প্রোপাগান্ডা: একটি প্রগমনের নাম

প্রোপাগান্ডা একটি সুনির্ধারিত সার্বিক প্রক্রিয়া। প্রোপাগান্ডা বা অপ-প্রচারনায় নিযুক্ত ব্যাক্তি বা স্বত্তা প্রাপ্তিসাধ্য সকল প্রযুক্তিগত সুবিধা অর্থাৎ প্রেস, টিভি, রেডিও, সিনেমা, পোস্টার, মিটিং, ব্যাক্তিগত ক্যানভাসিং, ইন্টারনেট, সেলফোন, টেক্সটিং, টুইটার, ইউ’টিউব, ব্লগ, মাইক্রো-ব্লগ, সকল প্রকার সামাজিক ও কর্পোরেট যোগাযোগ সাইট, অনলাইন রেডিও, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ইত্যাদি কাজে লাগান। যখন কোন একক ব্যাক্তিস্বত্তা বিচ্ছিন্নভাবে এবং যত্রতত্র একটা আর্টিকেল বা পোস্টার ছাপায়, টিভি/রেডিও-কথন করে, দু’চারটা লেকচার দেয়, সভা-সেমিনার করে কিংবা কিছু শ্লোগান ব্যাবহার করে তখন কিন্তু তা প্রোপাগান্ডার আওতায় পড়েনা। প্রোপাগান্ডা অবশ্যই সমগ্র-সমষ্টি-নির্দিষ্ট হতে হবে। প্রোপাগান্ডা সমগ্র সমাজকে সকল সম্ভাব্য উপায়ে নিজের সাথে জড়িয়ে নেবে, সচেতন বা অবচেতন সকল উপায়ে, অনুভুতি ও বুদ্ধিকে সম্পৃক্ত করে, ব্যাক্তির ব্যাক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে নেতিবাচক প্রবাহে পরিচালিত করতে এবং তার আপন উপলক্ষ্য বা উদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করতে। এটা তাকে জীবনের সকল আঙ্গিক ব্যাখ্যা করার একটি পরিপূর্ণ ব্যবস্থার যোগান দেবে। সাথে থাকবে কর্মযোগে নগদপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা। …… জাঁ এল্লুল।

আমরা আমাদের জনসমষ্টি ও গনযোগাযোগ মাধ্যমের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় একটি সরল সত্য বুঝতে পারি, জনসমষ্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ টিভি আর ইন্টারনেটকে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রাপ্তির উৎস জ্ঞান করে। সকল প্রকার পারস্পরিক ও আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থাৎ প্রেস, টিভি, রেডিও, সিনেমা, পোস্টার, টেক্সটিং, অনলাইন রেডিও, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন এবং ইন্টারনেট-নির্ভর কমিউনিকেশন (টুইটার, ইউ’টিউব, ব্লগ, মাইক্রো-ব্লগ, সকল প্রকার সামাজিক ও কর্পোরেট যোগাযোগ সাইট) এবং তার সম্পর্কিত কমেন্টস, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি আমাদের একরকম প্রযুক্তিগত আধুনিকতার এক ভ্রান্তিময় তৃপ্তি দেয়।

প্রযুক্তির এই অন্তর্জগতে, প্রেরকই বস্তুত প্রাপকের এবং প্রাপকই প্রেরকের ভূমিকা পালন করে। একজন বার্তা-প্রাপক সরলভাবে একজন বার্তা-বাহক বা বার্তা-প্রচারক হিসেবেই কাজ করে, উক্ত বার্তায় তাদের বিশ্বাস থাকুক আর নাই থাকুক বা বার্তার উৎস জানা কিংবা অজানা যাই হোক। আর ঠিক এটাই বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অদ্ভুত শক্তিময়তার উৎস।

আমরা যারা সময়ের অভাবে অথবা সামাজিক-পারিপার্শ্বিক কারনে অপরের চিন্তার উপর আস্থাশীলতায় আমাদের আপন বিবেচনা-বিবর্জিত এক প্রতিক্রিয়াশীল আচরনে অভ্যস্ত হয়ে আছি, আমাদের আচরন এবং চিন্তা নিশ্চিতভাবেই বিচ্ছিন্নতায় আক্রান্ত। আমাদের সমাজের একটা বহুলাংশই আসলে একারনে কোনও ইস্যু নিয়ে নৈর্ব্যক্তিকভাবে ভাবছেনা, বরং “শোনা-কথায়” প্রতিক্রিয়া করছে। তাই তাদের আচরন কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্যকে চিন্তার আলোকে বহন করছেনা। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট তথ্য-নির্ভর একটি চিন্তা হারিয়ে যাচ্ছে (আচরণগত) প্রতিক্রিয়াশীলতায়। এভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠরা পরিনত হচ্ছে একটি সুনিয়ন্ত্রিত জনসমাজে।

