সোনালী ব্যাংকের ৪৩৩টি শাখার নিরাপত্তা নেই!

সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখলেই উধাও হয়ে যায়। রাজধানীর রুপসি বাংলা এক ব্রাঞ্চ থেকে ৩৭ শ’ কোটি গাপিস করে দিয়েছে ধূর্ত রাজনীতিবিদদের সহায়তায় শেয়ানা ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে শুধু হলমার্কের তানভির মিয়া মেরে দিয়েছেন ২৬’শ কোটি টাকার বেশি। এতো গেলো দিনে দুপুরে সিস্টেমবাজ চুরি, কিন্তু রাতের আধারে রীতিমত আলিফ-লায়লার যুগের মত গায়ে তেল মেখে সিঁধকেটেও টাকা গাপিস করে দিচ্ছে সিঁধেল চোররা। যেখানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মোদাচ্ছের সাহেবের টিকিটি স্পর্শ করতে পারে না সরকার সেখানে সিঁদেল চোররা যদি ২০/৩০ কোটি টাকা হাপিস করে ফেলে তাদের খুব বেশি দোষ দেয়া যায় না।

সাম্প্রতিককালে সিঁধেল চোরদের উৎপাত বেড়ে যাবার কারণে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এক সময়ের কম্যুনিস্ট নেতা ড. আবুল বারকাত ওরফে জামাত অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ আছেন মহা টেনশনে। কারণ জনগণের এ ব্যাংকটির ৪৩৩টি শাখাই অন্যের বাড়িতে ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফলে যে কোন মূহুর্তে এসব শাখার টাকা সিঁধেল চোররা সোজা গাপিস করে দিতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এ কারণে নিজস্ব ভবনে শাখাগুলো স্থানান্তরের জন্য জমি বরাদ্দের অর্থ পেতে অর্থমন্ত্রণালয়ে ব্যাংকের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ব্যাংকটির বারো’শ শাখার মধ্যে ৪৩৩টি শাখা অন্যের বাড়ি বা ভাড়া করে ব্যাংকের শাখা স্থাপন করা হয়েছে। দেশের অন্যতম এ বৃহৎ ব্যাংকটির বর্তমানে সাড়ে ২২ হাজার কর্মী দিয়ে অনেক এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের হয়ে সরকারের ট্রেজারি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ব্যাংকটির অনেক ভল্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংকের নগদ টাকা জমা থাকে। অথচ এই ব্যাংকটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল তা বোঝা গেল সুড়ঙ্গ কেটে টাকা চুরির পর। দিনে দুপুরে তানভির মিয়া ২৬’শ কোটি টাকা গাপিস করে দিলে সোনালী ব্যাংকের হজম করতে সমস্যা হয় না, কিন্তু সিধেল চোরদের কোনভাবেই টাকা মেরে দিতে দেওয়া যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। এ কারণে ব্যাংকের নিরাপত্তা জোরদার করার সব প্রস্তুতিও নিতে যাচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকের শাখাগুলো স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি বরাদ্দ পেতে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়কে একটি চিঠিও দিয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ব্যাংকটির ৪৩৩টি শাখা এখনো ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৪১৪টি নন-চেস্ট শাখা এবং ১৯টি চেস্ট শাখা। যেসব এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই সেসব এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ হয়ে সরকারের ট্রেজারি কার্যক্রম পরিচালনা করে সোনালী ব্যাংকের বেশ কিছু শাখা। এসব শাখা চেস্ট শাখা নামে পরিচিত। গত ২৬ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ শাখার সুড়ঙ্গ খুড়ে প্রায় ১৭ কোটি টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এর পর গত ৮ মার্চ ব্যাংকটির বগুড়ার আদমদিঘী শাখা থেকে ৩২ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর ব্যাংকের সব শাখা ভাড়া করা ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবার একটি চিঠি দিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দত্ত। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ভাড়া করা ভবনগুলোর অধিকাংশই শহরের বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপুর্ন ও ব্যস্ততম এলাকায় হওয়ায় ভল্টের সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। আশেপাশের ভবনগুলো খুব কাছাকাছি থাকায় পর্যাপ্ত নজরদারী নিশ্চিত করা কষ্টকর। তাছাড়া ভবন মালিকরা ব্যাংকের প্রয়োজন মতো ভল্ট ও স্ট্রং রুম নির্মান বা পুণনির্মান করতে আগ্রহী নন।’

এছাড়া সুড়ঙ্গ কেটে টাকা চুরির ফলে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়, ‘ব্যাংকের চেস্ট, সাব-চেস্ট শাখার ভল্ট ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ওই ৪৩৩টি শাখা নিজস্ব জায়গায় স্থান্তরের লক্ষ্যে বর্তমানে পরিচালিত শাখার কাছে ব্যবসাবান্ধব ও নিরাপদ এলাকায় প্রতিটি চেস্ট ও সাব-চেস্ট শাখার জন্য ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ জমি এবং প্রতিটি নন-চেস্ট শাখার জন্য ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ জমি বরাদ্দ বা কেনার বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর একটি তালিকাও পাঠিয়েছে সোনালী ব্যাংক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “সোনালী ব্যাংকের ৪৩৩টি শাখার নিরাপত্তা নেই!

  1. সোনালী ব্যাংকের মত রাষ্ট্রীয়
    সোনালী ব্যাংকের মত রাষ্ট্রীয় শীর্ষ ব্যাংকের নিরাপত্তা অবস্থা এতই খারাপ! এটা আসলে মেনে নেওয়া যায় না। এটাকে ব্যাংক না বলে সরকারী টাকায় হরিলুট খেলার ময়দান বলা যেতে পারে।

  2. সাবেক কম্যুনিস্ট আবুল সারখার
    সাবেক কম্যুনিস্ট আবুল সারখার এটা কি করতেছে? যদি হলমার্ক এমডি তানভির ২৬’শ কোটি হাপিস করে দিতে পারে তাহলে সিদেল চোররা ২৬ লাখ অন্তত পারে।
    এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

  3. অনেকদিন ধরেই বাসা খুঁজতেসি।
    অনেকদিন ধরেই বাসা খুঁজতেসি। সোনালী ব্যাংকের পাশে কোনো বাড়ি ভাড়া দেয়া হয় কী না খুঁজসি। পাইতেসি না। কারো সন্ধান থাকলে জানায়েন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 + = 79