শাহবাগ আন্দোলনের দিনলিপি পর্ব ১

৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাজাকারদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগ আন্দোলনে যুক্ত আছি। পাশাপাশি অনলাইনে থাকারও চেষ্টা করেছি। লিখে রাখছি ভার্চুয়াল ডায়েরিতে। আমার কয়েকটি ফেইসবুক প্রকাশনা দিয়েই আন্দোলনের দিনলিপি লিখব:

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
শাহবাগে ঘুমহীন রাত কাটিয়ে হলে। মোমবাতি প্রজ্বলন ,গিটার , ঢোল , জিপসি। চলচ্চিত্র প্রদর্শন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। রাজাকারদের কুশপুত্তলিকা ফাঁসিতে লটকানো। যান টহল। গভীর রাত থেকে ভোর , তারপর সকাল হতে দেখা চোখের সামনে। এই যে গণজাগরণ তাতে রাজাকারদের ফাঁসি নিশ্চিত হবেই। মানুষগুলো আজও মরেনি।

৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাজাকারদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগ আন্দোলনে যুক্ত আছি। পাশাপাশি অনলাইনে থাকারও চেষ্টা করেছি। লিখে রাখছি ভার্চুয়াল ডায়েরিতে। আমার কয়েকটি ফেইসবুক প্রকাশনা দিয়েই আন্দোলনের দিনলিপি লিখব:

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
শাহবাগে ঘুমহীন রাত কাটিয়ে হলে। মোমবাতি প্রজ্বলন ,গিটার , ঢোল , জিপসি। চলচ্চিত্র প্রদর্শন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। রাজাকারদের কুশপুত্তলিকা ফাঁসিতে লটকানো। যান টহল। গভীর রাত থেকে ভোর , তারপর সকাল হতে দেখা চোখের সামনে। এই যে গণজাগরণ তাতে রাজাকারদের ফাঁসি নিশ্চিত হবেই। মানুষগুলো আজও মরেনি।
এইচ এস সি দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রের সাথে কথা হচ্ছিল। সে জানাল ,সে নাকি বাসার পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে এসেছে।

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

মুনতাসির মামুন ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু শাহবাগ ছেড়ে টি এস সি বা শহীদ মিনারে আন্দোলন করার কথা বলছেন। জনাব-দ্বয়, এখানে কারও এ্যাসাইন্মেন্ট বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন না। আমরা শাহবাগ ছাড়বো না।

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
সাহারা খাতুন ও মাহবুবুল আলম হানিফ সংহতি জানাতে এলে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করে। এ সময় সরকারের সমঝোতার রায় জনগণ মানে না’, ‘আপসের রায় মানি না’ ,‘দালালি আর করিস না,পিঠের চামড়া থাকবেনা ’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। তারা দ্রুত প্রস্থান করে।

সাদমান সাকিব
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
এখন
স্বপ্নের মাঝেও
স্লোগান দেই
স্লোগান শুনি
গলা বসে গেছে

তবুও
কোন বক্তৃতা নয়
স্লোগান
শুধু স্লোগান।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
রাত ৩ টা । আমি আর ছোট ভাই নাফিস ছবির হাটের দিকে যাচ্ছি। দেখি চিরকুট ব্যান্ড তাদের লাইন আপ নিয়ে অন্য সদস্যের জন্য অপেক্ষা করছে।কাছে যেতেই ভোকাল সুমি নাফিসের কাছে জানাল এই মাত্র শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে গান লেখা হল।তাতে তারা টুং টাং করে সুর লাগাচ্ছিল। দাঁড়ালাম। একটু পরেই গলা ছাড়লেন সুমি, শরীর জুড়ে ঘা, ঘেন্না কি ঘেন্না!আর তো কিছু চাই না একটা ফাঁসি দিয়ে দেন না!শাহবাগ জনতার বুক ফাটা চিৎকার, বাংলার জনতার বুক ফাটা চিৎকার… তুই রাজাকার, তুই রাজাকার, তুই রাজাকার।সুন্দর।আর আমি সাক্ষী হলাম ইতিহাসের গর্ভে জন্মা আরেক ইতিহাসের।
শাহবাগের জনতা
আওয়াজ তুলুন
১/ তুমি কে, আমি কে? বাঙালি, বাঙালি, নিজামি সাঈদী এই বাংলার ইহুদি, একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর- এ ধরনের স্লোগান আমরা দিব না।
কারণ:
ক। বাঙ্গালি ছাড়া এ ভূখণ্ডে আরও ৪৫ জাতিসত্তা বাস করে মুক্তিযুদ্ধে যাদের অবদান আছে।তাদের কথাও আসা উচিত। এটা হতে পারে- তুমি কে,আমি কে? চাকমা, মারমা, বাঙালি
খ। ইহুদি একটি জাতিসত্তার নাম যাদের জ্ঞান বিজ্ঞানে অবদান অনেক। শুধুমাত্র কুরানের আলোকে এটাকে বিচার করবেন না। মনে রাখবেন-এ আন্দোলন ধর্মনিরপেক্ষতার।
গ।যুদ্ধাপরাধ ইস্যুকে আইনি জায়গায় রাখুন।এতে করে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যটাও নিশ্চিত হয়।

