শ্রমিক যে কারণে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না

রানা প্লাজার শ্রমিকদের সাহায্য দেয়ার জন্য জনগণ যে অর্থ বিভিন্ন তহবিলে দিয়েছেন, সেই টাকাও শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে না। শ্রমিকদের মালিকরা এখনও মানুষ ভাবতে পারছেন না বলেই এই আচরণ। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং সহযোগিতার বিষয়টিকে অনেকেই গুলিয়ে ফেলছেন। রানা প্লাজা ধসের পর ঢাকা ও এর আশেপাশের সাধারণ মানুষ ছুটে গিয়েছেন ঘটনাস্থলে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আহতদের ওষুধ, অর্থ সহযোগিতাসহ যে যা পেরেছেন তাই দিয়েছেন। সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এবং দেশের বাইরে থেকেও অনেকে অর্থ পাঠিয়েছেন শ্রমিকদের সহযোগিতা দেয়ার জন্য।

প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে কেবল ব্যাংক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোই এজন্য ১১০ কোটি টাকার সহযোগিতা দিয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেয়া হয় আরও ১৭ কোটি টাকা। শুধু প্রধানমন্ত্রীর তহবিলেই মোট ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৯ টাকা জনগণের পক্ষ থেকে সহযোগিতার জন্য দেয়া হয়েছে। ১৭ এপ্রিল, ২০১৪ পর্যন্ত এ তহবিল থেকে মাত্র ২২ কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭২০ টাকা ব্যয় হয়েছে। বাকি প্রায় ১০৫ কোটি টাকা এখনও তহবিলে অলস পড়ে আছে।

জনগণের দেয়া সহযোগিতা শ্রমিকদের হাতে তুলে দেয়াটাই ছিল এখানে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, জনগণ শ্রমিকদের যে সহযোগিতা দিয়েছেন, তাই তারা বুঝে পাননি। আর তো মালিকদের দেয়া ক্ষতিপূরণ! ক্ষতিপূরণ নিয়ে আদালতে একটি মামলা আছে। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের স্বপ্রণোদিত রুলের প্রেক্ষিতে সুপারিশ করার জন্য কমিটি গঠিত হয়েছিল। কথা ছিল, আদালত ঠিক করে দিবে, কী হিসাবে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। কিন্তু এই মামলার তৎপরতা চলছে খুবই ধীরগতিতে। সুপারিশ কমিটি নিহত, নিখোঁজ ও স্থায়ীভাবে পঙ্গুদের জন্য বাড়তি ১০ বছর কর্মক্ষমতা হিসাব করে ১৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং আহতদের ক্ষতির ধরন অনুযায়ী দেড় লাখ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত লাখ টাকা দিতে সুপারিশ করেছে। বিজিএমইএর যে সদস্য ওই কমিটিতে ছিলেন, তিনি এর বিরোধিতা করেই স্বাক্ষর করেছেন। আদালত এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে আদালতের গঠিত সুপারিশ কমিটির বাইরে এ পর্যন্ত আরও দু’ ধরনের প্রস্তাবনা এসেছে। আহত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তার চিকিৎসার ব্যয় এবং ক্ষতজনিত কারণে যতদিন কাজ করতে পারবেন না ততদিনের মজুরিসহ অন্যান্য ভাতাদি। নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকের ক্ষেত্রে যতদিন তিনি কাজ করতে পারতেন ততদিনের বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি। এই হিসাবে একজন আহত শ্রমিককে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং একজন নিহত, নিখোঁজ শ্রমিকের জন্য ৪৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবনা দেয় অনেক শ্রমিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

গার্মেন্ট মালিকরা বরাবরের মতোই এই প্রস্তাব মেনে নিতে পারেননি। বিপরীতে তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ও বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী। বিদেশের হিসাব বাংলাদেশে করলে চলবে না। বিদেশিরা তাদের দেশের হিসাবে এখানে ক্ষতিপূরণ দিতে বললে হবে না। মালিকরা বলছেন, যে শ্রমিক ৩ হাজার টাকা বেতন পেতেন তাকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়াই যথেষ্ট। বেশি হলে তিন লাখ টাকা দেয়া যায়। এর বেশি দিতে গেলে তা হবে বাড়াবাড়ি।

মূলত মালিকরা যেটা ভয় পাচ্ছেন তা হলো, যদি একজন শ্রমিককে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তবে এটাই নিয়ম হয়ে যেতে পারে। পরবর্তীতে এ ধরনের যে কোনো ঘটনা ঘটলে এই বিরাট অঙ্কের টাকা দিতে হবে। এটাই তখন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। মালিকরা সরকারকে এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই সরকারপক্ষ সহযোগিতার পুরো টাকাটাও শ্রমিকদের হাতে পৌঁছানোর ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রেও মালিকদের মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার সুযোগই বেশি।

