দেশি মৌলবাদী বনাম ভারতীয় মোদী ফিবার

বাংলাদেশের মৌলবাদীরা মোদীর বিজয়ে বিষণ্ন, ক্ষুব্ধ, হতাশ…। রাহুল গান্ধির কংগ্রেস জিতলে তারা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতো! (মজা দেখেন, কংগ্রেস সেক্যুলার রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত!) যাদের কথা বললাম এরা দেশে ইসলামী আইন-কানুন চালুর পক্ষের লোক। সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকলে এদের আপত্তি নেই। বরং কেউ পরিবর্তনের কথা বললে এরা “ অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা ঠিক হবে না” গোছের অজুহাতে সংবিধানকে ইসলামীকরণকে জিইয়ে রাখতে চায়। অবশ্য এরা বিধর্মী নাগরিকদের প্রতি কোরআন-সুন্না মোতাবেক অধিকার দিতে আগ্রহী। এটাই নাকি তাদের জন্য সবচেয়ে ভাল ও সুফল (তাহলে কি অন্যান্য হিন্দু, খ্রিস্টান প্রধান রাষ্ট্রে ইসলাম মোতাবেক শাসন চালু করা উচিত? মুসলিমরা তাদের সবচেয়ে ভাল ও সুফল দিবে!)।মোট কথা তারা মুসলিম, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদের ধর্ম সর্ব শ্রেষ্ঠ, তাদের ধর্মেই একমাত্র সুশাসন দেয়া আছে, দুনিয়ার তাবত ধর্মের অনুসারিদের শাসন করার হক তাদের আছে। কারণ একমাত্র তাদের শাস্ত্রেই বিধর্মী-কাফেরদের জন্য সবেচেয়ে ভাল বিধান আছে! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে দুনিয়ার কোথাও ইসলাম বাদে অন্য ধর্মীয় শাসন চালু সম্ভাবনায় এরা ভীত ও ক্রুদ্ধ হয়ে পড়ে। ধর্মীয় শাসন যদি ভালই তাহলে সমস্যা কোথায়? নাস্তিকদের শাসন তো আর হচ্ছে না। এরা ভয় পায় ঐ ধর্মীয় শাসনে মুসলিমদের ভাগ্যে ভাল কিছু হবে না। রাষ্ট্র বিশেষ কোন ধর্ম গ্রহণ করলে আমি যদি ভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের হই সেটা ভাল হবে? “তোমরা” আর “আমরা” হয়ে গেলাম। মুসলিমদের ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন তাই অন্যের কাছে এরকমই দুঃস্বপ্ন বয়ে আনে। ইসলামী শাসন সহ যে কোন ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থার পক্ষের মানুষই প্রতিক্রিয়াশীল মানুষ। এ ধরনের মানুষ অন্যের মৌলিক অধিকারকে স্বীকার করে না। ভারতে মোদীর শাসনে তারা মুসলিমদের জন্য চিন্তিত। মানে একটা হিন্দুত্ববাদী শক্তি ক্ষমতায় আসায় তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তায় চিন্তিত। মানে তারা বুঝে এইরকম বিশেষ ধর্মীয় শাসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধিকার বঞ্চিত ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে। অর্থ্যাৎ এই লোকগুলো যখন ইসলামী শাসন চায় তখন ভিন্ন ধর্মীয় মানুষগুলোর পরিণতির কথা ভেবেই বলে। যারা এখন ত্যানা প্যাচাবেন ইসলামী শাসনে বিধর্মীদের হাতি-ঘোড়া দিয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, হযরত ওমর সিরিয়ায় বসবাস করা খ্রিস্টানদের জন্য বিধি বিধান তৈরি করেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: এ শহর গুলোতে ও আশে পাশের শহরগুলোতে কোন নতুন মন্দির গির্জা বা খানকা নির্মান করা যাবে না। কোন কিছুতেই তারা (খ্রিস্টানরা) নিজেদেরকে মুসলমানদের সমান মনে করতে পারবে না। পোশাক পরিচ্ছদেও না, তাদের উপর কোন কথা বলবে না। জিন বিশিষ্ট ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হওয়া যাবে না। তাদের গির্জার উপরে ক্রুশ রাখব যাবে না, তাদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলো মুসলিমদের যাতায়াত স্থানে ও বাজারে প্রকাশিত হতে দেয়া যাবে না, গির্জায় উচ্চৈস্বরে শাখ বাজানো যাবে না , মুসলিমদের উপস্থিতিতে তারা তাদের ধর্মীয় পুস্তক গুলো উচ্চৈস্বরে পাঠ করতে পারবে না, নিজেদের রীতি নীতি ও চাল চলন প্রকাশ করবে না। নিজেদের মৃতদের জন্য হায় হায় করবে না…! বুঝা গেছে কিছু?