২/শাহবাগকে জাহানারা ইমাম স্কয়ার হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
লাকি, আপনি সত্য বলুন
রাতে আন্দোলনে সংহতি জানাতে আসা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলী সদস্য তোফায়েল আহমেদকে বক্তব্য দিতে বাধা দিলে লাকিকে পেছন থেকে আঘাত করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। বিষয়টি হাই কমান্ডের চাপে আড়াল করে যায় লাকি। লাকি আপনাকে বলছি,আপনি সত্য বলুন।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দলের সাথে যে কোন রাজনৈতিক পক্ষের গোপন আঁতাত রুখে দাঁড়াও
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
মনে রাখতে হবে, আমাদের এই আন্দোলন জাহানারা ইমামের ৯২ গণ আদালত আন্দোলনের ধারাবাহিকতা । গণআদালতের কারণে বি এন পি জননীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে আর আওয়ামী লীগ জামাতকে তাদের ডানার তলায় লুকায়।
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
হ্যাঁ, আমি স্বীকার করছি, যারা ৩ টা থেকে ১০ টার টাইম ফ্রেম মানতে পারেনাই তাদের মাঝে আমিও ছিলাম।তাই ঘোষণার সাথে সাথে মানি না, মানব না বলে প্রতিবাদ করেছি। আর পেয়েছি আমার মানুষের তির্যক চাহনি।আমাদের তথাকথিত ছাত্র নেতারা নিজেদের আখের গুটানোর জন্য এটা মেনে নিয়েছে।আন্দোলন কোন ক্লাস বা অফিস নয়। এতে গুরুত্ব হারায়।এর মাঝে জামাত হরতাল ডাকে এবং শোভন ভাই জবাই হন। আমাদের ক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। ফাঁসির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তারুণ্য ১৩, জাহানারা ইমাম স্কোয়াড, তীরন্দাজের নেতৃতে সাধারণ জনতা মঞ্চে উঠে স্লোগান দিতে থাকে ৩ টা থেকে ৫ টা মানি না, মানব না, সময় বেধে আন্দোলন, বন্ধ কর করতে হবে, রাজীব আজ মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে, এক রাজীব লোকান্তরে, লক্ষ রাজীব শাহবাগে। ফলে ইমরান এইচ সরকার এসে ঘোষণা দেয়, আন্দোলন ২৪ ঘণ্টাই চলবে। এ অবস্থায় রাজপথ ছাড়া যাবে না।
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
দালাল, দালাল। ব্লগার এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের কার্যালয় ভর্তি দালাল।

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
ক্লান্ত…ভয়াবহ ক্লান্ত। ছাড়ছিনা…তবুও রাজপথ ছাড়ছিনা

২১ ফেব্রুয়ারি মহাসমাবেশে এমন কোন ঘোষণা আসতে পারে যা অপ্রত্যাশিত।সবাইকে মানসিক প্রস্তুতি ও মোকাবিলা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

# আমি একটা কথা সাফ বলে দিতে চাই, গান্ধীবাদি আন্দোলন দিয়ে কোনদিন কোন দাবি আদায় হয়নি, হবেও না। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বসে সারা বছর চিল্লাইলেও লাভ হবে না বরং স্বাধীনতা ব্যবসায়ীদের লাভই হবে। আর আমাদের রামছাগল ছাত্রনেতারা ঘাসই খেয়ে যাবে।

# বুকের ভিতর দ্রিম দ্রিমিয়ে বাজুক: আমি বেইমান নই, আমরা প্রতারক নই। যে কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রতিহত করব আমরাই।
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

