হায়েনারা কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে আরেকজন অনলাইন এক্টিভিস্টকে

কিছুক্ষন আগেই খবর পেলাম মিরপুরে সানিউর রহমান নামক একজন অনলাইন এক্টিভিস্টকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে হায়েনাদের দল। পরে টিভি নিউজের স্ক্রলে দেখে নিশ্চিত হলাম খবরটা। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নিকটস্থ একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেখানে তাকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

খবরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমার পরিচিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন ইন্টার্ন ছোট ভাঈ ডাক্তারের কাছে ফোন দিলাম। সে আমাকে এটুকু নিশ্চিত করেছে সানিউর রহমানকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। কিন্তু তার বর্তমান অবস্থা কিংবা আঘার কতটুকু গুরুতর সেই সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানাতে পারেনি। জানিনা আসলেই আঘাত কতটা গুরুতর। তবে বিভিন্নজনকে ফোন দিয়ে যা বুঝলাম, শরীরে বেশ কয়েকটা কোপ দিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে। অন্তর থেকে কামনা করছি যেন, সানিউর সুস্থ্য হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।

আঘাত যাই হোক, আমার প্রশ্ন হচ্ছে এসব কি হচ্ছে এই দেশে? একজন মানুষ শুধু লিখালিখি করে বলেই তাকে এইভাবে নৃশংসভাবে মেরে ফেলতে চাইবে? দেশটা কি একটা জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেই ছাড়বে তারা? আমাদের কি কিছুই করার নেই শুধুই মৌখিক প্রতিবাদ করে যাওয়া ছাড়া। এর আগে প্রথমে আসিফ মহিউদ্দিনকে আঘাত করা হল। এরপর ব্লগার রাজীব আহমেদ ওরফে থাবা বাবাকে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হল। তাদের অপরাধ কি ছিল? বলা হচ্ছে ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে লেখালেখি করেছে তারা।

কি সেই অনুভূতি? আমরা সবাই অনুমান করতে পারি আসল অনুভূতি মূলত কোথায়। ধর্ম নিয়ে, নাস্তিকতা নিয়ে লেখালেখি তো হুট করে এই বছরে শুরু হয় নাই। বাংলা ব্লগিং জগতের শুরু থেকেই হচ্ছে। তাহলে অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হলে আজকে যখন পুরা দেশ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে সোচ্চার হয়েছে ঠিক তখনই বেঁছে বেঁছে বিতর্কিত ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে। যেন মানুষের ইমোশনকে পুঁজি করে রাজাকারদের ফাঁসির দাবীর এই আন্দোলন থামানো যায়। রাজীবের হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে। আমরা দেখেছি ধর্মীয় উগ্রবাদী কিছু শিক্ষিত নরপশু এর পেছনে ছিল। আর তাদের পালের গোদা ছিল জারজ শিবিরের এক বড় ভাই।

একটার পর একটা এরকম ঘটনা কিন্তু আমাদের একটা অশনি সংকেতই দিয়ে যাচ্ছে, দেশটা খুব দ্রুত জঙ্গি রাষ্ট্র হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি এখনই এদের থামাতে না পারি সেটা ঠেকানো যাবে না। সরকারের কাছে আমাদের দাবী স্পষ্টভাবে এবং জোরালো ভাবে তুলে ধরে আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে যেন এই সন্ত্রাসী দলটিকে অচিরেই নিশ্চিহ্ন করা হয়। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তস্নাত আমার এই বাংলাদেশকে আমরা পাকিস্থান/আফগানিস্থান বানাতে দেবনা। আসুন সবাই একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “হায়েনারা কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে আরেকজন অনলাইন এক্টিভিস্টকে

  1. একটার পর একটা এরকম ঘটনা

    একটার পর একটা এরকম ঘটনা কিন্তু আমাদের একটা অশনি সংকেতই দিয়ে যাচ্ছে, দেশটা খুব দ্রুত জঙ্গি রাষ্ট্র হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি এখনই এদের থামাতে না পারি সেটা ঠেকানো যাবে না। সরকারের কাছে আমাদের দাবী স্পষ্টভাবে এবং জোরালো ভাবে তুলে ধরে আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে যেন এই সন্ত্রাসী দলটিকে অচিরেই নিশ্চিহ্ন করা হয়। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তস্নাত আমার এই বাংলাদেশকে আমরা পাকিস্থান/আফগানিস্থান বানাতে দেবনা। আসুন সবাই একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াই।

    সহমত।
    ফেসবুকে অনেক বাঘা বাঘা ব্লগারকে দেখলাম ব্যাপারটা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন। সানিউর রহমান কোন ব্লগার না এই কথা বলে। মানলাম উনি ব্লগে লেখালেখি করেন নাই। কিন্তু ফেসবুকে লেখালেখি করতেন। আর এইজন্যই হয়ত তাকে এভাবে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। ব্যাপারটা হালকাভাবে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আগামীকাল আমার উপর বা আপনার উপরেও যে হামলা হবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে? এজন্য এটা নিয়ে সোচ্চার হওয়াটা খুব জরুরী। হায়েনাদের খুঁজে বের করে সর্ব্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবেই। সাথে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানো উচিৎ। শিক্ষিত জঙ্গিরাই কিন্তু বেশী ভয়ানক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 3