বাচ্চা বাজীঃ আফগানিস্তানে প্রচলিত বিকৃত ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের সংস্কৃতি

বাচ্চা বাজি বর্তমানে আফগান অঞ্চলের একটি ঘৃণ্য শিশু নিপীড়ণ প্রথা ; শিশু যৌন দাসত্ব। বাচ্চা বাজি একটি পশতুন/ফারসী শব্দ । সহজ বাংলায় ছেলে শিশুদের নিয়ে খেলা করা ।

বাচ্চা বাজিতে ছেলে শিশুদের (সাধারণত: আট থেকে ষোল বছর) মেয়েদের পোষাক পড়িয়ে নাচের জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে , বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সব ছেলে শিশুরা নাচের পাশাপাশি যৌনকার্যে ব্যবহৃত হয় । আফগান ওয়ারলর্ড-ব্যবসায়ী-সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বাচ্চাবাজির প্রধান গ্রাহক ।

বাচ্চা বাজি মধ্য এশিয়ান একটি অনেক পুরনো একটি প্রথা । এই অঞ্চলে ইসলামের আর্বিভাবের বহু পূর্ব হতে বাচ্চা বাজির প্রচলন ছিলো । নানান সময়ে বাচ্চা বাজি মধ্য এশিয়ার নানান খানাতে নিষিদ্ধ এবং পুর্ন-প্রচলন হয়েছিলো ।

কাজার প্রিন্সেস তাজ আল সুলতানা (১৮৮৪-১৯৩৬) তাঁর সৃত্মিকথায় বাচ্চা বাজির কথা লিখেছিলেন-
That night ‘Abdi Jan’s troupe had been called so that the harem occupants could watch the show. Of course, you remember ‘Abdi well. Let me, nonetheless, give you a description of his looks. He was a lad of about twelve or thirteen, with large black eyes, languid and incredibly beautiful and attractive. His face was tanned and good-looking, his lips crimson, and his hair black and thick. Renowned throughout the town, the boy had a thousand adoring lovers. Being a dancer, however, he was unworthy of being anyone’s beloved.


ছবি : বাচ্চা বাজি ; সমরকন্দ ; (১৯০৫-১৯১৫) ; ফটোগ্রাফার : সার্গেই প্রকুডিন গোর্স্কি

ইউজিনি স্যাচালার তাঁর মধ্য এশিয়া ভ্রমণ (১৮৭২-১৮৭৩) সংক্রান্ত সৃত্মিকথায়ও বাচ্চা বাজির উল্লেখ করেন ।
These batchas are as much respected as the greatest singers and artistes are with us . Every movement they make is followed and applauded, and I have never seen such breathless interest as they excite, for the whole crowd seems to devour them with their eyes, while their hands beat time to every step . If a batcha condescends to offer a man a bowl of tea, the recipient rises to take it with a profound obeisance, and returns the empty bowl in the same way, addressing him only as Taxir, ‘your Majesty’, or Kulluk ‘I am your slave’. Even when a batcha passes through the bazaar all who know him rise to salute him with hands upon their hearts, and the exclamation of Kulluk! and should he deign to stop and rest in any shop, it is thought a great honour .

বাচ্চা বাজি তালেবানদের সময়ে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ ছিলো। তালেবানদের পতনের পর বাচ্চা বাজি আফগানিস্তানে ফের মুক্তভাবে শুরু হয় । বাচ্চা বাজিতে ছেলে শিশুদের মেয়েদের মত করে সাজানো হয় ; পায়ে নুপুর-মেয়েদের পোষাক পড়ে-মেয়েদের মত মেকাপ করে বয়স্ক পুরুষদের সামনে নাচতে থাকে এরা । আর এ সময় লালায়িত নরপশুরা আফগানী নোট ছুড়ে মারতে থাকে শিশুগুলোর উপর । নাচ শেষ হবার পর নিলাম শুরু হয় এই শিশুগুলোর । পশতুন বয়স্ক পুরুষদের বিকৃত যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য বিক্রয় হয়ে যায় এই ছেলে শিশুগুলো । আফগানিস্তানের কান্দাহার-খোশত-খোন্দজের পশতুনদের মাঝে বাচ্চা বাজির ছেলে শিশুদের সাথে সঙ্গম এখন খুব সাধারণ একটি বিষয় ।

তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জাওয়ার নামের একজন ওয়ারলর্ডের ভাষায় :
“I very much enjoy hugging a boy. His smell and fragrance kills me”

আফগানিস্তানের বাঘ্লান প্রদেশের ৪২ বছর বয়স্ক এনায়েতুল্লার ভাষায়-
“Having a boy has become a custom for us. Whoever wants to show off, should have a boy”

আফগানিস্তানে প্রচলিত শরিয়া আইন-আফগান সিভিল আইন বিরোধী এই বাচ্চা বাজি প্রথাকে আমেরিকান স্টেট ডির্পামেন্ট চিহ্নিত করেছে “widespread, culturally accepted form of male rape” হিসেবে ।

