রাজাকার যখন ‘নিরপেক্ষ’ কলাম লেখক বুদ্ধিজীবি!

‘হঠাৎ করেই যেন সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেল। চরম এক অস্থিরতা চারদিকে। মানুষের মনে কোন শান্তি বা স্বস্তি নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও বেকুব বনে গেছেন। তারা বলছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে- এতে কার কি বলার আছে, কেবল মাত্র সংক্ষুব্ধ দল বা ব্যক্তি ছাড়া। পরিস্থিতি এমনটাই ছিল। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেয়া ছিল সত্যিই কঠিন। কারণ, দলের দুজন নেতা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এর মধ্যে ‘শাহবাগে গণজাগরণ’ হয়ে গেল’।

কি সুন্দরভাবেই না শুরু হল বিশ্লেষকের বিশ্লেষণ তাই না? মনে হবে, এই কদিনে’র টালমাটাল পরিস্থিতির একটা নিরপেক্ষ পর্যালোচনা পেতে যাচ্ছেন। কিন্ত না…বল বারে ঢুকবে মনে হলেও বারের অনেক দূর দিয়েই ক্রমশঃ বাইরে চলে গেল… এরপরের লাইন…

এটাও এক নাটকীয় ঘটনা। কয়েকজন ব্লগার এ ঘটনা ঘটিয়েছেন এখন আর কেউ এটা বিশ্বাস করে না। শুরুতে তাই মনে হতো। টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বিষয়টি খোলাসা করে দিয়ে গেছে।

(লেখাটা ফেসবুকের মাধ্যমে পাওয়া) এরপরে বিশ্লেষকের বিশ্লষণ দেখুনঃ

যুদ্ধাপরাধের তিনটি মামলার রায় হয়েছে। আবুল কালাম আযাদের রায় নিয়ে তেমন হইচই হয়নি। কারণ হতে পারে দুটো। তার এখন আর কোন দল নেই। বহু আগে জামায়াতে ইসলামী ছেড়েছেন। দুই নম্বর হতে পারে তার প্রতীকী ফাঁসি নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। তিনি কোন দূরদেশে অবস্থান করছেন। কিভাবে তিনি গেলেন বা কোথায় আছেন তা এখনও রহস্যঘেরা। সমালোচকরা নানা কথাই বলেন। এর মধ্যে যুক্তি আছে, নেইও। আবদুল কাদের মোল্লার মামলার রায় নিয়েই যত গোলমাল। যাবজ্জীবন সাজা মানতে পারেননি তরুণরা। তাই তারা শাহবাগে জাগরণের চেষ্টা করেন। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা সফল হন। বিরোধী বিএনপিও এতে সমর্থন দেয়। আইন সংশোধন হয় দ্রুততম সময়ের মধ্যে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ প্রসঙ্গে বলেছে, ‘যে দেশে আইনের শাসন নিয়ে সরকার পরিচালিত হয় সেখানে আদালতের রায় তাদের পছন্দ না হলে তারা আদালতের সেই রায়কে পাল্টে দিতে একটি আইন করতে পারে না। এক্ষেত্রে আইনের যে সংশোধনী আনা হয়েছে তাতে বিচার প্রক্রিয়া যে প্রশ্নবিদ্ধ তাতে কোন সন্দেহ নেই।’ এ কথা ঠিক, শাহবাগের আন্দোলন মিশরের তাহরির স্কোয়ার অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখলের আন্দোলনের অবিকল কিছু নয়। বরং উল্টোটাই দেখা গেছে। খাওয়া-দাওয়া, নানা সুযোগ সুবিধা ছাড়াও নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে চব্বিশ ঘণ্টা।

