ডাক্তারদের ভুল এবং চিকিৎসায় অবহেলা আসলে কি? বাংলাদেশ ও বিশ্ব প্রেক্ষিত! – পর্ব ১

আমার অনেক দিনের ইচ্ছা চিকিতসা ব্যবস্থা সম্পর্কিত সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ চারটি বিষয় নিয়ে কিছু লেখা লিখবো। এই বিষয় গুলো হলো –

১ চিকিৎসকের ভুল ( বা চিকিৎসার ভুল),
২ চিকিৎসকের অবহেলা (বা চিকিৎসার অবহেলা),
৩ চিকিৎসকের পেশাগত আচরন বিধির সংরক্ষন এবং
৪ রোগী – চিকিৎসক সম্পর্ক।

এই প্রতিটি বিষয় শুধু বাংলাদেশের নয় উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশের জন্যেই বহুল আলোচিত সমস্যা। বিষয় গুলো নিয়ে লেখার ঝুঁকি হচ্ছে অজনপ্রিয় হওয়া ও কাছের মানুষ দের বিরাগভাজন হওয়া। এই ঝুঁকি কে মেনে নিয়েই শুরু করছি। যেহেতু দুই একটি লেখায় এই বিষয় গুলো কাভার করা সম্ভব হবে না, তাই একটি সিরিজ লেখার পরিকল্পনা করছি। আগ্রহী পাঠকেরা যেন ভুলে না যান তাই একেক টি লেখার মাঝে খুব বেশী গ্যাপ নেবোনা। stay with me !

লেখক হিসাবে আমার একটি তথ্য আগাম জানানো দরকার, ইংরেজি তে যাকে বলে conflict of Interest প্রকাশ করা, তা হলো, ব্যক্তিগত ভাবে আমি নিজেও একজন চিকিৎসক, তাই সাবধানতা সত্ত্বেও এই লেখাটি পক্ষপাত দুষ্ট হবার সম্ভাবনা আছে। এই লেখাটির সাথে যে কোনও দ্বিমত ও প্রশ্ন কে আগাম স্বাগত জানাচ্ছি এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি দ্বিমত ও প্রশ্ন গুলোকে যৌক্তিক ভাবেই উত্তর দেয়ার ও ব্যাক্ষা করার চেষ্টা করবো। লেখায় ব্যবহৃত প্রায় সকল বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ গুলোই আমার কাছে আছে, যে কেউ চাইলে আমি শেয়ার করতে পারবো। এই সকল লেখায় উদাহরন গুলো হয়ত একটু অতি সরলিকরন (Oversimplified) হয়ে যেতে পারে, ডাক্তার পাঠক দের কাছে আগাম বিনয় করে নিচ্ছি। তথ্যসূত্র গুলো সাধারন ভাবে প্রতি পর্বের শেষে তালিকা আকারে দেয়া হবে।

সাধারনত ডাক্তার দের ভুল ও অবহেলার প্রশ্ন ওঠে যখন কোনো রোগীর চিকিতসার কোনও এক পর্যায়ে জটিলতা বা বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় শুধু তখনই। কোনও রকমের ঝামেলা ছাড়া যে রোগী তাঁর হার্ট অ্যাটাক সেরে যাবার পর বাড়ী ফিরে যান কিম্বা যে রোগী মাথার টিউমার অপারেশন করার পর আবার বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে ওঠেন তারা বা তাঁদের পরিবার কিন্তু ডাক্তার দের ভুল বা অবহেলার কথা খুব একটা বলেন না। এটা খুবই সঙ্গত।

