জামাতের বিরুদ্ধে সাক্ষী হননি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ২০ বুদ্ধিজীবী

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জামাত ইসলাম পাকিস্তান শাসকগোষ্টির পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণহত্যায় অংশ নেয়। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এখনো ক্রিয়াশীল। এ কারণে জামাত ইসলামকে নিষিদ্ধের বেশ জোরালো দাবি রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হলে দেশের সব বুদ্ধিজীবীই বলেছেন যে, জামায়াতেরও বিচার হতে হবে। উদাহরণ হিসেবে সামনে ছিল ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জার্মান নাৎসি পার্টিসহ চার সংগঠনের নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। শেষ পর্যন্ত যখন জামাতের বিষয়ে মামলা টেবিলে উঠছে তখনই বেঁকে বসলেন মুখে সারাক্ষণ খই ফোটানো বুদ্ধিজীবীরা! সবাইকে অবাক করে দিয়ে ড. জাফর ইকবাল, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের মতো প্রখ্যাত মৌলবাদ বিরোধী লেখকেরাই জামাতের বিরুদ্ধে সাক্ষি হতে রাজী হননি।

প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ১২০ জন দেশী ও বিদেশী বুদ্ধিজীবীর তালিকা করা হয় জামায়াত নিষিদ্ধের মামলায় সাক্ষী হবার জন্য। এর মধ্যে ৭০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেশের বাইরে ও দেশের ভেতর থাকা ৫০ জন বুদ্ধিজীবী এ মামলায় সাক্ষি হতে রাজি হয়েছেন। বাকি ২০ জন সাক্ষি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন।

সুশীল হিসেবে স্বীকৃত বুদ্ধিজীবীদের এই অংশের মধ্যে যাদের নাম রয়েছে, তারা সকলেই জামাত বিরোধীতা করে কম বেশি খ্যাতি কামিয়েছেন। মৌলবাদ বিরোধী হিসেবে সমাজে তাদের সুনাম আছে। এই সুনামকে কাজে লাগিয়ে তারা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন আমলের সরকারের কাছ থেকে কমবেশি সুযোগ সুবিধাও হাসিল করেছেন।

ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল : ‘তোমরা যারা শিবির কর’ খ্যাত জামাত বিরোধী, মৌলবাদ বিরোধী বিশিষ্ট লেখক ও বিজ্ঞান আন্দোলক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল জামাতের বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষী হতে রাজী হননি। কোটি তরুণ-তরুণীর অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ড. জাফর ইকবালের পিতা ১৯৭১ সালে রাজাকারদের হাতে জীবন দেন। জামাত শিবিরের নৃসংশতা বিরুদ্ধে নিরন্তর লিখে চলেছেন তিনি।

কিন্তু যখন ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ সংগঠনের দায়ে জামায়াতকে নিষিদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার সাক্ষী হওয়ার জন্য তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয় তখন তিনি জামায়াত নিষিদ্ধের মামলার সাক্ষি হতে চাননি। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের অধীনে বেতন পান তিনি। তার মৃত বড় ভাই হুমায়ুন আহমেদকে সরকার অর্থ সাহায্য দিতো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এই হলো চেতনাজীবী মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

প্রসিকিউটররা তাকে বুঝিয়েছেন যে, এই মামলায় সাক্ষী হতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কোনো ব্যাপার নেই। জামাতের বিরুদ্ধে আপনাকে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে না। আপনি জামাতের তৎপরতা ও আদর্শিক দিক ব্যাখ্যা করে এটা প্রমাণ করবেন যে, এরকম একটা দলের, আদর্শের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাটা দরকারি। এতকিছু বুঝানোর পরেও জাফর ইকবাল পিতার খুনীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজী হননি বলে জানিয়েছেন একজন প্রসিকিউটর।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ : সাদা মনের মানুষ। তাকে আমাদের দেশের তরুণ ও বয়স্করা সবাই সম্মান করেন। ১৯৭১ সালে যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখনও তিনি সাদা মনের মানুষ ছিলেন। ঢাকা কলেজে পড়িয়েছেন। আমাদের সব বুদ্ধিজীবীদের মেরে সাফ করলেও তিনি ঢাকায় দিব্যি আরামেই থেকেছেন। এসব নিয়ে আবার বইও লিখেছেন। এই সাদা মনের মানুষটি ‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগান তুলে বই পড়ার আন্দোলন করছেন অনেক দিন ধরে। তার মতে, মানুষ বই পড়ে আলোকিত হয়ে যাবে। মৌলবাদ থেকে মুক্ত হবে। কিন্তু সেই আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগরকে জামাত নিষিদ্ধের মামলায় সাক্ষী হতে অনুরোধ করা হয়েছিলো। তিনি সাদা মনে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।