এই জনসমাজের আচরন, কর্মধারা এবং দৃষ্টিভঙ্গি এভাবেই বিভিন্ন বহুজাতিক কর্পোরেশন, নির্দিষ্ট-মতবিশ্বাসী দল, এবং বিভিন্ন অস্থিতিশীলতার উৎসমুখের মিথ্যা ও ভ্রান্তির উপরে সুপ্রতিষ্ঠিত। কারন “সত্য” এখানে খুবই গৌন এবং নগন্য একটি ভুমিকায় ক্রিয়াশীল। এখানে বরং সেই “দ্বিধাবোধ” অনেক বাস্তবসম্মত, যা আমাদের প্রতিক্রিয়ায় উদ্বুদ্ধ করে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তিত করে, আমাদের এক অনন্যতার আস্বাদ দেয়; এমনকি তখন নির্জলা “সত্য”কেও ভ্রান্ত বোধ হয়।

মিডিয়া ও ইন্টারনেট-ভিত্তিক জীবন’ব্যবস্থার এটাই বর্তমান বাস্তবতা……

এখন যদি আমরা, আমজনতা, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, ক্ষমতালোভী বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের হাতে থাকার চেয়ে ক্ষমতার কলকাঠি আমাদের হাতেই থাকা ভালো তবে আমাদের আরও অনেক প্রো-অ্যাক্টিভ হতে হবে। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, কোনও নির্দিষ্ট মতবিশ্বাসী দল বা গোষ্ঠীর যদি সরকারযন্ত্র বা তার নীতিনির্ধারনী বিষয়সমুহের উপর অসমানুপাতিক প্রভাব থাকে তবে তা গনতন্ত্রকে নিশ্চিতভাবেই অসুস্থ ও অস্থিতিশীল করবে। এর কোনও ব্যত্যয় নাই।

ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমসমুহঃ

• মিডিয়া নিয়ন্ত্রনঃ
এটা হচ্ছে তথ্য বা বার্তা নিয়ন্ত্রনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মিডিয়া মালিকানা হচ্ছে ম্যানিপুলেশনের কেন্দ্রস্থঃ শক্তি। গনমানুষের ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে মুলত গনমানুষের মৌলিক গনতান্ত্রিক অনুষঙ্গ “ভোট”কেই ম্যানিপুলেট করা হয়। মিডিয়া নিয়ন্ত্রনের প্রচলিত প্রক্রিয়া হচ্ছে মিডিয়া কিনে নেয়া অথবা উক্ত মিডিয়ার মালিকপক্ষকে বিভিন্ন স্বার্থ ও সুবিধার দ্বারা কুক্ষিগত করা। সাধারনত বিশালবপু কর্পোরেশনগুলোই মিডিয়াসমুহের মালিক প্রকারান্তরে যারা বিবিধ সরকারি বা সরকার-সমর্থিত কর্মকাণ্ড সমুহে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারনী ভূমিকা রাখে এবং তৎপ্রসুত সুবিধাদি ভোগ করে।

• টেলিভিশনঃ

অন্যান্য যেকোনো গনমাধ্যমের চেয়ে টেলিভিশন আমাদের তুলনামুলকভাবে অনেক বেশি ক্ষতিসাধন করছে। যা আমাদের মনোযোগের ক্ষেত্রকে ৫ সেকেন্ডের সাউন্ড বাইট্‌সে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে, আমাদের ভাতের থালায় তুলে দিচ্ছে পারস্পরিক-সম্পর্কহীন ঘটনাবলি এবং তৎসংশ্লিষ্ট স্ববিরোধিতাসমূহ, যার ঐতিহাসিক বা সমাজবিজ্ঞানজাত কোনও ভিত্তিই নাই এবং এটা করা হচ্ছে একপ্রকার আবেগীয় চাপের মাধ্যমে ক্রমাগত এর প্রতি উৎসুক করে। সাধারনত সুনির্দিষ্ট ও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নমালা এবং তার কার্যকারন সম্পর্কিত ব্যাপারগুলোকে বিভিন্ন আবেগীয় চিত্রকল্প দ্বারা এবং আলোচনাকে বিপরীত মতাদর্শবাদী ব্যাক্তিবর্গের প্রান্তীয় ধারনাপ্রসূত তর্কবাজি দ্বারা রীতিমত একটা বিনোদন ও স্থিতিশীলতার প্রলেপ দেয়া হয়।

