নারী

নারী সেবাপরায়না, নারী মোহনীয়া, নারী কামিনী। নারী সম্পর্কে আমরা যে বিশেষন দেই তা মোটামুটি এরকম। সেবাপরায়না শব্দ টি তে পুরুষের চোখে নারীর একটি বিশেষন। সেবাপরায়না স্বভাবটির জন্যে আমরা নারীকে শ্রদ্ধা করি না, করি ব্যাবহার। এ স্বভাবের জন্যে আমরা নারী কে যত্ন করি না, দেই যন্ত্রনা। মোহনীয়া বিশেষনটি ও পুরুষের দেয়া একটা বিশেষন। এই শব্দ ব্যাবহারের মাধ্যমে পুরুষ ঢাকতে চেয়েছে নিজের দোষ। নিজের কুশস্য ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে নারীর। হাওয়া ইন্ধন জোগায় আদম কে গন্ধম আহারের জন্য। পুরুষের চোখে আদম নির্দোষ, হাওয়া মোহনীয়া। কামিনী শব্দ টা তে কাম ক্ষুধা স্পষ্ট।

শিকারি সময়ে নারী শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারনে পিছিয়ে যায় খাদ্য জোগারের প্রতিযোগিতায়। সে সময়ে অর্থনীতি ছিল শিকার। পুরুষ রা শিকারে যেত আর নারী রা ধাকত ঘরে। বিভিন্ন জিনিসের রক্ষনাবেক্ষন করত। পুরুষ যেহেতু ছিল শিকারি হতে হল তাকে সহিংস, আর নারী যেহেতু রক্ষনা বেক্ষনকারী তাকে হতে হল সেবাপরায়না। তাকে হতে হল নির্ভরপরায়ন। মেয়েরা গুরুত্ব দেয়া শুরু করল পুরুষের ক্ষমতা আর পুরুষ রা গ্রহন করতে লাগল নারীর সেবা। এতে কোন ঋন ছিল না, ছিল ঈশ্বরবৃত্তিক মনোভাব।

অনেক বদ সংস্কারচ্ছন্ন লোক উপরোক্ত বিবর্তনীয় যুক্তি দেখিয়ে পুরুষ তন্ত্র কায়েম করতে চায়। বলে, এটা তো নেচারাল। নারী পিছিয়েছে নিজস্ব অযোগ্যতার কারনে। এটা হচ্ছে কুযুক্তি। অযোগ্যতা বলতে কোন শব্দ নেই মানবসমাজের। শব্দ টা হবে সুযোগ। নারী রা শিকারি সমাজে খাদ্য সংগ্রহে সুযোগ পায়নি কেন? শারিরীক কারনে। আরেকটি প্রশ্ন করা যায়, তারা পিছিয়ে পড়েছিল কেন? অর্থনৈতিক কারনে। এখন আমরা এ সমাজে যদি শিকারি সমাজের সুযোগ সুবিধা এর নিরিখে বিচার করতে চাই ব্যাপারটা হাস্যকর এবং আধুনিক সমাজের জন্যে অপমানজনকনক।

কটা সময় ছিল খাদ্য জোগান পুরোটাই ছিল শারিরীক ক্ষমতার উপর। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা নির্ভর ই করত খাদ্য জোগ্নের উপর। যারা বিবর্তনের কুযুক্তি দিয়ে সমাজে নারী কে পদদলিত করেন তারা দেখুন তো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তে কি এখন শরীর গুরুত্বপূর্ন নাকি বুদ্ধিমত্তা এবং মানসিক শক্তি? নারী কিন্তু কোন অংশেই বুদ্ধি এবং মানসিক শক্তি তে পুরুষ থেকে পিছিয়ে নেই। সংস্কারচ্ছন্ন রা বলতে পারেন নারী নিম্ন বুদ্ধিসম্পনা। কিন্তু এটা কখনোই নয়। এবং নারীর মুক্তচিন্তার অভাবের কারন সামাজিক, জোর করে নারী কে অবদমিত রাখার ফলাফল। অর্থনৈতিক কারনেই আশে ডমিনেশন। ব্যাবস্থার কারনেই নারী আস্তে আস্তে পিছিয়ে পড়লো অর্থনৈতিক অবদানের দিক থেকে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে হল নির্যাতিত, অপমানিত। বেগম রোকেয়ার মত বলতে হয়, আমাদের বাহির করে দেয়া হোক তারপর দেখুক আমরা অকর্মন্য কি না।