মতিউর রহমান : প্রথম আলোর সম্পাদক। এক সময় সিপিবির নেতা ছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বাম পার্টি করার সুবাদে পড়ালেখা করে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। ফিরে এসে পার্টির পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক একতা’র হাল ধরেন। সে সময় ৫০ সিসির একটা মোটর সাইকেলে করে প্রিয় স্ত্রী মালেকা বানুকে (বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক) নিয়ে পল্টনের অফিসে যেতেন। মাইনে সাকুল্যে ৩ হাজার টাকা। সেই মতিউর রহমান এখন অগাধ টাকার মালিক।

মতিউরকে সিপিবি বহিস্কার করেছে এরকম একটা তথ্য প্রচলিত আছে। তিনি পার্টির অভ্যন্তরীণ নানা গোপন তথ্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের হাতে তুলে দিতেন। বিষয়টি দীর্ঘদিন সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি সিপিবিকে জানালেও তারা আমলে নেয়নি। কিন্তু মতিউর যখন স্বয়ং পার্টির জনপ্রিয় নেতা ফরহাদকে উৎখাতের চেষ্টা চালান, তখন তাকে বহিষ্কার করা হয়। সিপিবির অনেক অর্থনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে যোগ থাকায় দলটি মতিউরের বহিষ্কারাদেশ প্রচার করে না, এই মর্মে মতিউরও তাদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো তথ্য দেয় না।

সেসব অতীত ছাপিয়ে মতিউর এখন প্রথম আলোর সম্পাদক। তার নীতিকথার শেষ নেই। তিনি মৌলবাদ বিরোধী শক্তির অগ্রপথিক। তবে তার পত্রিকায় জামাত বিরোধী লেখালেখি খুব কমই চোখে পড়ে। তাকে যখন প্রসিকিউশন জামায়াত নিষিদ্ধের মামলায় সাক্ষী হতে জানিয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে প্রথম আলো গ্রুপের ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। এই পত্রিকার সম্পাদককে সাক্ষী হতে ডাকাটাই বরং আশ্চর্যের!

সাক্ষী না হতে চাওয়া এই তালিকায় আরো আছেন প্রথম আলো গ্রুপেরই আরেক দেশখ্যাত পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, চটি সম্পাদক খ্যাত দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিশিষ্ট সুশীল ও মার্কিন স্বার্থের রক্ষক সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সুশীলতা আওড়ানো সুজনের বদিউল আলম মজুমদার, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন ধারার বিশিষ্ট কূটনীতিজ্ঞ ড. কামাল হোসেন, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত জলবায়ু তহবিল থেকে নিজের এনজিওর নামে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান, এবং বিশিষ্ট গান্ধিবাদী নেতা সৈয়দ আবুল মুকসুদ

এই বুদ্ধিজীবীরা আসলে নীতিবাগিশ। জামাতের বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ার ক্ষেত্রে তারা ভয় যতটা না পাচ্ছেন, তার চেয়েও বেশি ভয় পাচ্ছেন আমেরিকাকে। এরা সবাই মার্কিনপন্থী বুদ্ধিজীবী। মার্কিনিরা এদেশে জামাতকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে অনেক দিন ধরে। মার্কিন ধারার বুদ্ধিজীবীরা সেই কাজটি সহজ করার জন্য ভূমিকা রেখেছেন। নীতি কেবল তাদের মুখে, বাস্তবে তারা জাতীয় স্বার্থকে যে থোড়াই কেয়ার করেন তা এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হলো।

