শাইখ সিরাজদের কৃষি বিপ্লব ও পেয়ারার দাম!

শাইখ সিরাজ ও ড. মাহবুব হোসেনরা বলেন যে, বাংলাদেশে সবুজ বিপ্লব ঘটে গেছে। কিন্তু আমরা মাঠে নামলে মানুষের দুঃখ দুর্দশা ছাড়া কিছু দেখি না। যাই হোক, সম্প্রতি বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও কৃষি সাংবাদিকতার দিকপাল শাইখ সিরাজের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার সুযোগ মিলে গেল। দীর্ঘ আলাপচারিতায় তিনি কৃষি নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। কিছু ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করেছি। কিছু বিষয় এতই পুরনো যে, সে সম্পর্কে কিছু জানি না বললেই চলে! এই লেখাটির গুরুত্ব এখানেই। শাইখ সিরাজের জবানিতে আসা নানা তথ্য তুলে ধরছি আমার মতামত সহকারে। সবাই এ বিষয়ে মতামত ও তথ্য নিয়ে এগিয়ে এলে আমরা কিছু সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।

শাইখ সিরাজ বলেছেন, সেই আশি সালের দিকে এদেশের কৃষি বলতে বোঝানো হতো শুধু ধান আর পাট চাষ। কৃষকরা তাই বুঝতো। কিন্তু তিনি সে সময়ই চিন্তা করতেন, কৃষি মানে শুধু ধান আর পাট চাষ করা না। কৃষির এই সংজ্ঞাটা ভাঙতে হবে। নইলে কৃষকরা তাদের সমস্যাগুলো কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারবে না। তাই তিনি গুরুত্ব অনুভব করলেন, কৃষকদের ধান ও পাটের বৃত্ত থেকে বের করে কৃষির বৈচিত্র্যময় বিশাল জগতে প্রবেশ করাতে হবে। অন্যদিকে তখন আরেকটা ধারণা মানুষের মধ্যে ক্রিয়াশীল ছিল। কৃষক মানে বোঝানো হতো কেবল গ্রামের গরিব মানুষদের। তিনি এই ধারণা পরিবর্তন করার লড়াইয়ে নামতে মনস্থির করেন। তিনি মনে করতেন, ঠিকঠাক শিক্ষা পেলে গোটা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই কৃষি থেকে আয় করতে পারে। সে সময় বাংলাদেশে বেকার যুবকের সংখ্যা ছিল বিশাল।

তখন শাইখ সিরাজ চিন্তা করলেন, পথ দেখাতে হবে। নিজের সামর্থ্যটা টের পেলে শহররের যে আধুনিক তরুণ, চাইলে সেও তার শহরের বাড়িতে বসেই কৃষিকাজ করতে পারবে। যা দ্বারা সে সাবলম্বী হতে পারবে, মুনাফা করতে পারবে। এভাবেই কৃষি ও কৃষকের তদানীন্তন ধারণাটা ভেঙে ফেলে নতুন এক যুগে প্রবেশের প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেন সে সময়ের উঠতি সাংবাদিক শাইখ সিরাজ। তার বন্ধুরা তখন টেলিভিশনে জনপ্রিয় সব অনুষ্ঠান করছেন। প্রত্যেকের নাম ধাম হচ্ছে, অর্থ কড়ি হচ্ছে। সবাই খ্যাতি পাচ্ছেন। এরকম সময়ে শাইখ সিরাজের মুখে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানের কথা শুনে সবাই হাসতেন। তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতেন। কিন্তু তাতে তিনি দমলেন না। তার লক্ষ্য ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি টেলিভিশনকে কৃষকের শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে মনস্থির করেন। অন্যদের মতো, জনপ্রিয় বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান করার দিকে না গিয়ে তিনি পরিকল্পনা করেন কিভাবে টেলিভিশন ব্যবহার করে কৃষককে শিক্ষিত করা যায়, উদ্যমী করা যায়।

আমি এই সময়টার দিকেই গুরুত্বারোপ করছি। সময়টা আসির দশকের শুরু। আমার তখনো জন্মই হয়নি। কি ঘটেছিল, তা দেখার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু অধ্যয়ন থেকে জানি, ধান, পাটের বাইরে তখনো অনেক কিছুই চাষ হতো। আমার কাছে মনে হয়েছে, শাইখ সিরাজ এক্ষেত্রে প্রধান অর্থকরী ফসলের কথা বুঝিয়েছেন। তাহলে তামাক, চা ও চিনির বিষয়টা এড়িয়ে গেছেন কেন বুঝিনি। পক্ষান্তরে, তিনি কিন্তু জোর দিয়েই বললেন, তখন কৃষি বলতে মানুষ শুধু ধান আর পাট বুঝতো! এটা ঠিক মানা যায় না! সে সময় যারা প্রত্যক্ষভাবে বিষয়টা দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে পারবেন। আশির দশক নিয়ে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ কেবল যোগ করছি।

বাস্তবতা হচ্ছে, তখন সবই চাষ হতো। ব্যবহারও হতো। তবে স্থানীয়ভাবে। তখন কৃষকদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা ধান আর পাট ছাড়া কিছু কিনতো না। এগুলোর কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা ছিল না। কৃষি ব্যবস্থার মধ্যেও তখনো কোনো বাণিজ্যিক উদ্দীপনা ছড়ায়নি। কৃষিতে বিরাট বিনিয়োগ বা এর শিল্পকরণের কোনো উদ্যোগও তখনো দেখা যায়নি। শাইখ সিরাজ এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণটাকেই উন্নয়ন জ্ঞান করেন। তখনো বাংলাদেশের কৃষিতে এই বিশেষ ‘উন্নয়ন’ এর ছোঁয়া লাগেনি।

ঠিক সেই সময়ই কৃষিমঞ্চে শাইখ সিরাজের প্রবেশ! আশির দশকের শুরুতে কৃষি খাতে তার প্রবেশটা কাকতালীয় মনে করি না। বা তার একার উদ্যোগে আজ বাংলাদেশের কৃষির রূপ বদলেছে, এমনটাও মনে হয় না। এর ঠিক কিছু আগে ব্রিটেনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে ফিরেছেন ড. মাহবুব হোসেন। তিনি দেশে ফিরে কৃষি বিষয়ক গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৮০ সালেই কবি সুফিয়া কামালের কাছ থেকে ব্র্যাকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝে নেন ফজলে হাসান আবেদ। আবার ঠিক এই সময়টাতেই গ্রামীণ কৃষিজীবী নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন ড. ইউনূস!

সেই শাইখ সিরাজ এখন ইমপ্রেস গ্রুপ, চ্যানেল আই, ইনসেপটা ওষুধ কোম্পানিসহ আরো অনেক কিছুর মালিক। ড. মাহবুব হোসেন বর্তমান বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ লোকের মধ্যে একজন। স্যার ফজলে হাসান আবেদের এই সহকারী এখন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক। ফজলে হাসান আবেদ ও ড. ইউনূসের কথা নাই বললাম!

কিন্তু কিভাবে? আর এসবের মধ্যে সম্পর্কটাই বা কি? মনে রাখতে হবে, একই সময়ে বাংলাদেশে আইএমএফ ‘সংস্কার কর্মসূচী’ নামক বিশেষ কার্যক্রম শুরু করে। যা চলেছিল পুরো আশির দশক জুড়ে। আশির দশককে তাই বলা হয় বাংলাদেশে বিশ্বায়নের স্বর্ণযুগ। এই ক্ষেত্রটা প্রস্তূত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, কূটনীতি ও সমরনীতি, সব কিছুই ভূমিকা রেখেছে। শেখ মুজিবের অব্যবহিত কাল পরেই খুন হন জিয়াউর রহমান। এরশাদের ওপর আন্তর্জাতিক আশীর্বাদ ও তার তরতর করে উপরে ওঠা নিশ্চিত হয়। তার শাসনামলে বিদেশি কোম্পানি ও পুঁজির স্বার্থ রক্ষার্থে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়া হয়। ব্যক্তি মালিকানার খাতকে দেয়া হয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ‘বেসরকারি খাতের বিকাশ’ এই সময় থেকেই সরকার, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর সকল কর্মসূচির লক্ষ্য হিসেবে ঘোষিত হয়।