শেষ কথা, কোন ইসলামী রাষ্টে কি বিধর্মী সরকার প্রধান হতে পারবে? ত্যানা প্যাচাবেন না প্লিজ। সোজা উত্তর দিন। না হতে পারবে না। বিধর্মীদের কতগুলো শর্তের ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্রে নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার অধিকার দেয়া হয়েছে চওড়া করের বোঝার মাথায় চাপিয়ে। সেখানে বিধর্মী নাগরিক স্রেফ বসবাস করতে পারবে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকের সম্মান নিয়ে।… মোদীরা একশো বছর চেষ্টা করলেও কথিত “হিন্দু রাষ্ট্র” গঠন করতে পারবে না। হিন্দুদের এই কনস্পেটই নেই। ঐ রকম কিছু করতে হলে তাদের বানিয়ে বানিয়ে কোন ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র বানাতে হবে যা ধর্ম সম্মত হবে না। ধর্ম দিয়েই তাকে ফাইট করা যাবে। খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের বেলাও এ কথা প্রর্যজ্য। কাজেই যারা মোদীর ক্ষমতা আহরনে চোখ টিপে কাঁদার চেষ্টা করছেন তারা আজ থেকে তওবা করে ইসলামী রাষ্ট্রের দাবী ছেড়ে দিন! বুঝতেই যদি পারছেন ধর্মীয় শাসনের কুফল…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “দেশি মৌলবাদী বনাম ভারতীয় মোদী ফিবার