জামাতের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। দলটি জঙ্গিবাদের পেছনে অর্থায়ন করে। বিশেষত জামাত ইসলামের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছে খোদ দেশের সব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এ দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলাম ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে হত্যা, রগ কাটাসহ অভিযোগের শেষ নেই। জামাত ইসলাম ও ছাত্র শিবিরের এসব অপকৃতির পেছনের কারণটি হলো এ দলটির আদর্শ, তথা মওদূদীবাদ। দলের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ গোলাম আলা মওদূদীর নামেই এই আদর্শের নামকরণ।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মধ্যে ভীষণভাবে বির্তকিত এই মওদূদী ১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তান ভাগ হচ্ছিলো তখন তার বিরোধীতা করে বলেছিলেন, এটা হলো নাপাকস্তান বা নোংরা জায়গা। তবে পাকিস্তান কায়েম হবার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ভোল পাল্টে পাকিস্তানকেই এশিয়ার সেরা মুসলিম দেশ হিসেবে প্রচার করতে থাকেন। সেখানকার ভিন্ন ধর্মালম্বীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াতে শুরু করেন। এভাবেই ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের লাহোরে শিখ দাঙ্গা বাধিয়ে দেন শয়তানের এই সাক্ষাৎ শিষ্য। এ দাঙ্গায় বহু নিরাপরাধ সাধারণ মানুষ নিহত হয়। এ ঘটনার দায়ে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করেন। সে যাত্রায় মওদূদী বেঁচে যান সৌদি রাজার হস্তক্ষেপে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয় টয়লেটে চাপা পড়ে।

জন্মলগ্ন থেকেই গণবিরোধী অবস্থানের কারণে জামাত ছিল পাকিস্তানে একটি গণধিকৃত পার্টি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তারা তাদের নৃশংসতার ষোলকলা প্রদর্শন করে। নিরীহ জনগণকে হত্যা, ধর্ষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া, বুদ্ধিজীবী নির্মূল করাসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা তখন করেনি। দেশ স্বাধীনের পরও তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। আর সন্ত্রাসী এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার মামলায়ই কিনা সাক্ষী হতে রাজী হলেন না দেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবীরা! তরুণ প্রজন্ম এ প্রশ্নের উত্তর কার কাছে চাইবে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৪ thoughts on “জামাতের বিরুদ্ধে সাক্ষী হননি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ২০ বুদ্ধিজীবী

  1. আমিও বুদ্ধিজীবী হইতে চাই…
    :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
    আমিও বুদ্ধিজীবী হইতে চাই… ম্যালা লাভ। গাছেরটাও খাইলাম, তলারটাও কুড়াইলাম… গাছ মারা গেলে তার কাঠ দিয়া ডুগডুগি বানায়ে বাজাইলাম… ভালো না?

  2. ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার ও
    ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার ও আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার এর ব্যাপারটা আমাকে অবাক করেছে। জাফর স্যার এর সাক্ষী না হওয়ার সুস্পষ্ট কারনটা অজানা। এটা আমাকে নাড়া দিয়েছে। আসল কাহিনী হয়তো কখনো প্রকাশ পাবে। কিন্তু তালিকার বাকিদের ব্যাপারে আমার কোনো আগ্রহ নাই। তাদের রং বদলাতেই পারে।

  3. হায়, হায়। এটা কি পড়লাম? যাদের
    হায়, হায়। এটা কি পড়লাম? যাদের উপর মানুষের এত আস্থা। তাদের এই অবস্থা? এদের নীতি কথা এখন মনে হচ্ছে সব ভন্ডামী। আবদুল্লাহ আবু সাঈদ আর জাফর ইকবালের এই ধরনের আচরণে খুবই মর্মাহত।

    আসলে বুদ্ধিজীবী সেজে এরা জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই এই মানুষগুলার এত অধঃপতন। কেউ মাটিটা ফাঁক করেন। ভিত্রে ঢুইকা যাই।

    মাঝে মাঝে ইস্টিশন ব্লগের কিছু ব্লগার এত দারুন দারুন পোস্ট দেন যে পুরাই মাথা নষ্ট হয়ে যায়। মধ্যরাতের ট্রেনকে ধন্যবাদ।