ব্যাপক বেসরকারিকরণের শ্লোগানের পর আমরা দেখি যে, ওই আশির দশকেই বাংলাদেশের কুটির শিল্প তার সামর্থ্য হারিয়েছে। ১৯৮২ সালে ক্ষুদ্র শিল্পের অনুপাত ছিল ৫.৪২। সেই তুলনায় ওই আশির দশকের শেষেই ক্ষুদ্র শিল্পের আপেক্ষিক অনুপাত প্রায় অর্ধেকে নেমে এসে হয় ৩.৬৪। ২০০০ নাগাদ এটি আরও কমে দাঁড়ায় ২.৮৩। বস্তুত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রায় পুরোটাই বেসরকারি খাতে ছিল। তা সত্ত্বেও তার বিকাশ ঘটেনি। স্পষ্টই বোঝা যায়, কৃষির পুঁজিবাদিকরণের সূচনা ঘটে আশির দশকের শুরুতে। আর তার পেছনে বিদেশি পরিকল্পনাও যুক্ত ছিল।

এটা আরো স্পষ্ট হবে রাজনৈতিক মূল্যায়নে গেলে। শাইখ সিরাজ যে সময় ধান, পাট থেকে চোখ ফেরানোর কথা বলছেন, সে সময়ই আমরা মূলত বিশ্বায়নের দিকে ধাবিত হচ্ছি। পাটনির্ভর শিল্পগুলো একে একে ক্ষতির সম্মুখীন হতে শুরু করল। আইএমএফ ও বিশ্বব্যংকের পরামর্শে তা ধীরে ধীরে বন্ধও হয়ে গেল। সুতরাং পাট চাষের গুরুত্ব কমে যাওয়ারই কথা। এটা শাইখ সিরাজরা আগে থেকেই জেনে থাকতে পারেন। না জানলেও এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ইউনূস, আবেদ, মাহবুবদের সঙ্গে কাজ করে গেছেন। সংস্কারের স্বর্ণদশক পার হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি আমদানি-রপ্তানি নির্ভর হয়েছে। যা দরকার তা আমদানি আর যা উৎপাদন হয় তা রপ্তানি- এভাবেই বিশ্ব মোড়লদের ব্যবস্থাপনার অংশীদার হয়েছি আমরা। পাটকল বন্ধ হয়ে এসেছে গার্মেন্ট। ধানি জমিতে উঠেছে চিংড়ি। তা বিদেশে বাজারজাত করার জন্য গড়ে উঠেছে নতুন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান।

আমার বাড়ির পাশেই নদীর ঘাট। খুলনার বিখ্যাত ভৈরব নদী। ছোটবেলায়, অর্থাৎ এই ২০০১ সালেই দেখতাম, নদীর ঘাটে মৌসুমী ফল ভর্তি নৌকা, ট্রলার এসে ভিঁড়ছে। মনে আছে, পেয়ারা কিনতাম চার টাকা কেজিতে। কিন্তু এখন পেয়ারা বিক্রি হয় সারা বছর। উন্নতি হয়েছে বটে! প্রতিটি পেয়ারা এখন পাতলা কাগজে মোড়া থাকে। ন্যূনতম বিশ টাকা দাম পড়ে একটি পেয়ারার। ধরে নিলাম, সিন্ডিকেট ব্যয় বাদ দিলে প্রতি পেয়ারা দশ টাকা। কিন্তু কেন? কৃষির তো অনেক উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন ইউনূস, মাহবুব ও শাইখ সিরাজরা। নানা ধরণের হরমোনের প্রচলন হয়েছে। উৎপাদন তো সব কিছুরই বাড়ছে। এক বাগানেই চাষ হচ্ছে লাখ লাখ পেয়ারা। বাজারে আসছে খুব সহজে। পরিবহন ব্যবস্থাপনাও তো আধুনিক হয়েছে। তাহলে কেন পেয়ারার দাম এমন? কেন এরকম একটা সাধারণ খাবার শহুরে শ্রমিকের খাদ্য তালিকায় নেই! দেশের উন্নতি হলো, কৃষি উন্নত হলো, আপনাদের সবার এত উন্নতি হলো, কিন্তু দায়টা এই বিশেষ ‘উন্নয়ন’ এর দায়ভার কেন বরাবরই শ্রমজীবীদের কাঁধে?

