বলছেন।

  5. বাংলা ব্লগ ও ফেইসবুকে এই

    বাংলা ব্লগ ও ফেইসবুকে এই সন্ত্রাসীরা পোস্ট লেখার নামে রোজ ব্যক্তি আক্রমন, কুৎসা, রটনা, প্রচ্ছন্ন উস্কানি, ভিন্নমতের লেখকদের জীবননাশের প্ররচণা করে যাচ্ছে পাড়ার মাস্তানদের মত। এরা ব্লগ খুলে বন্ধুবান্ধব নিয়ে মডারেটর প্যানেলে বসে মাস্তানি করার জন্য। ব্লগ খুলে এরা আসলে মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলে না বরং নিজেদের হালুয়া-রুটির রক্ষার কবজ বানায়।

    শতভাগ সহমত। এইসব বালছালের জন্য আজ অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি। এসব দলীয় কুকুরদের থেকে অনলাইন মুক্ত হওয়া উচিত। অনলাইন হোক মুক্তচিন্তার চর্চার কেন্দ্র, যুক্তির সাথে আলোচনার মঞ্চ। আইজুদ্দিনের মত বালছালদের থেকে অনলাইন কমিউনিটিকে মুক্ত করতে হবে দৃঢ়ভাবে।

    1. নুর নবী দুলাল,
      এসব দলীয়

      নুর নবী দুলাল,

      এসব দলীয় কুকুরদের থেকে অনলাইন মুক্ত হওয়া উচিত। অনলাইন হোক মুক্তচিন্তার চর্চার কেন্দ্র, যুক্তির সাথে আলোচনার মঞ্চ।

      আপাতত ইস্টিশানকে সেই চর্চার ক্ষেত্র করা যায় কিনা পুরোপুরি সেটা করাই হবে বৃহৎ পরিসরে বাংলা অনলাইনের বিশাল জগতের জন্য শুভ সূচনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 2