শ্রমিকদের বিষয়ে মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গি সবসময়ই শত্রুতাপূর্ণ। শ্রমিকের আত্মসম্মানবোধ বলে কিছু থাকতে পারে এটা মালিকরা ধর্তব্যেই নেন না। শুধু গার্মেন্ট মালিকরাই নন, এদেশের অধিকাংশ কারখানা, অফিস, প্রতিষ্ঠানের মালিক বা ঊর্ধ্বতনরা তাদের অধঃস্তনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাই বলেন না।

সভ্যতা অনেক দূর এগুলেও বাড়ির কাজের লোককে মানুষ ভাবাটা এখনও অনেকে আয়ত্ত করতে পারেননি। কাজের লোকের আত্মসম্মান নিয়ে তারা চিন্তা করেন না। ফলে তাদের অভাব, অভিযোগ, চাহিদাকেও তারা বুঝতে সমর্থ হন না। কাজের লোকের আর চাহিদা কত? ও এত টাকা দিয়ে কী করবে? মালিকরা এমনটাই মনে করেন। শ্রমিকদের তারা কর্মকর্তা ভাবতে পারেন না, সহকর্মী ভাবতে পারেন না, তাই নিজেদের জন্য যেগুলোকে তারা মৌলিক অধিকার ভাবেন, শ্রমিকদের জন্য সেগুলোকে প্রয়োজনীয় মনে করেন না।

এ কারণেই মালিকরা জনগণের দেয়া সাহায্যও শ্রমিকদের দিতে বিরোধিতা করেন। অনেক মালিক মনে করেন, এভাবে বেশি বেশি টাকা দিলে শ্রমিকদের অভ্যাস খারাপ হয়ে যাবে। ৩০ লাখ টাকা শ্রমিকের প্রাপ্য হতে পারে, এটা মানতেই পারছেন না মালিকরা। মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের সময় যেমন তারা বলেছিলেন যে, ৮ হাজার টাকা শ্রমিকের বেতন হতে পারে না, এই টাকায় অফিসার পাওয়া যায়। সেই দৃষ্টিভঙ্গি এখনও ক্রিয়াশীল।

ক্ষতিপূরণের প্রশ্নটা আসে এজন্য নয় যে, এটা দিলেই ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যা মিটে যাবে। বরং ক্ষতিপূরণের মূল প্রশ্নটা হচ্ছে, যাদের কাঁধে দায়দায়িত্ব বর্তায়, তাদের সতর্ক করা। ক্ষতিপূরণকে এক্ষেত্রে এক কথায় জরিমানার সঙ্গে তুলনা করা যায়। রানা প্লাজার ক্ষতিপূরণের প্রশ্নটি এত গুরুত্ব দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এমন ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে। সব পক্ষ যেন সচেতন থাকে এরপর থেকে। রানা প্লাজার শ্রমিকরা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরও, শ্রমিকদের জোর করে কারখানায় ঢোকানো হয়। এটাকে তাই দুর্ঘটনার চেয়ে হত্যাকাণ্ডই বেশি বলা হয়েছে।

এমন ঘটনা যেন আর কেউ কখনও ঘটানোর সাহস না করে, সেজন্য দরকার ছিল দায়ীদের কঠিন শাস্তি দেয়া। বাংলাদেশের গার্মেন্ট মালিকদের আধিপত্য এতই বেশি যে, আজ পর্যন্ত অসংখ্য গার্মেন্টে শ্রমিকরা লাশ হয়েছেন। তালাবদ্ধ করে শ্রমিককে পুড়িয়ে মারা হয়েছে চুরি ঠেকানোর নামে। কিন্তু কোনো গার্মেন্ট মালিকের বিচার এ যাবৎ হয়নি। রানা প্লাজার ক্ষতিপূরণের প্রশ্নটা এখান থেকেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মালিকরা ছাড় দিতে নারাজ। তাদের বাধ্য করবে যে সরকার, সেও এক্ষেত্রে নিশ্চুপ!