এটা ঠিক যে, কৃষি উৎপাদন বেড়েছে। দুনিয়াজোড়া প্রযুক্তির বিকাশের এই যুগে, এমনটাই হওয়ার কথা। মাঠের কাজে এখন লোকও লাগছে কম। এতে করে এই খাতের ব্যয় কমে আসার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এটাই বিদেশিদের, সাম্রাজ্যবাদের সেই বহুল প্রতিক্ষীত ‘উন্নয়ন’। এই উন্নয়নের পরশ পাথরে বদলে গেছে শাইখ সিরাজদের জীবন। আর আমরা সাধারণ মানুষেরা এই আধুনিক যুগে, হাইব্রিডের যুগে পেয়ারা খাচ্ছি আপেলের দামে, বিশ টাকা প্রতিটি দরে! অনেকে এই দামের জন্যই এরকম আরো কত কিছুকেই খাদ্যতালিকা থেকে নির্বাসিত করেছি। কৃষিবিপ্লবে এই আমাদের অর্জন!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৭ thoughts on “শাইখ সিরাজদের কৃষি বিপ্লব ও পেয়ারার দাম!

  1. পুঁজির বিকাশের শুরু হয়
    পুঁজির বিকাশের শুরু হয় শিল্পের আধুনিকায়নের মাধ্যমে। আর এই আধুনিকায়নের একটা ধাপ হচ্ছে পুঁজির সাজানো ছকে বাজার ব্যবস্থাকে গড়ে তোলা, যার অর্থ হচ্ছে বাজার ব্যবস্থায় মধ্যসত্ত্বভোগীদের প্রবেশ করানো। আশির দশকে আমাদের দেশে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে খাদ্যের চাহিদা দ্রুত বেড়েই চলছে। পুঁজিবাদের স্বভাবগত চাহিদা মতই কৃষির উপর নজর গেছে। বাংলাদেশের কৃষিতে পুঁজিবাদের আদলে বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার মহান দায়িত্ব পেয়েছিলেন শাইখ সিরাজ ও ড. মাহবুব হোসেন, ফজলে হোসেন আবেদ ও ইউনুস গং রা।

    তাই আজ কৃষিতে উৎপাদন কয়েকগুন বৃদ্ধি হলেও মুল্য ধীরে ধীরে কৃষক ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে এবং আরো যাবে। পুঁজিবাদের একটা ধর্ম আছে বলে আমি মনে করি। সেটা হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্টিকে পুঁজি শুন্য করে দিয়ে মধ্যসত্ত্বভোগীদের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা। এতে সুবিধাটুকু কি একটু চিন্তা করলেই আঁচ করতে পারবেন। তাই আজ, কৃষির উন্নতি ঘটলেও কৃষকের উন্নতি হয়নি। মাঝখানে পুঁজিবাদের এজেন্সী যারা নিয়েছিল তাদের অর্থ-বৈভবের অবস্থা টালমাটাল। কৃষির বাজার ব্যবস্থা সরকারের মাধ্যমে সমবায়ের ভিত্তিতে যদি না করা যায়, তাহলে সারাজীবনই কৃষক আলু উৎপাদন করে ফসলের মাঠে মুখে হাত দিয়ে বসে থাকবে। আর সেই ছবি প্রকাশ করা হবে মিডিয়ায়। পুঁজিবাদের চরম স্তর চলছে এখন। পরিত্রাণ পেতে হলে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। না হলে পরিত্রাণের কোন আশা নেই।

    আর শাইখ সিরাজের সেই আশি দশকে বিটিভি’তে প্রচার করা অনুষ্ঠানগুলোর আমি নিয়মিত দর্শক ছিলাম। (বিনোদনের আর কোন উপায় ছিল না বলে বাধ্য হয়েই দেখতাম।) তার সেই সময়কার ডেডিকেশন আর এখনকার ডেডিকেশনের মধ্যে পার্থক্য একজন বোকা মানুষও ধরতে পারবে।