# সংগ্রামী বন্ধুগণ,

শাহবাগ আন্দোলন হয়তো আজই স্থগিত করা হচ্ছে। কোন আল্টিমেটাম থাকবে কিনা, নিশ্চিত নই। থাকলে ভাল, না থাকাটা যৌক্তিক নয়। যাই হোক, এক সাথে অনেক দিন আন্দোলনে ছিলাম, চেতনাগত জায়গায় সবাই এক ছিলাম বলেই এই ১৭ দিন কোন বিপত্তি ঘটেনি। আমরা জেগেছি, আর ঘুমাবনা।শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, যে কোন যৌক্তিক দাবিতে,অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কণ্ঠ গর্জে উঠবেই।আশা নয়, এ আমার বিশ্বাস।
# ২১ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের ঘোষণা পড়তে গিয়ে শুরুতেই চোখ আটকে গেল-এই গণজাগরণ মঞ্চ হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ উন্মেষের প্রতিটি আন্দোলন কর্মীদের। হায়রে, একাত্তরের চেতনা!!!হায়রে আমার দেশ!!! কাল জাদুঘরের সামনে দাড়িয়ে যে ছেলেটি স্লোগান দিচ্ছিল গারো ভাষায় – সোব সোব সোব সোব,ওয়াল সোব, ওয়াল সোব ( জ্বাল জ্বাল জ্বাল জ্বাল আগুন জ্বাল, আগুন জ্বাল) কিংবা তুমি কে, আমি কে? গারো, চাকমা, বাঙালি সে জানতেও পারল না তার চেতনার বা তার জাতিগত পরিচয়ের সাথে কি বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করা হল।
২২ ফেব্রুয়ারি,২০১৩

১৯৯৪ সালের ২৬ জুলাই শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে মারা যান। ঠিক তার পর দিন এই মুক্তিযোদ্ধার দল আওয়ামী লীগ জামাতের সাথে তত্ত্বাবধায়ক আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। প্রতারণা তাদের রক্তে।
সেই সব রাম ছাগলদের বলছি যারা মুভমেন্টরে গালি দেয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই তার মানে এই নয় যে বিশ্বজিৎ হত্যা, শেয়ার বাজার, হল মার্ক, পদ্মা সেতুর কথা ভুইলা গেছি।
আপনারা যদি মনে করেন, আমরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক তাহলে ভুল করছেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

# একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বলছি:
১/আনিস রায়হান ভাই ছবির হাটে এল।তার হাতে স্ট্যাপল করা বেশ কিছু কাগজ। বেলা ১২ টায় প্রেস ক্লাবে একটা কবিতার অনুষ্ঠানে এগুলা বিলানো হয় যেখানে উপস্থিত ছিলেন কবি আল মাহমুদ। কাগজগুলোতে ছিল আমার দেশে প্রকাশিত বিভিন্ন বিদ্বেষী রিপোর্ট, রাজীব ভাইয়ের নুরানিচাপার লেখাগুলো, আসিফ মহিউদ্দিনের লেখা, বাধন ভাইয়ের লেখা ও স্ক্রিনশট।কবিতা না পরে সেখানে আন্দোলনকারীদের নামে আপত্তিকর কথা বলা হয়।
২/ বেলা ১ টা ২৬ মিনিটের দিকে নামাজ না পরে কাকরাইল মসজিদের ভিতর থেকে গুলি এবং কক্টেল ছুড়ে বাইরে।বাইরে এ্যাম্বুলেন্স থেকে পুলিশ কে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়। হামলা করে জনতা। এ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর হয়। পুলিশ এ্যাম্বুলেন্স থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করে আর বেশ কিছু লিফলেট উদ্ধার করে। বিসমিল্লাহ হেফাজত কমিটির নামে এ লিফলেটগুলো প্রচার হচ্ছিল।
৩/বেলা ২ টা ২৪ মিনিটে ছাত্র নেতারা হাজির হয়, বিক্রি হওয়া ছাত্রনেতারা। দাঁড়ায় আইল্যান্ডে। সিদ্ধান্ত নেয় মিছিল করবে। ছাত্রলীগ হল থেকে পোলাপান ধরে নিয়ে আসছে যা আমার কয়েক ছোট ভাই বলল। মিছিলের আগে বলা হয় হাত থেকে লাঠি রড ফেলে দিতে। অবাক করার বিষয় হলো কাঁটাবন মিছিল নিয়ে যাওয়ার পর ওখানে কোন ভাংচুর হয়নি।
৩/ মুল রাস্তা না আটকিয়ে বিলাই ছাত্রনেতারা আর ব্লগাররা জাদুঘরের সামনে স্লোগান দেওয়া শুরু করে। আর শুরু হয় অনর্থক কালক্ষেপণের মিটিং। ছাত্রলীগের সোহাগ আর শরীফ ৩২ দাঁত বের করে হাসতেই থাকে।
৪/ ঐদিকে সাধারণ জনতা শাহবাগের মুল রাস্তা দখল করে শুরু করে স্লোগান, স্ট্রিট পেইন্টিং আর গান। এইদিকে সাবেক বাম ছাত্র সংগঠনের এক ঠকবাজ নেতা ছদ্মবেশী ব্লগার ইমরান সরকারকে নিয়ে রাস্তার মাঝখানে এসে হাজির হয়। কিন্তু জনতা ঘোষণা দেয় আর কোন ব্লগার বা নেতা না। জনতার মঞ্চ জনতাই চালাবে। এইটা শুনে ছাত্রলীগ আর বামদের কলিজার পানি শুকাইয়া যায়। চিপা ছাইড়া চলে আসে জনতার কাতারে। স্লোগান ধরতে বাধ্য হয়- জামাত শিবিরের হামলা কেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই,এক জোটে রাজাকার, আরেক জোটে স্বৈরাচার। রাজাকার নিয়ে গণতন্ত্র হয়না, স্বৈরাচার নিয়ে গণতন্ত্র হয়না। জনতার সাথে আপোষ করতে চায় ব্লগার। ব্লগার – ছাত্র- জনতা মীটিং শেষ হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এখন সবাই।
৫/ সারা দেশে ১৫ টা জাগরণ মঞ্চে আগুন দিয়েছে জামাত শিবির।
৬/ চানখারপুল, মালিবাগ, জিগাতলা, পল্টনে ব্যাপক নাশকতা চালায় জামাত শিবির।
৭/ শহীদ মিনার ভাঙ্গে, জাতীয় পতাকায় আগুন দেয়।
পরিশেষে , আবার জাগল শাহবাগ। জনতা আবার জেগেছে। এরাই শক্তি। এরা টাকার কাছে বিক্রি হওয়া কোন পরাজিত শক্তি না।
# জামায়াত শিবির এত ব্যাপক আকারে সহিংসতা চালাবে দেশ ব্যাপী এটা সরকার ও তার ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ জানত না, এটা অন্য যে কেউ বিশ্বাস করতে পারে, আমি করি না।