• নিত্য যুদ্ধঃ
শত্রুর (অন্তস্থঃ বা বহিস্থঃ) সাথে যুদ্ধলিপ্ত একটি দেশ সাধারনত ভীতিগত কারনেই ঐক্যবদ্ধ এবং তার অধিবাসীরা যার প্রেক্ষিতে সর্বময় ক্ষমতাকে একটি নেতার (অথবা নেত্রীর) হাতে তুলে দেয়াটাই যৌক্তিক মনে করে।

জর্জ অরওয়েল নামক একজন ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধকার ও সাংবাদিক বলেন, যুদ্ধলিপ্ততার অথবা চরম কোন বিপদের একটি সচেতন অনুভূতি, আমাদের সর্বময় ক্ষমতাকে একটি ক্ষুদ্র ও সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর হাতে তুলে দিতে স্বাভাবিক ও অবধারিতভাবে উদ্বুদ্ধ করে। এটা খুবই সহজ সাধারন একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে জনসমষ্টিকে বলতে হবে যে তারা আক্রান্ত, এরপর শান্তিকামীদের দেশপ্রেম-জনিত ঘাটতি এবং সমগ্র দেশ ও দেশবাসীকে বিপদগ্রস্ত করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নিন্দা করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সকল দেশ ও জাতির জন্য একইভাবে কার্যকর।

• ভাষাঃ
জর্জ অরওয়েল আমাদের বাস্তবতা ও আচরনবোধ এর সংজ্ঞায়নে ভাষা এবং ভাষা উদ্ভুত/জাত ক্ষমতা ও তার নিয়ন্ত্রনের কলাকৌশল বেশ ভালোই বুঝেছিলেন। ভাষাকে নিয়ন্ত্রন করা মানেই জনসমাজের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রন করা (যার নমুনা আমরা আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সমসাময়িক চিন্তাধারায় পেয়েছি)।

অরওয়েল আরও বলেন, ভাষাগত নিয়ন্ত্রন (এবং নির্দিষ্ট শব্দ-তালিকার বিলুপ্তিকরন) হচ্ছে জনসমাজকে নিয়ন্ত্রনের একটি পূর্বশর্ত। তার ভাষ্যমতে, “তোমরা কি দেখতে পাওনা যে, সংবাদ ও মিডিয়ার পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য হল আমাদের চিন্তার পরিধিকে সীমিত করা ? পরিশেষে আমরা অপরাধ-ভাবনাকে আক্ষরিক অর্থে অসম্ভব করে তুলবো কারন তখন সেই সকল ভাবনাকে প্রকাশযোগ্য করার মতোন কোনও শব্দেরই আর অস্তিত্ব রইবেনা। চিন্তার সমগ্র আবহজুড়ে ঘটবে এক সমূল ও আমুল পরিবর্তন। বস্তুতঃ তখন এমন কোনও চিন্তারই অস্তিত্ব থাকবেনা যা আজকের দিনে আমাদের মাঝে বর্তমান ও ক্রিয়াশীল”।

• দেশপ্রেমঃ

সাদা চোখে দেশপ্রেম বলতে মনে হতে পারে দেশ ও দেশবাসীর সাথে সংহতি প্রকাশ করন, কিন্তু প্রকারান্তরে এটাই হচ্ছে সেই সকল মূলমন্ত্রের একটা যার দ্বারা জনগন তথা জনসমাজকে আপন সরকারের সেবায় নিয়োজিত করা যায় (যখন তা সেই জনগন/জনসমাজের জন্য এমনকি সুফলদায়ক কিংবা প্রয়োজনীয় নয়)।

তলস্তয় বলেন, প্রতিটা ক্ষমতাসীন শক্তিই দেশপ্রেমের উপর নির্ভরশীল। যতদিন জনগন/জনসমাজে দেশপ্রেমবোধ ক্রিয়াশীল থাকবে, ততদিন তারা সরকারযন্ত্রের অনাচার ও অসঙ্গতিকে (নিজেদের প্রতি এবং ভিন্ন-ভুমিতে অবস্থানরত অন্যান্য নিজস্ব/অভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতি) মার্জনা করবে।

• সত্যভ্রষ্টতাঃ
জনসমষ্টির চিন্তাধারা সুনির্দিষ্টভাবে চালনার নিমিত্তে উদ্ভুত কল্পকথা চালু রাখার জন্য এটা সরকার এবং মিডিয়ার একটি প্রচলিত পদ্ধতি। যেমন, ক্রসফায়ার বা এক্সট্রা-জুডিসিয়াল-কিলিং সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধ দমন ও নির্মূলের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি আইনগত পদ্ধতি।