    ইনসেপ্টা একটা ভাল ঔষুধ কোম্পানী। ইতিমধ্যে তারা ডায়াপার বাজারজাত করেছে। যে জিনিসটা শহর থেকে গ্রামে সন্তানের জন্য ব্যবহার না করলে ইজ্জ্বতের বিষয় হয়ে যায়। এটা এতদিন বিদেশ থেকে আমদানী করতে হইত। এখন ইনসেপটার কল্যানে দেশী ডায়াপার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। …… এটাই হচ্ছে শাইখ সিরাজদের পুঁজির বিকাশ। এখন থেকে আশাকরি সবাই দেশী প্রতিষ্ঠানের ডায়াপার ব্যবহার করবেন। (আমি নিজেও প্রতিনিয়ত পুঁজিবাদের সাথে বসবাস করি। তাই এরে সরাসরি খারাপ বলি কেমনে?)

    এক সময় আমার দাদা খুব গরীব ছিল। অন্যের জমি চাষ করে আমার বাবাকে পড়ালেখা শিখিয়েছে। বাবা একজন কৃষকের শ্রমের টাকায় শিক্ষিত হয়েও গ্রামে গেলে ভুমির মালিকদের সামনে মাথা উচু করে কথা বলত না। এরপর বাবার টাকা হয়েছে। সেই সুত্রে আমাদের আরো একটু বেশী টাকা হয়েছে হয়ত! গ্রামের ঐ ভুমি মালিক কৃষকরা এখন ভুমিহীন হয়ে গেছে। গ্রামে গেলে ঐ ভুমির মালিক কৃষকরা মাথা নীচু করে থাকে সাহায্যের আশায়। আর শহুরে আমরা এখন গ্রামের ভুমির মালিক। তারা এখন ………….!!!! এটাই পুঁজির বিকাশ!

      1. এইজন্য আমি আর মন্তব্য করার
        এইজন্য আমি আর মন্তব্য করার উৎসাহ পাই নাই। যাই হোক। আতিক ভাই মেলাদিন ধরে ছুডু ছুডু কমেন্ট করেন। কারণ অধিকাংশ লেখাই আপনি পড়েন না। চোখ বুলান, মাত্র। এই লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পইড়েন। আশির দশকে আপনার যে বয়স, আপনিও অনেক কিছু মনে করতে পারবেন।

        1. আশির দশক মানে তো ১০৭০-৮০।
          আশির দশক মানে তো ১০৭০-৮০। ওইসময় আমি ইহলোকেই ছিলাম না রে ভাই। আর আমার সমপর্কে এইডা কি কইলেন ভাই? পুরা ইজ্জতের ফালুদা বানায় দিলেন। :মাথাঠুকি:

        2. ক্যারে ভাই, আমি মন্তব্য কি
          ক্যারে ভাই, আমি মন্তব্য কি এতই খারাপ করলাম যে আপনি উৎসাহ হারিয়ে ফেললেন! আমি কিন্তু সংশয়বাদী না, সংস্কারবাদী।

  2. বিষয়টির নানা দিক আছে। যখন
    বিষয়টির নানা দিক আছে। যখন কাচামরিচ ২০০ টাকা হয়, তখন সাধারণ ভোক্তারা যেমন অসুবিধায় পড়ে, তেমনি যখন তা ১০ টাকায় নামে, একই সমস্যায় পড়ে বিক্রেতা তথা উৎপাদনকারী। ভুটানের রাজধানী “থিম্পুতে” সরকারি একটি বড় কৃষি বাজার আছে, যেখানে বিনা ভাড়া, ট্যাক্সে সাধারণ কৃষক তথা পাহাড়ি নারী পুরুষ তাদের উৎপাদিত পণ্যটি সরাসরি ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারে শহুরে ভোক্তার কাছে। এমন একটা মার্কেট ঢাকাতে প্রতিষ্ঠান জন্য অনুরোধ করেছিলাম “শাইখ সিরাজকে” কিন্তু ফিডব্যাক পাইনি। তবে শাইখ সিরাজ যা করেছেন তা এরকম-

    “নিজে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে নিউজিল্যান্ডে কয়েকটি কৃষি খামার দেখে ও তার প্রেমে পড়ে দেশে ফিরেই ৪৪-একর জমি ক্রয় করি শাইখ সিরাজের দর্শনকে বাস্তবায়িত করতে এবং নেমে পড়ে মাঠে। কিন্তু নানা সমস্যা তথা কারণে কৃষি খামারের প্রেম আর বেশিদিন ধরে রাখতে পারিনি, এখন প্রেম করছি ব্লগ আর ফেবুকের সাথে। বর্ণিত জমি এখন অন্য মানুষের হাতে অন্য কাজে। হায়!!

