প্রসঙ্গঃ রাজাকার এবং ব্যক্তিবিশ্বাস

রাজাকার শব্দটি সম্ভবত সমসাময়িক কালের সর্বাধিক আলোচিত ও উচ্চারিত শব্দ। রাজাকার সম্পর্কিত কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনার আলোচনা সময়ের দাবী বলেই মনে করছি। পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে এই ভাবনা আরও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা লাভ করুক এটাই কাম্য।

প্রথমেই বলে রাখি, রাজাকার বলতে আদতে কোনও একটি সুনির্দিষ্ট সম্প্রদায়, গোষ্ঠী অথবা রাজনৈতিক পক্ষ নয় বরং একটি সুনির্দিষ্ট ভাবাদর্শ বা মতাদর্শকেই বুঝায়। যাকে ইংরেজিতে বলে আইডিওলজি। আর এই ভাবাদর্শের মাঝে ধর্মের উপস্থিতিতেই তৈরি হয় মৌলবাদ। রাজাকারেরা মুলতঃ এক প্রকারের Zealot বা ধর্মান্ধ ব্যক্তিবিশেষ বা গোষ্ঠী যারা তাদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক বা অন্যান্য আদর্শগত ব্যাপারে চূড়ান্তমাত্রায় আপোষহীন। এদের রাজনৈতিক দিকমুখিতা হলো দিব্যতন্ত্র বা ধর্মশাসন, যা কিনা প্রকারান্তরে একনায়কতন্ত্র। শুধু তফাত হলো দিব্যতন্ত্রে একনায়কের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এর পরিচালনায় নিয়োজিত থাকবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যার নাম জামায়াতে ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবির। উগ্রপন্থী বা দিব্যতন্ত্রের অনুসারীরা গঠনগত কারনেই গনতন্ত্রবিরোধী এবং একনায়কতন্ত্র’প্রত্যাশী।

উপরোল্লিখিত সুনির্দিষ্ট ভাবাদর্শ বা মতাদর্শ হচ্ছে উগ্রপন্থা ।উগ্রপন্থা যেন এক অপ্রতিরোধ্য প্লেগ’সম মহামারী। যা কিনা কর্মকান্ডপ্রসূত (বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি, কর্মপন্থা ইত্যাদি) কারনেই প্রথাগত সকল সরল, সাধারন, সর্বজনসম্মত পথ বা নীতিমালা হতে বিচ্যুত হয়। আর এই বিচ্যুতির কারনে উদ্ভূত পরিচয় সংকট ব্যক্তির মানসিকতায় এক আত্মধ্বংসী অনুভুতির সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তিকে ক্রমশঃ তার আপন স্বত্তার প্রতি প্রতিশোধপ্রবন করে তোলে। পরিশেষে এই বোধ ব্যক্তিকে বাধ্য করে তার আপন মানবিকতাকে সংহার করতে। মনে রাখতে হবে, উগ্রপন্থার উৎপত্তিস্থল হলো মৌলবাদিতা। মৌল মানে হচ্ছে মূলে যাওয়া (সামাজিক সমস্যা সমুহের), কিন্তু এই মূলে যাওয়ার পর সেখানে আটকে থাকাটাই মৌলবাদিতা।

এই ভ্রান্ত ভাবাদর্শে মরনপন বিশ্বাস এবং কালক্রমে এই উদ্ভূত বিশ্বাস থেকেই আজকের এইসকল নব্য-রাজাকার সমূহের জন্ম। মূলতঃ ম্যানিপুলেটেড এই সরল সম্প্রদায় সেই সুনির্দিষ্ট ভাবাদর্শে আচ্ছন্ন হয়ে দিব্যতন্ত্রের দোসর হচ্ছে বস্তুত একটি ধর্মগোষ্ঠীর অংশীদার হয়ে প্রাপ্ত ক্ষমতার লালায়িত লোভে। এর সাথে রয়েছে পরকালীন প্রাপ্তিযোগ। ক্ষমতালাভের এই উন্মাদ মোহ এবং পরকালীন প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি মিলেমিশে এভাবেই এক দুর্দম দৃপ্ততার উন্মেষ ঘটে আর পর্যায়ক্রমে এই দৃপ্ততা থেকেই সংঘাত আর সহিংসতার জন্ম হয়। এ সহিংসতার প্রকৃতি কিন্তু দ্বিধাহীন। যার সংক্রমনে ব্লগার রাজিব হায়দার এর মতোন নিরীহ নাগরিক খুন হয় শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের অপরিনত কতিপয় কাকতাড়ুয়ার দ্বারা।

সর্বস্বত্ত সংরক্ষনঃ সেরিব্রাল ক্যাকটাস

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “প্রসঙ্গঃ রাজাকার এবং ব্যক্তিবিশ্বাস

  1. শামীমা মিতু@ এতো Gross
    শামীমা মিতু@ এতো Gross perspective থেকেই কিন্তু বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতির সুযোগ তৈরী হয় অস্থিরতাজনিত আবেগে এদের গঠনগত অবকাঠামো না বুঝলে লড়াইটা অযথাই প্রলম্বিত হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 71 = 76