  4. কি বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা।
    কি বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা। পুরাই হতবাক! ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের দোষ দিয়া আর কি লাভ? জামায়াত-রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে আমরা যাদের উপর আস্থা রাখি, তাদের এই ধরনের নৈতিক স্খলন সত্যিই আমাদেরকে হতাশ করে। তরুণ প্রজন্মের বিশ্বাস ও ভালবাসা’কে যারা বৃদ্ধাঙ্গলী দেখায়, তাদেরকে শ্রদ্ধা করাটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। বিশেষভাবে জাফর ইকবাল স্যার, আবদুল্লাহ আবু সাইয়িদ স্যারের মত তরুণদের আইকনগুলোর থেকে আমরা এই আচরণ আশা করি না।

    শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত জলবায়ু তহবিল থেকে নিজের এনজিওর নামে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান

    বিষয়টি তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। এনজিওগুলোর ধান্ধাবাজি বন্ধ হওয়া উচিত।

    আর ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য ও ড. কামাল হোসেনের মত আমেরিকার দালালদের থেকে আমরা এরচেয়ে বেশী আশা করা উচিত হবেনা। মতিউর রহমান গংদের কথা কি আর বলব? এদের বুদ্ধিজীবি নামের বেশ্যাবৃত্তি সম্পর্কে আমাদের কারোই অজানা নয়।

    টক’শো-তে সুজনের বদিউল আলমের গনতন্ত্রের নামের ভন্ডামী এখন পাবলিক খায় না।

    দেশের এই নষ্ট হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর চাওয়া না-চাওয়ায় কিছু যায় আসে না। আমরা সাধারণ মানুষ চাই ‘জামায়াত’কে নিষিদ্ধ করা হোক।

  5. পুরাই স্তব্দ।
    সব কিছু নষ্টদের

    পুরাই স্তব্দ।

    সব কিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে

    আসলেই আমাদের সব কিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাচ্ছে। হুমায়ুন আজাদ স্যারের এই উক্তিটি যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন প্রযোজ্য হবে।

  6. জামাতের বিরুদ্ধে সাক্ষী হননি

    জামাতের বিরুদ্ধে সাক্ষী হননি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ২০ বুদ্ধিজীবী

    শুধু কি এই বিশ জন?
    – এ রকম শ’য়ে শ’য়ে বুদ্ধিজীবী মুক্তিযুদ্ধের শরীরে বিষফোঁড়া হয়ে বহাল তবিয়তে বেঁচেবর্তে আছে।
    আমরা কেউ বলিনা। কারন, অমুক আওয়ামী বুদ্ধিজীবী তাই যা কিছু করুক বলা যাবে না,
    অমুক জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী, তাই যা কিছু করুক বলা যাবে না,
    অমুক চীনপন্থী বুদ্ধিজীবী, তাই যা কিছু করুক বলা যাবে না,
    অমুক রাশিয়াপন্থী বুদ্ধিজীবী তাই যা কিছু করুক বলা যাবে না।

    এভাবে প্রতিনিয়ত মুখ চেপে ধরে আমাদের শেখানো হচ্ছে ওরা দেশের সম্পদ!
    বুদ্ধিজীবীদের নামে কিছু বলা যাবে না।
    আপনি সাহস করে লিখেছেন, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  7. হতবাক হয়ে গেলাম।
    জাফর ইকবাল

    হতবাক হয়ে গেলাম।
    জাফর ইকবাল স্যার ও সাইয়িদ স্যারের থেকে আমরা এমনটা আশা করিনা। অন্যরা অনেক আগেই মানুষের কাছে প্রকাশ হয়ে গেছে। বদিউল আলম মজুমদারদের মত লোক যখন টিভির টকশোতে বগর বগর করে তাদেরকে কৌতুক অভিনেতার মত মনে হয়।