আজ থেকে পঞ্চাশ হোক একশ বছর হোক নারী কিন্তু সম্পুর্নভাবে স্বাধীন হবে অবধারিতভাবে। এটা হবেই। বিপ্লব ছড়িয়েছে। সাংগঠানিক শক্তি বাড়ছে। আমরা কি তাহলে ভেবে নেব যে হবেই তো সুতরাং আর বলে কি লাভ! এটা একটা ভুল কথা। আমরা যত দ্রুত অবধারিত জিনিস ত্বরান্বিত করতে পারি লাভ আমাদের সমাজের। যদি নারীমুক্তি স্বাভাবিকভাবে একশো বছর পর হয় আর আমরা যদি এটা ত্বরান্বিত করে দশ বছর পর ঈ করতে পারি আমাদের সমাজ কিন্তু নব্বই বছর এগিয়ে গেলাম।

নারী মা নয়, নারী প্রেমিকা নয়, নারী সহোদরা নয়। নারী মানুষ শুধুই মানুষ। এবং এ মানুষগুলো থেকেই কেউ হয় আমাদের মা, প্রেমিকা এবং সহদরা। নারীকে প্রথমে চেনব মনুষত্বের তারপর নারীত্বের। গুলিয়ে ফেললে হবে না। নারীর জন্ম পুরুষের প্রয়োজনে নয়, অস্তিত্বের প্রয়োজনে, অসভ্যতার প্রয়োজনে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “নারী

    1. অর্থনৈতিক কারনে মানুষ গুষ্টি
      অর্থনৈতিক কারনে মানুষ গুষ্টি বদ্ধ হয় । একজন আরেকজনের উপড় প্রভাব বিস্তার করবে নাকি নক করবে নির্ভর করে অর্থনৈতিক মানদন্ডের উপর । খাদ্য জোগান টা ও আমি অর্থনৈতিক ধরেছি !অর্থনীতি এত গুরুত্বপুর্ন হল কারন এটা টিকে থাকা কে সরাসরি সাহায্য করে । যেটা টিকে রাখতে যত সাহায্য করে তার অবদান সবচেয়ে বেশি । আমাদের মনোভাব ও গড়ে টিকে থাকার সুবিধা অসুবিদা কে প্রাধান্য দিয়ে । অর্থনীতি তে শক্তি যখন প্রাধান্য পেল প্রকৃতিগত কারনে নারীদের ঘরুয়া স্বভাব নিতে হল । এটাকে পুরুষ সমাজ ধরে নিল দূর্বলতা হিসেবে । মনে করা হল প্রকৃতি ই নারী কে বানিয়েছে পুরুষ ও ঘর সেবা করার জন্যে । হয়ে গেল সামাজিক পার্থক্য, করা হল বিধি নিষেধ । যখন অর্থনৈতিক কাঠামো তে পরিবর্তন আসল ভুলতে পারল না সংস্কার । বিবর্তনের আদিল ছাপ রয়ে গেল মনে । যার কারনে নারীর পরাধীনতা মানে এখন পাখি কে খাচার বন্দীর ন্যায় । চাইলেই নারী সমাজে পুরুষ সম অবদান দিতে পারে কিন্তু পুরোনো ধ্যান ধারনার জন্যে সামাজিক কারনে অবদান টা দিতে পারছে না । এর জন্যে দায়ী নারী নয় , দায়ী সমা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

65 − = 57