দুই ধরনের বিষয় ঘটে। এক – চিকিতসকের ভুল হয়, এবং দুই – চিকিতসা দেবার ক্ষেত্রে চিকিতসকের ব্যক্তিগত অবহেলা ঘটতে পারে। প্রথম টিকে চিকিতসক দের পেশাদার শব্দে বলা হয় “ক্লিনিক্যাল এরর” চিকিতসা প্রদানের ভুল আর দ্বিতীয় বিষয় টি কে বলা হয় “Medical Negligence” বা “চিকিতসায় অবহেলা” অথবা Medical negligence যদি বার বার ঘটতে থাকে তাঁকে Mal practice ও বলা যেতে পারে। ক্লিনিক্যাল এরর কে যদি সংশোধনের চেষ্টা না করা হয় তাহলে সেটাও Medical Negligence এ রুপ নিতে পারে। অর্থাৎ এই শব্দ গুলো প্রায়শই একে অপরের পরিপুরক বা Interchangeably ব্যবহৃত হয় এবং একটি থেকে অন্যটিকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চিকিতসার যে জটিলতা যাকে প্রচলিত ইংরেজি তে বলে Adverse Events, তা প্রায় প্রতিটি রোগের চিকিতসার সাথেই অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। Probability বা সম্ভাবনা টি কোনও রোগে কম কোন রোগে বেশী। তাই চিকিতসার কোনও অংশে জটিলতা দেখা দেয়ার মানেই চিকিতসকের ভুল বা অবহেলা নয়। ভিন্ন অজানা কোনও কারন থাকতেই পারে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল দুই কিস্তিতে দুটি বড়ো সড়ো স্টাডী করেছেন (১, ২) যেখানে তারা খুজে পেয়েছেন এমন অনেক জটিলতার উদাহরন যে সমস্ত ক্ষেত্রে ডাক্তার – বা অন্যান্য স্টাফ বা সিস্টেম কোনোটার ই কোনও খুত খুজে পাওয়া যায় নি। আবার অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তার এর ভুল অথবা অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমান পাওয়া গেছে। হার্ভার্ডের স্টাডী তে তাই চিকিতসার জটিলতা কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে –

১. জটিলতা যেখানে কারোরই কোনো ভুল খুজে পাওয়া যায়নি (যেমন হার্ট এ রক্তনালীতে রিং পরাতে গিয়ে অনেক সময় রোগীর স্ট্রোক হয়ে যেতে পারে, এধরনের বেশীর ভাগ রোগির ক্ষেত্রে চিকিতসকের বা ব্যবস্থার ভুল খুজে পাওয়া যায় না)

২. জটিলতা যেখানে ডাক্তার এর ভুল হয়েছে (যেমন ডিএন্ড সি অপারেশন করতে গিয়ে যদি জরায়ু ছিদ্র হয়ে যায়)

৩. জটিলতা যেখানে ডাক্তার এর অবহেলা খুজে পাওয়া গেছে ( যেমন একটি ভুল করে ফেলার পর ও যদি বিষয় টিকে সংশোধন না করে রোগী কে কোনোমতে ডিসচার্জ করে দেয়ার চেষ্টা হয় বা করে দেয়া হয়)

আমাদের আলোচনা নাম্বার ২ ও ৩ কে নিয়ে। আমরা জানি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভিজ্ঞতায় উপরের ২ ও ৩ নাম্বার ঘটনা গুলো হয়ত প্রতিদিনের বিষয় নয় কিন্তু মাঝে মাঝেই ঘটে থাকে। আমরা যত টুকু জানি তা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে, তবে প্রকৃত পরিমান নিঃসন্দেহে আরও অনেক বেশী। যেহেতু বাংলাদেশে ডাক্তার দের ভুল ও অবহেলার ঘটনার রিপোরটিং পদ্ধতি খুব প্রতিষ্ঠিত নয় তাই এই বিষয় গুলোতে সঠিক পরিমান জানার সুযোগ খুবই কম। আমার জানামতে প্রতিটি বড়ো হাসপাতাল (জেলা সদর ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল) এ Adverse Event রিপোর্ট করার পদ্ধতি চালু আছে, কিন্তু সেই Adverse Event এর সঠিক কারন কি তা নির্ণয়ের ব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল (এ বিষয়ে যেকোনো ভিন্নমত কে আগাম স্বাগত জানাই)।

চিকিৎসকের ভুল (বা চিকিৎসার ভুল)