এই খুনীর বাচ্চা খুনীরা বিভিন্নভাবে মিথ্যাচার করে সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে।বাচ্চু রাজাকারকে নিয়ে করা মন্তব্যে তিনটি সত্যের মধ্যে একটা মিথ্যা ঢুকিয়ে দিল, যেন এটাও সত্য মনেহয় যে বাচ্চু রাজাকার জামাতের সদস্য ছিলনা। বাচ্চু, বাংলা ভাই এরা সবাই জামাতের গোপন অঙ্গ সংঘটনের সদস্য সবসময়ই ছিলেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র বরাতে তারা যে জিনিষটা উদ্বৃতি দিয়ে গেল তাকে কোন প্রশ্নই ছাড়া সমর্থন করে গেল আমাদের তথাকথিত বিশ্লেষক। জামাতের পেইড এজেন্ট হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ছাড়া সবার কাছেই এটা স্পষ্ট যে, আলোচ্য সংশোধনীটার দ্বারা রায় পালটে দেয়া হয়নি, এটা বরং প্রদত্ত শাস্তির বিরুদ্ধে আপীল করার সম অধিকার দিয়েছে সরকারপক্ষকে। রায়ে (জাজমেন্ট) দুটি অংশ থাকে, প্রথমাংশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ সঙ্ঘঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে (কনভিকশন) কিনা তা বলা থাকে; দ্বিতীয় অংশে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি (সেন্টেন্স) কি হবে তা বলা থাকে। কাদের মোল্লার যদি লঘু পাপে গুরু দন্ডের বিরুদ্ধে আপীল করার অধিকার থাকে, তবে সরকারেরও গুরুপাপে লঘু দন্ডের বিরুদ্ধে আপীল করার অধিকার থাকা উচিৎ যে অধিকার ইতিপুর্বে ছিলনা। সেই অধিকারই আলোচ্য সংশোধনীতে দেয়া হয়েছে। রায়ের প্রথামাংশে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে শত শত মানুষ হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বল হয়েছে কিন্ত তার সাজা দেয়া হয়েছ যাবজ্জীবন। এই যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে সরকারকে আপীল করার অধিকার দিয়েছে এই সংশোধনী।

পরের বিশ্লেষণঃ

’৭১ সালের আগে শত্রুমিত্র চেনা যেত। পাকিস্তান ছিল শত্রুর কাতারে। এখন একই বাড়িতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বাস। তাই কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ভেবে দেখতে হবে, যাতে ভ্রাতৃঘাতী কোন যুদ্ধে আমরা লিপ্ত না হই। জামায়াতিদেরও বুঝতে হবে হিংসা হিংসারই জন্ম দেয়। হিংসার পথে কোন সমাধান নয়। যুদ্ধপরাধের প্রশ্নে জামায়াতকে বাস্তবতা মেনে নিয়েই রাজনীতি করতে হবে।

এরা এখন বলছে দেশকে এখন বিভক্ত করে ফেলা হচ্ছে। একই পরিবারে নাকি এখন আওয়ামী/বিএনপি/আর জামাতের বসবাস। কি সর্বনাশ! প্রত্যেক পরিবারে এখন যুদ্ধপরাধী সংঘঠনের প্রতিনিধিত্ব আছে! কিন্ত আমরা জানি দেশ দুই ভাগে নয় এক ভাগেই আছে। পুরোভাগে আছে বাংলাদেশ আর আছে কিছু ভাইরাস, আছে কিছু ভাইরাস আক্রান্ত মানুষ যারা এই ভাইরাস দুর্বল হয়ে গেলেই সেড়ে উঠবেন। এই ভাইরাস হল জামাত-শিবিরের খুনীরা। আর ভাইরাস আক্রান্ত মানুষ হল সে সব সাধারণ মানুষ যাদের ‘চাঁদে সাঈদীর ছবি’ দেখিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে জামাত-শিবিরের খুনীরা। কিছু কিছু জামাতী বুদ্ধিজীবি লেখক আবার জাতিকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে বলে যে যুক্তি দিচ্ছেন আমার এই কথা তার জবাব। জামাত-শিবির কখনো মানুষ হতে পারে না। তারা ভাইরাস। জাতির একটা অংশ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

এরা প্রতি মুহুর্তে হত্যার ভয় দেখায়; এরা বাম হাত-ডান পা কেটে ফেলতে চায়। এরা যে শুধু ভয় দেখায় তা না, এরা তাদের খুনী জল্লাদ বাহিনীকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে মুক্তিকামী বাঙ্গালীকে হত্যা করার জন্য। এরা পবিত্র কা’বা শরীফের ইমামের মুখ দিয়ে সাঈদীর মুক্তি দাবী করে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে ও ভুয়া ছবি প্রকাশ করে। এরা ফটোশপ করে চাঁদের সাথে সাঈদীর ছবি এঁটে তাকে ফেরেশতা বানানোর অপপ্রয়াস চালায়।

কিছু আপাতঃ নিরপেক্ষ ভদ্রবেশী জামাতী বুদ্ধিজীবিরা বলছে আওয়ামী লীগ নাকি ৭১এর ঘাতকবিরোধী আন্দোলন থেকে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে; শাহবাগের ছেলেদের নিরাপত্তা দিচ্ছে; এদের কারণে হলমার্ক, পদ্মাসেতুর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত অনেক বড় বড় জাতীয় ইস্যু আজ হারিয়ে গেছে। তাদের ভাষায় ।

এ থেকে সরকার ফায়দা তুলতে চেয়েছে। কিছুটা পেয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে চলে গিয়েছিল। এ ঘটনায় মানুষ সাময়িককালের জন্য হলেও হলমার্ক, ডেসটিনি, পদ্মা নিয়ে দুর্নীতি ভুলে গেছে। সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কথা মানুষ এখন আলোচনা করছে না।
যাই বলুন না কেন, যেভাবেই মূল্যায়ন করুন না কেন, শেখ হাসিনা যে মস্ত বড় এক চাল চেলেছেন তা নিয়ে কি কারও মনে সন্দেহ আছে!

তারাই আবার একই লেখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাম্প দেয় এই বলে,

সব কথার শেষ কথা হচ্ছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে তিনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা। বঙ্গবন্ধু কিন্তু এমন বাংলাদেশ চাননি।

এতোক্ষণ গালাগাল করলি, শেখ হাসিনারে বললি চাল চালছে, আর এখন আবার তাকে বলছিস ,’বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা যিনি কিনা বাংলাদেশের ভাল চেয়েছিলো’, তোদেরকথা অনুযায়ী তো শেখ হাসিনা চালবাজ; তোরাই আবার হাসিনাকে মনে করিয়ে দেস, ‘আপনি কিন্ত বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা…মনে রাখবেন কিন্ত বলে দিলাম…’ এরা কিন্ত বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধু বলেনা, এরা বর্ণচোরা গিরগিটি; যখন যেটা সুবিধা হয় সেটাই বলে। এরা পারলে শিবসেনার নেতাকে মহান নেতা বলে তার মুখ দিয়েই একটা গল্প ফেঁদে বসবেন। এরা নীতি বিগর্হিত সুবিধাবাজ মোনাফেক। সবশেষে শেরে বাংলাকে নিয়ে তাদের লেখা গল্প তাদের খাওয়াতে চাই…

শেরেবাংলা একে ফজলুল হক যখন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তখন প্রতিদিনই তার সমালোচনা করতো কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। একদিন সকাল বেলা তার প্রাইভেট সেক্রেটারি এসে বললেন- স্যার, আজকে আনন্দবাজার পত্রিকা আপনার প্রশংসা করেছে। শেরেবাংলা তখন বললেন- তাই নাকি? তাহলে তো মনে হয় আমি সঠিক পথে নেই।

সুতরাং মনে রাখ, শেখ হাসিনা’র তোদের প্রশংসার দরকার নাই। তোরা রাজাকাররা যখন তাকে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা বলিস তখন তাকে সাবধান হতেই হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “রাজাকার যখন ‘নিরপেক্ষ’ কলাম লেখক বুদ্ধিজীবি!

  1. শেষ অংশে শেরেবাংলা একে ফজলুল
    শেষ অংশে শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, বাংলাবাজার পত্রিকা এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ এর জন্য অশেষ ধন্যবাদ। আধা বললে আদম বুঝে আর ভেঙ্গে বললে গাধা বুঝে। যার বুঝার সে ঠিকই বুঝে নিবেন………

  2. কোন লেখা কোট করলে লিংক
    কোন লেখা কোট করলে লিংক সংযুক্ত করা উচিত। আর বুদ্ধিজীবী বলতে কাকে বুঝিয়েছেন। তার নাম কেন নাই?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

30 − 22 =