    আলুর মতি চাচা’র কমিউনিষ্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার সম্পর্কে উড়াধুরা জানতাম। মুল কারনটা আজকে জানলাম। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য মহাশয় অনেক আগে থেকেই বেশ্যা ব্যাংকের দালাল। আমেরিকার এজেন্ডা নিয়ে এদেশে কাজ করে। প্রতিবছর বাংলাদেশের বাজেটের আগে আমেরিকার হয়ে বান্দর নাচ শুরু করেন। বাজেটের পুর্বের দুই মাস উনাদের মত ভন্ড অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ঈদ ঈদ ভাব চলে আসে। বাজেট নিয়া উনাদের ক্রন্দন-কুর্তন বেশ বিনোদন দেয় আমাদের।

    ডঃ কামাল হোসেনের মত এরা সবাই এক সময় বাতিল হয়ে যাবেন। ২০ বুদ্ধিজীবীর প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা প্রকাশ করলাম।

    মধ্যরাতের ট্রেনকে ধন্যবাদ তথ্যটি শেয়ার করার জন্য।

  8. খবরটা কতটুকু অথেন্টিক? অন্ততঃ
    খবরটা কতটুকু অথেন্টিক? অন্ততঃ জাফর ইকবাল স্যারের মত ব্যাক্তিত্বের মানুষের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রেফারেন্স আবশ্যক। পোষ্টে রেফারেন্স যুক্ত করতে আহবান জানাচ্ছি। “সুত্র” কোন রেফারেন্স হতে পারে না। স্পেসিফিক করে উল্লেখ করুন প্লিজ। ধন্যবাদ

    1. আপনার জাফর ইকবাল স্যাররে এটা
      আপনার জাফর ইকবাল স্যাররে এটা ভুল, এই কথা প্রমাণ করতে কন। উনি স্পষ্ট করে বলুক ট্রাইব্যুনাল তাকে আহবান করার পর তিনি প্রত্যাখ্যান করেন নাই। এখানে সেই অপসন বন্ধ করা নাই।

      1. জাফর ইকবাল স্যারের কাছে পরে
        জাফর ইকবাল স্যারের কাছে পরে যামু। যিনি এই অভিযোগ তুলেছেন তার দায় এটাকে লেজিটিমেট করা। এরপরে যাওয়া যাওয়ির প্রশ্ন।

        1. প্রথম কথা হচ্ছে আমি শখের বশে
          প্রথম কথা হচ্ছে আমি শখের বশে নাগরিক সাংবাদিকতার সাথে জড়িত। এই ধরনের সাংবাদিকতা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চর্চা হলেও আমাদের দেশে তেমন একটা চোখে পড়ে না। বিগত এক বছর আমি যতগুলো পোস্ট দিয়েছি সবগুলোই নাগরিক সাংবাদিকতার আওতায়। আমার অতীতের পোস্টগুলো ঘুরে আসলেই বুঝতে পারবেন বর্তমানের তথাকথিত নিউজপোর্টালের মত গসিপ জাতীয় কোন সংবাদ শেয়ার করি নাই। তাই এই পোস্টের তথ্যগুলো সম্পর্কে আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েই জনস্বার্থে ইস্টিশন ব্লগে শেয়ার করেছি।

          প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ১২০ জন দেশী ও বিদেশী বুদ্ধিজীবীর তালিকা করা হয় জামায়াত নিষিদ্ধের মামলায় সাক্ষী হবার জন্য। এর মধ্যে ৭০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেশের বাইরে ও দেশের ভেতর থাকা ৫০ জন বুদ্ধিজীবী এ মামলায় সাক্ষি হতে রাজি হয়েছেন। বাকি ২০ জন সাক্ষি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন।

          একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে। সঙ্গতকারণেই অনেক সময় সোর্সের তথ্য সরাসরি প্রকাশ করা হয় না।

          যদি কোন নিউজ পোর্টালে একই সংবাদ করা হত তখন কি এরচেয়ে বেশী সুত্র উল্লেখ করত? আমি সম্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছি উপরের সংবাদটি “প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে”।

          যাদের মুহাম্মদ জাফর ইকবাল সম্পর্কে সন্দেহ আছে তারা কি ভুলে গেছেন সাঈদীর বিচারে স্বাক্ষী দিতে জাফর ইকবাল অপারগতা জানিয়েছিলেন!

