পরিক্রমিনিত

আমার মনে হয় না মানুষের বিবর্তন হয়ে দৈহিক গঠন অন্য রকম হবে । কারন মানুষ টিকে থাকার জন্যে টুলস ব্যাবহার শিখে গেছে । মানুষ তার প্রয়োজন মেটায় বিভিন্ন টুলস দ্বারা । পরিবর্তন ঘটে মানসব্যাক্তি ।

এক ভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় আমরা সরল বিবর্তনের ফসল যা বহুবার ঘটার কারনে একটা জটিল অবস্থায় রুপ নিয়েছে । আরেক ভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় সব কিছু তে একটা মহাপরিকল্পনার ছাপ আছে । প্রশ্ন আসতেই পারে , আমাদের যারা পূর্বসূরি ছিল তারা কি জানত তাদের থেকেই উত্‍পত্তি ঘটবে মানুষের , কোন প্রবনতার জন্যে জীব তার নিজস্ব পরিবর্তন , পরিবর্ধন ঘটায় । কেন মনে করে তার টিকে থাকার প্রয়োজন । যে কোন জীবের প্রধান উদ্দেশ্য থাকে তার জিন টি কে পরবর্তি প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয়া । এটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে স্বার্থপরতা , পরার্থতা , সৌন্দর্যবোধ , প্রতিভা , ভালবাসা , বিভিন্ন আবেগ । যদি কোন জীবনে কোন উদ্দেশ্য থাকে তাহলে উদ্দেশ্য এটাই যে নিজের জিন টা কে পৌঁছে দেয়া পরবর্তি সময়ে । কোন আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তাড়না । কেন এক কোষী একটা জীব থেকে থেমে গেল না তার জীবন প্রক্রিয়া ? কেন নিজের জিন টি কে টিকে রাখার জন্য আজীবন সংগ্রাম করলো ?

মানব সমাজ যা কিছু করে নিজের জন্য করে না । করে নিজের জিন এর জন্য । তার পরবর্তি প্রজন্মের জন্য । আড়শোলা ও ডিম দেয়ার পর মারা যায় , এক ধরনের ইদুর দৈহিক মিলনের পর ই মারা যায় । সমস্ত জীব জগতের কাজের উদ্দেশ্য প্রজন্ম কে টিকিয়ে রাখা যেভাবেই হোক । একটু একটু টিকে থাকা টিকে থাকা করেই এ পর্যায়ের মানুষ । আমাদের জন্য পৃথিবী অপেক্ষা করে ছিল লক্ষ কোটি বছর । এদিক থেকে ইয়েস্তেন গার্ডার এর Hallo ! er det Noen Her ? বই এর মিকা এবং জো এর কথোপকোথন বলা যেতে পারে ,

– তোমার কি বিশ্বাস এত সব কিছু এমনি এমনি এসেছে? নাকি ঈশ্বর আছে যিনি এসব সৃষ্টি করেছেন ?
– আমি জানি না । তবে ডাইনোসর , মাম্বো রা এ ধরনের প্রশ্ন করে নি ।
– তবে আমরা করি , কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করাই আমাদের অভ্যাস ।
– হয়তো এ প্রশ্নের উত্তর ই নেই । যদি ঈশ্বর থেকে থাকেন তাহলে তিনি কে ? আর যদি না থাকে তাহলে বিশ্ব কী ?

এটাই ছিল জো এবং মিকার কথোপকোথন । জো বলেছিল কুকুর বিড়াল জীবন রহস্য নিয়ে ভাবে না , মানুষ ভাবে ।
আমরা কিভাবে শিওর হই যারা মানুষের কাছাকাছি শিপান্জি , লেমুর এরা নিজেকে নিয়ে ভাবে নি ? রঙ থেকে ভাবে নি ? হয়তো অনেক কম । অতি নগন্য । মানুষের পাঁচ টি ইন্দ্রিয়ের জন্য তার ক্ষমতা অনেক । বিবর্তনের মাধ্যমেই ইন্দ্রিয় গড়ে । ইন্দ্রিয় এর কাজ ই বাহ্য পরিবেশ টা অনুভব করার জন্য । একটা জন্মান্ধ কল্পনা ও করতে পারবে না তার অভাব নিয়ে । তার শব্দ ময় পৃথিবী দিয়ে রঙের রহস্য উদঘাটন করতে পারবে না । তার কাছে মনে হয় তার চারটি ইন্দ্রিয় ই চরম অবস্থা বিবর্তনের , এর বাইরে অনুভূতি থাকতে পারে না ।

আমরা যদি সমস্ত রহস্য উদ্ধার করতে না পারি তাহলে আমরা জন্মান্ধের মত ই । হয়তো বিবর্তনের ধাপে আমাদের আরেকটা ইন্দ্রিয় এসে ও যেতে পারে যা আমরা ভাবতে পারছি না । যারা বধির তাদের জানার কথা না শব্দ শক্তি বলে একটা শক্তি আছে , তাদের চোখ নেই তারা ভাবতে পারে না আলোক শক্তি বলে কোন শক্তি আছে । সায়েন্স ফিকশনের মত মনে হলে ও এটা হওয়া অসম্ভব নয় যে কোন একটা শক্তি লুকায়িত আমাদের আশে পাশে যা ধরার জন্য তৈরী হয় নি আমাদের কোন ইন্দ্রিয় । কোন ও যন্ত্র ও হয় নি , যন্ত্র গুলো সাধারনতা আমাদের ইন্দ্রিয় নির্ভর ব্যাবস্থা ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “পরিক্রমিনিত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − 9 =