• ধর্ম ও ধর্মগোষ্ঠীঃ

বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মগোষ্ঠী উদ্ভূত অনন্ত সুখের জীবন বা স্বর্গধারনা এবং নরকের হুমকি (গাধার নাকে মূলার মতোন) জনিত ধারনাই মুলতঃ অধিকাংশ মৌলবাদিতা, হত্যা, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, আত্মহত্যা, উদ্দেশ্যমূলক নির্যাতন, লজ্জা, অপরাধবোধ, বিকৃতি, সহিংসতা, দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ এবং ইত্যাকার নৈতিক অবক্ষয়মূলক ম্যানিপুলেশনের জন্মদাতা; যার বহু উদাহরন রয়েছে সমসাময়িক এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর মাঝে (জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির সহ অপরাপর উগ্রপন্থী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং তাদের কীর্তিমালা এর সুস্পষ্ট সাক্ষ্য বহন করে)।

• বৈচিত্র্যহীন শিক্ষাব্যবস্থাঃ

“অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীই হচ্ছে ম্যানিপুলেশনের একমাত্র শিকার” – এই ধারনা পোষণ করা একটি পরিস্কার মানসিক অপরিপক্কতা। সাধারনত শিক্ষিত বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্প্রদায়কে ম্যানিপুলেট করা অপেক্ষাকৃত সহজসাধ্য, কারন তারা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী পরিমান তথ্য-উপাত্ত (ক্ষেত্রবিশেষে যা তাদের যাচাইক্ষমতার’ও অতিরিক্ত) প্রসেস করতে সক্ষম এবং শিক্ষিত বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্প্রদায় স্বভাবগতভাবেই সকল ব্যাপারে মতামত পোষণ, প্রকাশ, গ্রহন ও বিতরন করে। সমসাময়িক ও বর্তমান সমাজব্যবস্থায় শিক্ষা হচ্ছে উৎপাদকের অভিরুচিসাপেক্ষে সরকারযন্ত্রের (এবং প্রোপাগান্ডার) সহায়ক উপকরন।

বিগতকালীন সময়ের বিদ্যার্থীরা বোধকরি তাই সমসাময়িকদের চেয়ে অনেক বেশী বিপ্লবমনস্ক এবং উৎসুক ছিল। অথচ আজকের এই দিনে সেই সকল বিপ্লবমনস্কতার ধার যেন সমাজব্যবস্থার বানিজ্যিক বিবর্তন, দেশপ্রেমের অমোঘ আফিম আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনোদন ও ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনার প্রভাবে অনেকটাই মলিন ও মসৃণ।

• বানিজ্যবৃত্তিক দাসত্বঃ
কর্পোরেশন হচ্ছে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকার একনায়কতন্ত্র যা কিনা কৌশল (প্রকারান্তরে বল) প্রয়োগপূর্বক ব্যাক্তিকে দীর্ঘ সময়কালীন কাজের বিনিময়ে মোট লভ্যাংশের একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ প্রদান করে। আজকের দিনে অধিকাংশ মানুষই কর্পোরেশনের জন্য কাজ করছে, অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষই নির্দেশনাপ্রসূত পরিমণ্ডলে পরিচালিত হতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে এবং ফলতঃ সমাজ ও বিশ্বের বর্তমান বাস্তবতাসাপেক্ষে নিজের জন্য খুবই স্বল্প সময় ব্যয় করতে পারছে। আর ঠিক এটাই তাদের শাসনযন্ত্রের ম্যানিপুলেশনে সংক্রমণপ্রবন করে তুলছে, কারন আপন কর্মক্ষেত্রে ম্যানিপুলেশনের শিকার হয়ে তারা পর্যায়ক্রমে একটি প্রথার দাসত্ব বরন করছে। এই প্রচলিত প্রক্রিয়া অবশ্যই সমাজের সার্বিক উৎপাদনশীলতায় ইতিবাচক একটি ভূমিকা রাখে। কিন্তু একটি গনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে জনগোষ্ঠীকে এই সরল সত্য থেকে সর্বদাই বিচ্যুত রাখতে হয়।

• মিথ্যার পুনরাবৃত্তিঃ

জোসেফ গোয়েবেলস (জার্মানির হিটলার বাহিনীর নাজি প্রোপাগান্ডা অধিনায়ক) প্রায়শঃই বলতেন, “সত্যকে স্বীকার না করে কেবল মিথ্যারই পুনরাবৃত্তি করে যাও”। যে কোনও শাসনযন্ত্রের জন্য তার নিজস্ব জনসমাজকে বিভ্রান্ত ও বিচ্যুত করার জন্য এটি একটি অসম্ভব কার্যকরী কৌশল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 − = 70