  1. আব্দুর রহমান ইবনে গানাম আসআরী
    আব্দুর রহমান ইবনে গানাম আসআরী বলেন , আমি নিজের হাতে চুক্তি লিখে খলিফা ওমর ( রা:) এর নিকটে পাঠিয়েছিলাম যে সিরিয়াবাসী অমুক অমুক শহরে বসবাসকারী খৃষ্টানদের পক্ষ হতে আল্লাহর বান্দা আমিরুল মুমেনিন হযরত ওমরের নিকট। চুক্তি পত্রের বিষয় হলো এরকম- যখন আপনারা আমাদের ওপরে এসে পড়লেন, আমরা আপনাদের নিকট হতে আমাদের জান মাল সন্তান সন্ততির জন্য নিরাপত্তার প্রার্থনা জানাচ্ছি। আমরা এ নিরাপত্তা চাচ্ছি এ শর্তাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে যে, আমরা এ শহর গুলোতে ও আশে পাশের শহরগুলোতে কোন নতুন মন্দির গির্জা বা খানকা নির্মান করব না। এসব ঘরে যদি কোন মুসলিম মুসাফির অবস্থানের ইচ্ছা করেন তবে আমরা তাদেরকে বাধা দেব না। তারা রাত্রে অবস্থান করুক বা দিনে অবস্থান করুক। আমরা পথিক ও মুসাফিরদের জন্য ওগুলোর দরজা সব সময় খোলা রাখব। যে সব মুসলিম আগমন করবেন তাদেরকে আমরা তিন দিন পর্যন্ত মেহমানদারি করব। আমরা ঐ সব ঘরে বা বাসভূমি প্রভৃতিতে কোন গুপ্তচর লুকিয়ে রাখব না। মুসলিমদের সাথে কোন প্রতারণা করব না। নিজেদের সন্তানদের কুরান শিক্ষা দেব না। নিজেরা শিরক করব না বা অন্য কাউকে শিরক করতে দেব না। আমাদের মধ্যে কেউ যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে চায় আমরা তাকে বাধা দেব না। মুসলিমদেরকে আমরা সম্মান করব। যদি তারা আমাদের কাছে বসার ইচ্ছা করেন তবে আমরা তাদেরকে জায়গা ছেড়ে দেব। কোন কিছুতেই আমরা নিজেদেরকে মুসলমানদের সমান মনে করব না। পোশাক পরিচ্ছদেও না, তাদের ওপর কোন কথা বলব না। আমরা তাদের পিতৃপদবী যুক্ত নামে ডাকব না। জিন বিশিষ্ট ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হবো না। আমরা তরবারি লটকাবো না ও আমাদের সাথে তরবারি রাখব না। অঙ্গুরির ওপর আরবী নকশা অংকন করব না ও মাথার অগ্রভাগের চুল কাটব না। আমরা যেখানেই থাকি না কেন পৈতা অবশ্যই ফেলে রাখব।আমাদের গির্জার ওপর হতে ক্রুশ রাখব না, আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলো মুসলিমদের যাতায়াত স্থানে ও বাজারে প্রকাশিত হতে দেব না, গির্জায় উচ্চৈস্বরে শাখ বাজাবো না , মুসলিমদের উপস্থিতিতে আমরা আমাদের ধর্মীয় পুস্তকগুলো উচ্চৈস্বরে পাঠ করব না, নিজেদের রীতি নীতি ও চাল চলন প্রকাশ করব না। নিজেদের মৃতদের জন্য হায় হায় করব না , মুসলিমদের চলার পথে মৃতের সাথে আগুন নিয়ে যাব না। যেসব গোলাম মুসলিমদের ভাগে পড়বে তা আমরা গ্রহন করব না। আমরা অবশ্যই মুসলিমদের শুভাকাংখী হয়ে থাকব ও মুসলমানদের ঘরে উকি মারব না। যখন এ চুক্তি ওমরের হাতে দেয়া হলো তখন তিনি তাতে আরও একটি শর্ত বাড়িয়ে দিলেন তা হলো- আমরা কখনো কোন মুসলিমকে প্রহার করব না। অত:পর তারা বলল- আমরা এসব শর্ত মেনে নিলাম ( না মেনে তো উপায় নেই)। আমাদের ধর্মাবলম্বী সকল লোক এসব শর্তের মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভ করল। এগুলোর কোন একটি যদি আমরা ভঙ্গ করি তাহলে আমাদেরকে নিরাপত্তা দানের ব্যপারে আপনাদের কোন দায়িত্ব থাকবে না এবং আপনি আপনাদের শত্রুদের ব্যপারে যে আচরণ করেন আমাদের সাথেও সেই আচরণের উপযুক্ত হয়ে যাব। ( ইবনে কাথিরের তাফসির , খন্ড-৮ম,৯ম,১০ম,১১শ পৃষ্ঠা নং-৬৭৫-৬৭৬)

  2. ভাই, লেখলেন নিজে; তারপর এতবড়
    ভাই, লেখলেন নিজে; তারপর এতবড় কমেন্টও করলেন!

    বাংলাদেশের মৌলবাদীরা মোদীর বিজয়ে বিষণ্ন, ক্ষুব্ধ, হতাশ…। রাহুল গান্ধির কংগ্রেস জিতলে তারা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতো!

    আমার জানামতে তারা তো খুশিও বটে!

    1. শেহজাদ আমান, কমেন্টে পুরো
      শেহজাদ আমান, কমেন্টে পুরো তাফসিরটাই দিয়ে দিয়েছি যাতে কেউ লিংক চাইলে পড়ে নিতে পারে।

    1. আপনার ছোট ছোট মন্তব্য এক সময়
      আপনার ছোট ছোট মন্তব্য এক সময় বিশ্বকোষ হয়ে দাঁড়াবে। চালিয়ে যান আকাশ সাহেব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =