দিস ইজ নট অ্যা মকারি, বাট হকারি !

লাগ ভেল্কী লাগ, চোখে মুখে লাগ । ঐ কাল নাগিনীর বিষের দোহাই, চোখে মুখে লাগ ।

বড় বড় দাদা ভাইরা, হাতের মুঠ খুলে দাঁড়ান । ছোট ছোট খোকারা দাগের বাইরে গিয়া খাড়াও ।

এই এক্ষুনি শুরু হবে, নাগিনীর নাচ । এখুনি দেখতে পাবেন, বেহুলা লক্ষিন্দরের বাসর ঘর । এখুনি দেখতে পাবেন, সাপ আর বেজীর তুমুল লড়াই । দেখতে পাবেন, কিভাবে বেজী একটা সাপের কামড়ে মারা যায়, আবার পরে সেই সাপই বেজীকে জীবন্ত করে তোলে !

না দাদা, কোন টাকা পয়সা লাগবে না । আমি মানুষ কে আনন্দ দেয়ার জন্য খেলা দেখাই । এটা আমার পেশা না, এটা আমার নেশা ।

এই যে দেখছেন সাদা লজ্জাবতীর ডাল । আপনাদের অনেকেই এখানে সেখানে চলার পথে লজ্জাবতী দেখে থাকবেন । তবে সেটা লাল লজ্জাবতী ।

এইটা সাদা লজ্জাবতী । লাখ টাকা দিলেও পাবেন না । কামরূপ কামাখ্যা থেকে আমি নিজে এনেছি এই গাছ ।

অনেকে ভাবছেন কি হবে এই গাছ দিয়ে । তবে শুনুন দাদারা, গিরাই গিরাই ব্যাথা, বাতের ব্যাথা, কোমরে ব্যাথা, বুক জ্বালাপোড়া, পুরানো আমাশয়, অল্প বয়সে চুল পাকা, ঘন ঘন প্রসসাব, মেহ, প্রমেহ, দাদ, চুলকানি থেকে শুরু করে এক হাজার এক রোগের জন্য মাত্র একটি ঔসুধ । আরো আছে, গোড়া চিকন আগা মোটা, দুই মিনিটেই খেল খতম, উঠতে না উঠতেই পইড়া যাওয়া, অল্প বয়স থেইকা হাত মারতে মারতে হাতের রেখা গুলি হারাইয়া ফালাইছেন, এখন বৌয়ের কাছে লজ্জায় যাইতে পারেন না !

এই আমি বলছি, মাত্র এক টুকরা শিকড় দিয়া আপনার সব অসুখ বিসুখ, বালা মুসীবত দূর হয়ে যাবে ! জীবনে বহু টেঁকা খরচ করে বড় বড় ডাক্তার কবিরাজ দেখাইছেন, বহু ঔসুধ খাইছেন । ফলাফল শূন্য ! আমি বলি, আপনে আমার বাল খাইছেন ।

আর এই যে ভাগ্য ফিরানোর আশায় হাতে অষ্ট ধাতু, তিন ধাতুর আংটি পড়েছেন । যারা বলে তিন ধাতুর আংটি, আমি তাদের বলি, যে বেঁচে তার এক ধাতু, তার বাপের এর ধাতু আর তার মায়ের এক ধাতু !

হাতে হাতে নিয়ে দেখেন । দেখলে পয়সা দিতে হবে না । একটা মাত্র টুকারা ব্যাবহার করলে, আপনি ঘোড়ার মত শক্তি পাবেন, এক হাজার একটা অসুখ ভালো হয়ে যাবে । একটা মাত্র টুকরা কোমরে বাধলে হারানো যৌবন ফিরে পাবেন, এক সাথে ৪ টা বৌরে সুখী করতে পারবেন !

কে কে নেবেন, ভাই আওয়াজ দিয়েন । হাতে হাতে টাকা লন দাদারা, মাত্র ২০ টি টাকার বিনিময়ে একটা টুকরা নিয়ে যান । সুখে-শান্তিতে দিন কাটান । ব্যাবহার এর নিয়মটা ঔসুধ কেনার পর আমার কাছে এসে জেনে নেবেন ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “দিস ইজ নট অ্যা মকারি, বাট হকারি !

  1. ছোট বেলার হাঁটের কথা মনে পইড়া
    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
    ছোট বেলার হাঁটের কথা মনে পইড়া গেলো। জটিল লিখছেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. মনে পড়ে গেল ছোট বেলার সেই
    মনে পড়ে গেল ছোট বেলার সেই গ্রামের হাটের কথা আর রাজনৈতিক দলের নির্বাচন পূর্ব ঝুড়ি ভরা প্রতিশ্রুতি। হকারীটা কি বাংলাদেশের ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণের রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝিয়েছেন (তাদের ভোটের পূর্বের স্বপ্নভরা প্রতিশ্রুতি)? যদি তাই হয়, তাহলে অসাধারণ!

    1. অন্তরনিহিত তাৎপর্যটা সেটাই,
      অন্তরনিহিত তাৎপর্যটা সেটাই, তবে যে যেভাবে গ্রহণ করে আর কি । আপনেরে :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

23 − 13 =