চিকিৎসা প্রদানের ভুল বা “ক্লিনিক্যাল এরর” এর কারন হিসাবে ডাক্তার এর ব্যক্তিগত ভুল ছাড়াও আরও অনেক কারন থাকতে পারে। একটু তাত্ত্বিক ভাবে বলা যায়, ক্লিনিক্যাল এরর এর পেছনে দুইটি কারন কাজ করে – পারসন ফ্যাক্টর এবং সিস্টেম ফ্যাক্টর। অর্থাৎ ডাক্তারের নিজের দক্ষতার অভাব কিম্বা ডাক্তার যে পরিবেশে কাজ করেন সেই পরিবেশের অপ্রতুলতা বা অদক্ষতা (যদি হাসপাতালের ইসিজি মেশিন টি খারাপ হয়ে থাকে, তাহলে একটি হার্ট এটাক এর রোগীর চিকিতসায় ভুল হতেই পারে)। আমরা এই কারন গুলোর কিছু বাস্তব উদাহরন দেখব এই লেখার পরবর্তী অংশে।

লেখাটি দীর্ঘ হয়ে যেতে পারে, তাই এই পর্বে শুধুমাত্র “চিকিতসকের ভুল” সমস্যা টির প্রকৃতি ও ব্যাপকতা নিয়ে কিছু প্রাথমিক আলোচনা ও পরিসংখ্যান তুলে ধরবো। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের একটি তুলনামূলক চিত্র দেয়ার চেষ্টা করবো। এবং আগামি পর্বে –এই সমস্যা গুলোর বিস্তার ও ব্যাপকতা নিয়ে আলোচনা করবো এবং সম্ভাব্য সমাধান হিসাবে চিকিতসা ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ দের কিছু মতামত উল্লেখ করার চেষ্টা করবো।

ক্লিনিক্যাল এরোর বা চিকিতসা প্রদানের ভুল

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান IOM ক্লিনিক্যাল এরোর বা ভুল কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে – ‘the failure of a planned action to be completed as intended or the use of a wrong plan to achieve an aim’ (৩)। তার মানে বিষয় টি হচ্ছে, যদি চিকিতসক বা চিকিতসা দল কোনও একজন রোগীর জন্যে একধরনের চিকিতসা পরিকল্পনা করলেন কিন্তু সেই পরিকল্পিত চিকিতসা টি দেয়ার সময় কোনও একটা ভুল হোল যার ফলে পরিকল্পিত চিকিতসা টি দেয়া সম্ভব হোল না। অথবা চিকিতসা পরিকল্পনা টি ই ভুল হতে পারে। যা রোগীর জন্যে ক্ষতির কারন হতে পারে।

চার ধরনের প্রধান কারন পাওয়া যায় চিকিতসায় ভুল হওয়ার (৪)ঃ

১ ডায়াগনোস্টিক ভুল – যা ডাক্তার এর নিজের অথবা বিভিন্ন পরীক্ষার ভুল এর কারনে হতে পারে, রোগী বুকে ব্যাথা নিয়ে আসলেন, ডাক্তার হয়ত মনে করলেন এটা সাধারন পেপ্টিক আলসার ডিজিস, যা আসলে হৃৎপিণ্ডের অসুখ ছিল ইত্যাদি, অথবা ডাক্তার হয়ত একটি বিশেষ রোগ কে বাদ দেয়ার (Exclude) জন্যে একটি টেস্ট করালেন এবং টেস্ট টির ফলাফল যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে ডায়াগনোসিস ও ভুল হবে।

২ সঠিক চিকিতসা প্রদানে ভুল – সঠিক ঔষধ টি নির্বাচন করতে বা লিখতে বা সঠিক সার্জারি টি করতে যদি কোনও ভুল হয় – ধরা যাক একজন মানুষ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে এলেন, আমি ডাক্তার হিসাবে তাঁকে উচ্চ রক্ত চাপ এর ওষুধ দিলাম কিন্তু সে ওষুধ হয়ত তাঁর অন্যান্য শারীরিক অবস্থার বিচারে সবচেয়ে উপযুক্ত ওষুধ টি নয়। এমন কি ফার্মেসী থেকে ওষুধ দেয়ার সময় অ ভুল হতে পারে, এক অশুধের স্থানে ভিন্ন ওষুধ দেয়া হয়ে যেতে পারে (Dispensing error).

৩ সঠিক মনিটরিং বা ফলো-আপ এর ভুল –ধরা যাক হাসপাতালে আই সি ইউ রোগীদের নানান বিষয় খুব ঘন ঘন পরীক্ষা করে দেখতে হয় অথবা সার্জারির রোগিদের সার্জারি হয়ে যাবার পরেও দেখতে হয় কোনও জটিলতা হলো কিনা তা দেখার জন্যে।

৪ সঠিক ভাষাগত যোগাযোগ বা উপদেশ দেয়ার ভুল – বা কোনও কিছু ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে ভুল (ডাক্তার – নার্স ভুল ব্যাখ্যা দিলে বা রোগী ভুল ভাবে বুঝলে) যেমন কিডনি রোগের রোগী দের কে খাবারের নানান উপদেশ দেয়া হয়, সে সব যদি রোগী ঠিক মতো বুঝতে না পারেন বা রোগী কে যদি ভালো করে বোঝানো না হয়, তাহলে রোগীর মারাত্মক জটিলতা হতে পারে।

চিকৎসার ভুল হবার এই কারন গুলো থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে চিকিৎসক ই একমাত্র নিয়ামক নয় কোনও ক্ষেত্রে চিকিৎসার ভুল বা ক্লিনিক্যাল এরোর হওয়ার ব্যাপারে। চিকিতসক এবং আরও বেশ কিছু আনুসাঙ্গিক উপাদান দায়ী চিকিৎসার ভুল হবার জন্যে।

এবারে আসুন কিছু বাস্তব উদাহরন দেখা যাক। কিছু পরিসংখ্যান দেখবো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক এবং কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের।

সাধারন পরিসংখ্যান (General Statistics)

১ মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিতসক ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভুলের কারনে হওয়া রোগীর জন্যে ক্ষতিকর অবস্থার (Adverse Events) হার ২,৯% থেকে ৩,৭%। প্রতিবছর কম করে হলেও চুয়াল্লিশ হাজার মানুষ মারা যান চিকিতসক বা চিকিতসা ব্যবস্থার ভুল এর কারনে, যা প্রতিরোধ যোগ্য বা Preventable। চিকিতসক বা চিকিতসা ব্যবস্থার এই ভুল গুলর ৬৯,৬% সহজেই এড়ানো যায় (Preventable), ৬% চেষ্টা করলে এড়ানো যায় এবং ২৪,৪% বিদ্যমান ব্যবস্থায় এড়ানো সম্ভব নয়। যে চুয়াল্লিশ হাজার মানুষ বছরে মারা যান তাঁর ৭৮% অর্থাৎ প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু প্রতিরোধ যোগ্য বা preventable. (৫)

২ আন্তর্জাতিক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ক্যানাডা এবং নিউজিল্যান্ড কে নিয়ে সাম্প্রতিক একটি রিভিউ টে দেখা যাচ্ছে যে, চিকিতসায় জটিলতার শতকরা হার প্রায় ৩,৮ থেকে সরবচ্চো প্রায় ১৬,৬% এবং গড় ৯,২% অর্থাৎ প্রতি দশ জনে একজন রোগীর চিকিতসায় জটিলতা দেখা যায়। এবং এই সকল জটিলতার প্রায় ৪৩,৫% হচ্ছে প্রতিরোধ যোগ্য বা preventable, অর্থাৎ আরও সাবধানী হলে এড়ানো যেত। এই রিভিউ টি বলছে, যে সকল রোগী জটিলতায় আক্রান্ত হন তাঁদের প্রায় অর্ধেক হচ্ছেন খুব ই সাধারন জটিলতা কিন্তু ৭% রোগী চিরস্থায়ী পঙ্গুত্ত বরন করেন আর ৭,৪% রোগী মারা যান (৬)।

৩ উন্নয়নশীল দেশ সমুহ
উন্নয়নশীল দেশের পরিসংখ্যান পাওয়া খুব সহজ নয়। বিসশ স্বাস্থ্য সংস্থা র সহযোগিতায় মিশর, জরদান, কেনিয়া, মরোক্কো, তিউনিসিয়া, সুদান, দক্ষিন আফ্রিকা এবং ইয়েমেন এর ২৬ টি হাসপাতালের প্রায় ১৫ ৫৪৮ জন রোগির উপরে এক জরিপে দেখা গেছে এই দেশ গুলোতে চিকিতসা জনিত জটিলতার হার হচ্ছে ২,৫% থেকে ১৮,৪%, গড়ে ৮,২% বা প্রতি বার জনে একজন এই ধরনের চিকিতসা থেকে জটীলতার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। জরিপ টি তে পাওয়া যায় এই সমস্ত জটিলতার প্রায় ৮৩% প্রতিরোধ যোগ্য বা Preventable adverse event (৭)

এই পর্বের টেইক হোম মেসেজ

১ দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, চিকিৎসার সাথে জটিলতার সম্ভাবনা একটি সম্পূর্ণ ভাবে এড়ানোর অতীত বিষয় (unavoidable consequence)
২ চিকিৎসার সকল জটিলতার জন্যে ডাক্তার এর ভুল বা অবহেলা না ও হতে পারে, আবার ডাক্তার এর ভুল বা অবহেলাই জটিলতার মূল কারন হতে পারে।
৩ পরিসংখ্যান বলে এই সংক্রান্ত জটিলতা উন্নত বা উন্নয়নশীল সকল দেশের জন্যেই আলোচিত সমস্যা

নিচের টেবিল থেকে তিনটি বিষয়ের পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখুন (৫,৬,৭)

এই পর্বে ভুমিকার পরে শুধুমাত্র “চিকিতসকের ভুল” বা “Clinical Error” নিয়ে আলোচনা করা হলো, আগামী পর্বে চিকিতসকের ভুল বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান উপস্থাপন করবো এবং চিকিতসকের ভুল কিভাবে কমিয়ে আনা যায় সেই সংক্রান্ত গবেশনামতামত গুলো তুলে ধরবো।

সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।

তথ্যসূত্রঃ
1. T A Brennan et al, 2004, Incidence of adverse events and negligence in hospitalized
patients: results of the Harvard Medical Practice Study I, Qual Saf Health Care 2004;13:145–152 (http://www.oshmanlaw.com/Harvard-Medical-Practice-Study.pdf )

2. Leap et al,1991 The Nature of adverse events In hospitalized patients, (N EngI J Med 1991;324:377-84.( http://www.nejm.org/doi/pdf/10.1056/NEJM199102073240605 )

3. Kohn LT et al, To Err is human: Building a safer health system. Institute of Medicine, Comittee on Quality of Healthcare in America, Washington, National Academy Press, 2000

4. Leape, Lucian; Lawthers, Ann G.; Brennan, Troyen A., et al. Pr e-venting Medical Injury. Qual Rev Bull. 19(5):144–149, 1993.

5. Harold C. Sox, Jr, Steven Woloshin, 2000, How Many Deaths Are Due to Medical Error? Getting the Number Right, Effective Clinical Practice, November/December 2000

6. Vries END et al, 2007, The incidence and nature of in-hospital adverse events: a systematic review, Qual Saf Health Care. 2008 Jun;17(3):216-23.

7. R M Wilson et al, 2012, Patient safety in developing countries: retrospective estimation of scale and nature of harm to patients in hospital, BMJ 2012;344:e832

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “ডাক্তারদের ভুল এবং চিকিৎসায় অবহেলা আসলে কি? বাংলাদেশ ও বিশ্ব প্রেক্ষিত! – পর্ব ১

  1. ডায়াগনোস্টিক ভুল- যা ডাক্তার

    ডায়াগনোস্টিক ভুল- যা ডাক্তার এর নিজের অথবা বিভিন্ন পরীক্ষার ভুল এর কারনে হতে পারে, রোগী বুকে ব্যাথা নিয়ে আসলেন, ডাক্তার হয়ত মনে করলেন এটা সাধারন পেপ্টিক আলসার ডিজিস, যা আসলে হৃৎপিণ্ডের অসুখ ছিল ইত্যাদি, অথবা ডাক্তার হয়ত একটি বিশেষ রোগ কে বাদ দেয়ার (Exclude) জন্যে একটি টেস্ট করালেন এবং টেস্ট টির ফলাফল যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে ডায়াগনোসিস ও ভুল হবে।

    এইটা একটা কমন সমস্যা এবং বর্তমানে যেসব ঝামেলা দেখা দিচ্ছে তার জন্য এই কারণটা অধিকাংশে দায়ী ।বিশেষ করে ভূইফোড়, অর্থলোভী কিছু ডায়াগোনস্টিক সেন্টারের অপকর্মের কারণে পুরো দায়ভার বর্তাচ্ছে ডাক্তার সমাজের উপর ।

    আপনার লিখা চমৎকার হচ্ছে ।চালিয়ে যান, stay connected।

  2. অনেক ধন্যবাদ অসাধারন পোস্টটির
    অনেক ধন্যবাদ অসাধারন পোস্টটির জন্য… পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। 🙂 :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  3. অতি সাধারন ভাষায় অতি জটিল
    অতি সাধারন ভাষায় অতি জটিল একটি বিষয়কে তথ্যসহ সাবলীলভাবে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  4. দারুণ লিখেছেন সারওয়ার ভাই।
    দারুণ লিখেছেন সারওয়ার ভাই। আশা করি আপনার এই সিরিজ লেখাটি একটি সম্পদ হয়ে থাকবে ইস্টিশন এবং পুরো বাংলা ব্লগের জন্য। কারণ এই টপিকে এর আগে এইভাবে তথ্য উপাত্ত দিয়ে কেউ লিখেননি। আপনার শ্রম সার্থক হোক। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। আর সবার কাছে অনুরোধ এই সিরিজের লেখাটি সবাই যথাসম্ভব শেয়ার করুন। মেডিকেল সেক্টর একটি গুরুত্বপুর্ন সেক্টর। এটাকে কলুষ মুক্ত রাখার প্রচেষ্টা আমাদের সবাইকে মিলেই করতে হবে। চিকিৎসকদের গালি দিয়ে সাময়িক সুখ হয়ত পাবেন, কিন্তু আখেরে আপনার আমারই ক্ষতি। কারণ অসুস্থ্য হলে ডাক্তারের কাছেই যেতে হবে আমাদের। তাই এই বিষয়ক বিভ্রান্তি যতো দূর হয়, সেটা রোগী ও ডাক্তার উভয় পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক। ডাক্তারদের নিজেদের ভুলগুলোও শুধরে নেওয়ার স্বদিচ্ছা তৈরি হওয়া দরকার।

  5. ভাল লিখেছেন। কিন্তু ডাক্তাররা
    ভাল লিখেছেন। কিন্তু ডাক্তাররা হঠাৎ করে সন্ত্রাসীদের মত সাংবাদিকদের উপর ঝাপিয়ে পড়াকে কোনভাবেই সমর্থন করতে পারছিনা। ডাক্তারদের আরো সহনশীল আচরণ করা উচিত।

    1. ডাক্তারদের আরো সহনশীল আচরণ
      ডাক্তারদের আরো সহনশীল আচরণ করা উচিত… কথা ঠিক তবে, সকলের মত ডাক্তার রাও যেহেতু মানুষ সেহেতু তাদের সহনশিলতারও একটা সীমা রয়েছে। একটা কথা বোঝা উচিত, একজন রোগীর চিকিৎসা করা আর দোকানে বসে একটি জিনিস বিক্রয় করা এক কথা না, যে একবার বিক্রয় করতে পারলেই শেষ। রোগী মানে একটি জীবন আর তাই একটি রোগীকে সুস্থ করে তুলতে পারা একজন ডাক্তারের জন্য একটা বড় অর্জন। এটা ঠিক যে, কিছু সমস্যা রয়ে গেছে যা সমাধান যোগ্য। কিন্তু তা শুধু ডাক্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। এই কথা বলে আমি ডাক্তারের ভুমিকা ছোট করতে চাচ্ছি না। বলতে চাচ্ছি, আমরা সমস্যা টার একটা ছোট অংশের উপর নজর দিয়ে আছি। আসলে সমস্যা টার সাথে ডাক্তার ছাড়া আরও অনেকে জড়িত। তাই সমাধান আশা করলে সব দিকেই নজর দিতে হবে, নয়ত অনেকেই অনেকভাবে অসহনশীল আচরণ করবে আর বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

83 + = 85