    1. এই লেখায় অনেকগুলো বিষয় এসেছে!
      এই লেখায় অনেকগুলো বিষয় এসেছে! মূলটা হচ্ছে আইএমএফ তথা সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক আশির দশকের সংস্কার! পুরোটা ভেবে মন্তব্য দিলে কৃতার্থ হতাম।

      1. সরি সময়াভাবে ও বিষয়টা তুলে
        সরি সময়াভাবে ও বিষয়টা তুলে ধরিনি, তবে শাইখ সিরাজ তার নানাবিধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমাদের মত উচ্চশিক্ষিত মানুষদেরকেও কৃষির প্রতি মমত্ববোধ তথা টেনে নামিয়েছেন এটাই তার কৃতিত্ব। এ জন্য তাকে প্লাস আপনাকে স্যালুট করছি বিষয়টা তুলে ধরার জন্য। ধন্যবাদ

  3. কৃষিতে বিপ্লব গটেছে ফসল ফলনে
    কৃষিতে বিপ্লব গটেছে ফসল ফলনে গটেছে, কিন্তু কৃষকের কি অবস্থা তা সাম্প্রতিক আলু চাষিদের দেখলেইতো বুঝা যায়!!
    কৃষকের হাতে যখন ফসল তখন দাম নাই, হাত থেকে চলে গেলে দাম হয় ৪/৫ গুন!! এই হল বিপ্লব।

    1. হ্যা এটা হয়েছে আমাদের প্লান ও
      হ্যা এটা হয়েছে আমাদের প্লান ও বিপনন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে। আমরা জানিনা আমাদের কত আলুর চাহিদা এবং কত উৎপাদন করছি আমরা। যে কারণে কোনটা উদ্বৃত্ত আবার কোনটা অপ্রতুল। তাই কখনো কাচামরিচ ২০০ টাকা কখনো ১০ টাকা।

      1. রাষ্ট্র এটা জানে না, তা ঠিক
        রাষ্ট্র এটা জানে না, তা ঠিক না। রাষ্ট্র সবই জানে। আপনি যে কোনো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেন, সে বলতে পারবে তার এলাকায় কোন ফসলের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কত! বিশয়টা হচ্ছে, সিন্ডিকেটের হাতেই বাজার ব্যবস্থাটা ছেড়ে দিয়ে তারা ক্ষ্যান্ত। এখানে কোনো গোলমাল হয়ে গেলে একটু সাইজ করে আবারো তাদের হাতেই দিয়ে দেয়!

        1. ১০০% ঠিক বলেছেন। কিন্তু
          ১০০% ঠিক বলেছেন। কিন্তু তারপরো আমরা নির্ধারণ করিনা যে কি পরিমাণ কি ফসল আমার এ বছর উৎপাদন ও তা কিভাবে বিক্রি করবো। যেমন আমাদের আলুর উৎপাদন এবার বেশি কিন্তু আদা বা রসুনের কম। বিষয়টা কে দেখবে এটাই ভাবনার বিষয়।

  4. আমার কাছে মূল সমস্যা মনে হয়
    আমার কাছে মূল সমস্যা মনে হয় বাজার ব্যবস্থা। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কৃষি বাজার করা হোক। যেখানে প্রতিদিনের প্রতিটি পণ্যের দাম নির্ধারিত করা থাকবে। পাইকাররা ঐ দামের চেয়ে কম দামে কিনতে পারবে না। তাহলে অনেকখানি সমস্যাই মিটে যাবে। আমার স্বল্প জ্ঞ্যানে যা মনে হইছে কইলাম।

    1. বিষয়টা তা না। মূল বিষয় হচ্ছে,
      বিষয়টা তা না। মূল বিষয় হচ্ছে, স্বনির্ভরতার পরিকল্পনা। এর জন্য দরকার কিছু ভর্তুকি। দোহা কনফারেন্সের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আমরা কৃষিতে ৫ ভাগের বেশি ভর্তুকি দিতে পারি না। অথচ আমেরিকা দেয় তার কৃষতে ১৯ ভাগ ভর্তুকি। মূল কাজটা হচ্ছে সুষ্ঠু একটা পরিকল্পনা করা। আর সেখানে দেশ ও জনগণের প্রয়োজন ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া!