          এরপরও যাদের এই সংবাদ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহ আছে তারা কিছুদিন অপেক্ষা করেন, যথেষ্ঠ প্রমাণ স্বাপেক্ষে সংবাদটির একটি রিভিউ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অন্য মিডিয়াগুলোর মাধ্যমেও আপনারা আমার সংবাদটির সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।

          ধন্যবাদ আপনাকে।

  9. জাফর ইকবাল স্যারের নাম
    জাফর ইকবাল স্যারের নাম তালিকায় আসায় হতবাক হয়েছি। মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। রেফারেন্স দেওয়ার জন্য পোস্টদাতাকে অনুরোধ জানিয়ে গেলাম।

  10. জাফর ইকবাল স্যারের নাম আসাটা
    জাফর ইকবাল স্যারের নাম আসাটা সত্যিই নাড়িয়ে দিয়েছে ভীষণ!!! কেমন জানি একটা ঘোরের মাঝে পড়ে গেলাম।

    আব্দুল্লাহ আবু সাইয়্যীদ সাহেবের কথা অন্তত আমাকে শেখাতে হবে না, কেননা গণজাগরণের সময় এই সাদা মনের মানুষটিকে নিজে অনুরোধ জানিয়েছিলাম তিনি যেনো এসে কিছুটা সময় আমাদের সাথে অবস্থান করেন। অথচ বাতিঘরে বসে থাকা সাদা মনের মানুষটি সরাসরিই বললেন, দেখো বাবা আমি রাজনীতি করতে আসিনি। এরপর আর কথা না বাড়িয়েই আমি চলে যাই নিজ কাজে।

    অবশ্য এই লাইনগুলো ভাবাচ্ছে ভালোই-

    এই বুদ্ধিজীবীরা আসলে নীতিবাগিশ। জামাতের বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ার ক্ষেত্রে তারা ভয় যতটা না পাচ্ছেন, তার চেয়েও বেশি ভয় পাচ্ছেন আমেরিকাকে। এরা সবাই মার্কিনপন্থী বুদ্ধিজীবী। মার্কিনিরা এদেশে জামাতকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে অনেক দিন ধরে। মার্কিন ধারার বুদ্ধিজীবীরা সেই কাজটি সহজ করার জন্য ভূমিকা রেখেছেন। নীতি কেবল তাদের মুখে, বাস্তবে তারা জাতীয় স্বার্থকে যে থোড়াই কেয়ার করেন তা এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হলো।

  11. আমাদের সব বুদ্ধিজীবীদের মেরে

    আমাদের সব বুদ্ধিজীবীদের মেরে সাফ করলেও তিনি ঢাকায় দিব্যি আরামেই থেকেছেন।

    তিনি যে মারা যান নাই, এটা কি তার অপরাধ?

    আর স্বাক্ষী দিতে রাজি না হয়া অপরাধ নয়। তবে, তাদের মধ্যে যে কিছু ভন্ডামি বা অপূর্ণতা আছে, সেটা তাদের ধরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকেই নিতে হবে।

    1. যাদের মুখের বাণীতে তরুণ
      যাদের মুখের বাণীতে তরুণ প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হয়, তারা যখন একই বিষয় নিয়ে স্বাক্ষী দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তখন সেটা অপরাধ হিসাবেই গণ্য হয়। আপনি মুখে মুখে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিপ্লব করবেন, মানুষকে আলোর পথে ডাকবেন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গলা ফাটাবেন, সেই শক্তির বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিতে বলা হলে অপারগতা দেখানো অবশ্যই ভন্ডামী ও অপরাধ।

  12. জাফর স্যারকে ট্রাইব্যুনাল
    জাফর স্যারকে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য দিতে ডাকেনি। কেন ডাকেনি তার ব্যাক্ষাও স্যার দিয়ে গেছেন। কোন কিছু না জেনে ব্লগ পোস্ট। হাস্যকর। অন্যদের বিষয় জানি না। তবে পোস্টটি প্রথমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল।