স্টানফোর্ডের সাংবাদিকতার অধ্যাপক জোয়েল ব্রিন্কলের মতে , আফগানিস্তানের পশতুনরাই বাচ্চা বাজি-র প্রধান গ্রাহক । সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো – জাতিতে পশতুন কান্দাহারের অধিবাসী প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের পরিবারের দুজন সদস্যর বিরুদ্ধে বাচ্চা বাজির অভিযোগ পেয়েছেন জোয়েল ।

বাচ্চা বাজির মত ভয়ংকর এই বিভৎস রীতি ক্রমেই আফগান সমাজের স্থায়ী রীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে । বাচ্চা বাজিতে ব্যবহার করা শিশুরা বড় হয়ে গেলে , তারা স্বাভাবিক জীবনে প্রবেশ করে ; কিন্তু এদের অনেকেই তখন বাচ্চা বাজির শিশুদের গ্রাহক হয়ে যায় । ফলে , দেখা যায় , প্রতিনিয়ত বাচ্চা বাজির নিত্য নতুন গ্রাহক সৃষ্টি হচ্ছে । এক বালক রয়টার্সের নেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলে-
যখন আমি বড় হবো , তখন আমার নিজের মালিকানায় বাচ্চা বাজির ছেলে থাকবে ।

বৈরুতে বসবাসরত লেখক আবদুল আহাদের গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত বাচ্চা বাজি নিয়ে একটি আর্টিকেল অনুসারে , আফগানিস্তানে বাচ্চা বাজি ক্রমেই খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়ে পরিণত হচ্ছে । উত্তর আফগানিস্তানে বিয়েতে বাচ্চা বাজির আয়োজন এখন খুব সাধারণ একটা ব্যাপার । আফগানিস্তানে বাচ্চা বাজি নিয়ে রীতি মত সংগঠিত হোটেল-মাদক-ব্যান্ড-সিডি/ভিসিডি-দেহ ব্যবসায় হচ্ছে । বাচ্চা বাজির এত চাহিদা আফগানিস্তানে বেশি যে , এই সব ছেলে শিশু ক্রয়ে বিশ হাজার ডলার খরচ করতেও অনেকে কুন্ঠা বোধ করে না।

সাম্প্রতিক সময়ে উইকিলিকসের কল্যাণে জানা গেলো , আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশে কার্য পরিচালনারত DynCorp নামের একটি নিরাপত্তা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাচ্চা বাজিকে স্পন্সর করেছিলো । DynCorp এর কাজ আফগান পুলিশদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া । DynCorp তাদের অধীন প্রশিক্ষণাধীন আফগান পুলিশদের বিনোদনের জন্য বাচ্চাবাজিতে অর্থ স্পন্সর করে । পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে আফগান প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হানিফ আতমার (জুন , ২০১০-এ পদত্যাগ করেন) বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান ।

আফগানিস্তানে প্রচলিত শরিয়া আইন ও ফৌজদারী আইন উভয় আইনে বাচ্চা বাজি নিষিদ্ধ ও কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও এর কোন প্রয়োগই নেই । বরং , প্রশাসনই বাচ্চা বাজির পিছনে মদদ দিচ্ছে । বিবিসি’র সাংবাদিক রুস্তম কোবিলের সাথে এক সাক্ষাৎকারে জোওজান প্রদেশের সহকারী পুলিশ প্রধান সরাসরি অস্বীকার করেন বাচ্চা বাজির উপস্থিতির কথা ।

যুদ্ধ বিধস্ত আফগানিস্তানের অস্থিতিশীল অর্থনীতি বাচ্চা বাজি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে । অনেক দরিদ্র আফগান পিতা অর্থের বিনিময়ে ছেলে শিশুকে তুলে দিচ্ছে দালালের হাতে । আবার অনেক কিশোর দারিদ্রের কষ্ট সইতে না পেরে স্বেচ্ছায় বাচ্চা বাজিতে যোগ দেয় । আর সেই সাথে অপহরণের মাধ্যমে ছেলে শিশু সংগ্রহ তো আছেই ।

বর্তমানে জাতিসংঘ-মানবাধিকার সংস্থাগুলো আফগান প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে বাচ্চাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে । স্থানীয়ভাবে কাজ করতে থাকা মানবাধিকার সংস্থা-এনজিওগুলোও চেষ্টা চালাচ্ছে বাচ্চাবাজি বন্ধে । তবে, বাচ্চা বাজি বন্ধে যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আফগানদের সদিচ্ছা আর আফগান প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ ।

ডকুমেন্টারী:
নাজিবুল্লাহ কুরায়েশীর বাচ্চা বাজি নিয়ে একটি ডকুমেন্টারী “The Dancing Boys of Afghanistan” পিবিএস ফ্রন্টলাইনে প্রচারিত হয় ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল। মূলত: এই ডকুমেন্টারীই বাচ্চা বাজি সম্পর্কে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করে ।