      1. ভর্তুকি দিলো, কৃষক ফসল ফলায়ে
        ভর্তুকি দিলো, কৃষক ফসল ফলায়ে ভইরা ফেললো, তাতে লাভ কি? সেই ফসল যদি নায্য মূল্যে বিক্রি করতে না পারে তাইলে যেই লাউ সেই কদু। এছাড়া আরেকটা পয়েন্ট আমরা ভুলে যাচ্ছি। আমাদের পর্যাপ্ত হিমাগার নাই। থাকলেও সেটার খরচ অনেক বেশী। হিমাগার না থাকলে কি হয় সেটা তো দেখাই যায়। মৌসুমের সময় আলু, টমেটো কৃষক ১ টাকা কেজিতে বেঁচে দেয়। আমরা ১০-১৫ টাকায় কিনে খাই। বাকী সময় দাম ১০০ টাকার কাছাকাছি চলে যায়। মোট কথা, ফসল ফলানো থেকে শুরু করে সংরক্ষণ করা পর্যন্ত প্রতিটা স্টেপেই পরিবর্তন আসার দরকার আছে।

        1. ভর্তুকি দিলে কৃষিপণ্য পরিবহন
          ভর্তুকি দিলে কৃষিপণ্য পরিবহন ইনস্টিটিউট তৈরি হবে। সংরক্ষণাগার হবে। না দিলে এগুলো হবে ব্যক্তি উদ্যোগে। খরচ বাড়বে। কৃষক পস্তাবে। ধরা খাবে। ওদের সঙ্গে পেরে উঠবে না। মূল বিষয়টা নীতিগত ও পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত! এই সোজা হিসাবটা মিস কইরা ডালপালায় ঘুরতাছেন ক্যান বুঝলাম না! 🙁

          শেষ পর্যন্ত মূল বিষয়টা হচ্ছে স্বনির্ভর কৃষি গড়ার পরিকল্পনা।

          1. ভর্তুকি দিলে কৃষিপণ্য পরিবহন

            ভর্তুকি দিলে কৃষিপণ্য পরিবহন ইনস্টিটিউট তৈরি হবে। সংরক্ষণাগার হবে। না দিলে এগুলো হবে ব্যক্তি উদ্যোগে। খরচ বাড়বে। কৃষক পস্তাবে। ধরা খাবে। ওদের সঙ্গে পেরে উঠবে না। মূল বিষয়টা নীতিগত ও পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত! এই সোজা হিসাবটা মিস কইরা ডালপালায় ঘুরতাছেন ক্যান বুঝলাম না! মন খারাপ
            শেষ পর্যন্ত মূল বিষয়টা হচ্ছে স্বনির্ভর কৃষি গড়ার পরিকল্পনা।

            হ্যা মূল বিষয়টা সদিচ্ছি। এটা থাকলে সরকারি বেসরকারি কোন ব্যাপারটা। আর ফরিয়া বা দালাল কি শুধু কৃষি পণ্যে? একটা ১০-টাকার দৈনিক হকার সমিতি নাকি ২/৩ টাকার বেশিতে কিনে না, যার প্রকাশনা খরচ নাকি ১০/১৫ টাকা। তারা বিপণন সব দেখে ও তা বিক্রি করে ১০ টাকায়। পুরণোগুলো ফেরত নিয়ে ডাম্পিং করে।

            এটা বোধহয় সব পুঁজিবাদে সমাজের অন্যতম প্রপঞ্চ। তবে সরকারি (+বেসরকারি) উদ্যোগে অন্তত প্রতিটি উপজেলায় একটি করে “সরাসরি কৃষিপণ্য বিক্রয় কেন্দ্র” করলে অবস্থা হয়তো অন্য রকম হতো।