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে অনেক কিছু পাওয়া যাবে। রানা প্লাজা ধসের পর মখা আলমগীর বললেন, নাড়াচাড়া দিয়ে ভবন ফেলে দেয়া হয়েছে। তার এই মশকরার বিরুদ্ধে সরকারকে কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।

অনেকেই দাবি তুলেছিলেন যে, একটি লাশ রেখেও উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। এই দাবির প্রতি সরকার কোনো শ্রদ্ধা দেখায়নি। উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও কঙ্কাল, হাড়, খুলি মিলেছে। এগুলোকে গরুর হাড্ডি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন টিনের বেড়া দিয়ে এলাকাটা ঘিরে রাখা হয়েছে, যাতে কেউ সেখানে গিয়ে কোনো হাড় বা খুলি না উদ্ধার করে। যার স্বজনের ডিএনএ মিলেছে সে যদি এখন ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পায় আর যার স্বজনের লাশ চাপা পড়ে আছে সে যদি কবর বা ক্ষতিপূরণ কিছুই না পায়, এর দায়টা কি সরকারেরই না?

রানা প্লাজা ধসের পরই শ্রমআইন ২০০৬ সংশোধন করে প্রণয়ন করা হয়েছে শ্রম আইন ২০১৩। এই আইনে শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। শ্রমিকের শ্রমঘণ্টা নির্দিষ্ট করা হয়নি। উপরন্তু শ্রমিককে বিনা কারণে বহিষ্কার এবং সেক্ষেত্রে শ্রমিক কোনো সুযোগসুবিধা যাতে না পান, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সরকার ব্যাপক সক্রিয়তা দেখিয়েছে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের বিষয়ে। বাণিজ্যমন্ত্রী দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলন করে জিএসপি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে অগ্রগতির খবর দিচ্ছেন। রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্ণ হওয়ার মাত্র এক দিন আগে সরকার গার্মেন্ট মালিকদের একটি পুরস্কার দিয়েছে। গার্মেন্ট মালিকদের উৎসে কর ০.৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৩ শতাংশ করা হয়েছে। রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, এতে করে আগামী এক অর্থবছরে অর্থাৎ জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত সরকার দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। অর্থাৎ গার্মেন্ট মালিকদের বাড়তি লাভ হবে বছরে দুই হাজার কোটি টাকা।

কিছুদিন আগে দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমেই বিজিএমইএ সভাপতির একটি বক্তব্য ছাপা হয়েছে। রানা প্লাজার আহত একজন শ্রমিক মেরুদণ্ডে ব্যথা পেয়ে গিয়েছিলেন বিজিএমইএ সভাপতির কাছে সাহায্য চাইতে। বিজিএমইএ সভাপতি তাকে বলেছেন হাত বা পা কিছু একটা কেটে নিয়ে আসতে। তা না হলে তো টাকা মিলবে না! সরকার এক্ষেত্রেও কোনো টুঁ শব্দ করেন

এসব ঘটনা একটার সঙ্গে আরেকটা জুড়লে দেখা যাবে যে, সরকার আসলে গার্মেন্ট মালিকদের কথামতোই চলছে। নাগরিকের অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্য রক্ষার চেয়ে বড় ধনী মালিকের অধিকার তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সরকারে থাকা লোকগুলোর অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে এই ব্যবসা থেকে সুবিধা পান বা নিজেরাই মালিক।

এখন পর্যন্ত রানা প্লাজা শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য অপেক্ষাটা পুরো মানবজাতির জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছে বিশ্বের নামকরা গণমাধ্যমগুলো। সেই লজ্জা বয়ে আনছেন তাহলে কারা? এই দায় সরকার ও মালিকদের কাঁধে বর্তাবেই! মালিকরা চাইছেন ক্ষতিপূরণ না দিতে। জমা টাকা শ্রমিকদের দেয়ার ব্যাপারেও তাদের আপত্তি। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে মালিকরা শ্রমিকদের মানুষ ভাবতে নারাজ। সরকারও মালিকদের পক্ষেই! এ কারণেই শ্রমিকের অধিকারগুলো তাদের কাছে কখনোই গুরুত্ব পায় না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “শ্রমিক যে কারণে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না

  1. এখন পর্যন্ত রানা প্লাজা

    এখন পর্যন্ত রানা প্লাজা শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য অপেক্ষাটা পুরো মানবজাতির জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছে বিশ্বের নামকরা গণমাধ্যমগুলো। সেই লজ্জা বয়ে আনছেন তাহলে কারা? এই দায় সরকার ও মালিকদের কাঁধে বর্তাবেই! মালিকরা চাইছেন ক্ষতিপূরণ না দিতে। জমা টাকা শ্রমিকদের দেয়ার ব্যাপারেও তাদের আপত্তি। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে মালিকরা শ্রমিকদের মানুষ ভাবতে নারাজ। সরকারও মালিকদের পক্ষেই! এ কারণেই শ্রমিকের অধিকারগুলো তাদের কাছে কখনোই গুরুত্ব পায় না।