ডাউনলোড লিংক http://www.mediafire.com/download/tyco7r9m35mjc8g/FRONTLINE-+The+Dancing+Boys+of+Afghanistan.avi

তথ্যসূত্রঃ http://www.sachalayatan.com/guestwriter/37493

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৯ thoughts on “বাচ্চা বাজীঃ আফগানিস্তানে প্রচলিত বিকৃত ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের সংস্কৃতি

  1. এই আরবের ভূমিগুলু(পাকিস্তান
    এই আরবের ভূমিগুলু(পাকিস্তান সহ) অতি প্রাচীন কাল থেকেই বর্বর ছিল কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীতেও অতীতের কুপ্রথার পুনরায় প্রচলন শুরু হবে তা অতি আশ্চর্য বিষয়। আফ্রিকার বন জঙ্গলেও তো এমন ঘৃণ্য ও বর্বর প্রথা নেই কিন্তু অপেক্ষাকৃত সভ্য ও রাষ্ট্র ব্যাবস্থা গঠন করেও এরা এখনো অতি বর্বর ই রয়ে গেল

  2. আপনার পোস্ট টি পড়তে পড়তে
    আপনার পোস্ট টি পড়তে পড়তে হুমায়ূন আহমেদের শেষ ছবি ‘ ঘেঁটুপুত্র কমলা ‘ র কথা মনে পড়ে গেল । সাধারণত সামন্ত রাজা – বাদশা ও তার সভাসদদের বিকৃত যৌন রুচি নিবারণের জন্য এই ব্যবস্থা সুপ্রাচীন কাল থেকেই ছিল । বিশেষ করে ইসলামী রাষ্ট্র গুলোতে এর ভয়াবহ প্রচলন ছিল ।
    —- ধন্যবাদ আপনাকে এরকম ব্যতিক্রমী পোস্টের জন্য !

  3. বাচ্চা বাজি আমাদের গ্রামীন
    বাচ্চা বাজি আমাদের গ্রামীন সমাজেও কোন কোন যায়গায় কিছুদিন আগেও চালু ছিল ।তবে আমাদেরটার নাম ছিল “ঘাটু নাঁচ” ।এই ঘাটু নাচের জন্য নির্দিষ্ট কিছু গান ও চালু ছিল ।যেমনঃ ‘মায়ের আব্দুল জলিল রে সোনার চান যাইছনা বিদেশে’, ‘আর যাইতাম না তোর বাগানে’ ইত্যাদি।এসব গানের তালে কিশোর ছেলেরা নাচতো।পরে ঐ কিশোরটিকে ধর্ষনের কাজেও ব্যবহার করা হত ।
    তবে খুশির কথা হল এই ঘাটু নাচটি এখন আর নাই ।পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে গেছে ।

  4. প্রত্যেক সমাজেই এরকম কোন না
    প্রত্যেক সমাজেই এরকম কোন না কোন বিকৃত বাবস্থা প্রচলিত ছিল । শিক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বোধের উন্নতির কারণে অনেক দেশ বা সমাজ থেকে বিষয় গুলো লোপ পেয়েছে। কিন্তু আফগানিস্থানে মানব উন্নয়ন বিকাশের সুযোগ পায়নি। দীর্ঘদিন মৌলবাদী শাসনের কারণে দেশটি সার্বিক ভাবে পিছিয়ে পড়েছে। তারই প্রতিফলন এই ‘বাচ্চা গাজি’

    এবার লেখক মহোদয়/মহোদয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ইনিয়ে বিনিয়ে, হোক আর ভুলক্রমে হোক তালেবান দের সাফাই গাওয়ার কোন সুযোগ নাই।

    বাচ্চা বাজি তালেবানদের সময়ে নিষিদ্ধ ছিলো। তালেবানদের পতনের পর বাচ্চা বাজি আফগানিস্তানে ফের প্রচলন শুরু হয়

    1. পোস্ট পড়ে আপনার কিভাবে মনে হল
      পোস্ট পড়ে আপনার কিভাবে মনে হল এই পোস্টে তালেবানদের মত ধর্ম সন্ত্রাসীদের পক্ষে সাফাই গাওয়া হচ্ছে???

  5. ভারী আজব তো!
    জনাব

    ভারী আজব তো!

    জনাব ইকারাস,
    আমার লেখা চুরি করলেন কেন?

    আপনি পোস্টের নিচে লিখেছেন-
    তথ্যসূত্র: সংগ্রহীত।

    আপনি এই পোস্টে কোন তথ্য সংগ্রহ করেছেন?

    পুরো পোস্টটাই তো আমার লেখার কপি-পেস্ট।

    আমার লেখা-

    শিরোনাম: বাচ্চাবাজি
    প্রকাশকাল: ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১১।
    প্রকাশস্থান: সচলায়তন।
    লিংক: http://www.sachalayatan.com/guestwriter/37493

    ব্যাটা লেখা চোর কোথাকার !!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

68 − 67 =