          2. আনিস ভাই, আপনার হয়ত এই তথ্যটা
            আনিস ভাই, আপনার হয়ত এই তথ্যটা জানা নেই, কৃষি পণ্য রপ্তানীতে সরকার মোট রপ্তানী মুল্যের উপর ২০% ইনসেনটিভ দেয়। এটাও একটা কৃষিতে প্রণোদনা। এই ইনসেনটিভ আগে ছিল ৩০%। আওয়ামীলীগ সরকার গতবার ক্ষমতায় এসে সেটাকে ২০% করেছে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের চাপের কারণে। তবে এই ইনসেটিভ কৃষক পাচ্ছেনা, পাচ্ছে সেই মধ্যেসত্বভোগীরা। তবে ইনসেনটিভ দেওয়ার ফলে কৃষি পণ্য রপ্তানী বেড়েছে। ইনসেনটিভের পরিমান আগের মত ৩০% করা উচিত। যেটা পাশের দেশ ভারত অনেক আগে থেকেই দিয়ে আসছে। তবে রপ্তানীকারকদের এই ইনসেনটিভ পেতে কয়েকমাস সময় লেগে যায়। অথচ ভারতের কৃষিপণ্য রপ্তানীকারকরা রপ্তানী করার এক সপ্তাহের মধ্যে ইনসেনটিভের টাকা ড্র করতে পারে। আমাদের রপ্তানীকারকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটরদের পেছনে পেছনে ঘুরতে হয়। ওদেরকে ঘুষ দিয়ে এই ইনসেনটিভ ড্র করতে হয়। এই হয়রানী বন্ধ করা উচিত। তাহলে কৃষি পণ্য রপ্তানী আরো বেড়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

            বর্তমানের ২০% ইনসেনটিভ কি ভুর্তকি না? প্রশ্ন হচ্ছে কৃষক কতটুকু পাচ্ছে। কৃষককে ভুর্তকি দিচ্ছে জ্বালানী ও সার’র উপর। সেটা কত পার্সেন্ট? আপনি কি এই তথ্যটা জানেন?

          3. কৃষকে জ্বালানী ও সারের উপর
            কৃষকে জ্বালানী ও সারের উপর ২০% একবার দিয়েছিল আমার এলাকায়। সাথে কিছু উন্নত বীজও দিয়েছিল নামমাত্র দামে।

            আর ভতুর্কির ব্যাপারে রপ্তানীকারকদের যে কথা বললেন, তাতে কড়াকড়ি না করে ভর্তুকি সহজপ্রাপ্য করলে আরেকটি সমস্যার সৃস্টি হবে তা হচ্ছে রপ্তানী না করে কিংবা অল্প করে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটো কোটি টাকা লোপাট করা। কাজেই মুদ্রার দুটো পিঠই দেখতে হবে।

          4. এখন কাস্টমের ডাটা ব্যবস্থা
            এখন কাস্টমের ডাটা ব্যবস্থা অনলাইনভিত্তিক। দুই নম্বরী করার দিন শেষ। যাচাই বাছাইয়ের জন্য ছয় মাস লাগার কথা না। আসলে এটা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। আর রপ্তানী করলে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, সেটা দেশেরই লাভ। এই ক্ষেত্রে টুকটাক দুই নম্বরী যদি কেউ করেও থাকে তাতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। তারচেয়েও বড় আকারের দুই নম্বরী হচ্ছে আমদানী ঋণপত্রের নামে ওভার বা আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে। ওভার ইনভয়েজ করে টাকা পাচার করে এবং আন্ডার ইভয়েজ করে শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে অহরহ। এরচেয়ে কি রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বেশী খারাপ?

  5. হ্যা দুলাল ভাইর সাথে একমত
    হ্যা দুলাল ভাইর সাথে একমত পোষণ করছি। এসব নিয়েই আমাদের এগুতে হবে। হয়তো সরকারের ভেতরে বাইরের প্রবল বাধা আছে, না হলে কৃষি বান্ধব এ সরকারের আরো সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল। ভাল থাকুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

72 + = 77