    মানব জাতির জন্য লজ্জ্বাজনক হলেও বর্তমান সরকারের কাছে শ্রমিকের কোন মুল্য নাই। এই নির্লজ্জ সরকার ও সরকারের নেতা কর্মীরা নিজেদের উদরপুর্তিতে ব্যস্ত। এরা শ্রমিকের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখে বলেই নিজেদের দলের নেতা-কর্মীদের মাংশ নিজেরাই খাচ্ছে। ….. একটা পরিবর্তন অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে।

  2. গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন
    গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী বিরোধী দল। তাহলে সরকার দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করে। কিন্তু বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায় আছে তাদের নেই কোন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তারা এখন নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। রানাপ্লাজার শ্রমিকদের জন্য চিন্তা করার সময় কোথায়? বরং শ্রমিকদের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা মেরে দিতে পারলেই লাভ। রানাপ্লাজার ট্র্যাজেডি নিয়ে সরকার চিন্তিত নয়। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক সংগঠনগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে।

  3. একটা বিষয় আমি ভাবি সব সময়,
    একটা বিষয় আমি ভাবি সব সময়, সেই যে বিডিআর ট্রাজেডিতে সকল শহীদদের জন্য সরকারের দরদ উথলে পড়লেও এঁদের জন্য কেন নয়?? এরা কি মানুষ নয়? আসলে এই সরকার পাঁচ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের পরে বেপরোয়া আচরণ করছে। ভাবটা এমন যে, আছি তো পাঁচ বছর। এটা খুব অস্থিতিশীল একটা পরিস্থিতির দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ধন্যবাদ আনিস ভাই, অনেক খাটুনি করে লিখেছেন।

  4. ধিক্কার জানানোর ভাষা নাই।
    ধিক্কার জানানোর ভাষা নাই। এতগুলো মানুষ স্রেফ অবহেলার কারনে মারা গেলো, এতগুলো মানুষ পঙ্গু হয়ে জীবন্মৃত অবস্থায় আছে। শুধু এই কারনেই সংশ্লিষ্ট সকলের নিজ নিজ পদ থেকে অব্যহতি নেওয়া উচিৎ ছিল। অথচ, এখন আমাদের দেখতে হচ্ছে যে সেইসব অভাগা শ্রমিকদের নায্য টাকাও এভাবে মেরে খাওয়া হচ্ছে। কে করবে এর বিচার? কারণ রক্ষকই তো ভক্ষক।

  5. রানা প্লাজার আহত একজন শ্রমিক

    রানা প্লাজার আহত একজন শ্রমিক মেরুদণ্ডে ব্যথা পেয়ে গিয়েছিলেন বিজিএমইএ সভাপতির কাছে সাহায্য চাইতে। বিজিএমইএ সভাপতি তাকে বলেছেন হাত বা পা কিছু একটা কেটে নিয়ে আসতে। তা না হলে তো টাকা মিলবে না!

    বড়ই মর্মান্তিক ও দুঃখজনক!

  6. প্রতিটা ঘটনার পর অনেক
    প্রতিটা ঘটনার পর অনেক উদ্দ্যেগ নেয়া হয় তখন তাৎক্ষনিক। কিন্তু বাস্তবায়নের চিত্রটা পুরনো খবরের কাগজের মত আড়ালেই থাকে।

  7. শ্রমিক নিয়ে সরকারের মাথা
    শ্রমিক নিয়ে সরকারের মাথা ব্যাথা নাই। শ্রমিকরা যেখানে শ্রমের বিনিয়োগ করে তারাই আছে ক্ষমতার শীর্ষে। স্বাভাবিক কারণে মাথা ব্যাথা না থাকারই কথা।

  8. প্রতিটা কথার সাথে একমত! এই
    প্রতিটা কথার সাথে একমত! এই সরকার কেন, কোন সরকারই শ্রমিকের জীবন মান উন্নয়নে কিছু করেবেনা! কারণ বিএনপি আওয়ামী লীগে যারা রাজনীতি করছে তাদের বেশীরভাগই শত কোটি টাকার মালিক আর দুবৃত্ত! রাজনীতি বিমুখ হয়ে ভাল কিছু আশা করে বাংলাদেশের যুব সমাজের বড় অংশ, তাই পভাল কিছু আশা করা এই মুহুর্তে অসম্ভব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1