    1. শুভ ভাই, আপনি বোধ হয় বিষয়টা
      শুভ ভাই, আপনি বোধ হয় বিষয়টা ধরতে পারেননি। স্যার এর আগে যেই মামলার সাক্ষ্য বিষয়ক ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা ভিন্ন মামলার। সেটা সাইদির বিরুদ্ধের মামলা। আর এটা সম্পুর্ন অন্য মামলা। যেটা ট্রাইব্যুনালে শুরু হতে যাচ্ছে। দল হিসেবে একাত্তরে করা অপরাধের জন্য জামাতের বিরুদ্ধে এই মামলা শুরু হতে যাচ্ছে। এই মামলায় দল হিসেবে জামাতের বিচার হবে। যেমনটা হয়েছিলো নাৎসী বাহিনীর। আর এইজন্য দেশের বিশিষ্ট জনদের সাক্ষী দেওয়ার জন্য বলা হয়। উনাদের কোন কিছু প্রমাণ করতে বলা হয়নি। উনাদের কাজ হচ্ছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উনাদের মতামত জানানো যে একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য জামাতকে শাস্তি কেন দেওয়া উচিৎ এটাই। নাথিং এলস্‌। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে এইসব বিশিষ্ট জনদের মধ্যে প্রায় ২০ জন এই ব্যাপারে অসম্মতি জানিয়েছেন। জাফর ইকবাল স্যার তাদের একজন। এটা কি উনার ভাবাদর্শের সাথে যায়? যেখানে ইনারা সবাই মুখে সরকারের সমালোচনা করছেন কেন জামাত নিষিদ্ধ হয় না। আর এদিকে জামাতকে বিচারের কাঠ গড়ায় তুলে সেই বিচার কাজে ইনাদের সহায়তা চাইলে উনারা অসম্মতি দেবেন। এটা কেমন হল?

  13. বর্তমান বুদ্ধিজীবীদের কাছে
    বর্তমান বুদ্ধিজীবীদের কাছে দেশ আর সমাজের চেয়েও নিজের আর পরিবারের স্বার্থ অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। একটা জিনিস খেয়াল করবেন এরা কখনো জামাত আর মৌলবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হন না।

  14. আমি অবাক হই এদের আচরণ দেখে।
    আমি অবাক হই এদের আচরণ দেখে। এসব বুদ্ধিজীবি কিছুদিন আগ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসাবে জামাতকে নিষিদ্ধ না করার জন্য সরকারের ঘোর সমালোচনা করেছেন। সরকার যখন উদ্যোগ নিল, তারাই লেজ গুটাইলেন। প্রসিকিউশনের এই আহবানে সাড়া না দেওয়ারা মনে প্রাণে চায় না জামাত নিষিদ্ধ হোক।

    সব নিমকহারামের দল। অনেককে দেখলাম জাফর ইকবালকে পীরের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার নিজের বাবার হত্যার স্বাক্ষী দেওয়ার বিষয়ে সে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে এটাও মানা যায় না।

    দেশের সব বুদ্ধিজীবীর চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে। আসলে এরা বুদ্ধিবেশ্যা। সব শালা বুদ্ধিবেশ্যার দল।

  15. উপরের খ্যাতিমান মানুষগুলো
    উপরের খ্যাতিমান মানুষগুলো শ্রেণীগতভাবে এলিট । সেফটি এন্ড সিকিউরিটি তাদের কাছে অগ্রগণ্য । এর জন্য প্রয়োজনে থুথু গেলার মতো বিবেক ও চৈতন্য গিলে ফেলতে পারেন। সুতরাং আমি অবাক হচ্ছি না । তারা তথাকথিত সুশীল চিন্তা চেতনার স্তম্ভ । কারও কারও আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফিল্টার । সেই ফিল্টার দিয়ে একতরফা নির্বাচন,কয়েকটি পদ্মা সেতু, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প অনায়াসে ফিল্টারিং হয়ে আসতে পারে ।

    রেফারেন্স পেলে তথ্যগুলো ব্যবহার করা যেতো । পোস্টদাতাকে ধন্যবাদ এরকম একটা চমকপ্রদ বিষয় নিয়ে লেখার জন্য ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 1