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
# ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ৩১ ঘণ্টায় এসে দাঁড়াল। মাহমুদুর রহমান বহাল তবিয়তে আমার দেশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গর্জেই যাচ্ছে। বেচারা, ইমরান এইচ সরকার ! তার বক্তব্যকে সম্মান দেখিয়ে সরকারের কেউ কোন এ ব্যাপারে কথাই বলল না! জাগরণ মঞ্চের এই গান্ধীবাদি কর্মসূচী: বেলুন উড়ানো, মোমবাতি জ্বালানো, মরার কোকিলে টাইপের গানবাদ্য চললে কেউ কিছুই শুনবে না!আমি নিজেও এই জোকারির অংশ। আমি একা কিছু করতে পারব না। তাই সমমনারা আসুন, এই জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে সহিংস যুদ্ধ ঘোষণা করি।এভাবে আর না!
সবশেষে, আল্টিমেটামের এই ক্ষণে সাহারা তোমায় মনে পড়ে!!!
# সহিংসতা বলতে শুধু লগি বৈঠা দা দিয়ে মারামারি করাকে বুঝায় না। এখানে বেশ স্ট্র্যাটেজিক হতে হবে।খুব খেয়াল করে জামায়াত শিবিরের অর্থায়ন করে এমন সংগঠন ধরে ধরে বয়কট করতে হবে। তারা যে মুনাফিকী দল তার প্রচার জরুরী।জামায়াতে ইসলামি কোন ইসলামিক দল নয়। ২০১১ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে তারা একমাত্র আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি বাদ দেয় ।এ টি এন, চ্যানেল আই যে সংবাদের ফাঁকে ইসলামি ব্যাঙ্ক সংবাদ বিরতি নেয়, এ ব্যাপারটাও জানা দরকার। এন টি ভি তে বাচ্চু রাজাকার, এ টি এন এ সাঈদী ইসলামি অনুষ্ঠান করত।
প্রথম প্রকাশঃ move4world.com

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “শাহবাগ আন্দোলনের দিনলিপি পর্ব ১

  1. সহিংস নয়, অহিংস আন্দোলনের
    সহিংস নয়, অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে দাবী আদায় করে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাই। ধৈর্য হারাতে চাইনা। দেখা যাক কতদুর যেতে পারি। অনেকবারই তো এদল ওদল করে কোন ফলাফল পেলাম না। আমি আছি..থাকবো…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

86 − 78 =