লালন জীবনীঃ লালনের শৈশব ও কৈশোর (পর্ব ৩)

লালন জীবনীর প্রথম দুই পর্ব সাজিয়েছিলাম লালনের জাত নিয়ে । প্রথম পর্ব ছিলো লালন কি জাত সংসারে??(পর্বঃ১) নিয়ে এবং  ২য় পর্ব ছিলো লালন গবেষকদের মতে,লালন কি জাত সংসারে?? (পর্ব ২) তারই ধারাবাহিকতায় আজ তৃতীয় পর্বে লালনের শৈশব ও কৈশোর নিয়ে সাজিয়েছি।



লালন শাহ্‌ এর বাল্য জীবন সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না । দুদ্দ শাহ্‌ লালনের বাল্যজীবন সম্পর্কে বলেছেন, “তিনি শৈশবে মাতৃ পিতৃহীন ছিলেন”, উল্লেখ্য , লালনের জন্মের মাত্র দু বছর আগে ঐতিহাসিক ছিয়াত্তরের মনন্তর দেখা দেয়। ধারনা করা হয় ঐ সময়ে লালনের মা বাবা মারা যান। পিতা মাতার মৃত্যুর পর লালন , আত্নীয়- আশ্রয়ে প্রতিপালিত হতে থাকেন।

এরপর লালন তার গুরু সিরাজ সাঁই এর আশ্রয়ে আশ্রিত ছিলেন। সিরাজ সাঁই এর কাছে আশ্রয় লাভের দুটি ঘটনা উল্লেখ আছে। প্রথম ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন আফসার উদ্দিন শেখ এবং অপরটি উল্লেখ করেন  লালন গবেষক বসন্তকুমার পাল।

ঘটনা একঃ  

লালনের পিতা মাতা গত হওয়ার পর লালন হরিশপুরের দক্ষিন পাড়ায়  তার আত্নীয় ইনু কাজীর বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং গো রাখালের কাজে নিযুক্ত হন। বৈশাখ মাসের এক দুপুরে রাখাল বালক লালন গরু চরিয়ে এসে  যখন রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম করতেছিলো, সে সময় পালকি কাঁধে নিয়ে ঐ পথ দিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ঐ গ্রামের সিরাজ শাহ্‌।

রৌদ্রক্লান্ত বালকের শুষ্ক কচি  মুখখানি সিরাজ শাহ্‌কে আকৃষ্ট ও ব্যাথিত করে তোলে। তিনি পালকি নামিয়ে বালক লালনের সাথে আলাপ করেন। সিরাজ সাঁই ও নিঃসন্তান ছিলেন । তিনি লালন শাহ্‌কে শীঘ্রই পালক পুত্ররূপে গ্রহন করেন। সিরাজ সাইয়ের আশ্রয়েই লালনের শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করেন।

ঘটনা দুইঃ  বসন্তকুমারের মতে, লালন ছিলেন হিন্দু। শৈশবে গঙ্গাস্নান শেষে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনকালে পথিমধ্যে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। সঙ্গীগন মৃতকল্প লালনকে সৎকার শেষে গঙ্গায় নিক্ষেপ করে। কিন্তু  লীলাময়ের খেলায় লালনের দেহ তীরে এসে ঠেকে এবং লালনের কণ্ঠ হতে অস্ফুস্ট স্বর উথিত হয়। লালনকে এই অবস্থায় এক রমনী দেখতে পান এবং পুরুষদের সহায়তায় গৃহে নিয়ে গিয়ে তার ঘরে রেখে সেবা করতে থাকেন।

ঘটনাচক্রে সেই সময় এক দরবেশ (সিরাজ সাঁই) পর্যটন করিতে করিতে ঐ গ্রামে এসে লালনের বৃত্তান্ত শুনিতে পান এবং অচিরে তাঁহার রোগ শয্যার পাশে আসিয়া সমাসীন হন। এখান থেকে লালনকে নিয়ে গিয়ে পালকপুত্রের আসন দেন এবং সিরাজ সাইয়ের আশ্রয়েই লালনের শৈশব ও কৈশোর  অতিবাহিত করেন।



উপরের ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা দুটি পর্যালোচনা করে বলা যায় লালনের পিতা মাতা খুব কম বয়সে মারা যান এবং তিনি কিছুকাল আত্নীয়ের বাড়িতে রাখাল বালকের কাজ করেন এবং শৈশব ও কৈশোরের বাকি অংশ তার পালক পিতা ও গুরু সিরাজ সাঁইএর সাথে কাটান ।

……………মেহেদী৪৪

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “লালন জীবনীঃ লালনের শৈশব ও কৈশোর (পর্ব ৩)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =