ধর্ম ব্যবসায়ী জামাত-শিবিরের টার্গেট আলেমসমাজ। ১০জন আলেমকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস

ধর্ম রক্ষার নাম করে দেশব্যাপী তাণ্ডব শুরু করেছে জামাত-শিবির। প্রথমে এরা বলা শুরু করল শাহবাগের আন্দোলনকারীরা সব নাস্তিক। যখন এইসব বলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারল না তখন এরা শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোকে ভুল বুঝিয়ে এবং বেনামে তাদেরই তৈরি করা বিভিন্ন জঙ্গি ইসলামী দলের ব্যানারে সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছে, ছিঁড়ে ফেলেছে জাতীয় পতাকা, ভেঙেছে শহীদ মিনার, স্লোগান দিয়েছে “পাকিস্থান জিন্দাবাদ” বলে। এরপরেও থেমে থাকেনি এরা, হরতালে বেপরোয়া ভাবে বাস, ট্রেন সহ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পুড়িয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সম্পদ পুড়িয়ে ফেলেছে। ৪৮টি পরিবারকে ঘরের ভেতরে রেখেই আগুন দিয়েছে, যেখানে নারী শিশুরাও ছিল। সরকারী প্রকৌশলীকে তিনতলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে।

এরপর এরা আক্রমণ করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর শতাধিক পরিবারকে করেছে নিঃস্ব। হত্যা, জখম, শ্লীলতাহানি, লুটপাট করে একাত্তরের চেহারায় ঝাপিয়ে পড়েছে হিন্দুদের উপর। ঘরহারা হয়ে এরা আজ খোলা আকাশের নীচে নিরাপত্তাহীনতায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। যে দেশটিকে জন্মের পর থেকে নিজের মায়ের মতন আপন মনে করে এসেছে, সেই দেশটিরই কিছু অমানুষ এদের মনে বপন করে দিয়েছে ভয়াল স্মৃতি।

গতকাল থেকে এরা রেহাই দেয়নি প্রশাসনের উপরেও শুরু করেছে আক্রমণ। উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু করে ইউএনও অফিসে পর্যন্ত আক্রমণ করেছে এরা। চাঁদের বুকে সাঈদীর মতন লম্পটের ছবি দেখা যাচ্ছে বলে মসজিদ থেকে মাইকিং করে এরা তাণ্ডব চালিয়েছে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যে কোন কাজ করতে এদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা হয় না। এর চরমতম রূপ প্রকাশ পেয়েছে আজকের ঘটনায়।

চট্টগ্রামে সাতজন শিবির কর্মি আটক হয়েছে ১০ জন আলেমকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে

চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকার জামিয়া আহমেদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার ১০ আলেমকে হত্যার উদ্দেশ্যে রেকি (ঘটনাস্থল পরিদর্শন) করার সময় আজ সোমবার বিকেলে এক শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পাঁচলাইশ থানার পুলিশ। তাঁর নাম মাহমুদুল হাসান। এ সময় মাহমুদুলের পকেটে একটি তালিকা পাওয়া যায়, যেখানে ওই দশ আলেমের নাম রয়েছে। তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে চট্টগ্রামের কালামিয়া বাজারের ইসহাক ভবন থেকে পুলিশ আরও সাত শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

এইসব আলেমের দোষ কি? দোষ হচ্ছে ইনারা জামাত-শিবিরের ভণ্ডামির মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। একজন সাধারণ মুসলিম হিসেবে আপনি-আমি জামাতের ভণ্ডামি নিয়ে কিছু বললে যতটা না ফল হবে, আলেম সমাজ বললে হবে তার চেয়ে অনেক বেশী। এরা ধর্মের নামে রাজনীতি করে, অথচ এদের হাতে ধর্মীয় আলেমগণও নিরাপদ নন। এদের বিরুদ্ধে যেই কথা বলবে তাকেই এরা এভাবে হত্যার চেষ্টা চালাবে। দেখুন কি বলছে এরা-

দাবি করে পাঁচলাইশ থানায় প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘এই আলেমরা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিভিন্ন তাফসিরের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। তাই ওই ১০ জন আলেমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং গতিবিধি লক্ষ রাখতেই আমরা একজনকে রেকি করতে পাঠিয়েছিলাম।’

এছাড়াও এদের আরও পরিকল্পনা ছিল এই হত্যার দায় সরকারের উপর চাপিয়ে সরকারকে বিপদে ফেলা। কিংবা হয়ত ব্লগারদের উপরেই চাপাত এই হত্যার দায়।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস জানান, এই আট শিবিরকর্মী সুন্নি মাদ্রাসার ১০ আলেমকে হত্যা করে সরকারের ওপর দায় চাপাতে চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে তাঁদের জ্ঞািসাবাদ করে আরও কেউ জড়িত কিনা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিস্তারিত জানতে এখানে এবং এখানে ক্লিক করুন।

এইরকম একটা জঙ্গি সংগঠন দেশে একটা থাকাই যথেষ্ট দেশকে পাকিস্থান-আফগানিস্থানের পরিনতির দিকে টেনে নিতে। তাই অবিলম্বে সরকারের প্রতি আমাদের দাবী কঠোর হওয়া উচিৎ এদের নিষিদ্ধ করে প্রতিটি জামাত-শিবিরের কর্মীকে বিচারের আওতায় এনে জার্মানীর নাৎসি বাহিনীকে যেভাবে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে সেভাবে এদেশকে জামাত-শিবির নামক বিষ ফোঁড়ার হাত থেকে মুক্ত করা। আর বিএনপি তাদের শিক্ষা সময় মতই পাবে, আমাদের কিছু বলা লাগবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “ধর্ম ব্যবসায়ী জামাত-শিবিরের টার্গেট আলেমসমাজ। ১০জন আলেমকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস

  1. একাত্তরে এরা ঠিক যেভাবে
    একাত্তরে এরা ঠিক যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল, বর্তমানেও এরা একই পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। দেশের আলেম সমাজের এখন মাঠে নামার সময় হয়েছে। ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে আপনারা কথা বলুন। সমাজে আপনাদের গ্রহনযোগ্যতাকে কাজে লাগান। জামায়াত-শিবিরের ইসলামের নামে ভাওতাবাজির কথা ধর্মপ্রাণ মানুষদের বুঝান। না হয় আপনাদেরও নিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এরা।

  2. এইটা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন
    এইটা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন থাকবেন ঐ দশজনই কিন্তু বাকীরা দেখা যাবে চুইদীর খোমা কই কই পাওয়া যায় সেটিই খুজতে টর্চ হাতে ঘুরবে কি সকাল আর কি রাত!

    এদের গ্রেফতার করে লাভ নাই,বছর খানেক জেল খেটে বের হয়ে আবারো সেই একই কাম করা ধরবে,দেশে এমনিতেই অনেক জনসংখ্যা বেড়ে গেছে তাই এদেরকে সেই ক্রসফায়ারে ফেলা হউক,তাতে অন্তত জনসংখ্যার চাপটা কমবে এবং এদের দেয়া তথ্যগুলো নিয়ে হোতাদেরকেও পাঠিয়ে দেয়া হউক চান্দে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 − = 12